আমার বৌভাতে নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়েছি

তরুণ মঞ্চাভিনেতা  সাদ্দাম হোসেন। পেশাগত জীবনে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হলেও অভিনয়টাই তার ধ্যান-জ্ঞান। তার বর্তমান কর্মব্যস্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে। তার কথা শুনেছেন রোমান শুভ

আনন্দধারা : বর্তমানে আপনার কর্মব্যস্ততা কী নিয়ে?

সাদ্দাম হোসেন : জীবিত অথবা মৃতের গল্প নামে একটি নাটকের মহড়া চলছে। এটির নির্দেশনা দিয়েছেন রাজীব দে । আর ‘হিমুর কল্পিত ডায়েরি’ নাটকের নিয়মিত শো করছি।

আনন্দধারা : অভিনয় জীবনের শুরুটা হয় কীভাবে?

সাদ্দাম হোসেন : আমি কোনোদিন ভাবিনি অভিনয় করব। আমি বরাবরই অন্তর্মুখী ছিলাম। কারো সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতেই ভয় করত, সেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করা ছিল কল্পনাতীত। মূলত মুক্তদার হাত ধরেই আমার মঞ্চের পথচলা শুরু। বাতিঘরের যাত্রার কিছুদিনের মধ্যে তিনি বললেন চলো থিয়েটারে যাই। আমি আর মুক্তদা ধ্বনিচিত্রে একসঙ্গে কাজ করতাম। আমি বললাম, আমি গান পারিনা, নাচ পারি না, ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না, আমি কী অভিনয় করব? মূলত তার অনুপ্রেরণায় এরপর একটি পথ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আমার অভিনয় যাত্রা শুরু হয়।

আনন্দধারা : এত মাধ্যম থাকতে মঞ্চটাকে কেন বেছে নিলেন?

সাদ্দাম হোসেন : শিল্পের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়ে। তাই অন্য মাধ্যমে ভালোবাসা তৈরি হওয়ার আগেই মঞ্চের প্রতি ভালোবাসাটা জন্মায়। এখন যত দিন যাচ্ছে তার পরিমাণ আরো বাড়ছে। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর রিহার্সেল না থাকলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

আনন্দধারা : মঞ্চ নাটকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর কী কী প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন?

সাদ্দাম হোসেন : একজন মঞ্চ কর্মীকে প্রতিবন্ধকতার মধ্যে বাস করতে হয় এবং সেটা থেকে বের হওয়ার কৌশলও নিজেকে আয়ত্ত করতে হয়। আমাদের দেশে যেহেতু থিয়েটার করে কোন অর্থ উপার্জন করা যায় না। মানে কোনো প্রফেশনাল থিয়েটার নেই। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে সবাইকে অন্য কিছু করতে হয়। যেটা আমাকেও করতে হচ্ছে। কখনো ছিল ছুটি নিয়ে বা কখনো স্কুল ফাঁকি দেয়ার মতো করে অফিস ফাঁকি দিয়ে রিহার্সাল বা শো করতে হয়।

আনন্দধারা : অনেকেই বলছে উৎসব বাদে যে নাটকগুলো মঞ্চস্থ হয়, সেখানে খুব বেশি দর্শক হয় না এর কারণ হিসেবে আপনি কী মনে করছেন?

সাদ্দাম হোসেন : শুধু শিল্পকলা কেন্দ্রিক হওয়ায় অন্যতম কারণ বলে আমার মনে হয়। ঢাকা শহরের বিশেষ এলাকাগুলোতে প্রদর্শনী করতে পারলে খুব ভালো হতো। সেজন্য সেখানে প্রদর্শনী করার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা উচিত। আমাদের ঢাকা শহরের যানজটের কথা কারো অজানা নয়। কেউ উত্তরা থেকে যানজট উপেক্ষা করে সঠিক সময়ে নাটক দেখতে উপস্থিত হতে পারবে এটা ভাবাটা অবান্তর।

আনন্দধারা : মঞ্চের সঙ্গে জড়িত কোনো মজার ঘটনা যেটা আপনি এখনো মনে করতে চান?

সাদ্দাম হোসেন : খুব অল্প সময়ের মধ্যে ‘হিমুর কল্পিত ডায়েরি’ নাটকটি আমরা মঞ্চস্থ করি । সেক্ষেত্রে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়েছে। মহলা যখন চলছে তখন আমার বিয়ের তারিখ পড়ে যায়। সেই সময় আমার বৌভাতে নাটকের পাণ্ডুলিপি পড়তে হয়েছে। সে সময় কোনো অতিথি এলে তাদের সঙ্গে কথা বলতাম, আবার চলে গেলে পাণ্ডুলিপি পড়া শুরু করতাম।

আনন্দধারা : থিয়েটারে সিনিয়র-জুনিয়রদের রেষারেষি নিয়ে কী বলতে চান?

সাদ্দাম হোসেন : এটার সঙ্গে আমি পরিচিত নই। আমি যে দলের সঙ্গে যুক্ত এখানে কেউ মনে হয় না এটার মুখোমুখি হয়েছে এখন পর্যন্ত।

আনন্দধারা : মঞ্চে আপনার আইডল কে?

সাদ্দাম হোসেন : আমার আইডল হচ্ছে মুক্তনীল দা। কারণ এই লোকটার মাধ্যমেই আমি প্রথম মঞ্চের আলোয় আলোকিত হয়েছি। এই লোকটার মধ্যে একটা ক্ষ্যাপামি আছে। সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু থিয়েটারই করছে, যা এখন খুব বেশি দেখা যায় না।

আনন্দধারা : নতুন থিয়েটার কর্মীরা থিয়েটারকে মিডিয়ার কাজ করার সোপান মনে করছে। আপনার মতামত কী?

সাদ্দাম হোসেন : মিডিয়াতে কাজ করার জন্য কেউ থিয়েটারের যুক্ত হলে আমি তাতে অন্যায় কিছু দেখি না। সেখানে তো সে অভিনয়টাই করবে। কেউ যদি মনে করে আমি থিয়েটারে অভিনয়টা পাকাপোক্ত করে মিডিয়াতে কাজ করব আমি অবশ্যই তাকে স্বাগত জানাই।

আনন্দধারা : নতুনদের উদ্দেশ্যে কী বলতে চান?

সাদ্দাম হোসেন : নতুনদের উদ্দেশ্য এটাই বলব, থিয়েটার তখনই করা উচিত যদি সেটা মনেপ্রাণে করতে চায়। একটু বাজিয়ে দেখি বাজে কিনা- এ রকম মনোভাব নিয়ে থিয়েটার করতে আসা উচিত নয়। থিয়েটার করলে সব উজাড় করে দিয়ে করতে হবে।

ছবি : শাহরিয়ার কবির হিমেল

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।