নব্বই দশকে গেমস দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী সনিকের বড় পর্দায় অভিষেক

সিনেমার নাম : সনিক : দ্য হেজহগ

পরিচালক : জেফরি ফোলার

চিত্রনাট্য : প্যাট ক্যাসি, জস মিলার

অভিনয় : জিম ক্যারি, পবইন সোয়েটর্জ, পজমস মার্সডেন, টিকা সামেপ্তর

মুক্তির তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ (যুক্তরাষ্ট্র)

নাইনটিনডোর বিখ্যাত গেম ম্যারিওকে টেক্কা দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯০ সালে জাপানের সেগা তৈরি করে ১৬ বিটের গেম ‘সনিক : দ্য হেজহগ গেমস’। সে সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাশাপাশি বেশ আলোচিত হয়েছিল এটি। সেই সময় থেকে এই চরিত্রকে কেন্দ্র করে সিনেমা বানানোর চিন্তাভাবনা থাকলেও তা পরে আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। ২০১৩ সালে সনি পিকচার্স এই গেমের সিনেমার স্বত্ব কিনে নেয়। অনেকে ভেবেছিল অবশেষে সনিককে বড় পর্দায় দেখা যাবে কিন্তু এবারো সে আশায় গুড়েবালি। নানান ঝক্কির পর ২০১৬ সালে সনি পিকচার্সের থেকে প্যারামাউন্ট পিকচার্স সনিকের সিনেমা স্বত্ব কিনে নেয়। তারপরই অবসান ঘটে দীর্ঘ প্রতীক্ষার।

এই সিনেমায় দেখা যায়, সনিক হলো একটি নৃবিজ্ঞানী নীল হেজহগ যে অন্য এক বিশ্ব থেকে এসেছে, যে পৃথিবীতে আসে তার গতিবেগের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করে ভিলেনদের থেকে বাঁচতে। দুর্ঘটনাক্রমে সনিক গ্রিন হিলস শহরে এক বিশাল বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটায়। এরপর শুরু হয় তাকে বন্দি করার শত প্রচেষ্টা। সরকার সনিককে ধরার জন্য নৃশংস রোবোটিস্ট ড. রোবোটনিককে নিয়োগ দেয়। এভাবে এগোতে থাকে গল্প।

এই সিনেমাকে নিয়ে যেন বিতর্কের শেষ নেই। সনি পিকচার্সের স্বত্ব প্যারামাউন্ট পিকচার্সের কাছে বিক্রি করা থেকে মুক্তির তারিখ বার বার পেছানো। মুক্তির তারিখ পেছানোর একটি বিশেষ কারণ ছিল দর্শকের নেতিবাচক মনোভাব। এই সিনেমার টিজার-পোস্টার ছাড়ার পরপরই একে ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক, সমালোচনা। সনিক ভক্তরা তাদের স্বপ্নের সনিকের সঙ্গে সিনেমার সনিকের কোনো মিল খুঁজে পাননি। সনিকের আকার-আকৃতি থেকে শুরু করে প্রায় সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এর ফলে আবার পুনরায় সনিককে তৈরি করতে হয়।

এই সিনেমার ডিরেক্টর জেফরি ফোলারের এটি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তিনি একটি এনিমেটেড শর্ট ফিল্ম বানিয়েছিলেন, যেটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছিল। আলোচিত এই সিনেমায় প্রথমে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও বেশ ভালোভাবেই সবকিছুকে মোকাবেলা করেছেন সিনেমার পরিচালক। যদিও গল্প বলার ধরন হলিউডের গতানুগতিক স্টাইলেই বলেছেন। তবে সিনেমার মুড তৈরি ও পরিবর্তনে ছিলেন অনবদ্য। চিত্রনাট্য যুগ্মভাবে লিখেছেন প্যাট ক্যাসি ও জস মিলার, যা একদমই সাদামাটা। ভিন্নতা ছিল না কোনো। ছবিতে মিউজিকের ব্যবহার খুব ভালোভাবে করেছেন টম হলকেনবগ। এছাড়া স্টিফেন এফ উইন্ডোনের সিনেমাটোগ্রাফি নজর কেড়েছে।

এই সিনেমায় সনিক : দ্য হেজহগের সাতগে গলা মিলিয়েছেন বেইন সোয়েটর্জ। যার বাচিক অভিনয় সনিককে অন্যান্য সবার থেকে আলাদা করেছে। সিনেমার মূল আকর্ষণ ছিল বিশ্বের জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন জিম ক্যারির করা ডক্টর রোবোটনিকের চরিত্রটি। জিম ক্যারি তার পুরো শরীর ব্যবহার করে অভিনয় করেছেন, যা তার স্বকীয়তার প্রকাশ। এছাড়া টম ওয়াচোভস্কিকে চরিত্রের জেমস মার্সডেন আর ম্যাডি ওয়াচোভস্কিকে চরিত্রে টিকা সামেপ্তর অভিনয় ভালো লেগেছে।

ছোটবেলা থেকে যারা সনিক : দ্য হেজহগ খেলে বড় হয়েছেন, তাদের জন্য এবার সুযোগ থাকছে সিনেমার সনিককে নতুন করে জানার। আর যারা এখনো সনিককে চেনেন না, তাদের জন্য এটাই সেরা সুযোগ সনিকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার।

 লেখক : রোমন শুভ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।