থিয়েটার সুযোগ দেয়ার জায়গা নয়

কিশোর বয়স থেকে সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত নির্দেশক ও অভিনেতা বাকার বকুল। বর্তমানে তাড়ুয়া নামে ওপেন প্ল্যাটফর্মে নিজ নির্দেশনায় ‘লেট মি আউট’ নাটকটি মঞ্চে এনেছেন তিনি। মঞ্চ নাটক নির্দেশনায় সফল এ নির্দেশক কাজ করছেন দেশের অন্যতম নাট্যদল প্রাট্যনাটের সঙ্গে। সংস্কৃতি অঙ্গনে নিজের পথচলার গল্পের পাশাপাশি থিয়েটারের অন্য আরো বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে।

আনন্দধারা : সংস্কৃতি অঙ্গনে আপনার পথচলা শুরু হয় কীভাবে?

বাকার বকুল : আমি ছোটবেলা থেকেই মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের এলাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতাম। ফরিদপুর থিয়েটারের মধ্য দিয়ে আমার থিয়েটারে আসা। ধীরে ধীরে থিয়েটারের প্রতি আমার একটা ভালোলাগা তৈরি হয়। সেটা যে খুব বুঝে শুনে তেমনটা নয়। থিয়েটার একটা শক্তিশালী শিল্প মাধ্যম। আর এই শিল্পের মধ্য দিয়ে খুব দ্রুত সামাজিক, রাজনৈতিক অনেক কথা বলা যায়। এ কারণেই থিয়েটার আমার ভালোলাগার বিষয় হয়ে ওঠে।

আনন্দধারা : বর্তমানে মঞ্চের অবস্থা কেমন মনে হয় আপনার?

বাকার বকুল : খুব গোলমেলে অবস্থা মনে হয়। আমাদের উপমহাদেশে একটা সমস্যা আছে। কারণ আমরা গ্রুপ থিয়েটার ফরমেটের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। এই গ্রুপ থিয়েটার চর্চায় একটা রাজনৈতিক বিষয় সবসময় ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আমাদের থিয়েটারে এক বৈচিত্র্যময় উন্নয়ন চলে আসে। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়, থিয়েটার, আরণ্যকের যে বৈশিষ্ট্য ছিল, আমার কাছে তা দুর্দান্ত আছে মনে হয়। আমরা কিন্তু দুর্দান্ত ভালো ভালো নাটক পেয়েছি, যার জন্য মনে হয়েছিল খুবই দারুণ একটা জায়গা ছিল। আমার মনে হয় এসব কিছু আমাদের সম্পদ হতে পারত। আমি গোলমেলে এই কারণে বলেছি, আমরা এই প্রজন্মে এসে কনফিউজড হয়ে পড়েছি। কিন্তু আমরা যারা নাটকের লোকজন, তারা ব্যক্তিগত গ্রুপের আইডোলজি নিয়ে বসে আছি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আরো একটা ভালো কাজ হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ড্রামা ডিপার্টমেন্ট চালু হয়ে যাওয়া। এখন এসে মনে হচ্ছে ড্রামা ডিপার্টমেন্টগুলো চালু হয়েছে ঠিকই। কিন্তু যে প্রডাকশন বা প্রডাক্টিভ রিসোর্স কিংবা ছেলেমেয়েগুলো বের হয়েছে বা হচ্ছে এসব কিছু থিয়েটারের জন্য কতটা ফলপ্রসূ। থিয়েটারের বেলায়ও ঠিক একই বিষয় মনে হচ্ছে।

আনন্দধারা : অনেকেই বলেন থিয়েটার একটি পারিবারিক সংগঠন। আপনার কী মনে হয়?

বাকার বকুল : আমার কাছে মনে হয় না। তবে কোনো কোনো জায়গায় কেউ আলাদাভাবে বলে থাকে। থিয়েটার কিন্তু অনেকগুলো মানুষ নিয়ে করতে হয়। আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে বলি। আমার স্ত্রী কিন্তু নাটক নিয়েই পড়াশোনা করেছেন। সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমি একটি নাটক নামাতে গিয়ে গ্রুপে যারা আছেন, সর্বশেষ শেয়ারিং এবং স্ট্রাগল কাঁধে নেয়ার জন্য কাছাকাছি একজন-দুজনকেই পাওয়া যায়। আমি একমত নই এ কারণে যে, প্রত্যেকেই কিন্তু নিজের যোগ্যতা দিয়েই কাজ করছে। প্রত্যেকেই তাদের কাজ দিয়ে প্রমাণিত। এখানে সুযোগ দিয়ে কাজ করানো হয়নি। থিয়েটার কিন্তু সুযোগ দেয়ার জায়গা নয়। দক্ষতা না থাকলে কোনো কিছুই হবে না। আমি যখন কাজ করেছি, আমার অধিকাংশ নাটকে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় আমার স্ত্রী হয়েছে। এখন যারা এসব বলে এটা ব্যক্তিগত কোনো কারণেই হতে পারে। তবে আমার মনে হয় এটাতে অনেক বেশি সাধুবাদ দেয়া উচিত। আমাদের কালচার যেভাবে তৈরি হয়েছে, যেখানে সংস্কৃতিচর্চার জন্য নারীর অনেক বেশি সংকট। যেখানে একজন নারীকে ওপেন স্পেস দেয়া হচ্ছে, সেখানে তার স্বামীকে আরো বেশি সাধুবাদ জানানো উচিত।

আনন্দধারা : আবার অনেকেই বলে থিয়েটার একনায়কতন্ত্র সংগঠন। দলপ্রধান যা চায় তা-ই। আপনার কী মনে হয়?

বাকার বকুল : বিষয়টা আসলে একদম একনায়কতন্ত্র নয়। থিয়েটার একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলে। লিডার তো একজন থাকে, যাকে আমরা অনুসরণ করি। এখন লিডার যদি খুব আনস্মার্ট এবং আনএডুকেটেড হয়, তখন একনায়কতন্ত্র বোঝা যায়। কিন্তু যখন স্মার্ট এবং এডুকেটেড হয়, তখন কিন্তু এটা গণতন্ত্র পর্যায়ে পড়ে। তখন যেকোনো কাজ আলাপ-আলোচনার মধ্যে হয়। যেকোনো জায়গায় কিছু করতে গেলে একজন লিডার প্রয়োজন। যেটা পরিবারেও থাকতে হয়। তবে আমাদের দেশে একনায়কতন্ত্র হয়ে যায় এটা সত্য। আমি মনে করি থিয়েটার করা মানে নাটক লেখা, অভিনয় করা এবং নির্দেশনা দেয়া। কিন্তু আমাদের থিয়েটার সর্বশেষ পর্যায়ে কারা চালায়। দেখা যায়, যে ছেলেটার ট্যালেন্ট রয়েছে তার কিন্তু একধরনের পাগলামি আছে। কারণ সে তো কাজ করতে চায় এবং কোনো শাসন মানে না। কিন্তু দেখা যায়, যে লোকটা কাজের জন্য খুব বেশি পারফেক্ট না  কিন্তু সিরিয়াসলি থিয়েটার বা সংগঠনটা করে। সংগঠন করার পর সে একটা দায়িত্ব নিয়ে নেয়। তারপর সে দায়িত্ব থেকে একজন ক্রিয়েটিভ মানুষকে হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করে। তখন কনফ্লিক্ট লেগে যায়। ক্রিয়েটিভ মানুষকে হ্যান্ডেল করার জন্য আরেকজন ক্রিয়েটিভ মানুষ দরকার। তা না হলে তখন ডিক্টেটরশিপ মনে হয়।

আনন্দধারা : মঞ্চের প্রতি তরুণদের অনাগ্রহ কেন?

বাকার বকুল : আমি যদি ঢাকার কথাই বলি, শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও কিছু মানুষ থিয়েটার করছে। সবকিছু উপেক্ষা করে যখন একটা ছেলে থিয়েটারে আসে, তারপর এই প্রতিযোগিতা এবং দুরাশার মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তখন বাস্তবতার সঙ্গে সবকিছু মিলিয়ে তার আগ্রহ হারিয়ে যায়। কারণ সবাই একটু আর্থিক সুবিধা পেতে চায়। এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে কিংবা ডিপার্টমেন্ট থেকে যারা বের হচ্ছে, তারা কিন্তু উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র পাচ্ছে না। সেখানে কিন্তু একটা বিশাল শূন্যতা রয়েছে। একটা ইয়ং ছেলে এত প্রতিকূলতার মাঝে কেন দীর্ঘসময় থিয়েটারে কাজ করবে! সে ভবিষ্যতে দেখবে কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে বিধ্বস্ত মানুষ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে তো এটাতে টাস্ট করে না। তবে এটা যদি প্রফেশনাল দিকে যেত, তাহলে হয়তো এমনটা হতো না। কিন্তু প্রফেশন আসবে কোথা থেকে! এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ দরকার আছে। হয়তো কিছু টাকা দিয়ে হেল্প করা হচ্ছে কিন্তু রাষ্ট্রের উচিত যে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে থিয়েটার করতে পারার দিকটাতে নজর দেয়া।

আনন্দধারা : মঞ্চে পেশাদারিত্ব ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে বলে কি মনে করেন?

বাকার বকুল : অনেকেই আশা করছে। কিন্তু আমি কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। পেশাদারিত্ব একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। যাতে থাকতে হবে জীবিকা নির্বাহের বিষয়। যেখানে শতকরা ২ ভাগ মানুষও থিয়েটার দেখেন না, সেখানে কী করে সম্ভব! তাছাড়া যদি কোনো কোম্পানি আসে, তখন সে তো তার বিজ্ঞাপন দেবে। তখন শিল্পের আর স্বাধীনতা থাকবে না। রাষ্ট্র যখন দেবে তখন রাষ্ট্রের বাইরে যাওয়া যাবে না। এতকিছুর মাঝেও শিল্পী যখন স্বাধীনভাবে কাজ করবেন, সেটা আবার পেশাদারিত্ব হয়ে উঠবে বলে মনে হয় না। কারণ পেশাদারিত্ব আনতে গেলে এ প্রক্রিয়াগুলো ভাঙতে হবে।

আনন্দধারা : নির্দেশনার পাশাপাশি অন্যান্য কাজ করতে গিয়ে আপনাকে কী কী প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে বা হচ্ছে?

বাকার বকুল : স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়। এ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এখন যদি আমরা ছোট করে ওপেন প্ল্যাটফর্মে একটা নাটক নামাতে চাই। অর্থের সমস্যা যদিও বড় কিন্তু সেটা ব্যবস্থা করা গেলেও যে সিস্টেম সিন্ডিকেট আছে, সেটা ভাঙা কঠিন। এখন আমার যদি এক মাসের জন্য মহড়া কক্ষ লাগে সেটা আমি কোথায় পাব। নতুন একটা ছেলে ভালো কাজ করলে ওর জন্য সব মাধ্যম খুলে দেয়া উচিত কিন্তু সেটা সম্ভব না। কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলে তখন সবকিছুই পাওয়া সম্ভব আর যদি সম্পর্ক না থাকে ভালো কাজ করেও কেউ সামনে আসতে পারবে না। আমি যদি শিল্পকলায় পাঁচদিন না যাই, ফোনে যোগাযোগ কিংবা ভাই ভাই করতে না পারি, তাহলে আমিও পাব না। কারণ কোয়ালিটির চেয়ে আজ তাঁবেদারি করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি আমাদের গ্রুপ থিয়েটার একই জিনিস করছে। যারা লিয়াজোঁ মেইনটেইন করতে পারে, তারা অনেক কাজ করছে। যারা পারে না তাদের অনেক হতাশা আর নানা সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। একটা হল বরাদ্দের জন্য অন্তত পাঁচজনকে ফোন দিতে হয়। হয়তো কখনো দেয় কিন্তু যেদিন চাওয়া হয় সেদিন পাওয়া তো খুবই দুষ্কর। এটি একটি বিশাল প্রতিবন্ধকতা। তবে আমার কাছে মনে হয় চিন্তার ক্ষেত্রে, স্ক্রিপ্ট বা কনটেন্টের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। কিন্তু অনেকে আবার লেখালেখিতে অনেকভাবে চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সিন্ডিকেট বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আমার মনে হয়।

আনন্দধারা : জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত অনেক নাটকের মানই প্রশ্নবিদ্ধ। এর কারণ কী?

বাকার বকুল : এই বিষয়ে ফেডারেশনের বোর্ড তাদের প্রমোট করছে। আমি বলছি না যে,  নতুন কাজ করছে বা খারাপ করছে তাকে হল দেবে না। তবে যারা ভালো কাজ করে, তাদের হল দেয়া উচিত। আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি যে আপনারা নাটক দেখে হল দেন। সৈয়দ জামিল আহমেদ-এর দলকে অনেকদিন হল দেয়ার কারণে অনেকেই অনেক কথা বলেছে। সৈয়দ জামিল আহমেদ প্রমাণিত মানুষ। তিনি কী ধরনের কাজ করেন সেটা আগেই প্রমাণ করেছেন। তিনি প্রায় ২০ বছর পর একটি প্রযোজনায় হাত দিয়েছেন, সেখানে আমরা কয়েকদিন কাজ না করলে কিছুই আসবে-যাবে না। আজাদ আবুল কালাম যদি এখন ২০ দিনের জন্য হল চায়, তাকে অবশ্যই হল দেয়া উচিত। কারণ তিনি তার কাজ দিয়ে প্রমাণিত। শুভাশিস, সুদীপ তারা যদি কোনো কারণে উৎসব করতে হল চায় তাহলে অবশ্যই তাদের হল দেয়া উচিত। কারণ তারা তাদের কাজ দিয়ে প্রমাণিত। যেহেতু তিনটা হল আছে, কোনো না কোনো একটা হলকে নির্দিষ্ট করা উচিত, যেখানে সবাই জানবে যে এই হলের নাটকগুলো মানসম্মত। এখন যদি আমি নাটকের মানের কথা বলি আসলে কে মান নির্ণয় করবে! যে মানুষটা হল দেয় বা যে সংকটগুলো নিয়ে কথা বললাম দেখা গেল মান নির্ণয়ে রয়েছে সেই মানুষটিই। তখন তার কাছে মানসম্মত নাটক তো ওইগুলোকেই মনে হবে যে নাটকগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সর্বোপরি শিল্পীর কাছে ভালোর হিসাব তো একটু অন্যরকম। সে বিচারটা করার জন্য আধুনিক মানুষ থাকতে হবে। শিল্পের জন্য উদার মানসিকতা থাকতে হবে। থিয়েটার ব্যাপারটা হচ্ছে অনেক খোলা। তাই স্বাধীনভাবে থিয়েটারের দ্বারটা খুলে দেয়া উচিত।

আনন্দধারা : মঞ্চ নাটকের দর্শক সংকটের কারণ কী মনে হয় আপনার?

বাকার বকুল : দর্শক নেই এ কথাটার সঙ্গে আমি একেবারে একমত নই। ভালো নাটক হলে আমরা দর্শক দেখি। আবার এটাও সত্য, কী পরিমাণ মানুষ দর্শক হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি থিয়েটারের জন্য। সব মানুষ থিয়েটার দেখতে আসবে বা চিত্র প্রদর্শনী দেখতে যাবে, তা ভাবা ঠিক নয়। এটার একটা লেভেল আছে। থিয়েটারের মতো একটা আর্ট দেখতে যাওয়ার জন্য পরিবার থেকে এক ধরনের প্রস্তুতি শুরু হতে থাকে। সেই মানুষগুলোই এখানে আসতে চায় যে মনে করে থিয়েটার দেখাটা তার জীবনের অংশ। থিয়েটার দেখে তার মনোজগতের একটা উন্নতি করতে পারে। কিংবা এটা তার বিনোদনের অংশ। থিয়েটার দেখতেই হবে! রাষ্ট্রীয়ভাবে সেরকম কতটা পরিবার আমরা তৈরি করতে পেরেছি! তার মধ্যেও ভালো নাটকের দর্শক হয়। প্রচুর অপরিচিত দর্শককে আমরা দেখি যে হুমড়ি খেয়ে নাটক দেখে। তারপর হয়তো একটা সময় গিয়ে দর্শক কমতে থাকে। তখন আমরা বুঝতে পারি ঢাকা শহরে থিয়েটারের দর্শক কতটা আছে। যদি সামগ্রিকভাবে চিন্তা করি, তাহলে থিয়েটার দেখার মতো সেই লেভেলের মানুষ তৈরি হয়নি। তাছাড়া আমরা ঢাকা শহরে যেখানে নাটক করছি, তা দর্শক আসার জন্য কতটা সুবিধাজনক সেটা একটা বিষয়। আমাদের মঞ্চ নাটকের দর্শক আছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়তো সে কানেক্ট করতে পারে না।

আনন্দধারা : থিয়েটারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে কী বলবেন?

বাকার বকুল : বিভিন্ন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে থিয়েটার বিভিন্ন বাঁক নিয়েছে। আমার মনে হয় থিয়েটার বেঁচে থাকবে তার নিজস্ব শক্তিতে। এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টগুলো যেহেতু দাঁড়িয়ে আছে। থিয়েটারও কোনো না কোনোভাবে আবার রূপ পরিবর্তন করে হলেও দাঁড়িয়ে থাকবে। তবে থিয়েটার আপন গতিতে চলার কারণ নেই। শুরু থেকে ব্যক্তিগত গোঁয়ার্তুমিতে চলে আসছে। ব্যক্তিগত গোঁয়ার্তুমি যতদিন থাকবে, তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ কতদূর যাবে। সবচেয়ে বড় সুযোগ আমাদের জন্য ছিল বর্তমান সরকার। সেখানে আমাদের থিয়েটারের জায়গাটা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের মন্ত্রণালয় কিংবা শিল্পকলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা থিয়েটারকে দুর্দান্ত জায়গায় নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমার স্বপ্ন আছে ব্ল্যাকবক্সের মতো ছোট্ট একটি স্টুডিও করার। যদিও ঢাকা শহরে এটা অলীক কল্পনা।

ছবি : শেখ মেহেদী মোরশেদ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।