বৈশাখে বর্ণিল ঘর

বাঙালির সার্বজনীন উসব হলো বাংলা নববর্ষ। এ দিনটিকে বরণ করে নিতে সবাই নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। আর সেই প্রস্তুতি পর্বও শুরু হয় বেশ আগে থেকেই। এই পর্ব থেকে বাদ পড়ে না প্রিয় বাসস্থানটি। বিশেষ দিনে মানুষ ঘরের সাজেও একটু নতুনত্বের ছোঁয়া আনতে চায়। নববর্ষের দিনটিতে মানুষ নিজে যেমন সাজতে ভালোবাসে, তেমনি সাজাতে ভালোবাসে ঘরকেও। তবে উৎসবের এ দিনটিতে ঘরের সাজ হতে হবে উৎসবের মতোই রঙিন। তাই নববর্ষে ঘর সাজাতে লাল, সাদা, নীল, হলুদ, সবুজ রঙকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

রঙিন প্রবেশদ্বার

সবের সাজে ফুটে ওঠে একজন মানুষের রুচি। তাই নববর্ষে গৃহসজ্জায় ঘরের প্রবেশদ্বারেও আপনাকে রুচিশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আর সেটা যদি না পারেন, তাহলে আপনার পুরো পরিকল্পনাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই নববর্ষের গৃহসজ্জা শুরু হোক ঘরের প্রবেশদ্বার থেকেই। প্রবেশদ্বারের নান্দনিক সাজ দিয়েই এদিন অভ্যর্থনা জানান অতিথিদের। একই সঙ্গে তাদের জানিয়ে দিন আপনার রুচির পরিচয়। এদিন দোরগোড়ায় বড় আকৃতির মটকা রাখতে পারেন। অথবা কিছুটা বড় আকৃতির মাটির হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি রাখতে পারেন। আপনার বাড়ির মূল দরজার বাইরে হাঁটার পথ থাকলে সেখানের দেয়ালে ঝোলাতে পারেন মাটির তৈজসে আঁকা প্রতিকৃতি। বাইরের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন মাটির ঘণ্টি। মেঝেতে করতে পারেন রঙিন আলপনা।

নান্দনিক বসার ঘর

গৃহসজ্জার ক্ষেত্রে যে ঘরটি প্রথমেই প্রাধান্য পায়, সেটি হচ্ছে বসার ঘর। কারণ অতিথি এলে এই ঘরেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়, তাই এই ঘরটিকে সাজাতে হবে আকর্ষণীয় ও রঙিন করে। এটা যেহেতু বাঙালির উৎসব, তাই গৃহসজ্জায় বাঙালিয়ানার ছাপ যেন থাকে শতভাগ। বসার ঘরের সাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে দেশীয় উপাদান। যেমন- মাটির শোপিস, প্রদীপ, নকশিকাঁথা, হাতপাখা, আলপনা ইত্যাদি। এই দিনটিতে মেঝেতে বসার আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শীতল পাটি, নকশিকাঁথা ইত্যাদির ওপর কতগুলো রঙিন কুশন ছড়িয়ে দিয়ে বসার আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে হালকা কোনো রঙের স্বচ্ছ পর্দা হলে ভালো লাগবে। ঘরের কোণগুলো সবুজ গাছ আর মাটির শোপিস দিয়ে সাজাতে হবে। সে সঙ্গে মেঝের ঠিক মাঝখানে আলপনা এঁকে তার মাঝে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলে বাঙালিয়ানার ক্যানভাস ভেসে উঠবে।

মুগ্ধতা ছড়াক খাবার ঘর

নববর্ষের উসব মানেই প্রচুর খাওয়া-দাওয়া আর অতিথি আপ্যায়ন। এই ঘরের প্রধান অংশ হচ্ছে খাবার টেবিল, তাই টেবিলটিকে সাজাতে হবে দেশীয় উপাদান দিয়ে। টেবিল রানারটি শীতল পাটি, বাঁশ অথবা নকশিকাঁথার তৈরি হতে পারে। রানারের ওপর মাটির মোমদানি, বাঁশের তৈরি গ্লাসস্ট্যান্ড ও মাটির ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল দিয়ে সাজালে টেবিলটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। এদিনের খাবারে ভাত, ভর্তা, মাছের পাশাপাশি মুড়ি, মুড়কি, মুরালি, বাতাসা ইত্যাদি বাঙালি খাবারের সমাহার। উসব আর বাঙালিয়ানাকে এক সুতায় বেঁধে সেদিনের প্রস্তুতি নেয়া ভালো। যেমন- কাচ, চীনামাটি, পোর্সেলিনের তৈরি তৈজসপত্র সরিয়ে রাখুন সেদিনের জন্য। ব্যবহার করুন মাটির তৈজস। বাঁশ ও বেতের ট্রে, মাটির গ্লাস, প্লেট, বাটি, কাঠের চামচ শুধু খাবার টেবিলের শোভাই বাড়াবে না বরং উৎসবের সঙ্গেও মানিয়ে যাবে। অন্যদিকে যেহেতু বাঙালির বিশেষ এ অনুষ্ঠানে নানা রকম মিষ্টি, শুকনা খাবারের প্রচলন রয়েছে, সেগুলো রাখার জন্য মাটির হাঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। খাওয়ার ঘরে বেশ কয়েকটি বেতের মোড়া রাখুন। কেননা অনেক অতিথির একসঙ্গে টেবিলে জায়গা না-ও হতে পারে। হাত ধোয়ার জন্য অতিথিদের মাটির মালসাভর্তি লেবু আর গোলাপ পাপড়ি মেশানো পানি এগিয়ে দিন। তারা আপনার এমন ধরনের আপ্যায়নে মুগ্ধ হয়ে যাবে।

বর্ণিল শোয়ার ঘর

শোয়ার ঘরকেও বর্ণিল সাজে সাজিয়ে তুলতে হবে। ঘরের এক কোণে রাখা যেতে পারে মাটির টবে কিছু সতেজ গাছ। এই ঘরের পর্দা হিসেবে বাঁশের চিক ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। তাছাড়া রঙবেরঙের পর্দাও ঝোলানো যেতে পারে। দেয়ালে টেরাকোটা টানালে ঘরটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে। বিছানার চাদর ও পিলো কাভার উজ্জ্বল রঙের হতে হবে। বিছানার চাদরের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দার রঙ ব্যবহার করতে হবে। শোয়ার ঘরে লোকজ আমেজ ফুটিয়ে তুলতে বিছানার ওপর একটি শীতল পাটি বিছিয়ে দিতে হবে। সেই সঙ্গে একটা হাতপাখা রাখতে হবে। মেঝেতে একটা রঙিন শতরঞ্জি বিছিয়ে দিলে ঘরটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। শতরঞ্জির পরিবর্তে মাদুরও বিছানো যেতে পারে।

কোথায় পাবেন...

গৃহসজ্জার জন্য বেড কভার, শোপিস, পর্দা, কুশন কভার পাওয়া যাবে হাতের নাগালেই। বিশেষ করে দেশী দশ, আড়ং এবং আজিজ সুপার মার্কেটে হাউজহোল্ড পণ্যের সমাহার ঘটেছে। সেখানে রয়েছে ঘর সাজানোর বিভিন্ন শোপিস। যেমন- মাটির পুতুল, গ্রামীণ হুঁকো, হাতে বানানো মুখোশ, ওয়াল ম্যাট, বাঁশের তৈরি ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, ঝাড়বাতি ইত্যাদি, যা ঘরের শোভা বৃদ্ধি করবে বহু গুণে। এছাড়া পাটের শিকা, মাটির হাঁড়ি, শখের হাঁড়ি, তাজা ফুল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন ঘর সাজানোর অনুষঙ্গ হিসেবে। এমন সাজ উৎসবের সঙ্গে মানিয়ে যাবে পুরোপুরি। এগুলো পাবেন দোয়েল চত্বরের মোড়ের দোকানগুলোতে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।