পুরস্কার প্রপ্তি অনুপ্রাণিত করে মনে সাহস জোগায়

বিয়ের পিঁড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া ইতি খাতুন এখন দেশের গর্ব। নেপালে এবার এসএ গেমসের আর্চারির একক ও দলীয় ইভেন্টে তিনটি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। আত্মপ্রত্যয়ী ইতি সংগ্রাম করে সফলতার মুখ দেখেছেন। তার এই সংগ্রাম, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভাগাভাগি করলেন আনন্দধারার সঙ্গে।

আনন্দধারা : শুরুতেই আপনার আর্চারিতে আসা নিয়ে জানতে চাই?

ইতি খাতুন : আমি তৃণমূলের মাধ্যমে আর্চারিতে এসেছি। ২০১৬ সালে তৃণমূলের একটা ক্যাম্প হয়েছিল, সেখান থেকে আমি এসেছি।

আনন্দধারা : আরো অনেক খেলা বা পেশা রয়েছে। আপনি আর্চারিটাকেই কেন বেছে নিলেন?

ইতি খাতুন : আমি এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম, যাতে করে সামনে যেটা পেয়েছি সেটাই গ্রহণ করেছি। অন্যান্য খেলাধুলাও করতাম। ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করার পর এটাতে নির্বাচিত হই। তিন মাস আরো একটা আর্চারির ক্যাম্প হয়, সেখান থেকে ঢাকায় আসার জন্য আমি নির্বাচিত হই।

আনন্দধারা : ঢাকায় আসা বা এই খেলাতে আসা নিয়ে পরিবার বা অন্য কোনোভাবে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কী?

ইতি খাতুন : যখন এখানে আসতে চেয়েছিলাম তখন বাবা-মা কেউ রাজি ছিল না। তারা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল। এখানে আসার জন্য আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিয়ে ঠিক করার পর অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। অনেক কান্নাকাটি এবং দুদিন না খেয়ে ছিলাম। বাবা-মাকে অনেক বোঝানোর পরও তারা বোঝেনি। কোনো উপায় না দেখে আমাদের জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি নঈম হাসান স্যারকে বলেছিলাম। আমাদের ওখানে খেলাধুলায় আমি সবচেয়ে ভালো ছিলাম, এজন্য স্যাররাও আমাকে সমর্থন করতেন। স্যাররা বাবাকে ডেকে বুঝিয়েছিলেন। তারপর বাবার মনটা একটু নরম হয়।

আনন্দধারা : বাংলাদেশের মেয়েরা এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে আর কী কী বাধার সম্মুখীন হচ্ছে?

ইতি খাতুন : আমরা যদি পড়াশোনাটা ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে অনেক এগিয়ে যাব। আমার ক্ষেত্রে পড়াশোনার বিষয়েও পরিবার থেকে সমর্থন পাইনি। এটাও একটা বড় বাধা ছিল। বাবা দিনে যা আয় করতেন, তাতেই সংসার চলত। আমার প্রাইভেটের বেতন দিতে চাইতেন না। যখন বেতন চাইতাম, তখন বাবা বলতেন তোকে আর পড়তে হবে না।

আনন্দধারা : এত বাধা অতিক্রম করে একজন নারী কীভাবে সফল হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ইতি খাতুন : জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, যদি লক্ষ্য থাকে তাহলে অবশ্যই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব। আমার ইচ্ছা ছিল আমি বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াব এবং দেশের হয়ে খেলব। এই ইচ্ছেটা আমি ধরে রেখেছিলাম বলেই এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। তাই সর্বপ্রথম লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।

আনন্দধারা : দশ বছর পর বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান?

ইতি খাতুন : বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

আনন্দধারা : আপনার নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ইতি খাতুন : অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করা। সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট গন্তব্য আছে। আমরা অলিম্পিককেই কেন্দ্র করে খেলি। এখন পর্যন্ত কোনো নারী সেখানে কোয়ালিফাই করেনি। আমি যদি কোয়ালিফাই করতে পারি আমার কাছে সেটাই অনেক বড় পাওয়া বলে আমি মনে করি।

আনন্দধারা : আপনার অনুপ্রেরণা বা আদর্শ কারা?

ইতি খাতুন : তিন মাসের ক্যাম্পে যখন ঢাকায় আসি তখন বাদ পড়েছিলাম। নঈম হাসান স্যারকে বিষয়টি জানাই। তিনি আমাকে একটি ক্লাবে পাঠান। তিনি যদি আমাকে ক্লাবে না পাঠাতেন, তাহলে আমি এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। তাই তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

আনন্দধারা : পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

ইতি খাতুন : পুরস্কার প্রাপ্তি অনেক অনুপ্রাণিত করে এবং মনের মধ্যে সাহস জোগায়। মনে হয় আমি খেলব। দেশের জন্য খেলব, কখনো পিছিয়ে পড়ব না।

আনন্দধারা : অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেয়ার জন্য।

ইতি খাতুন : আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

 

শ্রুতিলিখন : রওনাক ফেরদৌস

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।