শুষ্ক ত্বকের ডায়েট

শীতের আমেজ গুটিয়ে এখন গরমের ছোঁয়া। তারপরও ত্বকের শুষ্কতায় ভুগছেন নিয়মিত। আর গরমে শরীরে পানির প্রয়োজন অত্যধিক। সঙ্গে সঠিক ডায়েট আপনাকে দেবে সজীব সুস্থ ত্বক। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তারা তো সারা বছরই ছোটখাটো সমস্যায় ভুগে থাকেন। আর শুষ্ক ত্বক ও ঠোঁটের শুষ্কতার কারণ যে ডায়েটের মধ্যেও শুকিয়ে থাকতে পারে, তা ভেবে দেখেছেন কি? শরীরের প্রয়োজনীয় ফ্যাটের অভাব এর অন্যতম কারণ। শরীর শুকনো থাকার জন্য নিয়ম ছাড়া ডায়েট করলে সমস্যা হয়। এছাড়া বায়োটিন নামের অতিপ্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবেও ত্বকে আসতে পারে শুষ্ক ভাব। সবসময় সবার দাবি ক্যালরিবিহীন, ফ্যাটবিহীন খাবারের চাহিদা। যেমন কেউ যদি প্রতিদিন ফ্যাট ছাড়া বা লো ফ্যাট দুধ খান, তাহলে শরীরের জরুরি ফ্যাটের অনুপাত কমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। রান্নায় শুধু এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে বা অন্যান্য তেল ব্যবহার করলেও একই সমস্যা হতে পারে। বেশি পরিমাণে তেল বা ঘি খাওয়া মোটেও ভালো নয়, এটা আমরা সবাই জানি। তবে কেউ যদি নিয়ম করে খাবার মেন্যু থেকে এগুলো বাদ দিয়ে দেন, তাহলেও শরীরের জরুরি নিউট্রিয়েন্টসের অভাব ঘটবে। সেদ্ধ বা ভাপানো সবজি খেতে পারেন। তবে রোজ নয় অবশ্যই। সত্যি বলতে অত্যধিক ফ্যাট ইনটেকের ফলে যেমন ওজন বাড়ে তাড়াতাড়ি আর শুরু হয় একাধিক শারীরিক সমস্যা। তেমনই এসেনসিয়াল ফ্যাটের অভাবেও ত্বকের জেল্লা হারিয়ে যেতে বাধ্য। ডায়েটে জরুরি ফ্যাট না থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা কমতে থাকে, ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অবশ্য ডায়েটে দু-একটা পরিবর্তন করলে কাজ হয়ে যায়। ডায়েটে যুক্ত ফ্যাট এড়িয়ে চললেও কয়েকটি জিনিস অবশ্যই বাদ দেবেন না। দুধ খেতে পারেন। শাঁস ফেলে না দিয়ে ডাবের পানি খাবেন। শুষ্ক ত্বকে নারকেল তেল লাগানো ভালো। আর নারকেল বা ডাবের শাঁস সুগার ক্রেভিং কমিয়ে দেয়। যদি ওজন কমানো আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে চিনির বদলে খেতেই পারেন।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল যাতে শরীর গ্রহণ করতে পারে। তার জন্য শরীরের প্রয়োজন বেসলাইন ডায়েট। আর সেই ডায়েটে যেন থাকে পর্যাপ্ত এসেনসিয়াল ফ্যাট। তবে কার্বোহাইড্রেট আর প্রোটিনও যথেষ্ট পরিমাণে থাকতে হবে। এগুলো ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে দরকারী। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি খেতে তো হবেই। ঠোঁটে শুষ্ক ভাব হলে ঠোঁট ফাটতে শুরু করে। ভিটামিন বি-২, বি-৬ আর নিয়াসিনের অভাবে ঠোঁট ফাটে। অত্যধিক মেপে ডায়েট প্ল্যান করলে এই অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিশেষ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এ রকম হতে পারে। জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল বা নিয়মিত ব্যাধির ওষুধ খেলেও ঠোঁট ফাটতে পারে। আসলে এই ওষুধ বেশিমাত্রায় খেলে শরীরে সঞ্চিত ভিটামিন বি’র অভাব দেখা দেয়। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ বদলে ফেলা ভালো। শরীরে যেন সর্বোচ্চ পুষ্টি ঢোকে, সেজন্য ডায়েট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন। নিরামিষ-আমিষ মিলিয়ে ডায়েট চার্ট বানান। আর প্রসেসড ফুড যত কম খাবেন তত ভালো। সুস্থ-সুন্দর সতেজ ত্বকের অধিকারী হোন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।