‘নারী শব্দটা বলে আলাদা করে দেয়া এটাই একটা বাধা’

বর্তমান সময়ের মননশীল লেখকদের মধ্যে আফসানা বেগম অন্যতম। বুদ্ধিদীপ্ত লেখা দিয়ে পাঠকের মন জয় করে নিয়েছেন। একজন নারী হিসেবে তার বিশ্বাস, নিজের আদর্শ নারী, অনুপ্রেরণা, নারীদের বাধা সবকিছু নিয়ে বলেছেন সাক্ষাৎকারে।

আনন্দধারা : আপনার জীবনে আদর্শ নারী বলতে কাকে বেছে নেবেন?

আফসানা বেগম : নারীদের মধ্যে যারা ভালো কিছু করেছে, তারা সবাই আমার জন্য আদর্শ নারী। সেটা পরিবার, সাহিত্য, অভিনয়, রাজনীতি, সমাজসেবায় হোক না কেন। তাদের প্রত্যেকেরই একেকটা দিক আমাকে টানে। আলাদা করে অন্যকিছুর নাম বলা সহজ নয়। একটা মানুষ পরিবারের মধ্যে সংগ্রাম করে টিকে থাকে। তার ভালো গুণ আমাকে মুগ্ধ করে। যদি আলাদা করে বলতে হয়, তাহলে প্রতিকূলতার কথা বলতে হয়। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। বেগম রোকেয়ার কথা বলতে হয়। তিনি নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সমাজের জন্য দেশের জন্য তাদের অবদান অবশ্যই অনেক কিছু।

আনন্দধারা : আপনার অনুপ্রেরণার নামগুলো জানতে চাই। এতটা পথ পাড়ি দিলেন অভিনয়ে?

আফসানা বেগম : আমি যেহেতু লেখালেখি করি আমার অনুপ্রেরণার প্রথম নাম হিসেবে আসবে সুকুমার রায়, উপেন্দ্র কিশোর রায়। কেননা ছোটবেলায় তাদের লেখা পাঠ করেই আমার শুরু হয়েছিল। এরপর একটু বড় হয়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাকে দখল করে। তাদের লেখা পাঠ করার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের সাহিত্য পাঠ করতে শুরু করি। আমার মেধা, মননজুড়ে সেসব লেখা অনেক অনুপ্রেরণার জন্ম দিয়েছে। আমি যে এখন একটা লাইন লিখি। তার পেছনে ৪০০ বছরের সাহিত্যের ইতিহাসের একটা অবদান আছে।

আনন্দধারা : এতটা পথ আসতে নারী হিসেবে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কী?

আফসানা বেগম : নারী শব্দটা বলে আলাদা করে দেয়া এটাই একটা বাধা মনে হয় আমার কাছে। বলা হয় আমি নারী লেখক। আমাকে একজন লেখক বললে কী সমস্যা ঠিক আমি বুঝি না। লেখক বলে আমাকে বিচার করা হোক। আমি কী পুরুষ লেখকদের মতো লিখতে পারি না। তাহলে কেন নারী লেখক বলে আমাকে আলাদা করা হবে। মানসম্মত লেখা দিয়ে বিচার করা হোক। নারী লেখক বলে পরিচিত করানো এটাই একটা বাধা বলে মনে হয় আমার কাছে।

আনন্দধারা : একজন নারী হিসেবে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশকে কেথায় দেখতে চান?

আফসানা বেগম : চাই তো অনেক কিছু। কিন্তু মাঝে মাঝে হতাশ হয়ে যাই চারদিকের বিষয়-আশয় দেখে। একজন লেখক হিসেবে কিছু একটা চেষ্টা করছি। এভাবে একজন দু’জন করে অনেক কিছু লেখার চেষ্টা করছে। সবার সম্মিলিত লেখার কারণে একটা কিছু হয়তো হবে। আমার বিশ্বাস, এসব লেখার কারণে একদিন একটু একটু করে পরিবর্তন আসবে। ভালো কোনো কিছুর চেষ্টা বৃথা যেতে পারে না। আগামীর বাংলাদেশ অবশ্যই ভালোকিছু হবে।

আনন্দধারা : এই অগ্রগতিতে কী কী বাধা রয়েছে বলে মনে করেন?

আফসানা বেগম : নারীর অগ্রগতিতে প্রথম বাধা আমার কাছে মনে হয় তার পরিবার। একজন নারী হিসেবে সে প্রথমে তার পরিবার থেকে। পরিবার থেকে বাধা অতিক্রম করে তাকে সামাজিকভাবে কাজ করতে হয়। তারপর তো সামাজিকভাবে একজন নারীকে এগিয়ে যেতে হলে অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয়। সব বাধা অতিক্রম করার পর একজন নারী সফল হন। একজন নারীকে প্রথমে মানুষ বলে দেখতে হবে। তাহলে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আমার ধারণা।

আনন্দধারা : আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

আফসানা বেগম : একজন লেখক হিসেবে লিখে যেতে চাই।

 

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।