টেলিভিশন

২০০ পর্ব ছাড়িয়েছে ‘বকুলপুর’

বকুলপুর নাটকটি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রচারিত হয় দীপ্ত টিভিতে। ইতোমধ্যে এর পর্ব সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। নাটকটি রচনা করেছেন আহমেদ শাহাবুদ্দিন আর পরিচালনা করেছেন কায়সার আহমেদ। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, আনিসুর রহমান মিলন, আ খ ম হাসান, শ্যামল মওলা, নাদিয়া আহমেদ, আরফান আহমেদ, শবনম ফারিয়া, তাহমিনা মৌ, ফারজানা ছবি, হুমায়রা হিমু, টুটুল চৌধুরী, মুকুল সিরাজ, আইনুন পুতুল, ওবিদ রেহান, আহসানুল হক মিনু, শামীমা তুষ্টি, এমিলা হক, আইরিন আফরোজ, রিমি করিম, ওয়ালিউল হক রুমি, সিরাজুল ইসলাম, টুটুল চৌধুরী, এ্যানি খান, সঞ্জয় রাজ, তানভীর মাসুদ, হেদায়েত নান্নু, বিনয় ভদ্র প্রমুখ।

নাটকের কাহিনী আবর্তিত হয় বকুলপুর গ্রামকে কেন্দ্র করে। এই গ্রামের দুই গোষ্ঠী তালুকদার ও ম-ল। তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা, দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। এর মধ্যে মণ্ডল গোষ্ঠীর ছেলে মন্টু গ্রামে যাত্রা নিয়ে আসার উপক্রম করেন। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান ঝড়– তালুকদার। তিনি যাত্রার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তালুকদারদের একতাবদ্ধ হতে বলেন। কিন্তু জব্বার ও ঘুড্ডি তালুকদার তাতে কোনো সায় দেন না। তিনি পড়ে যান বিপাকে। এরপর খুন হন ঝড়– তালুকদার। পুলিশ গ্রেফতার করে গ্রাম্য সন্ত্রাসী উগান্ডাকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে খুনের তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারে না। এরপর খুনির খোঁজে নেমে পড়ে পুলিশ। এভাবে কাহিনী এগোতে থাকে।

গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ধারাবাহিকের গল্প বেশ ভালো। একটার পর একটা নতুন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। সেক্ষেত্রে যিনি রচনা করেছেন, তার তারিফ করতেই হয়। অভিনেতারা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অভিনয় করেছেন। তবে কিছু জায়গায় অনেকের অতিরঞ্জিত অভিনয়ও দেখা গেছে। এই ধারাবাহিকের দুর্বল জায়গা হলো আবহ সংগীত। একদম যাচ্ছেতাই অবস্থা।

যাদের গ্রামীণ ঘটনা সংবলিত নাটক বেশি ভালো লাগে, তাদের জন্য উপযুক্ত ধারাবাহিক এটি।

 

ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি তুলে আনছে ঘটনার আগে ও পরের চাঞ্চল্যকর তথ্য

যমুনা টিভির পর্দায় শুক্রবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে প্রচার হয় অপরাধ ও অনুসন্ধানবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রি’। এটি মূলত আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ও ঘটমান কুকীর্তি, দুর্নীতি, অন্যায়- অবিচার, অপসংস্কৃতি ইত্যাদি তুলে ধরে। প্রায় ছয় বছর ধরে এই অনুষ্ঠানটির পর্ব সংখ্যা ২৫০ ছুঁই ছুঁই। প্রতিটি পর্বেই ছিল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়ে। বর্তমানে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন মীর আহসান। যার ভরাট কণ্ঠ পুরো অনুষ্ঠানকে বাস্তবতার এক নাটকীয় রূপ দেয়। অচেনা ঢাকা, রমরমা ক্যাসিনো, মাটির আকাশে পেঁয়াজ, শুভঙ্করের ফাঁকি, পুল শিক্ষক, জিনের লন্ডন যাত্রা, রক্ষক যখন ভক্ষক, গ্যাংস অব ঢাকাসহ আরো বহু জনপ্রিয় পর্ব রয়েছে, যা লোকচক্ষুর আড়ালে কিংবা অগোচরে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে দুর্দান্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিটি পর্ব যেহেতু আলাদা বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়, তাই অনুষ্ঠানের শুরুতেই সেই বিষয়ক সমস্যায় জর্জরিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে মূল সমস্যা প্রকাশিত হয়। এরপর পুরো টিম ৩৬০ ডিগ্রি বেরিয়ে পড়ে ঘটনার আগে ও পরে ঘটে যাওয়া রহস্য উদ্ঘাটনে। সবক্ষেত্রে তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবুও তারা না দমে গিয়ে সমস্যার প্রান্তিক দিকগুলো খুঁজে বের করে আনেন।

এ অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, অন্ধকার জগতের খবরাখবর আমাদের জানিয়ে দেয় এক নাটকীয় উপস্থাপনের মাধ্যমে, যা একদিকে যেমন সবাইকে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সাহায্য করে, অপরদিকে ভুলে পথে পা বাড়ানোর আগে সাবধান করে।

 

-রোমান শুভ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।