থিয়েটারকে নিজের ভূমি মনে হয়

 মঞ্চে অভিনয়ে অনবদ্য রামিজ রাজু। নিজ দলের বাইরে অন্যান্য দলের নাটকেও নিয়মিত কাজ করছেন এ অভিনেতা। মঞ্চ অভিনেতার পাশাপাশি একজন নির্দেশকও তিনি। আপাদমস্তক একজন থিয়েটারপ্রেমী এ অভিনেতা কাজ করেন বিভিন্ন নাটকের নেপথ্যে। মঞ্চের রর্তমান অবস্থা, নিজের পথচলার গল্পসহ অন্যান্য আরো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে। 

আনন্দধারা : মঞ্চে আপনার বর্তমান কাজের ব্যস্ততা?

রামিজ রাজু : আমি প্রাঙ্গণেমোরের একজন কর্মী। আমাদের প্রাঙ্গণেমোর ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের দলের নাটকের সংখ্যা ১৩। এর মধ্যে ১২টি নাটকেই আমি কাজ করছি। বাকি ‘দ্রোহ প্রেম নারী’ নাটকটি নির্দেশনা দেয়ার কারণে অভিনয় করা হয়নি। এছাড়া দলের বাইরে অন্যান্য নাটকে অভিনয় কিংবা নেপথ্যে কাজ করা হয়।

আনন্দধারা : থিয়েটারে আপনার পথচলা শুরু হয় কবে থেকে?

রামিজ রাজু : প্রাঙ্গণেমোরে শুরু থেকেই আমি আছি। তবে ১৯৯৯ সাল থেকে নটরাজ নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমার পথচলা শুরু। দলটির কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রাঙ্গণেমোরে প্রথম ব্যাচে সদস্য হিসেবে যোগদান করি।

আনন্দধারা : থিয়েটারের সঙ্গে কেন নিজেকে যুক্ত করলেন?

রামিজ রাজু : যখন বুঝতে শিখলাম, চলতে শিখলাম, তখনই আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল আমি একজন অভিনেতা হব। আমার অভিনয়ের একমাত্র অনুপ্রেরণা হচ্ছেন শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন ফরীদি। যখন আমি অভিনয়ের কিছুই বুঝতাম না, তখনো তার অভিনয় আমাকে খুব টানত। কিন্তু সংশপ্তক নাটকে তার রমজান চরিত্র দেখে তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি অভিনেতাই হব। তখন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারতাম যারা জনপ্রিয় অভিনেতা তারা সবাই থিয়েটার থেকে আসা। তখন থিয়েটার সম্পর্কে জানতাম না ঠিকই। কিন্তু এটা জানতাম টেলিভিশনে অভিনয় করতে হলে থিয়েটার করতে হয়। যখন থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হলাম, তখন মনে হলো থিয়েটারের এত বেশি দরজা-জানালা, অলি-গলি আছে যে থিয়েটারের পুরোটা যদি জানতে চাই, সারাটা জীবন চলে যাবে। এক জীবনে থিয়েটার সম্পর্কে জানা শেষ হবে না।

আনন্দধারা : কিন্তু থিয়েটার থেকে তো আর জীবিকা নির্বাহ সম্ভব না...

রামিজ রাজু : এটি আমাদের দেশের সব থিয়েটার শিল্পীদের জন্য একটা চরম সত্য কথা। কারণ আমাদের থিয়েটার থেকে কোনো পয়সা নেই। সবাই ভালোবেসে থিয়েটারটা করছি। টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে আমার পেটের ক্ষুধা মিটবে কিন্তু মনের ক্ষুধা মেটানোর জন্য থিয়েটার ছাড়া বিকল্প নেই। এটা সত্য কথা যে থিয়েটার করতে হলে কিছু না কিছু করতে হয়। আমি যদি অন্য কিছু না করি, তাহলে থিয়েটার করব কীভাবে! যেহেতু আমি অভিনেতা, আর অভিনয়টা করতে চাই। তাই আমাকে টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে কম-বেশি কাজ করতে হয়। আর এই কাজটা আমাকে করতে হয় জীবিকা নির্বাহের জন্য। আর সেটাও করি থিয়েটারটা করার জন্য। আর্থিক অর্জনটা আমাকে খুব বেশি টানে না। আমার মনে হয় দু’দিন পর চলে গেলেই তো সব শেষ। আমরা যতটুকু যাকে মনে রাখি, সম্পর্ক কিংবা আর্থিক অবস্থা দিয়ে নয়, মনে রাখি তার কাজ দিয়ে।

আনন্দধারা : আপনি কি মনে করেন থিয়েটারের কারণে একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ?

রামিজ রাজু : আমরা নিজেরাই থিয়েটারকে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে ফেলেছি। থিয়েটারকে আসলে নানাভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। থিয়েটারের আনন্দ টেলিভিশন দেখে কেউ কোনোদিন পাবে না। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, থিয়েটার তিনটি আলাদা মাধ্যম। তবে সবাই সব জায়গায় সমানভাবে কাজ করতে পারে না। থিয়েটারকে আমার নিজের ভূমি মনে হয়। এখানে আমার ব্যাটিংটা আমি ঠিকঠাকভাবে করতে পারি। তাই বলে যে টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রে পারি না তা কিন্তু নয়। আমি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি মঞ্চে। টেলিভিশনের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে যেভাবে ছড়িয়ে যাওয়া যায়, থিয়েটারের মাধ্যমে হয়তো সেভাবে পারছি না। আমরা বলি আমরা থিয়েটার করি সাধারণ মানুষের জন্য কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের কাছে কী পৌঁছতে পেরেছি! আগে মানুষজন থিয়েটার দেখতে আসত, এখন থিয়েটার দেখতে কেউ আসতে চায় না। আমাদের থিয়েটার নিয়ে সারা দেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়তে হবে। থিয়েটারই হতে পারে একটা দুর্দান্ত মাধ্যম। যে মানুষটাকে চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনে দেখা যাবে এমন কোনো বিষয় নয়। তাকে শুধু মঞ্চেই দেখা যায়। সেই চেতনাটা সাধারণ মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে। ঢাকার বাইরে শো করতে গেলে যেন মানুষ থিয়েটারের অভিনেতাটাকেই দেখতে ছুটে আসে। থিয়েটারের শিল্প মাধ্যমটা আমাদের জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। অবশ্যই আমরা টেলিভিশনে কাজ করব। টেলিভিশনে কাজ করাটা হচ্ছে আমাদের নিজেদের বিজ্ঞাপন। আমাদের মূল প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে থিয়েটার।

আনন্দধারা : কোনো প্রতিভা থাকলে তাকে দলের মধ্যে কুক্ষিগত করে রাখা হয়, বাইরে কাজ করতে দেয়া হয় না- সে রকম কিছু হয়েছে আপনার বেলায়?

রামিজ রাজু : থিয়েটারে প্রতিভা কুক্ষিগত করে  রাখার বিষয়ে আমি জানি না। তবে আমার দল আমার ক্ষেত্রে অনেক উদার। আমাদের দলের নিয়ম হচ্ছে দলে যদি কারো ১০ বছর অতিক্রম হয় তাহলে সে বাইরে অন্য দলে কাজ করার অনুমতি পাবে। তবে যে কোনো সময়ে দলের কাজের ক্ষতি না করে টেলিভিশন বা চলচ্চিত্রে কাজ করা নিয়ে দলের কোনো আপত্তি নেই। আমি মনে করি একজন নতুন সদস্যকে ন্যূনতম একটা লেভেল অতিক্রম করা উচিত। কারণ ১০ বছরে থিয়েটারের কিছু নিয়ম জানা যায়। কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে চলতে হয়। দলের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করলে আমরা তো নিজেদের দলকে প্রতিনিধিত্ব করি। এই বিষয়গুলো জানতে হলে তো একজনকে ন্যূনতম একটা সময় দলের সঙ্গে কাজ করতে হয়। কুক্ষিগত করে রাখা এমন কোনো বিষয় আমাদের দলে নেই। আমি কিন্তু এখন নিয়মিত দলের বাইরেও কাজ করছি। তবে দল একটা কথা সবসময় বলে, ‘একজন অভিনেতা বা থিয়েটারকর্মী হিসেবে নিজের কিংবা দলের সহযোগিতায় যেটুকু অবস্থান তৈরি হয়েছে, তার চেয়ে খারাপ কোনো কাজ যেন না করি। তাহলে দল হিসেবে আমরা অপমানিত বোধ করব।’ দল চায় আমরা ভালো কিছু না করলেও যেন সমমানের কাজ করি।

আনন্দধারা : অনেকে বলছেন রামিজ রাজুকে পরিপূর্ণভাবে মঞ্চে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

রামিজ রাজু : থিয়েটারের নেপথ্যে আসলে অনেক কিছু করতে হয়। কিন্তু সব কাজের মধ্যে একজন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠে। আমাকে যদি দু’জন মানুষ চেনে, সেটা অভিনেতা হিসেবে। অভিনেতা হিসেবে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, আবার সুবিধা আছে। আমাকে অভিনয়ে নিলে কিছু বিষয়গুলো পাওয়া যাবে সেটা আমার দলপ্রধান মনে করেন। একজন নির্দেশকের চিন্তাভাবনা একেকরকম। বাইরের কেউ হয়তো ভাবতে পারে ওর ভেতরে আরো অন্য জিনিস আছে। সেই জিনিসগুলো কেউ ব্যবহার করেনি। আমার তো রাস্তা, দরজা-জানালা খোলা। আমি এখন প্রাঙ্গণেমোরের রামিজ রাজু। আমি বাংলাদেশে থিয়েটারের একজন হয়ে কাজ করে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমার দল আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং আরো দেবে বলে বিশ্বাস। আমার ওই শ্রদ্ধেয় নির্দেশকদের কাছে প্রত্যাশা, তারা যদি ভেবে থাকেন আমাকে পরিপূর্ণ ব্যবহার করা হয়নি, আমাকে নিয়ে তারা যদি কাজ করেন, আমি বিশ্বাস করি আমিও নিজেকে নতুন করে চিনতে পারব এবং দর্শক নতুন রামিজ রাজুকে পাবে। আমি তো অভিনেতা। আমি ব্যবহৃত হতে চাই নানাভাবে, নানা রঙে, নানা রূপে। সেটা থেকে আমাকে বা দর্শককে যেন বঞ্চিত না করে এবং নির্দেশক হিসেবে তিনিও বঞ্চিত না হন।

আনন্দধারা : অনেকেই বলে মঞ্চ শিল্পীদের মধ্যে অহংবোধ কাজ করে সেটা কি আসলে সত্যিই?

রামিজ রাজু : যারা বলে আমি অনুরোধ করে বলতে চাই এই উত্তরটা অনেকের কাছে খারাপ লাগবে কিনা আমি জানি না। আমার কাছে শিল্পী মানেই অহংকারী মনে হয়। আমি যদি অহংকারী না হই, আমার কাজ নিয়ে যদি আমি গর্ববোধ না করি, তাহলে অন্য কেউ আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করবে না। আমরা থিয়েটারে অসাধ্যকে সাধন করে চলেছি। কারণ আমরা বিনা পয়সায় শ্রম দিই। অন্য কোনো মাধ্যমে মানুষ এভাবে বিনা পয়সায় শ্রম দেয় না। থিয়েটার করাতে তো আমার অবশ্যই অহংকার আছে। কারণ আমরা পারি আর কেউ পারেন না। তবে হ্যাঁ, এটাও সত্য মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ-এর ন্যায়। শিল্পীর অহংকার থাকবে এটা স্বাভাবিক। আবার আমি শিল্পী বলেই আমি নতজানু হই। দুটোই সত্য। আমি অহংকারী, আমি বিনয়ী। টেলিভিশনে বা চলচ্চিত্রে যারা কাজ করেন, তারা হয়তো থিয়েটার মানুষের স্ট্রাগলটা পুরোপুরি রিড করতে পারেন না। তারা ভাবেন যেহেতু থিয়েটারের মানুষরা ২৪ ঘণ্টা বিনা পয়সায় কাজ করে, তারা আমার এখানে এসেও বিনা পয়সায় কাজ করবে। যখন খুব ছোট একটি চরিত্রে একজন খুব ভালো অভিনেতা দরকার কিন্তু পয়সা দিতে পারবে না, তখন থিয়েটার থেকে ছেলেমেয়ে খোঁজে। সেই জায়গায় একজন থিয়েটারের মানুষ অহংকারী হয়ে ওঠে যে, আমাকে চাইলেই পাওয়া যাবে না। এখন যদি প্রশ্ন ছুড়ে দিই, থিয়েটারের শিল্পী হিসেবে আমার কি অহংকারী হওয়ার কোনো অধিকার নেই?

আনন্দধারা : মঞ্চ শিল্পীদের ভিজ্যুয়ালি ঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না অনেকেই বলে থাকেন। আপনারও কি তাই মনে হয়?

রামিজ রাজু : অভিনেতা হিসেবে সব ধরনের অভিনয় আমরা করতে পছন্দ করি। কিন্তু টেলিভিশন বা ফিল্মে কাজ করতে গেলে চরিত্রাভিনেতা বা কেন্দ্রীয় চরিত্র একটা ব্যাপার চলে আসে। ভিজ্যুয়ালি আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারীতে গুরুত্ব দেয়া হয়। আমরা ছোটবেলায় বলতে শুনেছি নায়কের মতো চেহারা। আসলে চেহারাটা নায়কের মতোই হতে হয়। অনেক ডিরেক্টর আছেন যারা গল্পকে প্রাধান্য দেন আবার অনেকে আছে অভিনয়টাকে বেশি প্রাধান্য দেন। যিনি সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেন, তিনি সৌন্দর্যটাকে নেবেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমি মনে করি থিয়েটারের শিল্পীরা অভিনয় দিয়ে যেকোনো চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলেন। যেটা আমরা ফরীদি ভাইকে দেখে বুঝতে পারি।

আনন্দধারা : দীর্ঘ এ পথচলায় কী কী প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে?

রামিজ রাজু : আমার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা মনে হয় আমার পড়াশোনা। আমি মনে করতাম অভিনেতা হতে গেলে শুধু অভিনয়টা ঠিকঠাক জানলেই হয়। এখন মনে হচ্ছে পড়াশোনাটা অনেক করতে হয়। আমার জীবনে যতটুকু পড়াশোনা, ঠিক ততটুকু দিয়েই অভিনয়টা করছি। আমার চর্চাটা পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাহ্যিক পড়াশোনার চর্চাটা থাকলেও এখনো মনে হয় আরো অনেক বেশি পড়তে হবে। এখন আর আগের মতো মনোযোগ ধরে রাখতে পারি না। তখন খুব আফসোস হয় যখন অনেক বড় বড় অভিনেতার সঙ্গে কথা বলি মনে হয় কোনো চরিত্র নিয়ে তো এভাবে আমি ভাবতে পারিনি। আমার জানাশোনার সংকীর্ণতা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি বড় প্রতিবন্ধকতা মনে হয়। যে কোনো মাধ্যমেই অভিনয় কিংবা থিয়েটার করতে হলে প্রচুর পড়তে হবে বলে আমার মনে হয়। আর সঙ্গে ভালো মানুষও হতে হবে।

আনন্দধারা : বর্তমান মঞ্চের অবস্থা কেমন মনে হয় আপনার?

রামিজ রাজু : আমি সন্তুষ্ট নই। আমি একটি প্রযোজনায় অভিনয় করলাম, সেটি ৫০ বার মঞ্চায়নের মাধ্যমে ক’জন দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারব! তার মানে আমি কোথাও অবস্থান করি না। দেশের মোট জনসংখ্যার কথা চিন্তা করে কীভাবে সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারব। আমরা নির্দিষ্ট এক জায়গায় সীমাবদ্ধ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় হলেও আমাদের হলের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি আমাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চায়নের সুযোগ হলে আমাদের দর্শক সংখ্যা বাড়বে। দর্শক একজন অভিনেতাকে টেলিভিশনে দেখেছে, তখন হয়তো মঞ্চে এসে তাকে দেখার আনন্দ দর্শক পাবে। এই জায়গাগুলোতে ব্যর্থ বলেই আমি সন্তুষ্ট নই।

আনন্দধারা : আমাদের মঞ্চে যে ধরনের নাটক মঞ্চায়িত হয় সেই নাটকগুলো কি মানসম্মত বলে আপনি মনে করেন?

রামিজ রাজু : আমাদের এখানে মানসম্মত প্রযোজনা হচ্ছে না। কিন্তু শিল্পের কখনো চূড়ান্ত বলে কিছু নেই। সব কথার মূল হচ্ছে কাজ হওয়া উচিত। যত বেশি কাজ হবে, তখন মানহীন কাজ হবে, ভালো কাজও হবে। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত চলচ্চিত্র হচ্ছে। সব চলচ্চিত্র কি মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তাই বলে কি চলচ্চিত্র নির্মাণ হবে না। কোনো শিল্প আসলে খারাপ হয় না। হয়তো মানের জায়গায় এদিক-সেদিক, উচ্চমান-নিম্নমান হয়। তবে বেশিরভাগ কাজ যেন নিম্নামান না হয়ে যায়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। এখন আমরা বলছি নিম্নমান! নিম্নমান কাজ হওয়ার পেছনে আমাদের নিজেদের দায় রয়েছে। আমরা এখন নিজেরা একধরনের মান নির্ণয় করে ফেলি যে এই দল ভালো করে ওই দল ভালো করে না। এখন যে দল ভালো কাজ করে না, সে দলের কেউ যদি আমার কাছে এসে বলে তার দলের নাটকের লাইটটা করে দিতে হবে। তখন কিন্তু আমি রাজি হব না। কারণ সে নিম্নমানের কাজ করে। এখন সে যদি ভালো লোকদের সঙ্গে কাজ না করতে পারে, সে কীভাবে ভালো কাজটা করবে। তাছাড়া কারো নাটক যদি ভালো না লাগে, তখন মুখের ওপর বলি নাটক ভালো হয়েছে। কিন্তু বাইরে এসে সমালোচনা করি। এমন না করে তার পজিটিভ ১০টা গুণ বলে খারাপ দিকগুলো ফেসবুক বা পত্রিকায় না লিখে পার্সোনালি ধরিয়ে দেয়া উচিত। তাছাড়া সাহিত্যের মান নির্ণয় কীভাবে করা হয় আমার জানা নেই। আমি মনে করি ভালো কাজ করার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

ছবি : শেখ মেহেদী মোরশেদ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।