চঞ্চল ভাইয়ের বিপরীতে চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই

তরুণ অভিনেত্রী পায়েল। খুব স্বল্প সময় ধরে শোবিজ অঙ্গনে কাজ করে হয়ে উঠেছেন সবার পরিচিত মুখ। শোবিজে নিজেকে যুক্ত করার উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ ভাবনা শেয়ার করেছেন আনন্দধারার সঙ্গে।

আনন্দধারা : ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা ভালো নয়, তারপরও কেন নিজেকে যুক্ত করলেন?

পায়েল : আমি খুবই চঞ্চল প্রকৃতির একজন। ছোটবেলা থেকেই আমার অভিনয়ের প্রতি দুর্বলতা। সেই দুর্বলতা থেকেই নিজেকে মিডিয়াতে যুক্ত করা। তবে পেশাগত দিক দিয়ে মিডিয়াতে নিজেকে যুক্ত করার কারণ হচ্ছে নিজের প্রতি শতভাগ আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই নিজেকে মিডিয়াতে যুক্ত করেছি।

আনন্দধারা : মিডিয়াতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা কতটুকু মনে করেন?

পায়েল : সততা, চেষ্টা আর পরিশ্রম দিয়ে কাজ করলে যে কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব। আমি শুরু থেকেই কাজের ব্যাপারে খুবই সিলেক্টিভ। সবসময় বেছে বেছে কাজ করি। প্রতিনিয়ত কাজের মধ্য দিয়ে শিখছি। আমি বিশ্বাস করি সততার সঙ্গে অধ্যবসায় আর শতভাগ চেষ্টা করে গেলে সফলতা আসবেই।

আনন্দধারা : আমাদের যে দর্শক খরা চলছে, তার কারণ কী বলে মনে করেন?

পায়েল : দর্শক খরা না বলে আমি বলব দর্শককে আমরা নিজেরাই বিরক্ত করে তুলছি। কারণ একই রকম জিনিস দেখতে দেখতে দর্শক বিরক্ত। আমাদের কেন এত কাজ করতে হবে! মানসম্মত নাটক কি একদিনে বানানো সম্ভব! কিন্তু এখন নাটক একদিনেই হচ্ছে। যার ফলে নাটকের মান থাকছে না। ফলে দর্শক আমাদের কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

আনন্দধারা : দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

পায়েল : আমি অভিনয় নিয়ে স্বপ্ন দেখি। ভবিষ্যতের কথা তো বলতে পারব না। তবে আমি অভিনয়টাই করে যেতে চাই। গুটি গুটি পায়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। আমি চাই দর্শক আমার কাজের মধ্য দিয়ে আমাকে তাদের আপন করে নিক। আমার বিশ্বাস, অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের অন্তরে শক্ত অবস্থান করতে পারব।

আনন্দধারা : সেজন্য নিজেকে কীভাবে তৈরি করছেন?

পায়েল : অভিনয় এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান। নিয়মিত অভিনয় করার মধ্য দিয়ে এক ধরনের চর্চা তো চলছে। এছাড়া নিয়মিত সিনেমা দেখা, বই পড়া, নাটক দেখা সবকিছু মিলে আমার প্রস্তুতি চলছে।

আনন্দধারা : আপনি কি তথাকথিত নায়িকা প্রথায় বিশ্বাস করেন?

পায়েল : আমার মনে হয় নায়িকাদের সময় খুবই স্বল্প। কারণ নায়িকা হিসেবে কাজ করতে গেলে বেশিদিন কাজ করা যায় না। নায়িকা শব্দটা এক ধরনের বসন্তের কোকিলের মতো। আমি সেই বসন্তের কোকিল হতে চাই না। আমি চাই একজন অভিনেত্রী হয়ে অভিনয়ে নিজের শতভাগ শ্রম দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার। কারণ সর্বোপরি অভিনেতা-অভিনেত্রীরাই দর্শকদের অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকে।

আনন্দধারা : নবীন হিসেবে মিডিয়াতে পথচলা কেমন ছিল?

পায়েল : জীবনে কোনো কিছুই সহজ নয়। কাজ শুরু করার সময় আমার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের বাধা এসেছে। বেশিরভাগ মানুষই আমাকে আশাহত করত, বলত কিছুই হবে না। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। অভিনয়ের প্রতি আমার প্রবল ইচ্ছা, ভালোবাসা ও প্রেম আমাকে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে । কারণ আগেও বলেছি আমি নিজের প্রতি বরাবরই আত্মবিশ্বাসী।

আনন্দধারা : আপনার অভিনয়ের অনুপ্রেরণা কে বা কারা?

পায়েল : মায়ের কারণেই আমার মূলত অভিনয়ে আসা। পরবর্তী সময়ে বন্ধুরা আমার কাজ দেখে আমাকে উৎসাহ দিত। তারপর থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে মিডিয়াতে সম্পৃক্ত করি।

আনন্দধারা : কার সঙ্গে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন?

পায়েল : আমার খুব পছন্দের একজন অভিনেতা চঞ্চল ভাই। যদিও তার সঙ্গে নাটকে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু আমি সহশিল্পী হিসেবে তার সঙ্গে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।

আনন্দধারা : মিডিয়াতে আপনার কাজ শুরু হয় কীভাবে?

পায়েল : ২০১৭ সালের বিজ্ঞাপনচিত্রের মধ্য দিয়ে আমার মিডিয়াতে কাজ করা হয়। তারপর ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনচিত্রের পাশাপাশি নাটকেও কাজ গত করি। গত বছর ‘ইন্দুবালা’ নামে আমার একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রে আমি আনিসুর রহমান মিলন ভাইয়ের বিপরীতে কাজ করেছি।

আনন্দধারা : কোনো অভিনয়শিল্পীকে কি অনুকরণ করা হয়?

পায়েল : কাউকেই আমি অনুকরণ করি না। আমার সবচেয়ে পছন্দের অভিনেত্রী শাবানা ম্যাডাম এবং শাবনূর আপু। আমি দু’জনেরই অসম্ভব ভক্ত। পর্দায় শাবানা ম্যাডামের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং শাবনূর আপুর চাঞ্চল্যপূর্ণ অভিনয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে থাকতাম। বিশেষ করে শাবনূর আপুর চাঞ্চল্যপূর্ণ অভিনয় আমাকে অভিনয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তোলে। কারণ ব্যক্তি জীবনে আমি অনেকটা এ রকমই।

আনন্দধারা : প্রথম কবে প্রেমে পড়েছেন?

পায়েল : যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন প্রথম প্রেমে পড়ি। সেই প্রেমের তখই ইতি ঘটে। এখন আমার বয়স খুব বেশি নয়। যখন আমার প্রেম করার কথা, তখনই আমি অভিনয়ের প্রতি মনোযোগী হয়ে ওঠি। এখন আমার প্রেম, ভালোবাসা যা কিছু বলি না কেন সব অভিনয়কে ঘিরেই।

আনন্দধারা : নতুনদের ক্ষেত্রে সিনিয়র শিল্পীরা কতটা আন্তরিক?

পায়েল : আমি নিজেকে খুবই লাকি মনে করি। মিডিয়াতে আমার করিয়ার খুব স্বল্প সময়ের হলেও আমি অনেক সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছি। একবারের জন্যও তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়নি যে আমি নতুন কাজ করছি । সবাই আমাকে খুব আপন করে নিয়েছেন। যেখানেই কাজ করেছি সবাই মিলে একটা পরিবার হয়ে উঠেছে। সব সিনিয়র শিল্পী খুবই আন্তরিক। শুরু থেকে সবাই আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে, এখনো করছে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।