সব মাধ্যমের চেয়ে থিয়েটার অনেক এগিয়ে

মঞ্চকন্যা হৃদি হক। পারিবারিক সূত্রে মঞ্চের সঙ্গে সখ্য তার। মঞ্চাঙ্গনে অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনায়ও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তরুণ এই নির্দেশক। থিয়েটারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার গল্প এবং থিয়েটারের বর্তমান অবস্থানসহ অন্যান্য আরো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে। তার কথা শুনেছেন আখন্দ জাহিদ

আনন্দধারা : থিয়েটারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করলেন কীভাবে?

হৃদি হক : কীভাবে নিজেকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত করলাম সেটা আমি নিজেও বলতে পারব না। কারণ আমার বুঝতে, দেখতে ও জানতে শেখা সবকিছুই থিয়েটারের সঙ্গে থেকেই গড়ে উঠেছে। ছোটবেলা থেকে থিয়েটার গেম খেলতে খেলতেই বড় হয়েছি। নাটকের বই পড়া, নাটকের মহড়া দেখা। বাবা-মায়ের সঙ্গে নাটকের মহড়ায় যাওয়া, ওখানে খেলাধুলা করা, পড়াশোনা করা, বাসায় এসেও নাটকের মহড়া দেখতে দেখতে আমার বেড়ে ওঠা। নির্দিষ্ট করে কখন কীভাবে নিজেকে জড়ালাম সেটা বলা কঠিন।

আনন্দধারা : পারিবারিক কারণেই কী এ পেশাকে বেছে নিলেন?

হৃদি হক : আমার বাবা-মায়ের মধ্যে সন্তানদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়ার বিষয় ছিল না। যে আমাকে এটা না হয় ওইটা হতেই হবে। পেশাগত দিক দিয়ে আমি কী করব এ বিষয়ে বাবা-মা কোনোপ্রকার চাপ প্রয়োগ করেননি। এই পেশায় আমার আসা নিজের একান্ত ভালোলাগা থেকেই। মানুষ যখন তার নিজস্ব ভাবনায় সে কী করতে চায়, সেটা বুঝতে শেখে তখন থেকেই আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি আসলে থিয়েটার করব। জানি না কেন যেন আমার থিয়েটারটা করতেই ভালো লাগে। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের মধ্য দিয়ে আমার থিয়েটার চর্চা শুরু হয়।

আনন্দধারা : থিয়েটার চর্চায় নারীদের কি প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়?

হৃদি হক : আমরা যারা থিয়েটার করি, তারা নারী-পুরুষ বিভাজনে বিশ্বাসী না। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা সবাই থিয়েটারকর্মী। কিন্তু আমাদের সামাজিক বাস্তবতাই আমাদের বিভাজনটা মনে করিয়ে দেয়। আমার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হলেও আমার দলে বা অন্য দলের একটা মেয়ে যখন সমস্যায় পড়ে সেটা কিন্তু আমারই সমস্যা। কারণ আলাদাভাবে কাজ করলেও আমরা সবাই কিন্তু একই। তবে সব প্রতিকূলতা থেকে বেরিয়ে এসে মানসিকভাবে কীভাবে শক্ত হওয়া যায় সে চেষ্টাই আমরা থিয়েটারে করি।

আনন্দধারা : প্রতিবন্ধকতা থেকে উত্তরণের জন্য আসলে করণীয় কী?

হৃদি হক : যারা বিশেষভাবে পুরুষ তারা আসলে থিয়েটারকর্মী না বলে আমি মনে করি। নারী-পুরুষ আলাদা সত্তা, সেটা অন্য বিষয়। তবে আমি যখন থিয়েটার করছি বা যখন নির্দেশনা দিচ্ছি, তখন কিন্তু আমি নির্দেশক। নির্দেশকের কিন্তু কোনো লিঙ্গ নেই। নারী-পুরুষ ভাবনার থেকে বেরিয়ে এসে যখন আমরা মানুষ হয়ে উঠতে পারব, তখন হয়তো সব প্রতিকূলতা অনুকূলে আনা সম্ভব। তবে আমাদের সামাজিকতায় সেটা অনেক কষ্টের। তবুও আমি বলব সবকিছু অনুকূলে এনে আমাদের প্রচুর পড়তে হবে, জানতে হবে পাশাপাশি নিজেদের মানসিকতা আরো শক্তিশালী করতে হবে। তখন আমরা ছোট যুদ্ধগুলো করে নিজেদের সফল করতে পারব। সবকিছুর জন্য নিজেই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হবে।

আনন্দধারা : থিয়েটারের বর্তমান অবস্থা কেমন মনে হয় আপনার?

হৃদি হক : আমাদের যতগুলো মাধ্যম আছে তার মধ্যে থিয়েটার সবচেয়ে এগিয়ে। টেলিভিশনে আমাদের ঐতিহ্যের একটা জায়গা ছিল, সেখানে এখন আমরা নেই। ফিল্মের যদিও সুদিন আসছে, তারপরও ফিল্মের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। আমাদের ভাবনাসহ সবকিছু মিলিয়ে থিয়েটার অনেক এগিয়ে আছে, যা দিয়ে আমরা বিশ্বব্যাপী নিজেদের প্রমাণ করতে পারি এবং ইতোমধ্যে তা করছিও। আমি পারিবারিক বা পেশাগত কাজে দেশের বাইরে গেলে থিয়েটার দেখি। তখন আমার মনে হয় যে আমরা থিয়েটারের মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করার যে অবস্থা সেটা আমাদের তৈরি আছে। তবে আমাদের প্রসারটা হচ্ছে না। আমরা একটা জায়গা এবং কয়েকটা দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে আমি বিশ্বাস করি থিয়েটারে আমাদের একটা ভালো অবস্থানে আছে। তবে আমাদের সামাজিক কিছু সমস্যা রয়েছে। এছাড়া বড় দল থেকে শুরু করে সব দলেরই ছোটখাটো কিছু সমস্যা আছে। ভাবনা ও প্রকাশের জায়গা আমরা অনেক এগিয়ে কিন্তু মঞ্চ সংকটের কারণেই আমরা দর্শক তৈরি করতে পারছি না। পাশাপাশি আমাদের কারিগরি অনেক সমস্যা আছে।

আনন্দধারা : মঞ্চে স্ক্রিপ্ট বা নির্দেশক সংকট আছে বলে কি মনে করেন?

হৃদি হক : আমি এখনো আশাবাদী। এখন যারা তরুণ নির্দেশনা দিচ্ছে তারা সবাই কিন্তু সমাজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ভিন্নভাবে ভাবছে। সম্প্রতি নতুন নাটক নিয়ে যে উৎসব হয়ে গেল সব নির্দেশকই কিন্তু নিয়মিত ভালো কাজ করছে। তবে স্ক্রিপ্টের কিছুটা সংকট আছে বলে আমার মনে হয়। তবে আমরা থিয়েটারটা তো অনেক কিছু থেকেই তৈরি করতে পারি। যেমন একটা শব্দ, একটা কবিতার লাইন কিংবা গানের লাইন যেকোনো জিনিস থেকেই আমরা থিয়েটার তৈরি করতে পারি। তবে এখন যারা নাটক লিখছে তাদের ভাবনার জায়গাটা অনেক শক্তিশালী। স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ থিয়েটার দাঁড় করানোর অবস্থানে তারা আছে। আমি বিশ্বাস করি এখন পরিপূর্ণভাবে থিয়েটারটা হচ্ছে এবং আমাদের এই প্রজন্ম সেটা তৈরি করতে পারছে।

আনন্দধারা : থিয়েটারের প্রতি তরুণদের অনাগ্রহ কেন?

হৃদি হক : আমি খুব ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে থেকে বড় হয়েছি। আমি দেখেছি সে রকম কিছু মানুষ সব সময় ছিল এবং আছে থিয়েটারের প্রতি যাদের অনাগ্রহ রয়েছে। যে সময়টা চলে যায় আমরা সেটা নিয়ে খুব উত্তেজিত থাকি বলেই বলি যে ওই সময়টা ভালো ছিল। যারা ফাঁকিবাজ বা নিজেকে শো-আপ করার জন্য কাজ করেছে, তারা কিন্তু ঝরে পড়েছে। এখনো তাই হচ্ছে। আমরা একসঙ্গে যারা থিয়েটার শুরু করেছি, তাদের অনেকে এখন নেই। কিছু মানুষ আছে যারা থিয়েটার করছে ও করবে। তারা মূলত টেলিভিশনে কাজ করার জন্যই থিয়েটারটা নামমাত্র করছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আসলে থিয়েটারে থাকবে না এবং দেখা যাবে তারা টেলিভিশনেও কাজ করতে পারবে না। কারণ তার কোনো শেকড় নেই। যারা এ রকম তাদের নিয়ে ভাবার কিছু নেই। কারণ তারা আসলে ভাবনাটার মধ্যেই নেই।

আনন্দধারা : দশ বছর পর বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?

হৃদি হক : আসলে স্বপ্নের তো শেষ নেই। ভালোলাগার কিছু যদি হয়ে থাকে সেটা তো দেশকে নিয়েই। দেশের কাছে, দেশের মানুষের কাছে, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আমাদের এত এত দায়বদ্ধতা আসলে সেটা যদি আমরা স্থির হয়ে অনুভব করার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা প্রত্যেকে চাইব দেশটাকে কিছু দিতে। কারণ আমরা দেশ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। বাস্তবতার দিক থেকে যদি বলি দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে দশ বছর পর শক্ত একটা অবস্থানে আমাদের দেশ থাকবে। শুধু আমাদের দায়িত্ব আমাদের নিজেদের মানসিকতা শক্তিশালী করা। কারণ আমরা আমাদের ভাবনার জায়গাটাকে উন্নত করতে পারছি না।

আনন্দধারা : আপনার আদর্শ?

হৃদি হক : একাত্তরে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, প্রতিটা মানুষ আমার আদর্শ, আমার অনুপ্রেরণা। ওই সময় যে মানুষটা তার মানসিক এবং শারীরিক শক্তি দিয়ে আমাদের দেশটাকে দিয়ে গেছে তাদের শক্তিকে আসলে কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনা করা যায় না। তাদের সে শক্তি এবং সাহসের কথা অনুভব করলে অনেক বেশি সাহস এবং শক্তি পাওয়া যায়, যা আমাকে ব্যক্তি এবং কর্মজীবন দুই ক্ষেত্রেই অনুপ্রাণিত করে।

আনন্দধারা : মঞ্চে পেশাদারিত্ব আসবে বলে কি মনে করেন?

 হৃদি হক : আসবে তো অবশ্যই। তবে আমরা পাব কিনা সেটা হচ্ছে প্রশ্ন। চেষ্টা চলছে কিন্তু সবকিছু মিলে যদি সমান গতিতে না এগোয়, তাহলে পেশাদারিত্বের জায়গায় যাওয়া যাবে না। তবে আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই মঞ্চে পেশাদারিত্ব আসবে। তবে একটু সময় লাগছে। তার কারণ আমার মনে হয় আমরা একসঙ্গে বিশাল পরিসরে চেষ্টা করতে পারছি না।

আনন্দধারা : নিজের নির্দেশনায় কাজ করতে কেমন লাগে?

হৃদি হক : একসঙ্গে দুই কাজ করার অর্জনটা আমার থিয়েটার থেকেই হয়েছে। যারা থিয়েটার করে এবং করার মতো করতে চায়, তারা কিন্তু পরিপূর্ণ থিয়েটারেই বিশ্বাসী হয়। কারণ আমরা অভিনয় করার জন্য থিয়েটারটা করি না। আমাদের দল সেভাবেই পরিচালিত হয়। আমরা থিয়েটারে পড়ব, লিখব, অভিনয় করব, মিউজিক, সেট ডিজাইন করব কিংবা কস্টিউম ডিজাইন নিয়ে ভাবব। এভাবেই তো আসলে থিয়েটারটা হওয়া উচিত। আর সেই অনুশীলনের মধ্যেই আমার বড় হওয়া। তাই এই বিষয়টা আমাকে আলাদাভাবে চাপ প্রয়োগ করে না। বিশেষ করে আমরা যারা এভাবে থিয়েটার চর্চা করছি, তাদের কাউকেই এই বিষয়টা চাপ প্রয়োগ করে না। এখন শুধু আমি না, অনেকেই নিজের নির্দেশনায় নিজেই কাজ করছে।

আনন্দধারা : নির্দেশক হৃদি হকের ভাবনা কি অভিনেত্রী হিসেবে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারেন?

 হৃদি হক : নির্দেশক হৃদি হক একটা চরিত্র যেভাবে দেখতে পায়, সে তার দলের অন্যান্য অভিনেতা এবং অভিনেত্রীদের সঙ্গে চরিত্রের সে ভাবনাটা শেয়ার করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্দেশকের ভাবনার সঙ্গে অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রটি ঠিক হয়ে উঠতে পারছি না। কিন্তু তার জন্য অনেক চেষ্টা, কষ্ট আর প্রতিযোগিতার পর চরিত্রটির একটা অবয়ব দাঁড় করাই। কারণ আমরা প্রথমে কোনো চরিত্রের জন্য কাউকে নির্ধারণ করি না। দলের সবাই প্রতিটা চরিত্র অনুশীলন করে। এভাবে করতে করতে আমরা সর্বশেষ কাজটা করি। প্রতিটি নাটকের ক্ষেত্রে আমাদের এই প্রতিযোগিতা কিন্তু চলতেই থাকে। তবে নির্দেশক হিসেবে নিজের ভাবনার সঙ্গে অভিনয়ে পুরোটা ভাবনার মিল ঘটানোর জন্য যতটা পরিশ্রম করতে হয়, সেটা আমি করি। অন্য নির্দেশকের নির্দেশে কাজ করলে যেমন পরিশ্রম করা হয়, নিজ নির্দেশনায় কাজ করলে ঠিক একইভাবে আমাকে পরিশ্রম করতে হয়। তখন ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ থাকে না। নির্দেশক আর অভিনেত্রী দুটি আলাদা সত্তা হিসেবেই তখন কাজটা করা হয়।

আনন্দধারা : আপনার ভালোলাগা কিংবা যদি জানতে চাই নিজেকে কোথায় খুঁজে পান?

হৃদি হক : আমি যখন মঞ্চে থাকি বা মঞ্চে গিয়ে দাঁড়াই কিংবা মহড়া কক্ষে যখন যাই যে আনন্দ পাই এই আনন্দ আমি আমার জীবনে অন্য কোনো আনন্দের সঙ্গে তুলনায় করতে পারি না। থিয়েটার আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। থিয়েটারের প্রতিটা মুহূর্তই আমার কাছে আনন্দের। থিয়েটারের প্রতিটি কাজেই নিজেকে এবং নিজের আনন্দ খুঁজে পাই।

আনন্দধারা : আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

হৃদি হক : আমাদের চারটা নাটক নিয়তি মঞ্চায়িত হচ্ছে। সেই নাটকগুলো নিয়েই বর্তমান ব্যস্ততা চলছে। ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ এবং ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল- লেটো কাহন’ নাটক দুটিতে নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয় করছি। শওকত ওসমানের লেখা ‘ক্রীতদাসের হাসি’ নাটকটির নাট্যরূপ আমার। পাশাপাশি নাটকটিতে আমি অভিনয়ও করছি। ‘ক্রীতদাসের হাসি’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন লাকী ইনাম। এছাড়া আমার লেখা একটা নাটক ‘একাত্তর ও একজন নাট্যকার’। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিটিভিতে প্রচারিত প্রথম ‘বাংলা আমার’ নাটকটি বাবার (ড. এনামুল হক) লেখা। একুশে ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে প্রচারিত প্রথম একুশের নাটক ‘মালা একশত মালঞ্চের’ সেটাও বাবার লেখা। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনের সময় বাবার লেখা কাজগুলো আমাদের ধরে রাখা উচিত। পাশাপাশি এই নাট্যকারের কাজগুলো সবাইকে জানানো উচিত। আর সেজন্য বাবার নাটকগুলো নিয়ে লেখা আমার নাটক ‘একাত্তর ও একজন নাট্যকার’। বিশেষ দিনগুলোতে আমরা নাটকটির প্রদর্শনী করি। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় আমরা ভেঙে ভেঙে পথনাটক হিসেবে নাটকটির অনেক মঞ্চায়ন করেছি। এছাড়া আমাদের অ্যাক্টিং স্কুল ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনস্টিটিউট অব ড্রামা’ নিয়ে নিয়মিত ব্যস্ততা তো রয়েছে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।