সততা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে কোথাও সমস্যা হয় না : তানিন তানহা

২০১৪ সালের লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতার সেরা দশ তানিন তানহা। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে কাজের মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন সবার প্রিয় মুখ। মিডিয়াতে নিজেকে যুক্ত করাসহ অন্যান্য আরো বিষয় নিয়ে কথা হয় আনন্দধারার সঙ্গে। 

আনন্দধারা : মিডিয়াতে আপনার পথচলা শুরু হয় কীভাবে?

তানিন তানহা : লাক্স-চ্যানেল আই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার মিডিয়াতে পথচলা শুরু। এর আগে আমার মিডিয়া সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা কিংবা কাজ করার ইচ্ছা ছিল না। কারণ আমি লিপস্টিক, কাজল এসব কিছুই পরতে পারতাম না। যখন আমি লাক্সে ইন্টারভিউ দিতে যাই, তখন সবাই আমাকে নিয়ে খুব হতাশ ছিল। সবার সেই হতাশা আর পারা না পারা থেকেই আমার মিডিয়ায় পথচলা শুরু। অনেক আগে থেকেই আমি ফেসবুক ব্যবহার করি। তখনই মিডিয়ার মানুষজনের খবরাখবর দেখতে ভালো লাগত। তখন ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দেখে ভাবলাম একটু দুষ্টামি করে দেখি আমার অবস্থান কী হয়! আমাকে দিয়ে হবে কিনা! তখন আমি লাক্সের পেজে একটি ছবি আপলোড করি। তারপর ওখান থেকে আমার ডাক আসে। এভাবেই শুরু হয়।

আনন্দধারা : মিডিয়ার অবস্থা ভালো না হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে কেন মিডিয়াতে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন?

তানিন তানহা : লাক্সের প্রতিযোগিতার পর আমি মডেলিংয়ে কাজ শুরু করি। মডেলদের লাইফ স্টাইল আমার খুব পছন্দ ছিল। সেজন্য তখন পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হই। প্রায় বছরখানেক কাজের মধ্য দিয়ে আমি খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। পাশাপাশি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের প্রত্যেকের ভালোবাসা পেয়ে তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আমি মিডিয়াতেই কাজ করব।

আনন্দধারা : অনেকেই বলে থাকেন, যারা মডেলিং থেকে আসেন তারা অভিনয়টা ঠিকভাবে করতে পারেন না?

তানিন তানহা : ছোটবেলায় আমি কখনোই খেলাধুলায় পুরস্কার আনতে পারতাম না। কিন্তু অভিনয় কিংবা কৌতুকে আমি প্রথম পুরস্কার নিয়ে আসতাম। আমার বাবা আমাকে বলতেন স্কুলের প্রতিযোগিতায় অভিনয়ে অংশগ্রহণ করার জন্য। তাছাড়া বাবা আমাকে বিভিন্ন গল্পে অভিনয় করে দেখানোর জন্য বলতেন। হয়তো তখন থেকেই অভিনয় আমার মধ্যে ছিল। আর অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা থেকেই পরবর্তী সময়ে নিজেকে অভিনয়ে যুক্ত করি। সোহাগ মাসুদের নির্দেশনায় একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম নাটক থেকে আমি ভালো সাড়া পাই। সবাই আমার কাজ খুব পছন্দ করে। তারপর চ্যানেল আই থেকে আমাকে ডাকা হয়। এরপর থেকে নিয়মিত অভিনয় শুরু করি।

আনন্দধারা : মিডিয়াতে কাজ করতে গিয়ে কি আপনার কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে?

তানিন তানহা : সততা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। দেখা গেছে, সব পরিচালক কিংবা প্রযোজক ভালো হয় না। কিন্তু এ সবকিছুই নির্ভর করে নিজের ওপর। কেউ যদি চিন্তা করে যে আমি কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে উঠব, না লিফটে উঠব সেটা তার ব্যাপার। তবে আমাকে এ ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। কারণ আমি জানি এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয় নিজের কারণে। নিজে ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা নেই। আমি যখন কোনো সেটে যাই, তখন আমার কাছে মনে হয় এটা আমার একটা পরিবার। মেয়েরা এখানে অনেক নিরাপদ। সর্বোপরি সবকিছু আসলে নিজের ওপরেই নির্ভর করে। যে যেমনটা চাইবে, তেমনটাই হবে।

আনন্দধারা : আমাদের নাটকে দর্শক সংকটের কারণ কী মনে হয় আপনার?

তানিন তানহা : আমার কাছে মনে হয় আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গল্প। আমাদের গল্পগুলো কেমন একঘেয়েমি মনে হয়। গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড, স্বামী-স্ত্রী দু’জনকে নিয়েই নাটকের গল্প। একই গল্প, একই লোকেশন দেখতে দেখতে দর্শক আসলে বিরক্ত। কারণ দর্শক কোনো গল্প কিংবা নতুনত্ব পাচ্ছে না। যার ফলে দর্শক সংকট হচ্ছে।

আনন্দধারা : অনেকেই বলেন সিনিয়র শিল্পীরা নবীনদের অভিনয়ের সুযোগ দিতে চায় না- কথাটা কতটা সত্যি?

তানিন তানহা : এ রকম হয়। আমার বেলায়ও হয়েছে। সিনিয়র অনেক শিল্পীদের মাঝে আন্তরিকতার অনেক অভাব রয়েছে। একার একটি নাটকে আমার সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে তার অভিনয়ের খুব ভক্ত এবং তাকেও খুব পছন্দ করি। কিন্তু উনি শিল্পী হিসেবে আন্তরিক না। তবে আমার মনে হয় সিনিয়র শিল্পীদের এমন হওয়া উচিত নয়।

আনন্দধারা : দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

তানিন তানহা : ভবিষ্যতের কথা তো আর বলতে পারব না। সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। তবে আমার স্বপ্ন আমি পরিচালনা করব। আমি এখন ডিরেকশন নিয়ে পড়াশোনা করছি। তাছাড়া শুরু থেকে আমার মনে হয়েছে আমাদের এই মিডিয়াতে শিক্ষিত নির্মাতাদের বড়ই অভাব। তবে পাশাপাশি যদি দর্শকের ভালোবাসা আরো পাই, তবে অভিনয়টা করে যাব।

আনন্দধারা : কোনো অভিনেত্রীকে অনুকরণ করা হয়?

তানিন তানহা : অনেকের অভিনয় আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে আফসানা মিমি আপু, ঈশিতা আপু, অপি করিম আপুর অভিনয়ের খুব ভক্ত ছিলাম। তবে আমি কাউকে অনুসরণ বা অনুকরণ করি না। সবার অভিব্যক্তিগুলো দেখি এবং পরে সবকিছুর সংমিশ্রণ করে নিজের মধ্যে নিজের মতো করে প্রকাশ করি।

আনন্দধারা : অভিনয়ের জন্য নিজেকে কীভাবে সময় দিচ্ছেন?

তানিন তানহা : আমার পুরোটা সময় অভিনয়কে ঘিরে। কারণ আমার ওই অর্থে কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল বা আড্ডা দেয়ার অভ্যাস নেই। তবে আমি প্রতিটি কাজের মধ্যেই নিজের চরিত্রকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। আর সেভাবেই চরিত্র ভাবনা সবকিছু মিলে যত পরিশ্রম করতে হয় আমি সেটা করি।

আনন্দধারা : কোন অভিনেতার সঙ্গে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন?

তানিন তানহা : চঞ্চল ভাইয়ের (চঞ্চল চৌধুরী) সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।

আনন্দধারা : প্রথম কবে প্রেমে পড়েছেন?

তানিন তানহা : তৃতীয় শ্রেণিতে থাকার সময় প্রথম প্রেমে পড়েছি। আমার বাসার বিপরীত পাশে ছেলেটা থাকত। নাম ছিল সেতু। সে আমার জন্য মাথায় তেল দিয়ে দু’পাশে সিঁথি করে আসত। আমি ওর জন্য ফ্রগ পরতাম এবং চুলে ঝুঁটি করতাম। আমাকে দেখে সে ক্রিকেট খেলত, আমি ওকে দেখে দড়িলাফ খেলতাম।

আনন্দধারা : আপনার হাতে যদি এক বছর সময় থাকে, তাহলে কী করবেন?

তানিন তানহা : এই এক বছর সময় আমি শুধু চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই এবং পরবর্তী সময়ে এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

আনন্দধারা : আপনার বর্তমান কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে?

তানিন তানহা : সর্বশেষ ইতি তোমারই ঢাকা নামে আমার একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং রাতজাগা ফুল নামে দুটি চলচ্চিত্রের কাজ চলছে। এছাড়া প্রিয়াঙ্কা নামে নেটফ্লিক্সের জন্য একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। তাছাড়া সপ্তাহের প্রতি শনি থেকে বৃহস্পতিবার দীপ্ত টিভিতে মান-অভিমান নামে একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হচ্ছে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।