ফিল্ম রিভিউ

পুরনো হার্লি কুইনের জোকারবিহীন নতুন জীবন

সিনেমার নাম : বার্ডস অব প্রে (এন্ড দ্য ফ্যান্টাবিউলাস এমানসিপেশন অব ওয়ান হার্লি কুইন)

পরিচালক : ক্যাথি ইয়ান

চিত্রনাট্য : ক্রিস্টিনা হডসন

অভিনয় : মার্গট রুবি, ম্যারি এলিজাবেথ উইন্সটেড, জুর্নি স্মল্লেট-বেল, রোজি পেরেজ, ক্রিস মেসিনা, এওয়ান ম্যাকগ্রেগর, এলা জে ব্যাসকো।

মুক্তির তারিখ : ৭ ফেব্রুয়ারি (যুক্তরাষ্ট্র)

বাজেট : ৮২-১০০ মিলিয়ন ডলার

ডিসি কমিকস একে একে প্রতিটি চরিত্রের আলাদাভাবে গল্প যাচ্ছে। ব্যাটম্যান ছাড়া জোকারের আলাদা জগৎ আমরা গত বছরই দেখলাম। সেই ধারাবাহিকতায় জোকার ব্যতীত তার প্রেমিকা সাইকিয়াট্রি হার্লি কুইনকে নতুনভাবে সাজিয়েছে বার্ডস অব প্রে (এন্ড দ্য ফ্যান্টাবিউলাস এমানসিপেশন অব ওয়ান হার্লি কুইন) সিনেমায়। এবারো সব ঘটনা ডিসি কমিক্সের কল্পিত নগর গোথাম সিটিকে ঘিরে ঘটেছে। ছবিটি দেখে শুরুতে মনে হতে পারে এটা বোধহয় শুধু বিচ্ছেদের গল্প। আস্তে আস্তে যত সময় গড়াবে সেটা ভুল প্রমাণিত হতে হতে শূন্যের কোঠায় চলে যাবে। এটি মূলত হার্লি কুইনের উঠে দাঁড়ানোর গল্প এবং জোকারবিহীন তার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের গল্প বললেও ভুল হবে না।

ছবিটির শুরু হয় হার্লি কুইন আর জোকারের বিচ্ছেদের গল্প দিয়ে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া হার্লি কুইন এক ডকের মাধ্যমে আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। কিন্তু তাতে বাদ সাধে গোথাম সিটির আন্ডারগ্রাউন্ডের বস ব্ল্যাক মাস্ক। প্রথমে কুইনকে অপহরণ করে এবং ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিস্বরপ একটি হীরকখ- এনে দিতে বলে। এই হীরকখণ্ডের রয়েছে একটি অ্যাকাউন্ট নাম্বার, যার দ্বারা পাওয়া যাবে প্রচুর সম্পদ। কিন্তু ক্যাসেন্দ্রা নামের এক মেয়ে হীরকখ-টি গিলে ফেলেছে। কুইন নিজেকে বাঁচানোর তাগিদে, ব্ল্যাক মাস্কের কথায় রাজি হয়ে দল গঠন করে হীরকখ- ফেরত আনার জন্য। কিন্তু এখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় দি হান্ট্রেস। যে ওই হীরকখণ্ডের আসল উত্তরসূরি। হীরক খণ্ড নিজের দখলে আনার লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গল্প এগোতে থাকে।

নারী সুপারহিরো কেন্দ্রিক এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন আরেক নারী পরিচালক ক্যাথি ইয়ান। ওয়ান্ডার ওমেনের পর ডিসি কমিকসের কোনো সিনেমা নারী নির্মাতা নির্মাণ করল। একজন নারী নির্মাতা হিসেবে অবশ্যই আরেকটি নারী চরিত্রকে পুরুষের তুলনায় অনেক ভালোভাবে দেখাতে পারবে। এখানেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এই সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন ক্রিস্টিনা হডসন। ম্যাথু লিবাটিউকের সিনেমাটোগ্রাফি নজর কেড়েছে। প্রগাঢ় ভিজ্যুয়াল, দুর্দান্ত লাইটিং সিনেমাটাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

প্রথমে যারা সুইসাইড স্কোয়াড সিনেমাটা দেখেছেন, তারা সবাই হার্লি কুইন চরিত্রে মার্গট রুবির অভিনয় সম্পর্কে অবগত আছেন। বলা যায়, তার অনবদ্য পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ এই বার্ডস অব প্রে সিনেমাটি। যদিও এই সিনেমায় তার পারফরম্যান্স সুইসাইড স্কোয়াডের হার্লি কুইনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তার আঙ্কিক আর সাত্ত্বিক অভিনয় যে কারো মনে ধরবে। ডিসি কমিকসে পারফরম্যান্সের বিচারে মার্গট রুবি সবার সামনে থাকবে। এবার আসি মারি এলিজাবেথ ইউনস্তেড প্রসঙ্গে, দ্য হান্ট্রেসের চরিত্রায়ন থেকে উপস্থাপন সবই দুর্দান্ত। এই দু’জনের বাইরে, ক্যাসেন্দ্রা কেইন চরিত্রে এলা জে ব্যাসকো আর ব্ল্যাক ক্যানারি চরিত্রে জুর্নি স্মল্লেট-বেলের অভিনয়ও ভালো লেগেছে।

ছবিটির খারাপ দিক হচ্ছে এটি আর-রেটেড। মূলত জোকার দিয়ে ডিসি কমিকসের আর-রেটেড পাওয়ার যাত্রা শুরু হয়। আর এটা পাওয়ার তিরস্কার হচ্ছে, অপ্রাপ্ত য়স্ক ও অতি আবেগপ্রবণ মানুষদের জন্য ছবিটি অনুপযুক্ত। শেষের মারামারির দৃশ্যটা আরেকটু ভালো হতে পারত। হাস্যরসের ব্যবহার আরো পরিমিত হলে ভালো লাগত।

 

অসামঞ্জস্য গল্পে গোঁজামিল ছবি

সিনেমার নাম : ডুলিটল

পরিচালক : স্টিফেন গ্যাঘান

অভিনয় : রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, আন্থেনিও বান্দেরাস, হ্যারি কলেট, জেসি বাকলি।

কণ্ঠশিল্পী : ইমা থম্পসন, রামি মালেক, জন সিনা, কুমাইল নাঞ্জিয়ানি, অক্টাভিয়া স্পেন্সার, টম হল্যান্ড, ক্রেগ রবিনসন, সেলেনা গোমেজ।

মুক্তির তারিখ : ১৭ জানুয়ারি (যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ)

হিউজ লভটিংয়ের দ্য ভয়েজ অব ডক্টর ডুলিটলের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। সিরিজটির গল্প মজার একজন ডাক্তারকে নিয়ে; যার নাম জন ডুলিটল। ১৯৬৭ সালে প্রথম এই সিরিজ নিয়ে সিনেমা নির্মিত হয়। যেখানে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন র‌্যামক্স হ্যারিসন। এরপর ১৯৯৮ সালে আরেকটি সিনেমা তৈরি হয়। সেখানে অভিনয় করেন এডি মারফি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ‘ডক্টর ডুলিটল’ চরিত্র নিয়ে তৈরি হয় টিভি সিরিজ, সিনেমা ও কার্টুন। জনপ্রিয় এই চরিত্র নিয়ে এবার নতুন আঙ্গিকে সিনেমা নির্মাণ করল প্রযোজনা সংস্থা ইউনিভার্সাল পিকচার্স।

একগাদা তারকা অভিনয়শিল্পীর অভিনয় ছাড়াও কণ্ঠ দিয়েছেন অনেকে, যা এই ছবিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে।

ছবিতে দেখা যায় ডুলিটল নামে এক পশু ডাক্তারের আশ্চর্য ক্ষমতা। সে অন্য প্রাণীদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে নিজেকে গৃহবন্দি করে রাখে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। শুধু পশুপাখির সঙ্গে তার কথোপকথন চলে। এরাই হয়ে ওঠে তার প্রিয়জন। এর মধ্যে রানী ভিক্টোরিয়া তাকে বার্তা পাঠায়। সে খুব অসুস্থ। তার ডুলিটলের সাহায্য প্রয়োজন। ডুলিটল আবিষ্কার করে রানী বিষাক্ত নিদ্রা উদ্রেককর লতা খেয়েছেন। একটি ফল তাকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু সেই ফল পাওয়ার জন্য পাড়ি দিতে হবে দুর্গম ও দুর্জ্ঞেয় পথ। ডাক্তার ডুলিটল ও তার সঙ্গীদের এই দুর্গম পথ পাড়ি দেয়াকে কেন্দ্র করেই এগোতে থাকে ছবি।

এই ছবির ডাক্তার ডুলিটল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘আইরনম্যান’ খ্যাত রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। তার অভিনয় ছিল বরাবরের মতোই ভালো। ডুলিটলের শ্বশুর রাসৌলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরেক খ্যাতিমান অভিনেতা আন্তনিও বন্দেরাস। তার অভিনয়ের সবচেয়ে ভালো দিক ছিল সংলাপের সঙ্গে অভিব্যক্তির সামঞ্জস্যতা। সেটা প্রমাণ করে তিনি কত বড় মাপের অভিনেতা। এছাড়া ডাক্তার ব্লেয়ার মাডফ্লাই চরিত্রে মাইকেল সেন, টমি স্টাবিনস চরিত্রে হ্যারি কলেট, কুইন ভিক্টোরিয়া চরিত্রে জেসি বাকলি দুর্দান্ত ছিলেন।

এই ছবির আরেকটি অদ্ভুত দিক ছিল পশুপাখির কথা বলা। এসব প্রাণীর কণ্ঠ দিয়েছেন বেশ নামকরা অভিনয় শিল্পীরা। ডুলিটলের ডানহাত পলিনেশিয়ার কণ্ঠ দিয়েছেন ইমা থম্পসন, অস্কারজয়ী অভিনেতা রামি মালেক সিসি গরিলার কণ্ঠ দিয়েছেন। জন সিনা দিয়েছেন যোশীর, আর কুমাইল নাঞ্জিয়ানি দিয়েছেন প্লিমটনের। এছাড়া অক্টাভিয়া স্পেন্সার, টম হল্যান্ড, ক্রেগ রবিনসন, সেলেনা গোমেজের মতো তারকারা কণ্ঠ দিয়েছেন।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন চিত্রনাট্যে অস্কারজয়ী স্টিফেন গ্যাঘান। তার পরিচালনায় কোনো ক্লেদ না থাকলে চিত্রনাট্যেই ছিল যত গণ্ডগোল। যেটি লিখেছেন পরিচালক নিজে আর সঙ্গে ছিলেন ড্যান গ্রেগর, ডন মাড। অসামঞ্জস্য গল্পে গোঁজামিল ছবি বলা যায় এটিকে। তাছাড়া গতানুগতিক হাস্যরস তৈরি করতে গিয়ে দৃশ্যের ভরাডুবিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

ছবির মূল ভিত্তি হচ্ছে তার গল্প। তাই বলা যায় এই ছবি পুরোপুরি ব্যর্থ ভালো গল্প বলতে। কিন্তু ছবির মধ্য দিয়ে আপনি রোমাঞ্চকর ভ্রমণ যেতে পারবেন। এ ভ্রমণে আপনার সঙ্গী হতে পারে ডাক্তার ডুলিটল এবং তার সঙ্গী পশুপাখিরা।

 

-রোমান শুভ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।