ক্লাব টুয়েন্টি সেভেন

রক এন্ড রোল এর ইতিহাসে কিছু উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হয়েছে ২৭ বছর বয়সেই। তাদের এই রহস্যময় মৃত্যুর বছর নিয়ে প্রচলিত নাম ‘দ্য ক্লাব টুয়েন্টি সেভেন’। ১৯৯৪ সালে কার্ট কোবেইন এর যখন মৃত্যু হয় তখন তাকে জিম মরিসন, জেনিস জোপ্লিন, ব্রায়ান জোন্স এবং জিমি হেন্ড্রিক্স মত একই পরিণতির শিকার বলে ক্লাব টুয়েন্টি সেভেন টার্মটি জোরেশোরে উচ্চারিত হতে শুরু করে। ১৯৭০ এর দশকের প্রথম ভাগে এই চারজন স্বপ্নদর্শী একজন আরেকজনের দুই বছরের মধ্যে মারা যায় এবং সকলেরই বয়স ছিল মাত্র সাতাশ। এরপর ২০১১ সালে অ্যামি ওয়াইনহাউসও মাত্র সাতাশ বছর বয়সে মারা যায়। এই রহস্য আবার নতুন করে গুরুত্ব পায়।

যদিও প্রাথমিকভাবে এই টার্মটি মিউজিসিয়ান দের সাথে সংযুক্ত ছিল। পরবর্তীতে অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পীরাও যুক্ত হয়েছে হয় আত্মহত্যা করে নতুবা বিদঘূটে দূর্ঘটনায়। এর মধ্যে কয়েকজনের নাম উল্লেখপুর্বক তাদের মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত কারণ গুলো দেয়া হলো।

 

জিমি হেন্ড্রিক্স

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১৯৭০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। লন্ডনে প্রেমিকার সাথে নিজের বাড়িতে জিমি হেন্ড্রিক্স। ঘুমানোর আগে ঘুমের ওষুধ খেলেন। ঠিক কতটি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন কেউ জানে না। ভেস্পারাক্স, অত্যন্ত শক্তিশালী বার্বিটুরেট। যার মাত্র অর্ধেক ট্যাবলেটই একজন সবল মানুষকে ৮ ঘন্টার ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারে। ধারণা করা হয় জিমি সেখানে কমপক্ষে ৯টা ট্যাবলেট খেয়েছিল। তারপর একেবারের জন্য ঘুম। আর ওঠেনি।

 

জেনিস জোপলিন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এটা অনুমেয় শেষ রেকর্ড সেশনটা শেষ করে  জেনিস জোপলিন যখন হোটেলে ফিরেছিল সে নিশ্চয় নিঃসঙ্গ ছিলেন। শেষ যে গানগূলো গেয়েছেন তার মধ্যে একটা ছিল ‘আ ওম্যান লেফট অ্যালোন’ যার অর্থ একজন নারীকে নিঃসঙ্গ করে রেখে গেছে’ এবং সে জানতো তার প্রেমিক তাকে সবসময়ের জন্য নিশ্চিত ভাবা শুরু করেছে। ১৯৭০ সালের ৪জুলাই, রাত ১টা। নিজের হেরোইনের ব্যাগ থেকে সিরিঞ্জ বের করে বাম হাতের শিরায় বসিয়ে দেয়। তারপর হোটেল লবি থেকে সিগারেট মেশিন থেকে এক প্যাকেট সিগারেট হাতে রুমে ফিরে আসে। দরজা বন্ধ করে ড্রেস পরিবর্তন করতে করতে প্যাকেট নাইটস্ট্যান্ডে রাখতে যায় । ঠিক সে সময়েই হুমড়ি খেয়ে টেবিলের উপরে পড়ে যায়। পরদিন তাকে ফ্লোরের উপরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। 

 

জিম মরিসন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

১৯৭৯ সালে ফ্রান্সিস ফোর্ড কোপ্পলা যখন জিমের ‘ দ্য ইন্ড’ তার ‘ এপকেলিপ্স নাও’ এর সাইন্ড ট্রাকে ব্যবহার করে মূলত তখনই জিমের নাম নতুন করে মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। কাকতালীয় ভাবে জিমের স্ত্রীও মাত্র ২৭ বছর বয়েসে মারা যায়। বিশ্বাস করা তার মত এমন অসাধারণ প্রতিভাধর মানুষের ভাগ্য অনেক আগে থেকেই এমন লেখা ছিল। ১৯৭১ সালের ৩রা জুলাই। ‘ডরস’ এর মুখ্য শিল্পী হেরোইন ওভারডোজে মারা যায়। যদিও কারণ নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা আচেহ। তবুও অনেক বলেন নিজের প্রেমিকার হেরোইন কোকেইন ভেবে নিয়ে ফেলে অসাবধানবশত ইঞ্জেশনের কারণে মারা গেছেন।

 

কার্ট কোবেইন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নির্ভানা’ বা নির্বাণের মুখ্য শিল্পী কার্ট কোবেইনের লাশ পাওয়া যায় লেক ওয়াশিংটনে তার নিজ বাড়িতে। ১৯৯৪ সালের ৮এপ্রিল একজন বিদ্যুৎ প্রকৌশলী তার লাশ উদ্ধার করে। তিনি মারা যান ৫ই এপ্রিল। কোবেইন নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে। সেসময়ে তিনি নিজের বাড়ি হারানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

 

ব্রায়ান জোন্স

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রোলিং স্টোনের ব্রায়ান জোন্সের মৃত্যু রহস্য আবৃত এখনো। এমনকি তার ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্য ও ঠিক মত বলতে পারে না। অনেকে বলে থাকেন এটা তার বোকামীর জন্য। অ্যালকোহল এবং ড্রাগ একসাথে মিশিয়ে সাঁতারে নেমেছিল তারপর পৌছে গেছিল মৃত্যুর দ্বারে। ১৯৬৯ সালে মাত্র সাতাশ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে মারা গেছিলেন।

 

অ্যামি ওয়াইনহাউস

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দীর্ঘ সময় ধরে অ্যালকোহল এবং ড্রাগের সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে ২০১১ সালেওর ২৩ জুলাই তার লন্ডনের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর কারণ ছিল অতিরিক্ত অ্যালকোহল। তার রক্তে বব্লাড অ্যালকোহল কন্টেন্ট ছিলো ৪১৬ যা স্বাভাবিক বা পরামর্শ মোতাবেক খাওয়ার থেকে অনেক বেশি।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।