শিল্পীর জন্য সাধনাটাই মুখ্য

মঞ্চাভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা। কহে বীরঙ্গনা, হ্যাপি ডেজ নাটকে একক অভিনয় করেছেন তিনি।। মাত্র ১২ বছর বয়সে অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল তার। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন সদ্য প্রযোজিত ‘ও মন পাহিয়া’ নাটক নিয়ে। তার বর্তমান ব্যস্ততাসহ আরো নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে।

আনন্দধারা : বর্তমান কর্মব্যস্ততা কী নিয়ে?

জ্যোতি সিনহা : বর্তমানে আমাদের দলের নতুন প্রযোজনা ‘ও মন পাহিয়া’র নিয়মিত শো করছি। যেটি মোজাম্বিকের গল্পকার মিআ কোউতোর ছোটগল্প অবলম্বনে রচিত। এছাড়া আমাদের আর একটি প্রযোজনা ‘হ্যাপি ডেজে’র শো করছি মাঝে মাঝে।

আনন্দধারা : মঞ্চনাটকের শুরুর গল্পটা?

জ্যোতি সিনহা : ১৯৯৬ সালে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা গ্রামে চলে যাই। তখন আমার বয়স ১২ বছর। সে সময় আমার দাদাদের একটা সামাজিক নাটক দেখি। তারপর মূলত অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। এরপর ১৯৯৭ সালের বিষু উৎসবে শুভাশিস সিনহার নির্দেশনা ‘আজবপুর বর্ষবরণ’ নাটকে রাজকুমারীর ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করি। এভাবে আমার অভিনয় যাত্রা শুরু হয়।

আনন্দধারা : অভিনয়শিল্পী হওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বাধার সম্মুখীন হয়েছেন?

জ্যোতি সিনহা : যে কোনো কাজ শুরুর সময়টাতে আশপাশের মানুষজন নিরুৎসাহিত করবে এটাই স্বাভাবিক। আস্তে আস্তে যখন আপনি আপনার স্বপ্নের জায়গায় পৌঁছে যাবেন। তখন তারাও তাদের জায়গা থেকে সরে আসবে। অভিনয় বা যেকোনো কাজে শৈল্পিক কাজে নিরুৎসাহিত করার হার অন্যান্য কাজের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি। আমি যখন অভিনয়ে পথচলা শুরু করি। তখন অনেকেই বলেছে মেয়ে মানুষের অভিনয় করার দরকার কী? এটা করে কী হবে? এ রকম হাজারো তীরছোড়া প্রশ্ন। কিন্তু যখন তারা দেখতে শুরু করল অভিনয়ের মাধ্যমে আমি সম্মান অর্জনের পাশাপাশি একটি জনগোষ্ঠীর বা জাতির পরিচয়ও বহন করছি। তখন তো আমার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করল।

আনন্দধারা : আপনাদের দলের বেশিরভাগ নাটকে বাঙালি সংস্কৃতি থেকে মণিপুরি সংস্কৃতির বেশি বহিঃপ্রকাশের কারণ কী?

জ্যোতি সিনহা : এটাই স্বাভাবিক। আমরা মণিপুরি জনগোষ্ঠী, আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আমাদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই এর প্রভাবটা আমাদের কাজে বেশি পড়েছে। মণিপুরি সংস্কৃতির যেসব ক্ষেত্রে আমরা নাটকীয় গুণ পেয়েছি, সেগুলো আমরা মঞ্চে আনার তাগিদ অনুভব করেছি শুরু থেকেই। যেমন মণিপুরি সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ রাসলীলাসহ অন্যান্য উপাদানকে আমরা একটি সামাজিক ভিত্তি দেয়ার চেষ্টা করেছি মঞ্চে উপস্থাপন করার মাধ্যমে। এসবের ভেতর দিয়েই আমরা বাঙালি সংস্কৃতিরও বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছি। তাই আমাদের নাটকের মূল ভিত্তি মণিপুরি সংস্কৃতি হলেও এর মধ্যে বাংলার লোকসংস্কৃতি লুক্কায়িত থাকে।

আনন্দধারা : শুভাশিস সিনহার নির্দেশনার বাইরে অন্য কারো নির্দেশনায় কাজ করতে চান?

জ্যোতি সিনহা : দাদার নির্দেশনার বাইরে ২০১২ সালে লাকি ইনামের নির্দেশনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যদি জামিল স্যারের নির্দেশনা কখন অভিনয় করার সুযোগ পেতাম তাহলে ভালো লাগত।

আনন্দধারা : মঞ্চে আপনার প্রিয় শিল্পী কে?

জ্যোতি সিনহা : ফেরদৌসী মজুমদার ও শিমূল ইউসুফের কাজ আমাকে প্রথম হৃদয় স্পর্শ করে। ফেরদৌসী আপার কোকিলারা দেখার সৌভাগ্য আমারও এখনো হয়নি। কিন্তু এর নাম শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। ওইখান থেকে আমার স্বপ্ন ছিল আমিও এ রকম কাজ করব। এরপর শিমূল আপার ‘বিনোদিনী’ আমার জীবনের মোড় অভিনয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া বেবী আপা আর লাকি আপার কাজও আমাকে প্রভাবিত করেছে নানাভাবে।

আনন্দধারা : নতুন মঞ্চ অভিনয়শিল্পীদের উদ্দেশে কী বলতে চান?

জ্যোতি সিনহা : শিল্পীর জন্য সাধনাটাই মুখ্য। অভিনয়শিল্পী হতে গেলে তার বিকল্প নেই। মঞ্চে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সত্যিকারের অনুভূতি আর একাগ্রতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কারণ মঞ্চে ভুল করলে শোধরানোর কোনো সুযোগ নেই। আর দর্শক খুব চালাক, আপনার ভুল সহজেই ধরে ফেলবে। আপনি সত্যিকারের অনুভূতি ব্যবহার না করে ভান করেন, সেটাও তাদের চোখ থেকে ফাঁকি দিতে পারবেন না। নতুনদের এ বিষয়গুলোতে আমি জোর দিতে বলব।

অনুলিখন : রোমান শুভ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।