বৌয়ের কোলে বসে বৌ সাজিয়েছি : আফরোজা পারভিন

রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন। তিনি শুধু নিজের প্রতিষ্ঠান ‘রেড’ বিউটি স্যালোনের প্রধান পরিচালক কর্মকর্তাই নন; কাজ করছেন নারী উদ্যোক্তাদের। রূপচর্চা বিষয়ের দীর্ঘ শৈল্পিক অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন গত কয়েক বছর ধরে। তার হাত ধরে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলো ছড়াচ্ছেন অনেক নারী। 

আনন্দধারা : আপনার কি ইচ্ছাই ছিল বিউটিশিয়ান হওয়ার?

আফরোজা পারভিন : আর দশটা পরিবারের মতোই আমার পরিবারও চেয়েছিল আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হব। কিন্তু আমাকে আসলে এসব কাজ টানে না। আমার পছন্দ এমন কিছু করা, যাতে ক্রিয়েটিভ কিছু করার সুযোগ আছে। মাস্টার্স শেষ করে আমি অপেক্ষা করেছি আমার পছন্দের পেশা খুঁজে নিতে। যা-ই পাব তাতেই ক্যারিয়ার গড়ব তা করিনি। আমি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেশ ভালো বেতনে কাজ পেয়েও সাত দিনের মাথায় সেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। এভাবে অনেক কিছুতেই আমি চেষ্টা করে দেখেছি, কিছুই আমাকে টানছে না। এবার একটি মেকাপ আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছি এবং এত সময় দাঁড়িয়ে থাকার কোনো অনুভূতি আমি পাইনি। কাজটা হয়ে যাওয়ার পর আমার হঠা মাথায় এলো- এত সময় আমি দাঁড়িয়ে এই কাজ দেখলাম, কিছু মনেই হলো না। তার অর্থ, এটা আমার ভালো লাগছে। এই কাজটা আমাকে টানছে।

আনন্দধারা : বিউটিশিয়ান হিসাবে আপনার যাত্রা শুরু হলো কীভাবে?

আফরোজা : দশ বছর বয়সে আমি প্রথম কাজ করি। আমার প্রতিবেশীদের বিয়েতে কনে সাজানোর কাজটা করতাম। সবাই জানত যে আমি এটা পারি, তাই তারাও আমাকে ডেকে নিত। কিন্তু ঠিক আমি নিজে কীভাবে পারতাম তা আমি নিজেও জানি না। নিজের ভালোলাগা থেকেই কাজটা করতাম। আমি ঠিক খুঁজেও বের করতে পারব বলে মনে হয় না যে আমি কোথা থেকে এই কাজ শিখেছি। আমি আমার মাকেও কখনো দেখিনি লিপস্টিক দিতে। হয়তো আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে কাজটা করতে করতে এটা হয়ে গেছে। প্রথম দিকে বৌয়ের কোলে বসে বৌ সাজিয়েছি। কারণ সে আমার থেকে এতটাই বড় যে অন্যদের মতো করে তো আমি তাকে সাজাতে পারতাম না। আমি যখন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, তখন প্রথম কোনো স্যালোনে যাই। সেটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল। মনে হচ্ছিল আমি সেখানে খুবই স্বস্তির মধ্যে গিয়ে পৌঁছালাম। আমাদের কোনো একটা অনুষ্ঠানের জন্য মেকাপ এবং হেয়ারস্টাইল করতেই সেদিন সেখানে গিয়েছিলাম। 

 আমি যখন কোনো বিয়ের দাওয়াতে বাড়িতে যেতাম, তখন আমার পোশাক গোছাতাম সবার শেষে। আগে গুছিয়ে নিতাম মেকাপের সব জিনিসপত্র। কারণ আমার আগ্রহ থাকত যে ওই বিয়ের কনেটাকে আমারই সাজাতে হবে। আমি আসলে ছোটবেলা থেকেই এই কাজটা খুবই উপভোগ করতাম।

আনন্দধারা : তখন মেকাপে যেসব জিনিস ব্যবহার করতেন তার ধারণা কোথা থেকে পেতেন?

আফরোজা : আমি সাজাতে পছন্দ করি এটা আমার পরিবারের সবাই জানত। যার কারণে আমাকে কেউ কোনো গিফট দিলে মেকাপেরই কিছু দিত। আগে তো আমরা অনেক আকারের মেকাপের বক্স দেখতে পেতাম। এর মধ্যে অনেক বক্সই বিদেশ থেকে আসত। সেই গিফট পাওয়া মেকাপ বক্স নিতে সারা দিন আমার পরীক্ষা চলত। এভাবেই কোন জিনিসটা কীভাবে ভালো লাগে তা বুঝে অন্যদের সেভাবে সাজাতাম। ২০০৭ সালে আমি আমার বাসায় এই বিষয়ের পেশাদার নয়নকে এনে মেকাপের বেইজ কীভাবে দিতে হয় তা শিখেছি। অনেক দিন ধরে কাজ করার দরুন কোনটা কীভাবে করতে হয় তার একটা ধারণা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপরও এর সূত্রটা কী তা জানা আমার দরকার ছিল। তিনি যখন আমাকে শেখাচ্ছিলেন, তখন আমি দেখলাম যে তিন আমাকে যা শেখাচ্ছেন তার প্রায় সবকিছুই আমি ঠিকঠাকমতোই করে থাকি। হয়তো কোনোটা আমি করতাম না, সেটা আমি তার কাছে দেখার পর থেকে ঠিক করে নিই। এই প্রশিক্ষণটা ছিল ১৩ দিনের।

আনন্দধারা : পেশাদার কাজের শুরুটা কোথা থেকে?

আফরোজা : নয়নের প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার দুদিন পরই আমি একটা কাজ করি চলচ্চিত্রের মানুষদের সঙ্গে। তখন আমি মেকাপ করেছিলাম চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস ভাই এবং টেলিভিশনের তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুর। কাজটা আমি করেছিলাম করিম ভাইয়ের সঙ্গে। সেটা অনেক ভালো হয়েছিল। এরপর আমি আর করিম ভাই অনেকটা জুটির মতো হয়ে গিয়েছিলাম মেকাপের জন্য। একসঙ্গে আমরা প্রচুর কাজ করেছিলাম। আড়াই বছরের মতো টানা প্রায় সমস্ত ফ্যাশান হাউজগুলোর কাজ আমরা করেছি। তখন ঢাকার বিলবোর্ডগুলোর দিকে তাকালেই আমার কাজ চোখে পড়ত। সেটা খুবই ভালো লাগার ছিল।

আনন্দধারা : এই শুরুটা কার হাত ধরে?

আফরোজা : নয়নই আমাকে এই কাজের সুযোগটা করে দেয়।

আনন্দধারা : স্যালোন শুরু করলেন কবে?

আফরোজা : ফ্যাশান হাউজগুলোর কাজের সুবাদেও আমার বেশ পরিচিতি হয়েছিল। অনেকেই আমার বাসায় আসত মেকাপ করার জন্য। দেখা যেত আমার স্বামীকে রুম থেকে বের করে দিয়ে তাদের সাজাতে বসাতে হতো আমার। কাজের চাপও অনেক সময় একটু বেশি থাকত। দেখা যেত একই সময়ে তিন-চারজন চলে এসেছে। তখন তো আর আমার পক্ষে সবাইকে সাজানো সম্ভব হতো না। এভাবেই চলতে চলতে তারাই আমাকে পরামর্শ দিল একটা স্যালোন করতে। তাহলে আর তাদের কাউকে আমার কাছে না সেজে ফেরত যেতে হবে না। তাদের সেই পরামর্শে  আমরা স্যালোন করলাম। এভাবেই ‘রেড’-এর যাত্রা শুরু।

আনন্দধারা : একটা স্যালোন করতে অনেক অর্থ এবং সময়ের প্রয়োজন হয়। শুরুর দিকে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কি?

আফরোজা : ‘রেড’-এর যখন ইন্টেরিয়রের কাজ চলছে, তখন আমি একটি প্রফেশনাল কোর্স করতে বেঙ্গালুরু যাই। আড়াই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও কোনো সার্টিফিকেট আমার ছিল না। তাই সেটা নিয়ে ষোলকলা পূর্ণ করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। সমস্যার মধ্যে প্রথম যে সমস্যাটা হয়েছিল তা হলো জায়গা খুঁজে পাওয়া। পছন্দ যেসব জায়গা হচ্ছিল সেসব জায়গা পাচ্ছিলাম না। স্যালোনের কথা শুনলে তারা ভাড়া দিতে আগ্রহী হতো না। আমি আমার স্যালোনের ফ্রন্ট ডেস্কে জন্য দুজন শিক্ষিত মেয়ে খুঁজছিলাম, যারা এটা নিয়ে কাজ করতে পারে। কিন্তু তা আমি পাচ্ছিলাম না। তখন বাধ্য হয়ে আমি নিজেই সেখানে কাজ করেছি। এমন আরো নানা ধরনের সমস্যাই তো সামলাতে হয়েছে তখন। সবকিছু মিলিয়ে শুরুটার জন্য আমাকে অনেকটাই যুদ্ধ করতে হয়েছে।

আনন্দধারা : শুরুর দিকে যারা আপনার পার্লারে আসতেন, তারা কি অন্য পার্লারের সঙ্গে তুলনা করতেন?

আফরোজা : তখন নতুন কেউ এসে বলত অমুকের মতো করে কাজ করে দেন। আর কাজের শেষে বলত, এরপর থেকে এসে বলব আপনার মতো করেই কাজ করে দেন। এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ তারা অন্য কোথাও আগে কাজ করেছে। সেটা ভালো লেগেছে বলে অন্তত যেন তেমন হয়, সেটা প্রত্যাশা করেছে। আগে অন্য কোথাও কাজ করায়নি এমনও অনেকে এসেছেন। শুরু থেকেই আমি একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছি। আর তাহলো বাংলাদেশে যদি তিনটা স্যালোনের নাম আসে, তার মধ্যে যেন ‘রেড’-এর নাম থাকে। সেটা আমরা করেছি। আর এটা আমরা করতে পেরেছি কারণ আমরা এটাকেই ধরে কাজ করে গেছি। আমাদের ডেডিকেশন ছিল, পরিশ্রম ছিল।

আনন্দধারা : আপনার কাছে কাজের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কাজ কোনগুলো বলে মনে হয়?

আফরোজা : অনেক কাজই তো করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি একটি কাজ করলাম, ট্রেসেমি ফ্যাশান উইকের। অনেক বছর আগে একটা কাজ করেছিলাম, যেখানে বারোটা দেশের মিস ইউনিভার্স এসেছিলেন বাংলাদেশে। তিন দিনের সেই আয়োজনের মেকাপ পার্টনার ছিলাম আমরা। সাধারণত তারা তাদের মেকাপ আর্টিস্ট সঙ্গে নিয়ে আসেন। কিন্তু আমাদের কাজে তারা এত বেশি সহোযোগিতা করেছিলেন, যা বলে বোঝানোর মতো নয়। এটা খুবই ভালো একটা কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।

আনন্দধারা : মেকাপের ক্ষেত্রে আপনি কোন জিনিসটাকে বেশি প্রাধান্য দেন?

আফরোজা : প্রত্যেকেরই নিজস্বতা আছে। আমি সেটাকেই মাথায় রেখে কাজ করি। আমার কাছে যদি দশজন বৌ সাজে, তাহলে দশজনের সাজ দশ রকমের হয়। কাজ দেখে বলে দিতে পারবেন না যে এটা তো আফরোজার কাজ। আমার কাজে একটা না একটা নিজস্বতা আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমার সব কাজ একই রকম হবে।

আনন্দধারা : এখন অনলাইনের মাধ্যমেও অনেকে কাজ করছে। অনেক অল্প টাকাতেই তারা কাজ করছে। অনেকে সেদিকেও ঝুঁকছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আফরোজা : এটাকে আমি ভালোভাবেই দেখি। তবে আমার একটাই চাওয়া, তা হলো কেউ যেন না শিখে কাজ করতে না যায়। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলে সেই কাজের ফিনিশিং সুন্দর হয় না।

আনন্দধারা : আপনার কী করতে বেশি ভালো লাগে?

আফরোজা : বেড়াতে ভালো লাগে। দেশে বা বিদেশে যেকোনো জায়গায় বেড়াতে ভালো লাগে। কোথাও বেড়াতে যাচ্ছি- এই অনুভূতিটাই খুব ভালো লাগার। এখন কাজের জন্য অনেক জেলাতেই যাওয়া হয়। সেখানেও সময় ঠিক করে নিয়ে কাজের পরে বাকি সময়টা আমি সেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াই। আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আমার আরো একটা ভালো লাগার জায়গা। সেই সঙ্গে রান্না করাটাও আমার অনেক পছন্দের কাজ।

আনন্দধারা : কোনো নিজস্বতা?

আফরোজা : আমি গানের মাঝে হারিয়ে যেতে পারি। যখন একা থাকি তখন গানের মাঝে হারিয়ে যাই। আর নানা প্রান্তে থাকা অনেক মেয়ের গল্প তো আমি শুনি। এই গল্পগুলো আমি লিখব। সেটা সম্ভব হলে বই আকারে প্রকাশ করব।

আনন্দধারা : নতুন যারা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছে তাদের কীভাবে সহযোগিতা করছেন?

আফরোজা : চঞ্চল মাহমুদ ভাইয়ের একটি স্টুডিও আছে। সেটা ট্রেনিং স্কুলও। তার সঙ্গে কথা বলে সেখানে মেয়েদের বিউটিশিয়ান হওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করি। পত্রিকায় একটি নোটিশ দিয়েছিলাম এটা নিয়ে। প্রথম ব্যাচেই ৩৫ জন ভর্তি হয়। তাদের মেকাপ শিখানোর সঙ্গে সঙ্গে আরো কিছু পরামর্শ দিয়ে ফেলতাম- কীভাবে কাজটা অন্যদের কাছে পৌঁছাবে, কীভাবে তা সেল করবে। কীভাবে বা কী বলে তা গ্রাহকের কাছে পৌঁছালে তার ভালো প্রতিক্রিয়া পাবে। যার ফলে তারা মেকাপ করা শিখতে এসে উদ্যোক্তা হওয়ার পাথেয়টাও পেয়ে যেত। এভাবে চার-পাঁচটা ব্যাচ শেষ করার পর বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার আমাকে ডেকে জানাল তারা আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়। এরপর আমার সঙ্গে যুক্ত হয় এসএমই ফাইন্ডেশন। ছয় বছর এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার পর আমি শুরু করি ‘উজ্জ্বলা’। কারণ আমি অনুভব করলাম, যে মেয়েটা মেকাপ শিখতে আসছে, তার তো চুল বাঁধা, শাড়ি পরানো, জুয়েলারি পছন্দসহ এমন আরো অনেক কিছু শেখা দরকার, যা সাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। অন্যথায় সে পরিপূর্ণভাবে সাজানোটা শিখবে না। শুরুতে আমি বাংলাদেশ উইমেন্স চেম্বার এবং এসএমই ফাইন্ডেশনকে বলেছিলাম এই উদ্যোগে যুক্ত হতে। কিন্তু তারা তাতে আসতে পারেনি। কারণ তাদের তো আরো অনেক বিষয়ে কাজ করতে হয়। একটি প্রকল্পে যদি অনেক বেশি বিনিয়োগ করে ফেলে, তখন অন্যগুলো পিছিয়ে পড়ে। ওনাদের পরে আরো অনেকের কাছে আমি এই প্রকল্প নিয়ে বলেছি- সবাই শুধু ভালো উদ্যোগ বলেছে, কিন্তু যুক্ত হয়নি। কারণ সবারই হিসাব ছিল ব্যবসা কতটা আসবে। আসলে এটা তো আর ব্যবসায়ের জন্য করা না। পরবর্তীতে আমি আদিত্য সোমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজটা শুরু করলাম। পুরো বাংলাদেশ জুড়ে আমরা এই কাজটি এখনো করে যাচ্ছি। এতে করে নারীরা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছে, তেমনি ঢাকার বাইরে গেলেও আপনি ভালো বিউটিশিয়ান পাচ্ছেন। ‘উজ্জ্বলা’র শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এমন অনেকে তৈরি হয়ে গেছে, যারা ঢাকার বড় বড় স্যালোনে কাজ করছে। তাদের থেকে অনেক অনেক বেশি ভালো করে সাজাতে পারছে। শুধু শিখিয়েই তাদের ছেড়ে দেই না আমরা, তাদের পরবর্তীতে কোনো ধরনের পরামর্শ বা সহোযোগিতার প্রয়োজন হলে সেটাও আমরা দিচ্ছি। এমনকি তাদের ব্যবসার শুরুতে পুঁজির প্রয়োজন মেটাতে ঋণের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছি একটি ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান থেকে। আরো তিনটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা হচ্ছে, তারাও হয়তো চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য তাদের তৈরি করে দেয়া। তার পরের কাজটা তারা নিজেরাই করে যাচ্ছে।

আনন্দধারা : বিভিন্ন এনজিও মেয়েদের এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। সেগুলো কেমন হচ্ছে বলে আপনার মনে হয়?

আফরোজা : সরকার যদি এই প্রশিক্ষণগুলো বন্ধ করে দিতে পারত, তাহলে খুব ভালো হতো। কারণ তারা তাদের প্রকল্প অনুযায়ী অর্থ হালাল করতে কতজন মেয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সেই সংখ্যার ওপর বেশি জোর দেয়। কতটা ভালো শিখল তাতে তাদের খুব বেশি কিছু আসে যায় না। এমনকি ভালো প্রশিক্ষকও তারা খুঁজে নেয় না। ফলে মেয়েরা যারা এমন প্রশিক্ষণ থেকে শিখছে, তারা খুব খারাপ শিখছে। এতে করে তাদের কাজের লেভেল খারাপ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই খাতটি এখন অনেক বেশি এগোচ্ছে।

আনন্দধারা : উজ্জ্বলা নিয়ে ভবিষ্য পরিকল্পনা কী?

আফরোজা : বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ বিউটি পার্লার আছে সরকারের হিসাবের বাইরে। নিজের বাসায় একটি পার্লার খুলে ব্যবসা করছে, কিন্তু ট্রেড লাইসেন্স করেনি। এমন সবাই যেন লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করে, সে লক্ষ্যে আমরা একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। আমরা চাই বাংলাদেশের একটা বড়সংখ্যক মেয়েই উজ্জ্বলা হয়ে উঠবে। তারা নিজেরাই আলো ছড়াবে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।