নীলাদ্রির অপরূপ সৌন্দর্য

মাত্র ১ দিনে (শিমুলবাগান-জাদুকাটা নদী-বারেকটিলা-নীলাদ্রি লেক-লাইমস্টোন-চুনা পাথরের লেক-শাহ আরেফিনের মাজার-লাউয়াছড়া ঝরনা-টাঙ্গুয়ার হাওর-হাছন রাজা জমিদার বাড়ি) ঘুরে এলাম।

ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক বসন্ত আসবেই। চারিদিকে শিমুলবাগানের কথা শুনে আর ছবি দেখে আমরা ডিসিশন নেই শিমুলবাগান যাব বটে কিন্তু আমাদের প্ল্যান ছিল আরেকটু বড়। সুনামগঞ্জের সবগুলো স্পট ঘুরে দেখা। নিচে আমরা যেই রুট ধরে গিয়েছি সেটা দেয়া হলো।

রাতের বাসে কমলাপুর থেকে চলে যাবেন সুনামগঞ্জ। আমরা শ্যামলীর টিকিট নিয়েছিলাম ৫৫০ টাকায়। সিট পেতে হলে অবশ্যই কষ্ট করে ২-১ দিন আগে গিয়ে টিকিট কেটে আনতে হবে। অনলাইনেও টিকিট কাটা যায়। ভোরবেলা নামিয়ে দেবে সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডের অপর পাশেই হোটেল রোজ গার্ডেন। সেখানে ফ্রেশ হয়ে খেয়ে আমরা বেরিয়ে পড়ি।

অটোতে করে নতুন ব্রিজ যাবেন ভাড়া ১০ টাকা। সুনামগঞ্জ নেমে নতুন ব্রিজের ওই পাড়ে মোটরবাইক দাঁড়িয়ে থাকে অনেক। কথা বলে শিমুলবাগান হয়ে বারেক টিলা। ভাড়া নেবে ২০০ টাকা। দু’জন চড়া যায়। জনপ্রতি তাহলে পড়ল ১০০ টাকা করে। পথের মাঝেই পড়বে জাদুকাটা নদী। ১০ টাকা দিয়ে খেয়া অতিক্রম করে ওইপারে গেলেই কিছুদূর পরে পড়বে শিমুলবাগান। সেখানে ঘণ্টাখানেক থেকে ছবি তুলে আমরা ওই বাইকে করে চলে যাই বারেক টিলা, যা থেকে পুরো জাদুকাটা নদীর সৌন্দর্য দেখা যায়। পাশেই সীমান্ত। বারেক টিলার অপর পাশে মেঘালয়ের অপরূপ রূপ, যেটা খুব সকালে না গেলে পাওয়া যায় না।

হেঁটে হেঁটে ঘুরে ও ছবি তুলে আবার বারেক টিলার সামনে থেকে মোটরবাইক নিয়ে আমরা আবার রওনা দিই। এবারের গন্তব্য শাহ আরেফিনের পাহাড়। পাহাড়ের অপর পাড়েই ঝরনা (ঝরনাটা ইন্ডিয়ার ভেতর)। এরপর বাইক নিয়ে নীলাদ্রি লেক, টেকেরঘাট চুনাপাথরের নদী আর লাইমস্টোনের পাহাড়। নীলাদ্রির অপরূপ সৌন্দর্য আপনাদের মুগ্ধ করবে। চাইলে আপনারা সেখানে গোসলও করতে পারবেন। নৌকায়ও ঘুরতে পারবেন। আমরা নৌকায় ঘুরেছিলাম (ভাড়া ঘণ্টায় ৫০-১০০ টাকা)। এখানে একটা শহীদ মিনার আছে, আর আছে ব্রিটিশ আমলের একটা রেললাইন।

এরপরই আমরা চলে গেলাম লাকমাছড়া ঝরনা। সেখানে ঘুরে আমরা এলাকার একটা বাজারে দুপুরের খাবার খেলাম। বেলা তখন ১টা, এরপর শুরু হলো টাঙ্গুয়ার হাওরের দিকে যাত্রা। ১০০০ টাকা দিয়ে বাইক ভাড়া করলাম টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়া ও আসা। ওইখান থেকে শিমুলবাগান যাওয়া ও ঘণ্টাখানেক থাকা (বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য)। তারপর ওইখান থেকে জাদুকাটা নদী পার হয়ে সুনামগঞ্জ নতুন ব্রিজে আসা। আমরা বেলা ২টায় হাওরে পৌঁছলাম (আমরা শর্টকার্ট ব্যবহার করেছি, তাই রাস্তা অনেক খারাপ ছিল। শুধু বাইক যায় এমন রাস্তা)।

হাওরে এখন পানি নেই। তাই আপনারা চাইলে শুধু পাখি দেখার জন্য যেতে পারেন। এখন প্রচুর অতিথি পাখি আছে। পানি কম থাকলেও পাখি দেখে মন ভরবে। কিন্তু কাদার মাঝ দিয়ে হাঁটার অভ্যাস না থাকলে না যাওয়াই ভালো।

পাখি দেখতে দেখতে বিকাল ৪টা বাজল। আমরা আবার রওনা দিলাম শিমুলবাগানের উদ্দেশে। রাস্তা এবার আরো খারাপ। বিকাল সাড়ে ৪টা আমরা পৌঁছলাম শিমুলবাগানে। এবার শিমুলবাগান আমাদের কাছে ধরা দিল অন্য রূপে। আমরা সেখানে সূর্যাস্ত দেখলাম। পাশেই আছে বাঁশবাগান, চাইলে সেখানেও ঘুরতে পারেন।

সন্ধ্যায় আমরা সেখান থেকে রওনা দিলাম সুনামগঞ্জ। সন্ধ্যা ৭টায় আমরা সুনামগঞ্জ পৌঁছলাম। সেখানে বিকালের নাশতা হিসেবে চা, চটপটি পাবেন। চাইলে ব্রিজে হেঁটে রাতের সুনামগঞ্জও উপভোগ করতে পারেন। সেখান থেকে চলে গেলাম হাছন রাজার বাড়ি (এইটা বাসস্ট্যান্ডের পাশেই)। সেখানে ঘুরে এসে আবার সেই রোজ গার্ডেনে রাতের খাবার খেয়ে রাতের শ্যামলী বাসে উঠলাম।

আমাদের টোটাল খরচ

বাস ভাড়া যাওয়া-আসা ২২০০/- ↣ সকালের নাশতা ১০০/- ↣ শিমুলবাগান, জাদুকাটা নদী, বারেক টিলা ২০০/- ↣ শাহ আরেফিনের ঝরনা, নীলাদ্রি, লাইমস্টোনের লেক, চুনাপাথরের লেক ১০০/- ↣ লাকমাছড়া ঝরনা ৪০/- ↣ টাঙ্গুয়ার হাওর, শিমুলবাগান, সুনামগঞ্জ ১০০০/- ↣ হাছন রাজার বাড়ি ২০/- ↣ রাতের খাবার ২০০ = প্রায় ৪০০০ /- এখানে আমাদের দু’জনের হিসাব দেয়া আছে। পার পারসন ২০০০/- এর বেশি লাগবে না।

(সুনামগঞ্জের মানুষ অনেক ভালো। তাদের সঙ্গে মিশুন, তারা আপনাকে মন খুলে সাহায্য করবে। তারা অনেক অতিথিপরায়ণ)

* চিপস/ বিস্কুট/চকোলেটের প্যাকেট, খালি পানির বোতল যেখানে-সেখানে ফেলে আসবেন না প্লিজ।

হ্যাপি ট্র্যাভেলিং...।

 

লেখক ও ছবি: ইশতিয়াক হোসাইন নির্মল

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।