করোনাভাইরাস

পুরো পৃথিবীতে করোনাভাইরাস সাম্প্রতিককালে একটি অতি পরিচিত শব্দ। গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর এটি ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দু’জন বিদেশফেরত এবং সর্বমোট তিনজন রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। পৃথিবীর অন্য সব দেশের মতোই আমাদের দেশেও করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ বেশ আতঙ্কিত। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আমাদের আশাজাগানিয়া সংবাদ দিচ্ছেন। বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অব আলবার্টার সাধারণ সম্পাদক ডা. জাকির হোসাইন ফেসবুকে করোনাভাইরাস নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল মতামত জানিয়েছেন, যা আপনাকে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক দূর করতে এবং সচেতনতা তৈরি করতে সাহায্য করবে।

ডা. জাকির হোসাইন জানান, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নব্বই হাজার, যার মধ্যে পঞ্চাশ হাজরেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। করোনাভাইরাসের আগে পৃথিবীতে যে কয়টি ভাইরাসজনিত রোগ সাড়া ফেলেছিল, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইবোলা ভাইরাস। ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা মৃত্যুর হার ছিল ৫০ শতাংশ, আর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শতকরা মৃত্যুর হার মাত্র ১.২ শতাংশ। যার মানে হলো ১০০ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে দেড় জনেরও কম মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। ডা. জাকির এ ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করার জন্য জানান, ৮১ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো হয়ে থাকে। যেটি সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। ১৪ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা গুরুতর আর বাকি ৫ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর হয়ে থাকে। এই ৫ ভাগ মানুষ হচ্ছে যারা বয়স্ক, যাদের অন্য রোগ আছে, হার্টে কিংবা লিভারে সমস্যা আছে, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, অ্যাজমা অথবা নিউমোনিয়া আছে তারা করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই আপনার মৃত্যু ঘটবে, ব্যাপারটা এ রকম কিছুই নয় বলে তিনি জানান। বিশ্বমিডিয়া এসব তথ্য আপনাকে জানাচ্ছে না, কারণ তারা একটি হাইপ তৈরি করতে চাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এই রোগে শিশু-কিশোর এবং তরুণরা আক্রান্ত হয় না। এই পর্যন্ত একজন শিশু, কিশোর ও তরুণের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাসের সঙ্গে তাপমাত্রার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। যেসব এলাকার তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে, সেখানে এই রোগ ছড়ায় না। করোনাভাইরাস মূলত সর্দি, কাশি এবং লালা জাতীয় পদার্থের মাধ্যমে একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসটি ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় যখন কারো শরীর থেকে নিঃসরিত হয়, তখন কয়েক মিনিটের বেশি বেঁচে থাকতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব দেশে এখন ঠাণ্ডা আবহাওয়া নেই, গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তকাল চলে এসেছে, সেসব দেশের মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। চায়না, ইতালি, জাপান, ফ্রান্স এবং অন্য শীতপ্রধান দেশগুলোতে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে জানান, এপ্রিল মাস থেকে এই রোগ বাংলাদেশে ছড়ানোর আশঙ্কা একেবারেই কমে যাবে। সবশেষে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আশপাশের মানুষদের এই তথ্যগুলো জানতে এবং তাদের মধ্যে ভরসা জোগাতে।

 লেখক : নাজিফা জান্নাত

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।