আমার বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালিত হচ্ছে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ। চলতি বছরে শতবর্ষে পা দিলেন জাতির এই মহানায়ক। তার স্বপ্ন, দর্শন, আদর্শ, প্রাপ্তি ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার আকাশে-বাতাসে, মানুষের হৃদয়ে। একজন রাজনৈতিক স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ১০০ জন অভিনয় শিল্পী, পরিচালক, সংগীত শিল্পী, লেখক, আবৃত্তি শিল্পী, মঞ্চকর্মী, নৃত্য শিল্পী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলেছেন তাদের একান্ত ভাবনার কথা। পাঠক আপনারাও সঙ্গী হতে পারেন সেই ভাবনার সঙ্গে। পড়ে নিতে পারেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের সেই একান্ত কথামালা।

১. হাসান ইমাম

৭ মার্চ মাঠে উপস্থিত সবার বুকে একটাই শব্দ অনুরণিত হচ্ছিল, স্বাধীনতা। ভাষণ শেষে সবাই যেন একটা দিকনির্দেশনা পেল। সবার মধ্যে একটাই উত্তেজনা, এখনই কিছু একটা করতে হবে। ৭ মার্চ সন্ধ্যায়ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করি। আমরা খুবই উত্তেজিত ছিলাম। এর আগে আমরা অসহযোগ করেছিলাম টেলিভিশন-বেতারে। তখন তিনি বলছিলেন, ‘এখনই তোরা অসহযোগ করিস না।’ তার নির্দেশনা নিতে ৭ মার্চ ৩২ নম্বরে গেলাম। এমন সময়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ ‘রেডিও পাকিস্তান ঢাকা’ কেন্দ্রের নতুন নামকরণ করে- ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’।

২. ড. ইনামুল হক

পৃথিবীতে কিছু মহামানবের জন্ম হয়, যাদের নাম ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ থাকে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদেরই একজন। আমাদের বিশ্ব পরিচিতি তারই কারণে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে যে পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল সেটা যে ভুল, পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বাধীনতা মানুষকে তার পৈত্রিক ঘরছাড়া করে সে স্বাধীনতা সত্যিকার স্বাধীনতা হতে পারে না- এই উপলব্ধি থেকেই বাঙালিদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চেতনাবোধ গড়ে ওঠে। এই চেতনাবোধ গড়ার কারিগরই হলেন আমদের প্রাণপ্রিয় নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

আমার বয়সী যারা, তাদের সৌভাগ্য তারা যখন যুবক ছিলেন তখন বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, চিন্তা-চেতনা আমাদের আন্দোলিত করেছে, আলোড়িত করেছে, সাহসী হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বর্তমান যুব সমাজের কাছে এমন একজন নেতা জীবিত নেই। তবে এ কথাও ঠিক যে, বঙ্গবন্ধু এমন নেতা যার জীবিত থাকার প্রয়োজন নেই- তার আদর্শই যথেষ্ট যুবসমাজকে উজ্জীবিত করার জন্য। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমাদের বয়সী যারা তাদের কর্তব্য হওয়া উচিত বঙ্গবন্ধুর জীবনটা তার ধ্যান-ধারণা, মানবপ্রেম ইত্যাদি যুবসমাজের কাছে নানাভাবে পৌঁছে দেয়া। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী সংগঠনগুলোই বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামগঞ্জ ও শহরের নানা জায়গায় তাদের ভিত্তি স্থাপন করে তার জীবনদর্শনকে তুলে ধরতে পারে।

 

৩. রামেন্দু মজুমদার

ভাবতে গেলে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হয়। এক জীবনে কত ঘটনার সাক্ষী থাকলাম। জন্ম ব্রিটিশ ভারতে, বেড়ে ওঠা পাকিস্তানে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নির্যাতন ও উত্তেজনার অংশী হয়ে পেলাম স্বাধীন বাংলাদেশ। কয়েকবার বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যলাভের বিরল সুযোগ পেলাম। বাঙালিকে একটি জাতিরাষ্ট্র উপহার দেয়া বঙ্গবন্ধুর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য, নিজের সব আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়েছেন, বাংলার মানুষের দুঃখ মোচনের জন্য। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের সংকল্প থেকে বিচ্যুত হননি। সততা আর সাহস ছিল তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাঙালিকে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন স্বাধীনতার স্বর্ণদ্বারে। তাই তো তিনি আমাদের জাতির পিতা। আমরা সৌভাগ্যবান তার জন্মশতবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছি। কিন্তু তার জীবনের কোনো আদর্শ যদি অনুসরণ করতে না পারি, তবে কী তার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন হবে? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকবেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে।

 

৪. সৈয়দ আবদুল হাদী

বঙ্গবন্ধু বলতে আমার কাছে যে কথাটা প্রথমে মাথায় আসে, সেটা হলো তিনি আমাদের জন্য আলোকবর্তিকা। পুরো জাতির জন্য আলো নিয়ে এসেছেন। যে আলোয় এখন আমরা পথ চলেছি। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক একজনই। তিনি না থাকলে এই দেশটা স্বাধীন হতো না। দেশের কল্যাণের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। এমন মানুষ সারা পৃথিবীতে একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশের আলোকবর্তিকা হলেন বঙ্গবন্ধু।

 

৫. ফেরদৌসী মজুমদার

মহামানব, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক। বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ হতো না। তিনি যদি আমাদের স্বাধীন দেশ না পাইয়ে দিতেন, তাহলে হয়তো আমরা পরাধীনই থাকতাম। নেতা হিসেবে তার কাছাকাছি আর কেউ নেই। তিনি যদি আর কিছুদিন আমাদের পাশে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ হয়তো আরো সুন্দর হতো। খাঁটি লোক, দেশপ্রেমিক এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, আর তার ৭ মার্চের ভাষণ অতুলনীয়। আমার মনে, আমার বিশ্বাসে তার স্থান অনেক ওপরে। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।

 

৬. রফিকুল আলম

আমি রফিকুল আলম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীত শিল্পী, সংগীত পরিচালক ও ‘শব্দসৈনিক’ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে এই দৃষ্টিতে দেখি, যেভাবে বিশ্বের সংগ্রামী জাতিরা দেখে বিশ্বের নিপীড়িত মানুষ দেখে, বিশ্ব নেতৃত্ব যেভাবে দেখে। সর্বোপরি তাকে আমি একজন বাঙালি জাতির ত্রাতা হিসেবে দেখি। মূলত তাকেই ত্রাতা বলা যায়, যিনি নিশ্চিত কোনো বিপদ বা মৃত্যুর হাত থেকে কাউকে বাঁচান। বঙ্গবন্ধু অন্ধকারাচ্ছন্ন এ দেশকে আলোর পথে নিয়ে এসেছেন। দেশটাকে একদল হায়েনার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন বলা যায়। তাই সমগ্র জাতির জন্য তিনি যথার্থই ‘সেভিয়ার’।

 

৭. ববিতা

হিমালয়ের চেয়ে বড় শ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন বঙ্গবন্ধু। বিংশ শতাব্দীর এক মহান নেতা আমাদের বঙ্গবন্ধু। পৃথিবীর অনেক মহান নেতাকে অতিক্রম করেছেন জাতির জনক। জাতির জনক আমার মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘তুই একদিন অনেক বড় অভিনেত্রী হবি।’ আমার ভীষণ ভালো লাগে লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যেতে পেরেছি। এটা জাতির জনকের জন্য সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ একই মালায় গাঁথা।

 

৮. ফারুক

বঙ্গবন্ধুকে চিনতে হলে বুকের ভেতর ধারণ করতে হবে। অনেক মানুষের ভেতর থেকে একজন মানুষ বেরিয়ে এসেছেন, তার নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাকে চিনতে পারলে সবখানেই তার দেখা মিলবে। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্য এফডিসি তৈরি করেছেন। আমাদের কাছে তার জন্য অন্য ধরনের একটা আবেগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে শুধু সম্মান আর শ্রদ্ধা করতে হয়। সবকিছুর উপরে একজন বঙ্গবন্ধু। তাকে আমি কাছ থেকে দেখেছি, তার সান্নিধ্য পেয়েছি। এটা আমার জন্য পরম পাওয়া। আমি সুযোগ পেলেই বঙ্গবন্ধুর কথা বলি। ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা না রাখলে স্বাধীনতার পূর্ণতা পেত না। আমরা ভাগ্যবান তার মতো নেতা পেয়েছিলাম।

 

৯. সারাহ কবরী

আমার আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চার এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের নাম বঙ্গবন্ধু। সবাইকে আপন করে নেয়ার একটা গুণ ছিল জাতির জনকের মধ্যে। সেই গুণের কারণেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছি। বঙ্গবন্ধুকে আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে বিমানে দেখেছি। আমাকে তিনি নাম ধরে ডেকেছিলেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। আমরা অনুপ্রেরণার বড় একটা নাম জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। দুটো বিষয়কে কখনো আলাদা করা সম্ভব না।

 

১০. সোহেল রানা

৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলেই ছিলাম। সারা দিনই হইচই আর দৌড়াদৌড়ি। একবার হলে যাচ্ছিলাম, আবার মাঠে যাচ্ছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম কখন বঙ্গবন্ধু আসবেন। আমাদের হলে ১টার সময় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া হয়ে যেত। তাড়াতাড়ি এসে কিছু খেয়ে আবার মাঠের দিকে দৌড় দিলাম। হল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান খুব বেশি দূরে নয়। পাঁচ মিনিটের হাঁটা রাস্তা। চতুর্দিক থেকে লাখ লাখ জনতা এসে ভিড় করেছে। ভাষণের সময় আমি স্টেজের কাছাকাছিই ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথা তখন আমাদের কাছে যে কী ছিল, সেটা আসলে এখন বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমাদের মোটামুটি ধারণা ছিলই, তার কাছ থেকে কী ঘোষণা আসবে। উনি এসে নির্দিষ্ট করে যে নির্দেশনাগুলো দিলেন, সেটা পৃথিবীর আর কোনো নেতা কখনো দিতে পারেননি।

 

১১. দিলারা জামান

বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা স্বাধীনতা পেতাম না, দেশ স্বাধীন হতো না, আমাদের পতাকা পাওয়া হতো না। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত হতে যাওয়া একটি চলচ্চিত্রে তার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, ইতিহাসের অংশ হতে পারছি, এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন আমাদের জন্য বেশ আনন্দের। এটি ভাবতে ভালো লাগছে, তার জন্মশতবার্ষিকী এত আড়ম্বরের মধ্য দিয়ে পালিত হবে, সবাই এতে অংশ নেবে এবং দেশের মধ্যে একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি হবে।

 

১২. আবুল হায়াত

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একবার এক অনুষ্ঠানে আমার দেখা হয়েছিল। তিনি নাটক দেখতেন। আমাকে চিনতে পেরেছিলেন।

 সবচেয়ে বড় কথা, তার ৭ মার্চের ভাষণ আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এক ডাকে মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে এক হয়েছেন। তার এই ডাকের অনুপ্রেরণায় মুক্তিযোদ্ধারা নয়টি মাস কাটিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে। আমার কাছে তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি নেতা।

 

১৩. আবিদা সুলতানা

আমি বঙ্গবন্ধুকে কখনোই সেভাবে পাইনি। বড় বড় অনুষ্ঠানে তখন আমাকে ডাকা হতো না। কারণ ’৭৪-’৭৫-এ আমি মাত্র আমার ক্যারিয়ার শুরু করেছি। তাই কেউ চিনত না আমাকে। তবে একটা ঘটনা আমার স্মৃতিতে সব সময় জ্বল জ্বল করে, তখন আমি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। একটি অনুষ্ঠানেই বঙ্গবন্ধুকে পেয়েছিলাম, সেখানে আমি গেয়েছিলাম ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’- এ গানটা। এটা যে উনার এত প্রিয় গান আমি জানতাম না। এক পর্যায়ে দেখলাম উনি কাঁদছেন। তারপর শেখ মনি সাহেবকে ডাকলেন এবং আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। মনি ভাই আমাকে ছোট বোন বলে ডাকতেন। উনি আমার পরিচয় দিলেন। তারপর বঙ্গবন্ধু আমাকে ওই গানটা আর একবার গাইতে বললেন। এটা আমার জীবনের পরম পাওয়া।

 

১৪. খুরশিদ আলম

আমি বঙ্গবন্ধুকে সব সময় বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে দেখি। এটার মধ্যে কোনো খাদ নেই। তিনি যেভাবে দেশ পরিচালনা করতেন, আমার মনে হয় না আর কারো পক্ষে সেটা সম্ভব। তিনি সবসময় বলতেন, ‘আমরা করব’। এককভাবে তিনি কখনো স্বীকৃতি বা সম্মান চাননি। প্রত্যেক নেতাকর্মী ও দেশের জনগণ সেটার অংশীদার। আমি মনে করি তার কৃতিত্ব এখানেই। তিনি তার মিত্রের সঙ্গে যেমনভাবে মিশেছেন, ঠিক তেমনি অবলীলায় মিশেছেন তার শত্রুর সঙ্গে। তিনি হয়তো শত্রু-মিত্র কথাই চিন্তা করতেন না। তিনি শুধু চিন্তা করতেন বাংলার মানুষের মুক্তির কথা। বাংলার মানুষকে তিনি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছেন।

 

১৫. লাকী ইনাম

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ছাড়া কখনো বাংলাদেশ হতো কিনা এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তরুণ বয়স থেকে সারা জীবন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমাজের কথা বলা, মানুষের কথা বলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। এমন একজন নেতাকে আমরা জাতির পিতা হিসেবে পেয়েছি, এটা আমাদের সৌভাগ্যের বিষয়। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ আমাদের হিংসা করতে বাধ্য, কারণ হাতে গোনা কয়েকটা দেশ ছাড়া তাদের এমন জাতির জনক নেই। বঙ্গবন্ধুর জন্য আমাদের খুব কষ্ট হয়, কারণ তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর বাংলাদেশ পেয়েছেন। এই স্বল্প সময়ে দেশের প্রতিটি শাখায় তার ছোঁয়া রেখে গেছেন। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি কাজ করে গেছেন। আমাদের শিল্পকলা একাডেমি তিনিই করে দিয়ে গেছেন। তিনি যেটুকু রেখে গেছেন, তা অবলম্বন করেই পরবর্তী সময়ে প্রচুর পরিকল্পনা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজও হয়েছে। যার ফলে আমরা আজকে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় বঙ্গবন্ধু মানেই আমাদের বাংলাদেশ।

 

১৬. ইলিয়াস কাঞ্চন

আমার দেখা প্রথম নেতা, প্রথম আদর্শ, প্রথম প্রেম হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। তাকে নিয়ে এত অল্প পরিসরে বলা আসলে এত সহজ নয়। জীবনে যেমন প্রথম ভালোবাসার কথা ভোলা যায় না, তেমনি জাতির জনকের কথা কোনোদিন ভুলতে পারব না। ৭ মার্চের ভাষণের দিন আমি রেসকোর্সে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম। সেদিন একটা কোরান শরীফ উপহার দিয়েছিলাম। বেশ কয়েকবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়েছে। একই টেবিলে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। নিজেকে তাই অনেক ভাগ্যবান মনে হয় আমার। আমার প্রথম প্রেমের নামই হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

১৭. শর্মিলী আহমেদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা, এর চেয়ে বড় কিছু তো আর নেই। বাংলার শ্রেষ্ঠ মানুষ। বাংলাদেশ আর বাঙালি জাতিকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। মহান মানব। তার মহানুভবতা, দেশপ্রেম, ত্যাগ অল্প কথায় শেষ করার নয়। তিনি আমাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসার মানুষ।

 

১৮. লায়লা হাসান

বঙ্গবন্ধু আমাদের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু আমার পরিচয়, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পরিচয়, আমি বলব, বঙ্গবন্ধু বাঙালির অস্তিত্ব। তিনি না থাকলে আমরা বাংলাদেশকে পেতাম না, বিশ্বে আমাদের যে পরিচয়, তা অর্জন করতে পারতাম না। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ হতো না। বঙ্গবন্ধু বাঙালির আত্মপরিচয়।

 

১৯. জুয়েল আইচ

স্কুলজীবন থেকেই মিছিলে যেতাম। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই প্রতিবাদ তা পুরোপুরি বুঝতে পারতাম না। মিছিলে পোস্টারগুলো আঁকা হতো নানা আঙ্গিকে, বোঝানো হতো গাভী ঘাস খাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে আর দুধ নিয়ে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তান। এটুকু বুঝতাম আমাদের শোষণ করে আসছে তারা। বঙ্গবন্ধুকে তখনো ভালোভাবে চিনি না। এর মধ্যে তাকে বেশ ক’বার জেল খাটতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। সত্যি বলতে তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা। তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে বন্দি করা হলো, আমরা একজন কাছের মানুষ পেলাম, যিনি নিজের জীবন দিয়ে হলেও আমাদের জন্য কিছু করবেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিল বাঙালি ’৭০-এর নির্বাচনে তা প্রকাশ পেল, জয়বাংলা, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা- এগুলো আমাদের কমন স্লোগান ছিল। দেশ স্বাধীনে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম সবাই। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ- যা মঞ্চের বেশ কাছে দাঁড়িয়ে শোনার-দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। অবিশ্বাস্য সে ভাষণ। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি। আমাদের মনে হয়েছিল যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আছে আমাদের।

 

২০. সাদি মোহাম্মদ

বঙ্গবন্ধু আমার কাছে আকাশের মতো। তার অসীমতার কোনো শেষ নেই। সবচেয়ে ভালো লাগে আমার বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন। তার জীবনদর্শন এত সহজ-সরল ছিল, যেটা সব মানুষের জীবনদর্শন হতে পারে। যদি এটুকু হয়, তাহলে সবাই দেশটাকে বড় ভালোবাসতে পারবে। সহজ জীবনযাপনে আমরা মানুষের সঙ্গে মিশতে পারব। মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাব। বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবেসেছিলেন। নিঃস্বার্থভাবে মানুষ তাই তার কাছে এসেছিল। দেশের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার অসীমতা বঙ্গবন্ধুকে আকাশের মতো সীমাহীন করে তোলে। ভালোবাসি বঙ্গবন্ধুকে। তার জীবনদর্শনকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাই।

 

২১. কিরণ চন্দ্র রায়

বঙ্গবন্ধু আমাদের গর্ব। সারা পৃথিবী জানে, তিনি একজন অবিসংবাদিত নেতা। আমার অর্জন সবকিছুই বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ। তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একাত্তরের মহান চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে, যেটি আমার ভালো লেগেছে। এই উদযাপনে আমি আনন্দিত, আহ্লাদিত এবং আবেগে আপ্লুত। অসংখ্য গান গেয়েছি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে, তার ৭ মার্চের জনসমাগমে ছিলাম, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ছিলাম, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক ছিলাম। আমি নিজে একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমার বাড়ি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল। সব মিলিয়ে বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, আমাদের স্বপ্ন মিলেমিশে একাকার।

 

২২. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়

স্কুলজীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর কথা জেনে আসছি, শুনে আসছি। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যুক্তফ্রন্টের আমল, ছয় দফার আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, তার কারাবাসের দিনগুলো- সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম, সেখানে তার দেশের প্রতি অসম্ভব ভালোবাসা প্রমাণ করে। তিনি কারান্তরালে থেকেও দেশের কথা ভোলেননি। তার অসমাপ্ত আত্মজীবনী আর কারাগারের দিনগুলো পড়ে তার যে চেহারা মনে গেঁথে যায় তা হলো- বঙ্গবন্ধু অবিসংবাদিত বাঙালি এক নেতা, বাঙালি জাতির জন্য কাজ করে গেছেন সেই শুরু থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার শেষ পর্যন্ত। নিজের কথা না ভেবে যিনি দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা ভাবেন তিনিই বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

 

২৩. শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকেই মূলত বঙ্গবন্ধুকে আমি চিন্তা-চেতনায় পেয়েছি। স্কুলে পড়তাম তখন। আগের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় অনেক ছোট ছিলাম, বঙ্গবন্ধুকে অনুভব করেছি স্কুলজীবন থেকেই। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ। অনেক ছোট ছিলাম কিন্তু মনে আছে তার প্রতিটি শব্দ, যেন বুকে গেঁথে ছিল। ওই বয়সে নিজেদের উদ্বুদ্ধ করা স্বাধীনতা সংগ্রামে, এটা আমার দেশ, দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হবে, দেশের জন্য চিন্তা-ভাবনা- সবটাই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে আমাদের পাওয়া। আমার মনে আছে ’৭১-এ যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়, আমরা চট্টগ্রামে ছিলাম। আগের দিন বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের ঘোষণা দেয়ার পর আমাদের কাছে হাতেলেখা বেশকিছু লিফলেট নিয়ে আসে কয়েকজন। ওগুলো কপি করে সারা পাড়ায় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর যুদ্ধ পার হলো, দেশ স্বাধীন হলো। বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন। দেশ গঠনের জন্য তার যে ভূমিকা, সত্যি বলতে অল্প বয়সে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা বঙ্গবন্ধুর জন্যই সম্ভব হয়েছে।

 

২৪. রাইসুল ইসলাম আসাদ

এক কথায় বলতে গেলে বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজ আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশে পেয়েছি, সেটা তার কল্যাণেই। তার চেতনা, সাহস আর বুদ্ধির দীপ্তি পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে যেতে পারেনি। কারণ এর আগে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলার বুক থেকে। আমরা হয়তো ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এখনো পাইনি। তিনি যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আমাদের সবাইকে আরো নির্মোহভাবে কাজ করতে হবে।

 

২৫. তারিক আনাম খান

আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি বঙ্গবন্ধুর যৌক্তিক ব্যাখ্যাগুলোকে মেনে নিয়েই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। শেখ মুজিবুর রহমান এর ভক্ত আমি সবসময়ই। তার ৭ মার্চের ভাষণ আমার পুরোটা মুখস্থ ছিল। আমি ক্যাম্পে বসে অনেক সময় সেটা বন্ধুদের শোনাতাম। আমার কাছে মনে হয়, বঙ্গবন্ধু ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে, আকাশের মতো বিশাল। তার উদারতার বিশালতা অপরিমেয়। তাকে খুব অল্প সময়ের জন্য আমরা পেয়েছি, আর খুব অল্প সময়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলেছি। আমার কাছে তিনি আমাদের বাঙালি জাতির পিতাই নন, সত্যিকার অর্থে তিনি আমার কাছে আমার পিতার সমান।

 

২৬. ইমদাদুল হক মিলন

১৯৭৭ সালে আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গল্প লিখলাম। গল্পের নাম ‘রাজার চিঠি’। তারপর লিখলাম ‘মানুষ কাঁদছে’। ’৯০ সালে লিখলাম ‘নেতা যে রাতে নিহত হলেন’। যে সময় বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলাদেশে উচ্চারণ করা যায় না সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গল্প লেখা নিশ্চয়ই খুব সাহসের কাজ। কাজটা আমি করেছিলাম। ’৭৯ থেকে ’৮১ সাল পর্যন্ত তখনকার পশ্চিম জার্মানিতে ছিলাম। সেই সময়কার অ্যালবাম ঘেঁটে দেখি, আমি যেই রুমটায় থাকতাম সেই রুমে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙাচ্ছি। আমার এক বন্ধু এই ছবিটা তুলে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার একটা কিশোর জীবনী লিখেছি। প্রতিটি লেখাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা থেকে লিখেছি। বঙ্গবন্ধুকে যে রাতে সপরিবারে হত্যা করা হলো, পরদিন সকালবেলা এই খবর শুনে আমার মা বুক চাপড়াতে চাপড়াতে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, তারা বোঝেনি ব্যক্তি মুজিবকে হত্যা করা যায় তার চেতনাকে হত্যা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু আমার কাছে আকাশের মতো। আকাশ কেউ ধ্বংস করতে পারে না। তিনি বাঙালি জাতির মাথার ওপরে আছেন, চিরকাল থাকবেন।

 

২৭. আফজাল হোসেন

বঙ্গবন্ধুর ভেতরে বিশেষ এক ক্ষমতা ছিল, তা দিয়ে তিনি সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং দেখিয়েছিলেন স্বাধীন দেশের। এর ফলে একেবারেই সাধারণ মানুষ, যারা যুদ্ধ শব্দের মানে জানত না, তারাই যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। সাধারণের ভেতরকার অসাধারণত্বকে আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- এই উদাত্ত আহ্বান মাথা পেতে গ্রহণ করেছিল জাতি। আমরা লড়েছি, পেয়েছি স্বাধীনতা, পতাকা, দেশ। পৃথিবীর মাঝখানে তৈরি হয়েছে আমাদের আলাদা অস্তিত্ব। সগৌরবে বলতে পারি, আমি বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি।

 

২৮. ফরিদুর রেজা সাগর

আমি গর্বিত বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতার দেশে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি আরো গর্বিত তার পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বে এগিয়ে চলা দেশে বাস করছি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অগ্রগতি দেখে যেতে পারছি। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতোয় গাঁথা।

 

২৯. কুমার বিশ্বজিৎ

তার অবদানের কথা এক কথায় শেষ করা যাবে না। একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর জন্য। ৭ মার্চের ভাষণে সমগ্র বাঙালিকে এক করেছিলেন তিনি। আমরা একটা স্বাধীন দেশ, পতাকা পেয়েছি তার জন্যই। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। আমাদের অনুপ্রেরণার নাম বঙ্গবন্ধু। ’৪৭, ’৫২, ’৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা আমাদের আশাবাদী করে। তার অবদানের কথা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। এমন মহান নেতা জাতির জন্য গর্বের। জাতির জনক বলতেই একটা পরিপূর্ণ মানুষের ছবি চোখের সামনে চলে আসে। খুব গর্ব সহকারে জাতির জনকের নাম উচ্চারিত হয় বুকের ভেতরে।

 

৩০. মিশা সওদাগার

একজন পরিপূর্ণ শিল্পী বলতে যা বোঝায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে আমার তাই মনে হয়। তার ওঠা-বসা, কথা বলা সবকিছুর মধ্যে একজন শিল্পীর ছাপ রয়েছে। সব পেশার মানুষের প্রতি তার মমতা ছিল। সেটা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বলেই অনেক আগেই এফডিসি তৈরি করে দিয়েছিলেন। এমন মানুষ পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। আমি বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অভিনয় করছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সবার ভালোবাসায় এটা যেন শেষ করতে পারি। তাহলে জাতির পিতার প্রতি আমার একটা সম্মান দেখানো হবে। বঙ্গবন্ধু হলেন মহানায়ক।

 

৩১. সাদিয়া আফরিন মল্লিক

বঙ্গবন্ধু শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি বিশ্ব মানবতার একজন নেতা। বঙ্গবন্ধু একটা আলোকবর্তিকা। যার শিখা আমাদের আলোকিত করে, আলোকিত করে যায়, অন্ধকারে আমাদের পথ দেখায়। সেই আলোয় আমরা হেঁটে যাব অনন্তকাল।

 

৩২. শম্পা রেজা

আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ছাড়া তো আমাদের বেঁচে থাকার কোনো উপায় ছিল না। একটি দেশ হিসেবে, একটি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর একমাত্র পথপ্রদর্শক বঙ্গবন্ধু। আজকের যা কিছু বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, আমরাও সেভাবে চলছি বঙ্গবন্ধুকে বুকে নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা ছোট ছিলাম, তবুও মনে আছে কী চমৎকার একজন মানুষ ছিলেন। তাকে চিনতে শিখলে, আমাদের দেশের আমূল মানসিক পরিবর্তন আসবে, যেটা খুব জরুরি।

 

৩৩. চম্পা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ছোটবেলা থেকে শুনে বড় হয়েছি। বঙ্গবন্ধুর কথা, কাজ এবং তার অনমনীয় ব্যক্তিত্ব আমাকে মুগ্ধ করে। তিনি আমাদের জাতির মহান কারিগর, তার পুরো জীবনজুড়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর আমদের মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা এবং ভালোবাসা জুগিয়েছে। তিনি যে কণ্ঠস্বর ধারণ করেছেন, সে রকম কণ্ঠস্বর আমি আজও কারো মধ্যে খুঁজে পাইনি। আমাদের বর্তমানের সচ্ছল অবস্থার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য, তিনি আমাদের বটগাছের ছায়া জুগিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন নতুন প্রজন্মের কাছে তার সম্পর্কে জানার পরিধি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।

 

৩৪. মুনমুন আহমেদ

 বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন, আমাদের জন্য একটি গৌরবের বিষয়। তিনি আমার অন্যতম একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার জন্মশতবার্ষিকীতে অংশগ্রহণ করতে পারছি, এটি আমার জন্য আনন্দের এবং এই উদযাপন যাতে সর্বাত্মকভাবে সাফল্যমণ্ডিত হয়। একটা সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে গেলেও ভীতি কাজ করত। সেই ক্রান্তিকাল আমরা পার করে এসেছি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক। তিনি এই দেশের জন্য যে স্বপ্নগুলো বুকে ধারণ করতেন, সেগুলো যেন পূরণ হয় এই প্রত্যাশা রাখি।

 

৩৫. চন্দনা মজুমদার

 আমি ভীষণভাবে গর্বিত এবং আনন্দিত যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে উদযাপিত হবে। তিনি আমাদের জাতির জনক। বাঙালির চিন্তা-চেতনার বিনির্মাণে তিনি সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের মানসপটে স্বাধীনতার উজ্জ্বল ছবি তারই সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিল, উৎসর্গ করেছিল তাদের প্রাণ আর আমরা পেয়েছি পরাধীনতা থেকে মুক্তি। আমার চাওয়া, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন যেন নতুন একটি মাইলফলক হয়, এর মাধ্যমে যাতে প্রান্তিক এবং দুস্থ জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়। বঙ্গবন্ধু আমাদের নয়নমণি, তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

 

৩৬. আনিসুল হক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিল বলেই বাংলাদেশটা স্বাধীন হতে পেরেছে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে আমাদের পূর্বপুরুষদের পুণ্যের ফলে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়। তিনি প্রচণ্ড দেশপ্রেম, সাহস, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক প্রতিভা, পরিশ্রম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে দেশের মানুষকে একত্রিত করেছেন, দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করতে সংঘটিত করেছিলেন। তার সংগ্রামী জীবনে তাকে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কেউ নন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে তিনি একদমই যথার্থ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আমার চাওয়া হলো, তিনি সারা জীবন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছেন, আমরা যেন তার জন্মশতবার্ষিকীতে সে কথাটি মনে রাখি এবং এমন কিছু করি, যা গরিব এবং সাধারণ মানুষের কাজে লাগে।

 

৩৭. শিবলি মোহাম্মদ

আমি শহীদের সন্তান। আমার বাবা ২৬ মার্চ নির্মমভাবে শহীদ হন। তারপর যখন দেশটা পেলাম, মানচিত্র পেলাম, পতাকাটা পেলাম এবং যার কারণে পেলাম, সে মানুষটাই বঙ্গবন্ধু। তার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের জন্য প্রাণ হারান বাবা। সারা জীবন অনেক স্ট্রাগল করলেও যখন এই পতাকাটা দেখি, তার লাল সূর্য, রক্তের লাল রঙ, তখন মনে হয় এখানে এক ফোঁটা আমার বাবা বা আমার পরিবারের ত্যাগের একটি জায়গা। যেখানে একটা আত্মতৃপ্তি হয়। বঙ্গবন্ধু আমাদের পথপ্রদর্শক। আমার জীবনের আদর্শ। তার কারণেই এই দেশ, এই মানচিত্র, যে যা-ই বলুক, বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ হতো না। বঙ্গবন্ধুকে অন্তর দিয়ে আমরা অনুভব করি, অনুধাবন করি। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমরা বিভিন্ন দেশে যাই- ততক্ষণ কৃতজ্ঞতায় মাথা নত হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতি। আমার বাবার প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিও শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।

 

৩৮. শামীম আরা নিপা

বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা, তিনি আমাদের অস্তিত্বের একটি অংশ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের জন্য, তার জন্মশতবার্ষিকীতে আমার একটাই প্রত্যাশা, তিনি বাংলাদেশকে যে অনন্য উচ্চতায় দেখতে চেয়েছিলেন, সে স্বপ্ন যাতে যথাযথভাবে পূর্ণ হয়। আমরা প্রত্যেকেই যেন যার যার জায়গা থেকে তার স্বপ্নটাকে ছুঁতে পারি, তাহলেই এই আয়োজন সার্থকতা পাবে। অন্যথায় অনেক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান কিংবা আতশবাজির ঝলকানি এই আয়োজনকে পূর্ণতা দেবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল কাজ হবে, যা আরো শত বছর ধরে চলবে এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে, যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের ব্রত নেবে।

 

৩৯. আজিজুল হাকিম

১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেলাম একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি লাল-সবুজের পতাকা। পাকিস্তানের শাসক-শোষকদের অমানুষিক নির্যাতন আর বঞ্চনার কবল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, বাঙালি তার অধিকার আদায়ের জন্য অন্তরে যে সংগ্রাম পুষে রেখেছিল, সেই ছাইচাপা আগুনকে প্রজ্বলিত করার জন্য যে নেতা, যার নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল তিনি আর কেউ নন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে গড়ার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছিল তার সুচারু ভাবনা ও নেতৃত্ব। আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর দিকনির্দেশনা না থাকলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তাই আমি বলি বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ আর লাল-সবুজের পতাকা মানে শেখ মুজিবুর রহমান।

 

৪০. ফেরদৌস আরা

এমন কোনো বাঙালি চিত্ত নেই যে, বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। ভালোবাসা এক জিনিস আর ভালোবাসতে শেখানো আরেক জিনিস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষকে, এই দেশকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। আমি একজন নজরুল শিল্পী হিসেবে তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। কারণ বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা এই দেশের মাটিতেই সমাধিস্থ করতে পেরেছিলাম, তাকে আনতে পেরেছিলাম, তার প্রতি সম্মান দেখাতে পেরেছিলাম বঙ্গবন্ধুর কারণেই। তার কারণেই আমরা আমাদের জাতীয় কবিকে এ দেশেই পেয়েছি। আমরা জাতীয় কবিকে জীবিত অবস্থায় এই দেশের বুকে পেয়েছি শুধু তার জন্য। অবনত চিত্তে তাকে স্মরণ করি।

 

৪১. অরুণা বিশ্বাস

সব মানুষকে একই চোখে দেখতেন। ধনী-গরিব সব সমান ছিল তার কাছে। শিল্পী, কৃষক সবার প্রতি অসীম দরদ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। শিল্পীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমার কাছে শুধু একজন নেতা নন, একজন মহানায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু। তার জন্য একটা দেশ, একটা পতাকা পেয়েছি। আসলে কোনো উপমায় তাকে আখ্যায়িত করার ভাষা আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশকে জানি। তার কথা এদেশ কোনোদিন ভুলবে না।

 

৪২. জাহিদ হাসান

আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। তিনি নেতা হওয়ার জন্যই নেতা হননি। পরিস্থিতি তাকে নেতা বানিয়েছে। তিনি সবসময় দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন, তাই মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলেন। তিনি যে কাজই করেছেন সেটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসের সঙ্গে করেছেন। তিনি কখনো কারো সঙ্গে আপস করেননি, অভ্যস্ত ছিলেন একেবারেই সাধারণ জীবনযাপনে, যা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্র গড়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন পুরো জাতির জন্য একটি উৎসবের আমেজ তৈরি করছে, যা আমাদের আনন্দিত হওয়ার উপলক্ষ জোগায়।

 

৪৩. তৌকীর আহমেদ

বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির জনক। বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা তিনি। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাতে তিনি না থাকলে হয়তো আমাদের অস্তিত্বই থাকত না। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্যই তার কাছে ঋণী। আমাদের দেশ, সংস্কৃতি, আমাদের ভাষা অর্থাৎ যা কিছু অর্জন তাতে বঙ্গবন্ধুর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি না থাকলে হয়তো আজ আমরা এই অবস্থানে যেতে পারতাম না। তিনি একজন মহানায়ক।

 

৪৪. ফাহমিদা নবী

একজন সাহসী নেতা এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠের আহ্বান আজো প্রাণবন্ত, আজো বাঙালির হৃদয়ে এক সমুদ্র নীলাভ বয়ে চলা। ভাবলেই যে নামটি চোখে ভাসে, তিনি বাঙালির অহংকার। বঙ্গবন্ধু নামটি যেন চিরসবুজের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা লাল ফোঁটা। শত বছরের এই শুভক্ষণে তার প্রতি জানাই শ্রদ্ধা। তারুণ্য ভরা এগিয়ে যাওয়ার ভালোবাসা।

 

৪৫. সামিনা চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু যখন বেঁচে ছিলেন আমি তখন খুব ছোট। কিছুই বুঝতাম না এবং তাকে যখন হত্যা করা হলো, তখনো কিছুই বুঝিনি। আস্তে আস্তে তার সম্পর্কে পড়েছি, জেনেছি। আমি মনে করি নেতৃত্ব দেয়া শুরু হয় নিজের ঘর থেকেই। এই নেতৃত্বে মায়া, আদর, শাসন ও গর্জন থাকে কিন্তু সবার ওপরে থাকে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা ও গর্জন না থাকলে একটা সংসারও ভালোমতো চলে না। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও আমার তাই মনে হয়। এই রকম একজন নেতাই আমাদের দেশের জন্য তখন দরকার ছিল। যিনি দেশের প্রতিটি মানুষের কথা ভেবেছেন ও অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। এজন্যই তাকে বাঙালি জাতির জনক বলা হয়।

 

৪৬. বাপ্পা মজুমদার

আমার কাছে বঙ্গবন্ধু মানে গোটা বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে আমাদের অস্তিত্ব, বঙ্গবন্ধু একটি আদর্শের নাম। আমি জোর গলায় বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধু আমাদের অস্থি, মজ্জা, রক্তে মিশে যাওয়া একটি বোধ। জয় বাংলা।

 

৪৭. আজাদ আবুল কালাম

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার প্রতীক। বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু নামটি জড়িত। মানুষ একটি স্বাধীন দেশ, স্বাধীন সত্তা এবং স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। আর এই স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন। বাঙালি জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম রয়েছে। সে সংগ্রাম থেকে শেষ মুহূর্তে একটা জাতিসত্তা তৈরির ক্ষেত্রে তার ভূমিকা সবচেয়ে বড়। একজন শিল্পীর কাজের জন্য বড় শর্ত হচ্ছে স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীনতার সঙ্গে আসলে ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সবকিছু নির্ভর করে। আমার শিল্পীসত্তার সে স্বাধীনতা বিকাশের ক্ষেত্রে পূর্ব সূত্র হিসেবে বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন।

 

৪৮. শহীদুজ্জামান সেলিম

আমার কাছে হিমালয়ের সমান সর্বোচ্চ একজন মানুষ বঙ্গবন্ধু। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং মানুষ হিসেবে আমার কাছে একজন পূজনীয় তিনি। বঙ্গবন্ধুর কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমরা শিল্পীরা পেশাগতভাবে অভিনয় করতে পারছি। তা না হলে হয়তো আমাদের কোনো অফিসে ছোটখাটো চাকরি করতে হতো। সর্বোপরি আমার কাছে বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বাঙালি মানেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানেই বাঙালি।

৪৯. মাসুম রেজা

আমি এক গর্বিত বাঙালি। আমি স্বচক্ষে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দৃপ্তকণ্ঠে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানাচ্ছেন, আমি তা শুনেছি। সনটা ১৯৭৩ হবে। কুষ্টিয়া ইউনাইটেড হাইস্কুল মাঠে বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন। আমি খুব কাছ থেকে সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা তখন থেকেই শুরু। বঙ্গবন্ধুর ’৬৬ সালের দেয়া ছয় দফার কথা একদম শিশু বয়স থেকে শুনেছি কিন্তু বুঝিনি এই ছয় দফাতেই রচিত হবে বাঙালির মুক্তিসনদ। আটষট্টির আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথাও শুনেছি সে সময়, বুঝিনি কিছুই। সেই মামলায় ৩৫ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার প্রধান আসামি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলার স্থপতি শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে করা সেই মিথ্যা মামলা জন্ম দিয়েছিলে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচন এবং ’৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ।

 

৫০. মোহাম্মদ আলী হায়দার

১৯৯৩ সালে টুঙ্গিপাড়া যাই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আয়োজনে মঞ্চ নাটক পরিবেশন করতে। টুঙ্গিপাড়ায় বাস থেকে নেমেই আমরা চলে যাই বঙ্গবন্ধু যেখানে ঘুমিয়ে আছেন, সেখানে। চারিদিক খোলা কবরের সামনে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠল, চোখ ভিজে জল পড়তে লাগল। বুকে চিনচিনে এক ব্যথা হতে লাগল। প্রচ- ব্যথা। কারণ জানি না। মনে হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে অগ্রসর একজন মানুষ, যিনি ভেবেছিলেন এই জাতি একদিন নিজের দেশ পাবে, স্বাধীন হবে, বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বিশ্বের অন্য সব দেশের পাশে। সেই মানুষ যেই অজপাড়াগাঁ থেকে গিয়েছিলেন, সেখানেই সমাহিত হলেন। এই বিশাল মানুষকে আমরা আমাদের শহুরে চাকচিক্যে বাঁধতে পারলাম না। কোনো কবরের পাশে গিয়ে আমার এই রকম অনুভূতি হয়নি। মনে হয় না হবেও। এটি একটি অন্য অনুভূতি, যা বঙ্গবন্ধুর জন্য আমাদের এক ভেতরগত বেদনা কাজ করে সবসময়। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু এক বিশাল আকাশ, যার কোনো শেষ নেই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহসী বাঙালি বঙ্গবন্ধু যতদিন এই পৃথিবী থাকবে, এর আকাশে মহাকাশ হয়েই থাকবেন তিনি। তার শুধু জন্মশত বছর উদযাপন নয়, সহস্র সহস্র বছর উদযাপন হবে এই ধরণীতে, এ আমি নিশ্চিত।

 

৫১. ড. আইরিন পারভীন লোপা

বাংলা, বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু অবিচ্ছেদ্য, যা কখনো আলাদা করা যাবে না। স্বাধীনতাবিরোধী খুনিদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুসহ তার গোটা পরিবারকে। ইতিহাস সৃষ্টি করে গণমানুষ। ইতিহাস সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমানুষকে উদ্বুদ্ধ, অনুপ্রাণিত ও সংঘবদ্ধ করা এবং উপলক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন ক্ষণজন্মা কিছু ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্ব ইতিহাসের সেই মহানায়ক, সেরা মুক্তিসংগ্রামী, সেরা রাষ্ট্রনায়ক, জননন্দিত নেতা। তার তুলনা ছিলেন তিনি নিজেই। দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা, দায়বোধ তাকে মহীরুহে পরিণত করেছিল। ব্যক্তি শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, বাঙালি জাতি, বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের শত্রুরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। জাতির এই মহান নেতাকে হত্যা করলেও আজ বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ মুজিবের বিস্তার ঘটেছে, যারা চেতনার অনির্বাণ শিখা জ্বালিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে একাগ্রভাবে নিজেদের জীবন নিয়োজিত করেছেন। বাঙালি ভূখণ্ডের জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণা দান করে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

৫২. গাজী রাকায়েত

হেলাল হাফিজের একটি কবিতা আছে নিউট্রন বোমা বোঝো, মানুষ বোঝো না! আমি সব সময় বলি, বাংলাদেশ বোঝো, বঙ্গবন্ধু বোঝো না! আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ শব্দটি অপরিপূর্ণ বঙ্গবন্ধু ছাড়া। বঙ্গবন্ধু ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। আমার দৃষ্টিতে পৃথিবীতে বঙ্গবন্ধুর মতো রাজনৈতিক নেতা বিরল। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কয়েকজন নেতার মধ্যে তিনি একজন। বাঙালি জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কে। বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত যিনি করেছেন, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু। তার আদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানুষ সম্পর্কে তার চিন্তাভাবনা এতই সর্বজনীন, যা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বাঙালির নেতা হয়েও বিশ্বমানবতার জন্য তার একটি বিশাল অবদান রয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব নেতা বলতে চাই। নেতৃত্বের একটি দিক হচ্ছে পারফরম্যান্স। বঙ্গবন্ধুর চলন-বলন, কথাবার্তা, নেতৃত্ব সবকিছু মিলে এ রকম পারফরম্যান্সের নেতা পৃথিবীতে নেই। বঙ্গবন্ধু একজন নায়কই শুধু নন, তিনি মহানায়ক। বঙ্গবন্ধু মহানায়ক এ কারণে তার ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কম নায়কের পক্ষে পারফর্ম করা সম্ভব।

 

৫৩. ফেরদৌস

বঙ্গবন্ধু মানেই আমার কাছে বাংলাদেশ। এছাড়া আর কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। তিনিই আমাদের মুক্তির মহানায়ক। বিশাল একটা মুক্তির আকাশ আমাদের উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর এক আঙুলের ইশারায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ এক হয়েছিল। সারা পৃথিবীতে তিনি আমাদের মহান নেতা। এমন মানুষের জন্ম আর হবে কিনা আমার জানা নেই। জাতির জনক আমাদের একজনই। তিনি ছিলেন বলেই একটা বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের সত্যিকারের মহানায়ক।

 

৫৪. রিয়াজ আহমেদ

এই দেশে আজকে আমরা স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছি এই দেশে। আমরা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছি। পরবর্তী প্রজন্ম স্বাধীনতার সুফল ভোগ করবে। এসব কিছুর মূলে রয়েছেন সেই সাহসী, সেই বিপ্লবী, সেই মহামানব সেই টুঙ্গিপাড়ার খোকা, আমাদের আজকের বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু আমার কাছে একটা গর্বিত চেতনার নাম, বিশ্বাসের নাম, মুক্তির নাম। বঙ্গবন্ধু একটা পতাকার নাম। যে পতাকার রঙ লাল-সবুজ। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। আমার হৃদয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ অনুভূতির নাম বঙ্গবন্ধু।

 

৫৫. শাফিন আহমেদ

১৯৭১ সালে আমি ছোট ছিলাম। মাত্র ১১ বছর বয়স। পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখছি, বুঝতে শিখছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে এবং টেলিভিশনে দেখে ওনার ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ অনুভব করি। আমি বুঝতে পারি, একজন মহান নেতা আমাদের সাড়ে সাত কোটি মানুষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সাড়ে সাত কোটি মানুষ অবাক বিস্ময়ে ওনার কথা শুনছে ও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সমগ্র দেশের মানুষকে জাগ্রত করার মতোই একজন নেতা ছিলেন। সাড়ে সাত কোটি মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছেন অবিচলভাবে। বিশ্বের সর্বকালের কয়েকজন সেরা নেতার মধ্যে বঙ্গবন্ধু অবশ্যই একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে উল্লেখিত হবেন। সত্যি বলতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব না পেলে বাংলাদেশ কখনোই স্বাধীন হতো না। সুতরাং এই স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের ভাষা বুঝতেন। মন বুঝতেন। বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ ওনার নিজের দায়িত্ব মনে করে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা গর্ব করতে পারি, সারা বিশ্বে এ রকম একজন সার্বজনীন নেতা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমাদেরই একজন। বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষে তাকে স্মরণ করি শ্রদ্ধাভরে।

 

৫৬. সাদিকা পারভিন পপি

বঙ্গবন্ধু আমার চেতনার মধ্যে বসবাস করেন। সেই চেতনা বুকে ধারণ করে প্রতিটি দিনের পথচলা। তার আদর্শ আমার পাথেয়। মানুষ হিসেবে গর্ববোধ করি আমি জাতির জনকের বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি। এমন দেশপ্রেমিক নেতার জন্ম হবে না এদেশে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ি। একটা মানুষ এত সুন্দর করে কীভাবে ভাষণ দিতে পারে ভাবি। বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর মতো করে আর কেউ ভালোবাসতে পারেনি। আগামীতেও পারবে না। বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শের প্রতিচ্ছবি।

 

৫৭. শামীম আখতার

’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর উত্থান, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা- এগুলো কাছ থেকে দেখেছি। স্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল। তিনি আমাদের দেখে অনেক উচ্ছ্বসিত হলেন এবং আমাদের সঙ্গে অনেক কথা বললেন। তিনি তার ভাষণের মাধ্যমে গোটা জাতিকে একত্রিত করে ফেলেছিলেন। তাকে যখন হত্যা করা হলো, সেটা বিরাট একটা ধাক্কা ছিল আমাদের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে এবং অন্যান্য আন্দোলনে যারা জড়িত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সবার মধ্যমণি। মানুষ তাকে মহিমান্বিত করেছে। তিনি কখনো বলেননি যে আমাকে বঙ্গবন্ধু বা নেতা বানাও। কিন্তু কর্মের মাধ্যমে তিনি সেটা হয়ে গিয়েছেন। একজন বাঙালি হিসেবে আমার কাছে বঙ্গবন্ধুর উচ্চতা অনেক ওপরে।

 

৫৮. শহীদুল আলম সাচ্চু

আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া (রাসেলের বাবা) শেখ মুজিবুর রহমানের কোলে উঠেছি। এটা আমার জন্য অনবদ্য এক ঘটনা। চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিনের আশপাশে থাকতাম। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে খেলতে যেতাম। সেই সূত্রে রাসেলের সাইকেলে দু’একবার চড়েছি পর্যন্ত। এখন এসব স্মৃতি মনে পড়লে ভেতরে ভেতরে আন্দোলিত হই। আমৃত্যু এই স্মৃতি বুকের মধ্যে যত্নে রাখব। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু, জাতির জনক মানেই রাসেলের বাবা। মায়ের সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণে রেসকোর্স ময়দানে গেছি। এসব ভেবেই একটা জীবন অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায়।

 

৫৯. আনিসুর রহমান মিলন

আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পর জন্মগ্রহণ করেছি, তারা বঙ্গবন্ধুকে যখন ভিজ্যুয়াল করতে যাই, তখন একটা বিশালতা দেখি। তিনি একদম সাদা চোখে দেখেছেন এই দেশ এবং এই দেশের মানুষদের। এত বড় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়া সত্ত্বেও তার ভেতর কোনো ধরনের কূটনৈতিকতা ছিল না, যা সব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যেই কম-বেশি থাকে। আমার ‘চল যাই’ সিনেমাটা করতে গিয়ে তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরো অনেক বেড়ে গেছে। যখন জেনেছি বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের পিতা কে তাহলে বলতে, যে তার পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার ঠিকানা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। কতটা বড় ও উদার মনের মানুষ হলে এটা বলতে পারে একজন? আমার কাছে মনে হয়, তাকে দেশপ্রেমিক, বুদ্ধিজীবী বা বাংলাদেশের জাতির পিতা বললেও কম বলা হয়। তিনি এরও আরো অনেক ঊর্ধ্বে আছেন আমাদের হৃদয়ে এবং থাকবেন সারা জীবন।

 

৬০. চঞ্চল চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুকে অল্প কথায় কিছু বলা যাবে না। বঙ্গবন্ধু আমাদের দেশের স্রষ্টা, জাতির পিতা এবং সারা পৃথিবীর ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুঃখের বিষয় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। আর বাংলাদেশের ইতিহাসে যেন তার উপস্থিতি না থাকে, এ বিষয়েও ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলেছে। তবে সত্য চেপে থাকে না। আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি বঙ্গবন্ধুর কারণে, আর এই দেশের যারা জনগণ, তাদের বঙ্গবন্ধুকে মানতেই হবে। আমরা যদি দলমত নির্বিশেষে এটা বিশ্বাস রেখে চলতে পারতাম, তাহলে বাঙালি জাতি অনেক এগিয়ে যেত। কিন্তু তা আমরা পারিনি। বঙ্গবন্ধু আপামর জনসাধারণের। স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু এক সূত্রে গাঁথা।

 

৬১. রোকেয়া প্রাচী

আমার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানে একটা অনুভূতি। আমি যে স্বাধীন বাংলাদেশে আছি, এই দেশটাই আমার কাছে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করলে মনে হয় ভেতর থেকে একটা নির্দেশের মতো কাজ করে- দেশকে ভালোবাসা, দেশের জন্য ভালো কাজ করা, অন্যায় কাজ না করা, দেশের বিরুদ্ধে না যাওয়া- এই যে কিছু নৈতিক বিষয় দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়ার, দেশের প্রতি- দায়িত্ব পালনের যে তাগিদের জায়গাটি থাকে তা এই শ্রেষ্ঠ নেতা, মহামানব বঙ্গবন্ধু, যাকে ধারণ করলে ভেতরের আদর্শের বাতিটা জ্বলতে থাকে। আর তখন অন্য কোনো আদর্শলিপির প্রয়োজন হয় না। বঙ্গবন্ধু একটি অনুভব-আদর্শের নাম এবং একমাত্র বাতিঘর, যার আলোয় আমার চারপাশকে আলোকিত করতে পারি। সমাজ-দেশের জন্য কাজ করতে পারি। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ অস্বীকার করার উপায় নেই। বঙ্গবন্ধু যে আমাকে সাহসী করে তোলে, প্রতিবাদ করতে শেখায়। আমাকে ত্যাগী হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। ভালো মানুষ হতে উৎসাহ দেয়। এই বাতিঘর আমাকে আদর্শচ্যুত হতে দেয় না।

 

 

৬২. নুরুল আলম আতিক

বঙ্গবন্ধুকে আমার কাছে মনে হয় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো। আমরা খুব যোদ্ধা জাতি বা খুব শক্তিশালী অবস্থানে ছিলাম না। ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে জাগ্রত করার যে প্রক্রিয়া, সেটা তিনি শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাঙালি জাতি নিজেদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। সমগ্র জাতিকে একত্রিত করা অনেক বড় একটা বিষয়। তিনি নিজেকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য যেভাবে উজাড় করে দিয়েছিলেন, তাতে তিনি আমার কাছে একজন মহানায়ক।

 

৬৩. শাকিব খান

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সব দলমতের ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের জন্য তার অবদান অনেক। বাঙালির জন্য অকাতরে কাজ করে গেছেন। তিনি না থাকলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। জাতির জনককে সবসময় সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। বঙ্গবন্ধুর তুলনা নেই। জাতির জনকের ভাষণ শুনলে বুকের মধ্যে একটা শিহরণ জাগে। এমন নেতা যুগে যুগে আসে না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলতে বঙ্গবন্ধুকেই বুঝি। আমাদের এফডিসি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাতির অনেক ঋণ রয়েছে তার কাছে। জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির জনক মানুষের হৃদয়ে ছড়িয়ে থাকবে।

 

৬৪. শবনম বুবলি

স্বাধীনতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশটার জন্ম হয়েছে জাতির জনকের জন্য। তার দিকনির্দেশনায় আমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। জাতির জনকের ঋণ বাংলাদেশ কোনোদিন শোধ করতে পারবে না। এমন একজন মহান নেতা ছিলেন বলেই প্রাণ খুলে হাসতে পারি। বঙ্গবন্ধুর জ্বালাময়ী ভাষণ রক্তে আগুন ধরিয়ে দেয়। নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাই। বঙ্গবন্ধু একটা আদর্শের নাম। যে আদর্শ আমাদের ভালো কিছু করার সাহস জোগায়। বাংলাদেশকে প্রতিটা ধূলিকণায় তার নাম লেখা রয়েছে।

 

৬৫. দিলশাদ নাহার কনা

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলেই আন্দোলিত হয়ে যাই। কী যেন একটা আছে তার ভাষণের মধ্যে। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন তিনি। এমন মহান নেতা আসবে কিনা আমার জানা নেই। যতবারই বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি দেখি, শ্রদ্ধায় মাথানত হয়ে আসে। এই যে হাঁটছি, গান করছি সবকিছুই তার জন্যই সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছেন, সবটুকুই পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

৬৬. জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

বঙ্গবন্ধু নামটিই আমার কাছে সবসময়ই ভীষণ শ্রদ্ধার, ভালোবাসার, পরম মমতার। আমার কাছে সবসময়ই বঙ্গবন্ধু একটি সরলতার নাম। যার চোখে দিকে দৃষ্টি দিলেই বোঝা যায় তিনি কতটা সহজ ছিলেন, সরল ছিলেন। তিনি নেই, এটা সত্যি। কিন্তু এখনো কোথাও বঙ্গবন্ধুর ছবির দিকে চোখ পড়লে, তার চোখের দিকে তাকালে মনে হয় তিনি খুব সহজে কথা বলছেন। বঙ্গবন্ধু তার সারল্যের কারণেই তিনি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বিশ্বাস করতেন সবাইকে, মায়া করতেন, ভালোবাসতেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি সাধারণের কাছে ছিলেন বন্ধুর মতো, বঙ্গবন্ধুর নাম যেন এখানেই সার্থক। বঙ্গবন্ধু, ‘যার জন্ম না হলে হয়তো বাংলাদেশ’ নামের এই দেশটিরও হয়তো জন্ম হতো না। যার জন্ম না হলে একটি আলাদা ভূখণ্ডে আলাদা স্বাধীন দেশে বাংলা ভাষায় কথা বলার সুযোগ হতো না। বঙ্গবন্ধু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। আমরা সৌভাগ্যবান যে দেশ স্বাধীন করার জন্য এমন একজন নিবেদিত, সাহসী বঙ্গবন্ধুকে পেয়েছিল বাংলাদেশ, যার আহ্বানে এই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল, পেয়েছিল সোনার বাংলাদেশ...। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বঙ্গবন্ধুকে বুকে লালন করে তার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে আমাদেরই।

 প্রিয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তাকে দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাই।

 

৬৭. জাকিয়া বারী মম

ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে দেখেছে, আমি ঠিক সেই আলোকেই দেখেছি। তাকে দেখার সৌভাগ্য তো আমার হয়ে ওঠেনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা। এতে আমি গর্বিত এবং বঙ্গবন্ধুর মতো এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিঃসন্দেহে বিরল। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলাদেশসহ পুরো এশিয়ার চেহারাটাই অন্যরকম হতো। এটাই আমি মিস করি।

 

৬৮. আঁখি আলমগীর

বঙ্গবন্ধুকে আমার চেনা ঘর থেকেই। আমার বাবা যেহেতু তার আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই ঘর থেকেই চেনা হয়েছে। আমার কাছে বিশ্বসেরা একজন মানুষ বঙ্গবন্ধু। তার স্বপ্ন, আদর্শ, ত্যাগ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে থাকবে। আমার পর আমার মেয়েরা তার মেয়েরা এই মানুষটাকে মনে রাখবে। তার চলে যাওয়ায় অনেক মায়া-শ্রদ্ধা আজীবন জানাবে মানুষ।

 

৬৯. তানভীন সুইটি

আমরা যদি বাংলাদেশের পরিচয় চাই, তাহলে বলব বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। আবার যদি বঙ্গবন্ধুর পরিচয় চাই, তাহলে বলতে হবে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। এই দুটি ভিন্ন সত্তাকে কখনই আলাদা করা যাবে না। বাংলাদেশকে যত দেখি তার অপর পিঠে আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পাই। অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়ে আমি মুগ্ধ। বার বার ভাবি এমন একজন নেতার দেখা যদি একবার পেতাম। অসাধারণ মনের একজন মানুষ ছিলেন তিনি। সবাইকে আগলে রাখতে চাইতেন। বাবা, মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা ছিল অসীম। তার হাসি, তার আঙুল তুলে বজ্রকণ্ঠের ভাষণ ইতিহাসের মহানায়ক হওয়ার পরিচয় বহন করে আমার কাছে। বঙ্গবন্ধু আমার আদর্শ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনুক।

 

৭০. বিজরী বরকতউল্লাহ

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা, তিনি বাংলাদেশের জন্মদাতা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করার মানে হচ্ছে তার জীবনী থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করা এবং তার যে ত্যাগ, দেশের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা সেসব গুণাবলিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। নতুন প্রজন্ম অন্ধকারে ছিল এবং তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খুব একটা জানেননি। আমার পড়াশোনার কারণে তাকে জানার সুযোগ আমার হয়েছে। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা, টান অনুভব করা, স্বার্থত্যাগ করে মানুষের জন্য কাজ করা এ সবকিছু বঙ্গবন্ধুর থেকে আমাদের শিক্ষণীয়।

 

৭১. দীপা খন্দকার

বঙ্গবন্ধু মানে আমার কাছে বাাংলদেশ। আমরা যে স্বাধীন দেশে থাকছি, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারছি- তা শুধু একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণেই সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়ে দিয়ে বাঙালির জাতির এই স্বাধীনতা। আমি স্বাধীন দেশে জন্মগ্রহণ করেছি কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছাড়া বা স্বাধীনতা ছাড়া দেশটা কেমন হতো। আমরা কীভাবে থাকতাম, আমি তা কল্পনাও করতে চাই না। আমার পতাকা, আমার বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।

 

৭২. ইরেশ যাকের

বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের সব থেকে বড় ঐতিহাসিক চরিত্র বলে মনে হয় আমার। তার ৭ মার্চের ভাষণ, সহজ-সরল জীবনযাপন আমাকে আকৃষ্ট করে। সাধারণভাবে, মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে বিনিময় প্রথায় বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধু এই বিনিময় প্রথার ঊর্ধ্বে ছিলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করেই নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য তার দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আমাদের শেখা উচিত তার কাছ থেকে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য একটি বিশেষ উপলক্ষ এবং আমার চাওয়া তার জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপনের মধ্য দিয়ে যাতে আমাদের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়।

 

৭৩. রুনা খান

বঙ্গবন্ধুর কথা প্রথম শুনেছি বাবার কাছ থেকে। বাবা কলেজ জীবনে মুক্তিযুদ্ধে পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, পানি, ওষুধের ব্যবস্থা করে দিতেন। এখনকার বাচ্চারা ছোট থেকেই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারে। পাঠ্যবই, গণমাধ্যম ইত্যাদির মাধ্যমে। আমার ছোটবেলায় তেমন কোনো মাধ্যম ছিল না, যা থেকে আমরা বঙ্গবন্ধুকে জানব। রাজনৈতিক কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। তবে আমি বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। আমি যে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক, তার জন্য কৃতজ্ঞ বঙ্গবন্ধুর কাছে। আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শে মেনে চলতে পারলে বাঙালি জাতির জীবনে সংকট ও দৈন্য আসবে না।

 

৭৪. সাজু খাদেম

বঙ্গবন্ধুর যে চেতনা সেটি আমরা পুরোপুরি ধারণ করতে পারিনি। ধারণ করতে পারলে আজকে আমরা যে জায়গায় আছি তার চেয়ে আরো অনেক সামনে এগিয়ে যেতাম। একটা দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা একটি সেক্যুলার রাষ্ট্রের ভাবনা থেকে অনেক পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা সেই পথে আবার এগোতে শুরু করেছি। বন্ধবন্ধুকে সবাই ধারণ করছেন, ব্যাপারটা কিন্তু এ রকম নয়, তাকে পুঁজি করেও অনেকে অনেক স্বার্থসিদ্ধি করছেন। আমরা যদি এ রকম ক্ষুদ্রচিন্তার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে বঙ্গবন্ধুকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করি, তবেই তার প্রতি প্রকৃতভাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা সম্ভব হবে। অনেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না কিন্তু লোকদেখানোর জন্য তার জন্মশতবার্ষিকী পালনে ব্যাকুল হয়ে যাচ্ছেন। আমার চাওয়া, তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মানুষজন যেন তার সম্পর্কে জানেন এবং তাকে ধারণ করেন। কোনোভাবে যাতে এই উদযাপনের মধ্য দিয়ে তাকে ছোট করা না হয়।

 

৭৫. রাহুল আনন্দ

বঙ্গবন্ধুকে আমি চোখে দেখিনি। কিন্তু তার উপস্থিতি টের পাই। তার যে সোনার বাংলা গড়ার ভাবনা, সেখান থেকে তার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক খুঁজে পাই। বাঙালি জাতির কাছে নীতিগত এবং আদর্শগত দিক থেকে বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন মহাত্মা। আমার কাছে বঙ্গবন্ধু আমার বন্ধু। ঠিক আমার নয় বছরের ছেলেটার কাছেও তিনি বন্ধু। তিনি আমাদের ভীষণ আপনজন। তিনি নেই, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের এই বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বঙ্গবন্ধু দিনকে দিন সেখানে উজ্জ্বলতর হবেন এবং তার মতো করে আমরাও স্বপ্ন দেখি সোনার বাংলা গড়ার। এই সোনার বাংলা যতদিন পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ না করবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্নটি অধরা থেকে যাবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই এটাই চেষ্টা করবে। সবার চেষ্টা যখন একত্রিত হবে, তখন নিঃসন্দেহে আমরা একটা সুন্দর সোনালি দিন পাব। বঙ্গবন্ধুকে চোখে দেখিনি। তাকে চেতনায়, অনুভবে, অনুভূতিতে খুঁজি, পাই আবার হারাই।

 

৭৬. মৌসুমী নাগ

বঙ্গবন্ধুকে অনুভব করি গভীর থেকে, সঙ্গে তার অনুপস্থিতি ভীষণভাবে মিস করি। মনে হয় বাংলাদেশ হয়তো অন্য রকম হতো তিনি বেঁচে থাকলে। আমরা দেশে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, বঙ্গবন্ধু থাকলে হয়তো সমস্যার সমাধান হয়ে যেত চটজলদি। এখন দেশে থাকতে চাচ্ছে না অনেকে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে জন্মভূমি ছেড়ে। বঙ্গবন্ধু থাকলে হয়তো অন্যান্য দেশের মানুষ বাংলাদেশেই থাকতে আসতে চাইত। আমাদের অভিভাবক বঙ্গবন্ধু। শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমিক। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তার প্রতি।

 

৭৭. আরিফিন শুভ

বাংলাদেশের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই স্বপ্নই তাকে অনেকদূর নিয়ে এসেছে। স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই আমরা একটা আলাদা মানচিত্র, পতাকা পেয়েছি। নিজের জন্য ভাবেননি, দেশের কথা, দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন। নিঃস্বার্থভাবে দেশের জন্য কাজ করে গেছেন। নিজের জীবন বিপন্ন করে মানুষের কথা ভেবেছেন। এমন মহান নেতা আর একটাও নেই। দেশকে ভালোবেসে অনেক কিছু স্যাক্রিফাইজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু মানেই আমার কাছে স্বপ্নবাজ একটা মানুষ। বঙ্গবন্ধু মানেই আমার বাংলাদেশ।

 

৭৮. বিদ্যা সিনহা মিম

কোনো বইতে যখন বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি দেখি, আলাদা রকমের একটা অনুভূতি হয়। শ্রদ্ধায় মাথানত হয়ে আসে। এমন ব্যক্তিত্ব আর আসবে না বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনলে শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায়। তার ভাষণ একটা উদ্দীপনা এনে দেয়। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আমার অনেক আগ্রহ। তার লেখা বইগুলো পড়ার চেষ্টা করি। জাতির জনককে নিয়ে অনেক আর্টিকেল ইতোমধ্যে পড়েছি। দেশের প্রতি জাতির জনকের প্রেম আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। স্বাধীন দেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান। চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন এটা বিশ্বাস করি।

 

৭৯. সিয়াম আহমেদ

বাঙালির ইমেজ বলতেই আমি বঙ্গবন্ধুকেই বুঝি। বঙ্গবন্ধু মানেই একটা বাংলাদেশ। এমন ইমেজ আর কারো মাঝে খুঁজে পাইনি। মানুষের এমন ভালোবাসা জাতির জনক ছাড়া আর কেউ পায়নি। বঙ্গবন্ধু মানেই সাহসী একজন নেতা। কোনো ভয় তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। তার ভাষণ আমাদের সম্পদ। জাতির জনকের বজ্রকণ্ঠে বলা সব কথা আমাদের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। ইতিহাসের সোনার অক্ষরে জাতির জনকের নাম আজীবন জ্বলজ্বল করে জ্বলবে।

 

৮০. তাসকিন রহমান

আমার কাছে অনুপ্রেরণার অপর নাম জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান। তার কাছ থেকেই অনুপ্রেরণার মন্ত্র জেনেছি। প্রতিবাদে-প্রতিরোধে কীভাবে জ্বলে উঠতে হয়, জাতির জনকের কাছে শিখেছি। তার ভাষণ অসম্ভব আন্দোলিত করে। এমন মানুষ যুগে যুগে আসে না। এমন ব্যক্তিত্ব খুব বেশি নেই। দেশের জন্য জাতির জনকের ত্যাগ আমাদের অনেক কিছু শেখায়। পুরো বাঙালিকে এক করেছিলেন তিনি। আমার কাছে অপার এক বিস্ময় জাতির জনক। তবে বারবার তার অনুপ্রেরণার কথা বেশি মনে হয়।

 

৮১. ববি

মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তির নাম বঙ্গবন্ধু। বাঙালি হিসেবে আমরা পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। তার পেছনে জাতির জনকের অনেক বড় অবদান রয়েছে। তাকে ছাড়া বাংলাদেশ অসম্পূর্ণ। অন্তরের নিবিড়তম গভীর উচ্চারণ শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা অহংকার করতে পারি আমাদের একজন জাতির জনক নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সবসময়ের জন্য অসম্ভব ভালোলাগার, উদ্দীপনার। সারা বিশ্বের কাছে আমাদের তিনি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এমন মহান নেতা আর আসবে না বাংলার বুকে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কাছে বাাঙালি হিসেবে অনেক ঋণ।

 

৮২. সায়মন সাদিক

আমার আজীবনের একটা চাপা কষ্ট থেকে যাবে, আমি কেন বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পারলাম না! যে মানুষটা না থাকলে আমি আমার প্রাণের বাংলাদেশ পেতাম না! যে মানুষটা না থাকলে আমি পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের সমাহার খুঁজে পেতাম না! যে মানুষটা না থাকলে আমি বুক ফুলিয়ে বলতে পারতাম না আমি বাঙালি! যে মানুষটা না থাকলে আমার অস্তিত্ব থাকত না! যে মানুষটার জন্ম না হলে বাংলাদেশেরই জন্ম হতো না! তাই তো আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।

 

 

৮৩. অমিতাভ রেজা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার লেখা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়াচীন- আমার খুব প্রিয় তিনটি বই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইদানীং অনেকেই লিখছেন এবং অধিকাংশ লেখাগুলোই চর্বিতচর্বণ। একজন নেতা হিসেবে তাকে বিশ্লেষণ করার মতো লেখা খুব কম আছে। আহমদ ছফার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি প্রবন্ধ আমার বেশ ভালো লেগেছে। যে কোনো মহৎ ব্যক্তিত্বকে বিশ্লেষণ করলে তার ভালো, খারাপ, সীমাবদ্ধতা, বিশালতা ও তার মহত্ত্ব সবকিছু মিলিয়েই বিশ্লেষণ করা উচিত, আমি বঙ্গবন্ধুকে সেভাবেই দেখি। বঙ্গবন্ধু তার সাহস, প্রজ্ঞা, সীমাবদ্ধতা সবকিছু নিয়েই এক মহান ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচুর লেখা, সিনেমা ও সাংস্কৃতিক চর্চা হবে, সেটা একটি জাতির জন্য খুবই ভালো।

 

৮৪. অনিমেষ আইচ

বঙ্গবন্ধুকে আমার কাছে মনে হয় ভীষণ রকম অকুতোভয় দেশপ্রেমিক ও একজন সাধারণ মানুষ। তাকে যেভাবে হত্যা করা হলো, সেটা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায় তিনি কতটা সাহসী মানুষ ছিলেন। তার মতো মহান নেতা সহস্র বছরে একজন জন্ম নেন। আমার মতে, তার মতো নির্ভীক নেতা আমাদের দেশে আগে কখনো ছিল না এবং এখনো নেই। তিনি পরাক্রমশালী পাকিস্তানি শাসকদের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে যেভাবে কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছেন, তা কেবল মহান নেতারাই পারেন। তিনি ছিলেন ভীষণ স্পষ্টবাদী, যেটা অনুভব আর বিশ্বাস করতেন, সেটা নিঃসংকোচে বলে দিতেন। তার সাধারণ জীবনযাপন করাটা তাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

 

৮৫. মেজবাউর রহমান সুমন

বর্তমান প্রজন্মের মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে আমি আইকন হিসেবে দেখি। তিনি আমার কাছে অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধু ওই সময় যা করেছিলেন, তা শুধু পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বাস্তবায়ন করে তিনি দেখিয়েছিলেন। তার রাজনীতির যে ধারাবাহিকতা ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, যুক্তফ্রন্ট গঠন করা, মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ- এই পরিবর্তনগুলোর মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্য বুঝতে পারা যায়। ৭ মার্চ তার ভাষণের মধ্য দিয়ে গোটা জাতির একত্রিত হওয়ার যে গল্পটা, এর মাধ্যমে আমরা তার মধ্যে একজন বড় মাপের নেতার বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর এক করার যে গল্পটা, এই প্রজন্মের মানুষ হিসেবে আমি সেটা অনুভব করি এবং অনুপ্রেরণা পাই।

 

৮৬. জ্যোতিকা জ্যোতি

‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’- এই গান যখনই শুনি বা গাই আমার মাথায় তখন জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ছাড়াও একটি মুখ ভেসে ওঠে। আর তা হলো বঙ্গবন্ধুর মুখ! আমার কাছে বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। জন্মশতবার্ষিকীতে প্রণতি জানাই এই মহান নেতার স্মরণে। আমরা সৌভাগ্যবান, যখন আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জনক, আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

 

৮৭. শবনম ফারিয়া

বঙ্গবন্ধু মানে আমার কাছে স্যাক্রিফাইজ একজন মানুষ। আমাদের স্বাধীনতা দেয়ার জন্য যে স্যাক্রিফাইজ করেছেন, এটা কতজন মানুষ করেন। আমাদের একটা ভালো জীবন দেয়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে জাতির জনকের নাম, আত্মত্যাগ ততদিন থাকবে। আমার কাছে যেটা মনে হয়, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ও টিনএজারদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরো জানানো উচিত। আমরা আমাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুনেছি। আমার বাবা ৭ মার্চের ভাষণে উপস্থিত ছিলেন। অনেক কিছু জানি জাতির জনক সম্পর্কে। বঙ্গবন্ধু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি একজন সর্বজনীন নেতা। সবকিছুর ঊর্ধ্বে একজন বঙ্গবন্ধু।

 

৮৮. জ্যোতি সিনহা

বঙ্গবন্ধু আমাদের চেতনা, আমাদের অহংকার, আমাদের অধিকার জানানোর অন্যতম প্রেরণা। তবে তাকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে আমাদের। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ, তাই তো তিনি নির্দ্বিধায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা দিয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত মেয়েদের আশ্রয়ের কথা ভেবেছিলেন, তাদের সম্মানের কথা ভেবেছিলেন, তিনি বলেছিলেন কেউ যদি তাদের পরিচয় জানতে চায়, তাহলে তারা যেন পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান আর ঠিকানা জানতে চাইলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির কথা বলতে বলেছিলেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ, একবার সাংগঠনিক সফরে নৌকায় করে যাচ্ছিলেন, তখন আব্বাসউদ্দিনের গান শুনে মুগ্ধ, উদ্বেলিত হন, বলেন এ গান না শুনলে জীবনের অর্থ অপূর্ণ থেকে যেত! নদীর ঢেউগুলোও যেন তার গান চুপচাপ শুনছিল। তিনিই শেখ মুজিবুর রহমান, এক কিংবদন্তি, এক সংবেদনশীল রাষ্ট্রনেতা। আমি বলব, এখনো আমাদের মুক্তি আসেনি। চিন্তার মুক্তি আর স্বাধীনতা আনতে হবে। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর চিন্তা অনুসরণের বিকল্প নেই।

 

৮৯. শুভাশিস সিনহা

বঙ্গবন্ধু প্রকৃত অর্থেই এক অবিসংবাদিত জননেতা। রাজনৈতিক চিন্তার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন আধুনিক ও সংবেদনশীল। ভূখণ্ড, রাজনীতি, ধর্ম, জাতীয়তা সব বিষয়ে তার একটা স্পষ্ট ধারণা ছিল, ফলে তিনি তার দেশবিষয়ক ভাবনা ও তৎপরতায় কখনোই দোটানায় পড়েননি। অন্য ধর্মের কোনোরূপ মর্যাদাহানি না করে নিজ নিজ ধর্মচর্চাকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার তত্ত্বে বোঝাতে চেয়েছিলেন, যা এখনো ভীষণ প্রাসঙ্গিক। তার প্রণোদনাতেই সাম্য, ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের শর্তও সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল। তিনি বুঝেছিলেন, জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিষ্কার আদর্শকে সামনে না রেখে কোনো গণআন্দোলন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সময়ের চেয়েও এগিয়ে থাকা মানুষ। তাকে লাল সালাম।

 

৯০. শতাব্দী ওয়াদুদ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আকাশের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা! যে ধ্রুবতারার দিকনির্দেশনায় বাঙালি জাতি পেয়েছিল একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, একটি দেশ- বাংলাদেশ। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তোমরা আমাকে বিশ্বাস করো কিনা? সেদিন বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করেছিল এবং বঙ্গবন্ধু সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছিলেন! নয় মাস পাকিস্তানের জেলে বন্দি থাকাকালীন অবস্থায় তিনি কোনো রকম হার স্বীকার করেননি, অনেক ধরনের প্রলোভনের পরও তিনি তার জায়গায় ছিলেন অনড়। এ রকম ইস্পাত কঠিন মনোবলের মানুষ পৃথিবীতে খুব একটা জন্ম নেয়নি। তিনি আমাদের জাতির পিতা। তিনি আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

 

 

৯১. অপর্ণা ঘোষ

বাবা-মায়ের কাছে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে প্রথমে তাকে চিনেছি। এরপর বইয়ের পাতায় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে পরিচয়। একটু একটু করে তাকে নিয়ে অনেক লেখা পড়ে জানতে চেয়েছি। একজন মানুষের দেশের প্রতি এতটা ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধুর স্যাক্রিফাইজ আসলে একটা উদাহরণ। আমরা যে একটা দেশ, একটা পতাকা পেয়েছি, সেটার পেছনে জাতির জনকের অবদান অনস্বীকার্য। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তার কীর্তি থাকবে।

 

৯২. বাপ্পী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশেরও জন্ম হতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ২০ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। বাঙালি জাতি মুক্তি পেয়েছিল। শেখ মুজিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিল। তাই দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, শেখ মুজিবের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারত না। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা অর্জন করতে পারতাম না। ২৫ মার্চ যখন পাকিস্তানি হানাদাররা হামলা শুরু করেছিল, ঠিক তখনই জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে যার যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালি তার নির্দেশ পালন করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিল। আজকের এফডিসি তো এই বঙ্গবন্ধুর হাতেই গড়ে উঠেছে।

 

৯৩. মাহিয়া মাহি

বঙ্গবন্ধুকে আমি ভালোবাসি। তার প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসতে কোনো রাজনীতি করতে হয় না। সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু। তার ভাষণ শুনলেই আলাদা একটা অনুভব ছড়িয়ে পড়ে। সবসময় কারণ ছাড়া জাতির জনককে ভালোবাসা যায়।

 

৯৪. পূজা চেরি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতির পিতা। তিনি আমাদের প্রতিটা মানুষের হৃদয়ের দুর্বল স্থানে রয়েছেন। তিনি না থাকলে আমাদের দেশ আজ স্বাধীন হতো না এবং আমরা স্বাধীনভাবে চলাফেরাও করতে পারতাম না। তার প্রতি সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান আজীবন থাকবে।

 

৯৫. জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া

আজকে আমাদের যে অস্তিত্ব সেটা বঙ্গবন্ধুর কারণে। তিনি ছাড়া আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। সামনের বছর আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর হবে। এই ৫০ বছরে দেশের মানুষ যত কৃতিত্ব অর্জন করেছে, তার প্রতিটি বঙ্গবন্ধুর প্রাপ্য। কারণ তিনি না থাকলে বাংলাদেশ হতো না। তিনি আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। তাই তিনি আমাদের জাতির পিতা।

 

৯৬. হিরা

বঙ্গবন্ধু আমার কাছে মহাপুরুষ। বাঙালি জাতির পথপ্রদর্শক। বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের মানুষের খুব কাছের মানুষ। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অল্প কথায় কিছু শেষ করার নয়। স্বচ্ছ দেশপ্রেমিক।

 

৯৭. পরীমণি

একটি পতাকা, একটা মানচিত্র একটা দেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। তিনি ছিলেন বলেই বাংলাদেশ পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আমার ভালোবাসার নাম।

 

৯৮. রোশান

ছোটবেলায় বইয়ের পাতা থেকে প্রথম বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পরিচয়। বইয়ের পাতায় তাকে দেখে মুগ্ধ হতাম। বড় হওয়ার পর আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে জানতে পারলাম। তার ভাষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতাম। বঙ্গবন্ধুর ভাষণে অনুপ্রেরণা রয়েছে, যা সামনে চলতে সাহস জোগায়। আমার পরিবার যেহেতু রাজনৈতিক পরিবার, তাই বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে চর্চা ছিল। যুগে যুগে এমন নেতা আসে না। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

৯৯. আশনা হাবিব ভাবনা

বঙ্গবন্ধু মানেই আমার কাছে শক্তি, তার ভাষণ শুনলে ছোটবেলা থেকে আমার মাঝে প্রাণশক্তি কাজ করে। যার জন্য পুরো দেশ আমরা পেয়েছি তাকে কুর্নিশ। তার মতো মানুষ আর জন্মাবে না, তার মতো করে কে ভালোবাসবে বাংলার মানুষকে। তার কণ্ঠের যে বলিষ্ঠ শক্তি তার শুনলে মনে হয়, কী পোড়া কপাল আমার। আমার এত পরে জন্ম হয়েছে, যুদ্ধ করতে পারলাম না! তবুও যখন হেরে যাই জীবনযুদ্ধে, মনে হয় তার কথা? তার সততার কথা, যতদিন বাঙালি জাতি বেঁচে থাকবে, ততদিন তিনি থাকবেন আমাদের মাঝে ঠিক আমাদের সবচেয়ে আপন মানুষটি হয়ে। আমার আসলেই মনে হয়, ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’।

 

১০০. টোকন ঠাকুর

প্রত্যেক দিন স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন ছাড়া বেঁচে থাকা হয় না। যেমন জল ছাড়া মাছ হয় না, মাঠ ছাড়া ধান হয় না, জঙ্গল ছাড়া বাঘ হয় না, বঙ্গবন্ধু ছাড়াও বাংলাদেশ হয় না। বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হচ্ছে অনেক বড় একজন নেতা। খুব বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তিনি, যার একটি ভাষণই ছিল একটি দেশের জন্মের মূল মন্ত্র। কারণ, বাংলাদেশের মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন পাগলের মতো। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি।

 

 লেখক : জাহিদ আকবর, রাহনুমা শর্মী, আখন্দ জাহিদ, রোমন শুভ নাজিফা জান্নাত

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।