ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ফ্যাশন

বসন্ত এসে গেছে। তার মানে চৈত্রের কাঠফাটা রোদের দেখা মিলতেও দেরি নেই। বরাবরের মতো এই গরমেও ফ্যাশন সচেতন থাকার জন্য আনন্দধারার পাঠকদের জন্য কিছু টিপস। এই গরমের ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ফ্যাশন নিয়েই এবারের লেখা।

এদেশে শীতকাল খুব অল্প সময়ই থাকে। গরমকালটা অধিকাংশ সময় থাকার কারণে এখানকার মানুষকে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কাপড়েই ফ্যাশনেবল হতে হয়। যদিও পাশ্চাত্যে গেলে দেখা যায় ফ্যাশনেবল অধিকাংশ কাপড়ই গরম। সেক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে এখানকার ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজাইনের ক্ষেত্রেও থাকে অনেক ভিন্নতা। এভাবেই স্বকীয় হয়ে ওঠে এদেশের ফ্যাশন।

পোশাকের রঙ

গরমের পোশাক সম্পর্কে ভাবার আগে প্রথমেই যেটা ভাবতে হয় তাহলো রঙ। গরমকালে যেসব রঙের পোশাক পরলে আরামদায়ক হবে, সেগুলোই পরা উচিত। সব ধরনের রঙ গরমের পোশাকে যায় না। যেমন কালো গরমকালের জন্য ঠিক উল্টো একটা রঙ। গরমে কালো কাপড় পরলে আপনার তো গরম লাগবেই, আপনাকে যারা দেখবে তাদেরও গরম লাগবে। সুতরাং কালো, খয়েরি, গাঢ় সবুজ, এ ধরনের রং গরমে না পরাই ভালো। কারণ গাঢ় রঙ তাপ শুষে নেয় বেশি। যে ধরনের রঙের কাপড় গরমে পরতে পারেন সেগুলো হলো- সাদা, হালকা হলুদ, হালকা নীল, হালকা ধূসর, হালকা সবুজ, হালকা গোলাপি। এসব রঙের জামাকাপড় গরমকালে খুব আরামদায়ক হয়। আর এসব হালকা রঙের কাপড়ে যখন কেউ আপনাকে দেখবে, তখন তারও মনে হবে আবহাওয়া ঠাণ্ডা। অর্থাৎ পরোক্ষভাবে আপনি তাদের উপকার করছেন শুধু কাপড়ের রঙ বাছাইয়ের মাধ্যমে।

ছেলেদের জামা-জুতা

গরমে ছেলেরা একটু বিপাকে পড়ে যায় ফ্যাশন নিয়ে। ছেলেদের ফ্যাশনেবল জামা মানেই বন্ধ বন্ধ জামা-কাপড়। খোলামেলা কাপড় পরা একটু কঠিনই হয়। আর চাকরিজীবী হলে তো আরো ঝামেলা। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে ফ্যাশনেবল থাকাটা হচ্ছে মূল কথা। চাকরিজীবী ছাড়া তরুণ ছেলেরা ট্রেড ফলো করে ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে পারে গরমকালে। হালকা কালারের টি-শার্ট বা হাফ হাতা শার্ট পরলেই আরামদায়ক হবে। তবে শার্টের কাপড়টা অবশ্যই হতে হবে কটন। কাঠফাটা গরমে কটন কাপড় ছাড়া অন্যান্য কাপড় খুব একটা আরামদায়ক হয় না। আর সুতি কাপড়ের ফ্লোরাল শার্টেও এই গরমে আপনাকে দেখতে লাগবে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল। তাই গেঞ্জি-প্যান্ট বা যেকোনো ড্রেসের ক্ষেত্রেই ফ্যাব্রিকটা যেন কটন হয় খেয়াল রাখতে হবে। প্যান্টের ক্ষেত্রে ইয়াং ছেলেরা হাফপ্যান্ট পরেই অনেকটা ফ্যাশনেবল হয় ইদানীং।

গ্যাবাডিনের হাফ প্যান্ট বা ফুল প্যান্ট দুটোই গরমে আরামদায়ক। এখন আবার বিভিন্ন কটন কাপড়ের প্যান্টও পাওয়া যায়। সেগুলোও দেখতে বেশ মানানসই এই গরমের সময়ে। চাকরিজীবী ছেলেদের জন্য গরমকালে ফ্যাশনেবল হওয়াটা একটু কঠিন। অফিসের ভেতর ঠাণ্ডা অবস্থা থাকলেও বাইরের রোদ আর ধুলোবালির কারণে ফরমাল পোশাক পরে চলাফেলা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তার ওপর ঘামের সমস্যা তো আছেই। চাকরিজীবী ছেলেদের গরমের সময় ফুল হাতা শার্টটা যেমনই হোক কাপড়টা যেন কটন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ফরমাল প্যান্ট পরতে হলেও কাপড়টা ভালো যেন হয়, সেভাবে যাচাই করে পরিধান করতে পারেন। এখন অধিকাংশ অফিসেই পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে খুব কড়া নিয়মনীতি থাকে না। সেক্ষেত্রে একটা ছোট কলারের কটন শার্ট আর গ্যাবাডিন প্যান্ট পরেই আরাম করে অফিসে করে আসতে পারেন। আর ছুটির দিনে হালকা কালারের ফ্যাশনেবল পাঞ্জাবি পরতে পারেন। ফ্যাশনও হলো, সঙ্গে আরামও হলো। জুতার ক্ষেত্রে ছেলেদের অবশ্যই হালকা স্যান্ডেলের দিকে যেতে হবে এই গরমে। যাতে পা খোলা থাকে ও বাতাস লাগে। কিন্তু চাকরিজীবীরা কী করবেন? চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে সুইটেবল হবে লোফার। যদি অফিসে কাপড়-চোপড় ও জুতা পরিধানে স্বাধীনতা থাকে, তাহলে এই গরমে আপনি অবশ্য লোফার পরিধান করতে পারেন। লোফারে ফরমাল লুকও থাকবে, আরামদায়কও হবে।

মেয়েদের জামা-জুতা

গরমে মেয়েদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক হয় সুতি কুর্তি। হালকা কালারের মধ্যে সুতি কুর্তি বা টপ সঙ্গে সুতি পালাজ্জো বা প্যান্ট সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক এবং একাধারে ফ্যাশনেবল। ইয়াং মেয়েরা যেকোনো ধরনের পোশাকই স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরতে পারে। সেক্ষেত্রে পাতলা টি-শার্ট আর গ্যাবাডিন প্যান্ট ট্রেন্ডি ও ফ্যাশনেবল হবে। আবার ফতুয়া, কুর্তি, শার্ট, স্কার্ট- এই ধরনের কাপড়েও আরামসহ ফ্যাশন ধরে রাখা সম্ভব। ফতুয়া আর টাইটস খুবই আরামদায়ক হবে। সঙ্গে লম্বা চুল থাকলে তাতে ফ্যাশনেবল একটা বেণি। হয়ে গেলেন ট্রেন্ডি ফ্যাশনেবল। গরমে স্কার্ট হতে পারে খুবই আরামদায়ক। এখন লংস্কার্ট ছাড়াও অনেকেই শর্টস্কার্টও পরতে পছন্দ করে। শর্টস্কার্ট আর একটা সুতি ক্রপ টপ পরলে আপনাকেই দেখতে সবচেয়ে ফ্যাশনেবল লাগবে এই গরমে। চাকরিজীবীদের জন্য সুতি কুর্তি বা পাঞ্জাবি গরমের দিনে অপরিহার্য। পাতলা ভয়েল কাপড়ের পাঞ্জাবি আর কুর্তি পরে সারাদিন কাজ করলেও খুব একটা টায়ার্ড হবেন না। বাইরের রোদের তাপের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য সুতি পাঞ্জাবি আর কুর্তিই অন্যতম। অনেক সময় শাড়ি পরার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুতি শাড়ি অথবা শিফন জর্জেটের ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি পরতে পারেন। হালকা কালারের ফ্লোরাল প্রিন্ট গরমের সময় সবচেয়ে বেশি চলে। মেয়েদের ফ্যাশনের একটা বিশেষ অংশ চুল। ছেলেদের যেটা নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে হয় না, এই গরমে সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই যেই হেয়ারস্টাইল ট্রেন্ডি হবে তাহলো খোঁপা। একটু উঁচু করে একটা খোঁপা করে নিলে যেকোনো ড্রেসের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আর জুতার ক্ষেত্রে মেয়েদের খুব একটা ভাবতে হয় না। যেকোনো স্যান্ডেল স্বচ্ছন্দেই পরতে পারে মেয়েরা, যেটা হিল হোক আর ফ্ল্যাট হোক। শুধু খেয়াল রাখতে হবে জুতার সোল যেন আরামদায়ক হয়। গেঞ্জি, টপ, প্যান্টের সঙ্গে আবার স্যান্ডেলটা কম যায়। সেক্ষেত্রে হালকা বাতাস ঢুকতে পারে এমন ধরনের কনভার্স পরা যেতে পারে। আর যদি স্যান্ডেল পরেন, তাহলে স্যান্ডেলই। শুধু খেয়াল রাখতে হবে আপনি যা পরবেন, তাই যেন হয়ে ওঠে ফ্যাশন।

গরমে পরম বন্ধু সানগ্লাস

এই গরমে সানগ্লাস ছাড়া বাইরে বের হওয়ার কথা ভাবাই যায় না। তাই অবশ্যই ভালো কিছু সানগ্লাসের কালেকশন সবারই থাকা উচিত। এখন অনেকেই বিভিন্ন ডিজাইন ও কালারের সানগ্লাস পরে থাকেন। এতে করে দেখতেও ফ্যাশনেবল লাগে, চোখেরও আরাম হয়।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।