বিয়ের সাজটা সবাই চায় খুব গর্জিয়াস

ছোটবেলায় সবসময় বড় দুই বোনকে সাজতে দেখে নিজেরও খুব সাজতে ইচ্ছে হতো উমাইদার। তারপর একটু বড় হয়েই বড় দুই বোনের সঙ্গে নিজেও সাজতে শুরু করে। একসময় আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদেরও সাজিয়ে দেয়ার অনুরোধ আসতে থাকে। সেই থেকে রূপসজ্জার কাজ শুরু করে এখন পড়াশোনার পাশাপাশি একজন মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে উঠেছেন উমাইদা সিদ্দিকী। এটুকু বয়সেই একজন মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে ওঠায় গল্পটা শোনা হলো তার কাছে।

আনন্দধারা : মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ইচ্ছাটা কখন থেকে?

উমাইদা সিদ্দিকী : মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ইচ্ছাটা মূলত দু’তিন বছর আগে হয়েছে। তার আগে আমি কখনো এই কাজটার কথা ভাবিনি। ছোটবেলায় মেকআপ করতে খুব ভালো লাগত। তবে এই কাজটাই যে প্রয়োজন হয়ে দাঁড়াবে এমন ইচ্ছা ছিল না।

আনন্দধারা : প্রথম কার থেকে দেখে আগ্রহী হলেন?

উমাইদা সিদ্দিকী : আমি ছোটবেলায় আমার বড় দুই বোনকে খুব সাজগোজ করতে দেখতাম আর ভাবতাম ইস! ওরা কত সুন্দর করে সাজে! তখন আমি ছোট ছিলাম বলে আমায় সাজগোজ করার সুযোগ কম ছিল। পরে আস্তে আস্তে একটু বড় হওয়ার পর থেকে বোনদের সঙ্গে আমিও মেকআপ করা শুরু করি। মূলত আমার দুই বোনের কাছ থেকেই আমার মেকআপে প্রথম হাতেখড়ি।

আনন্দধারা : মেকআপ নিয়ে কাজ শুরু করলেন কবে থেকে?

উমাইদা সিদ্দিকী : আমি গত দু’বছর ধরে মেকআপ নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু আমি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছি আরো আগে। স্কুলে পড়াকালে আমার স্কুলের একজন শিক্ষিকা একদিন আমাকে ডেকে বললেন, আমি খুব সুন্দর সাজতে পারি। তার বোনের বিয়েতে তার বোনকে যেন সাজাই। তখন আমি খুব বেশি একটা বুঝতামও না মেকআপ সম্পর্কে। তখন ওই বউ সাজানোর মাধ্যমেই আমি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিই।

আনন্দধারা : মেকআপ নিয়ে কোনো কোর্স করা হয়েছে?

উমাইদা সিদ্দিকী : আমি সেলিনা মানিরের কাছে মেকআপ নিয়ে একটা কোর্স করেছি। পরবর্তী সময়ে আমি আরো কোর্স করব সুযোগ হলে। ইতোমধ্যে মেকআপ নিয়ে আমার যা যা জানার ছিল, মোটামুটি সবই জানতে পেরেছি সেলিনা মানিরের কোর্স করে। এই কোর্সটা করাতে আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে গেছে।

আনন্দধারা : আপনার ক্লায়েন্টরা আপনার কাজে খুশি?

উমাইদা সিদ্দিকী : আমার ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আমি অনেক ভালো রেসপন্স পাই এবং তাদেরও আমি আমার ১০০ শতাংশ দেয়ার চেষ্টা করি। আমার কাছে একবার যে এসেছে, সে পরবর্তী সময়ে বারবারই আসবে এমনটাই আমার বিশ্বাস এবং এমনটাই হয়েছে।

আনন্দধারা : আজকাল যেখানেই যাই একটু ভালো মেকআপ নিতে চাইলেই খুব ভালো অঙ্কের একটা টাকা গুনতে হয়। আপনি একজন ইয়াং মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে এই অতিরিক্ত টাকা চার্জ করার বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন?

উমাইদা সিদ্দিকী : সত্যি কথা বলতে আমার কাছে মেকআপ করিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়াটাকে ¯্রফে ডাকাতি মনে হয়। সেটা আমি কখনোই করি না, করবও না। আমার ক্লায়েন্টরা বরং নিজেরাই আমাকে বলে, ‘তুমি এত অল্প টাকা কেন নাও? তুমি তো অনেক ভালো মেকআপ কর। আমি মূলত শখের বশেই কাজটা শুরু করেছি। এটা আমার সাইড প্রফেশন। আমার মূল প্রফেশন হলেও আমি কখনোই অনেক বেশি চার্জ করতাম না। কারণ আমার মনে হয় সবারই মনের মধ্যে একটা আকাক্সক্ষা থাকে সুন্দর করে সাজার। বিশেষ করে বিয়ের সাজটা সবাই চায় খুব গর্জিয়াস হোক। তখন অনেকেই বিশাল একটা টাকা গুনতে হবে সেই ভয়ে কোনোরকম বাড়ির পাশেই ছোট কোনো পার্লারে সেজে ফেলে। আবার অনেকে সাধ্যের বাইরে এসে ভালো কোথাও সাজে। আমি তাদের কথা চিন্তা করেই আমার ‘দ্য মেকআপ রুম’-এর চার্জ অনেক কম রেখেছি। আমি চাই আমার ক্লায়েন্টরা খুশি থাকুক, টাকাটা আমার কাছে বড় নয়।

আনন্দধারা : এই কাজটা করতে গিয়ে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে কি?

উমাইদা সিদ্দিকী : কাজ কাজের জায়গায় আর পড়াশোনা পড়াশোনার জায়গায়। আমি আগেও বলেছি এটা আমার সাইড প্রফেশন। আমি মূলত একজন ল’ স্টুডেন্ট। আমার মূল প্রফেশনও হবে ওই সেক্টরে। তাই আমি আমার পড়াশোনাতেও ভালো উদ্যমী।

আনন্দধারা : আপনার পরিবার থেকে এই কাজের জন্য সাপোর্ট পাচ্ছেন?

উমাইদা সিদ্দিকী : আমার পরিবার আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট করে। যেমন- আমি সেলিনা মানিরের কাছে কোর্সটা করার পর আমাকে আব্বু বলেছে, তুমি এইরকম আরো কিছু কোর্স কর। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজটা করে আনন্দ পাচ্ছি। তাই আমার আনন্দ দেখেই হয়তো আমার বাবা-মা আমাকে এত উৎসাহ দিচ্ছেন।

ছবি : সংগ্রহ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।