আমার থিয়েটার জীবন অনেক স্ট্রাগলের

স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে থিয়েটারের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন গুণী শিল্পী লাকী ইনাম। থিয়েটার শুরুর গল্পের পাশাপাশি থিয়েটার জীবনের অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রজন্মের মঞ্চাভিনেত্রী জ্যোতি সিনহা। আনন্দধারার এই আয়োজনে তুলে ধরা হয়েছে তারই অংশ বিশেষ।

জ্যোতি সিনহা : থিয়েটারে প্রবেশের ইতিহাস জানতে চাই।

লাকী ইনাম : মুক্তিযুদ্ধের আগের বছর সত্তর সালে আমার হঠাৎ করে ১৪ ডিসেম্বর ইনামের সঙ্গে বিয়ে হয়ে গেল। এরপর ইনাম এত ব্যস্ত ছিল ঢাকায় আন্দোলনে, ট্রাকে ট্রাকে নাটক হচ্ছে, গাছের নিচে নাটক হচ্ছে এই সময়গুলোতে। তারপর যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল, যুদ্ধের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষপর্যন্ত আমি আর ইনাম একত্রে পরিবারসহ নবাবগঞ্জ ছিলাম। দেশ স্বাধীন হলে আমরা ঢাকা চলে এলাম। এরপর শুরু হলো আমার থিয়েটারের জীবন। ইনাম তখন বুয়েটে থাকত। আমার তখনো রিসেপশন হয়নি। একদিন বাবা আমাকে ওর ফ্ল্যাটের সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেল, লাঞ্চের পর আমি ওপরে তিনতলায় উঠে দেখি দরজার সামনে অনেকগুলো জুতা। বুঝলাম যে ভেতরে কোনো মহড়া হচ্ছে, কলিংবেল বাজালাম একটা ১৭-১৮ বছরের ছেলে জিজ্ঞেস করল, কাকে চান? ‘ইনাম আছেন?’ বলল, ‘আছে’, আমি বললাম ‘দেখা করা যাবে?’ বলল ‘না, দেখা করা যাবে না’, ‘কেন?’, ‘ভেতরে কাজ চলছে, মহড়া চলছে’, ‘আচ্ছা ঠিক আছে’। মনে হলো যে ওখানে ও-ই লিডার। কথা নেই বার্তা নেই আমি ঢুকলাম, নাগরিকের আতা ভাই, হায়াত ভাই, ফখরুল ইসলাম ভাই, গোলাম রব্বানি ভাইকে দেখলাম, ইনাম সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। ওরা বলল ‘সময় নষ্ট করা যাবে না, আমরা শুনেছি, তুমি নাচতে পার, গাইতে পার, নাও এটা পড়ো’ এরপর আতা ভাই আমাকে একটা স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিল। ওইদিনই আমার স্ক্রিপ্টের কিছু অংশ পড়ে শোনানোর পর বলল, আমাদের দলে কোনো মেয়ে নেই, তুমি আমাদের নতুন ও প্রথম নারী সদস্য, তাদের দলে আমি প্রথম মেয়ে। আমরা জুলাইতে  নাটক করলাম মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’। ব্যস, রিহার্সেল শুরু হয়ে গেল। বেশ প্রতিদিন মহড়া হচ্ছে, করতে করতে আমি আগ্রহ পেয়ে গেলাম, তারপর আমরা সতেরো এবং আঠারো জুলাই প্রথম শো মানে আমার মঞ্চে পা পড়ল জুলাই মাসে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এমন একটা স্পেস আমি আমার লাইফে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। ঠিক করলাম, আমাকে বাচিক শিল্পী হতে হবে, আমাকে নাটক করতে হবে, কেন জানি এমন একটা অদম্য আগ্রহ এবং আকাঙ্ক্ষাটা মিশে গেল। সেই থেকে শুরু, আজ অবধি সেই পথচলা অব্যাহত থেকেছে। অভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকেই আমি তখন চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে ইকোনমিক্সে অনার্স কমপ্লিট করেছি। পরবর্তী সময়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স করেছি।

জ্যোতি সিনহা : নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ে আপনার অভিনীত কিছু নাটকের নাম বলুন।

লাকী ইনাম : বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো, বাকি ইতিহাস, দেওয়ান গাজীর কিসসা, নুরুলদীনের সারা জীবন, গ্যালিলিও গ্যালিলিও, শাহজাহান, অচলায়তন, বিসর্জন, মুক্তধারা, মাইকেল মধুসূদন নাটকগুলো উল্লেখযোগ্য। হিম্মতির মা রিহার্সেল করছিলাম, আমি আর মঞ্চে আসতে পারিনি। আমি দল ছেড়ে চলে এসেছিলাম। ১৯৭৭ সাল থেকে একটানা ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কাজ করি, এর মধ্যে আমার দলের সঙ্গে দ্বিমত থাকায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল নাটক লেখা ও ডিরেকশন দেয়া; ওইখানে সে সুযোগ পাচ্ছিলাম না। ১৯৯৪ সালে আমি তো ডিক্লারেশন দিয়ে চলে এলাম, আমার সিদ্ধান্ত হলো আমি ডিরেকশন দেব অথবা ইনাম ডিরেকশন দেবে। আমি নাটক লিখব। ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম হলো নাগরিক নাট্যাঙ্গনের। প্রথম নাটক খোলস।

জ্যোতি সিনহা : নাগরিক নাট্যাঙ্গনে আপনার কাজের পরিমাণ কী রকম?

লাকী ইনাম : প্রায় সবগুলো ডিরেকশন দিয়েছি আমি, গত দুটি প্রযোজনায় হৃদি ডিরেকশন দিয়েছে। মোট ২৫টা নাটক, শেষ কাজটি হৃদি নির্দেশনা দিয়েছে।

জ্যোতি সিনহা : আপনি কার কার ডিরেকশনে কাজ করেছেন?

লাকী ইনাম : আতাউর রহমান, আলী যাকের, আবুল হায়াত, ইনাম, নূর ভাইয়ের ডিকেশনে কাজ করেছি। ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে ইংল্যান্ডের ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার স্যানফোর্ডের সঙ্গে কাজ করেছি।

জ্যোতি সিনহা : দলের বাইরে রেপার্টরি কাজ হিসেবে শিল্পকলা একাডেমির ‘বিদেহ’ নাট্যপ্রযোজনা ছাড়া আর কী নির্দেশনা দিয়েছেন?

লাকী ইনাম : আছে, বহু নাটক ডিরেকশন দিয়েছি। বুয়েট মহিলা ক্লাবে আমি পাঁচটা শিশুতোষ নাটক ডিরেকশন দিয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মহিলা ক্লাবে তিনটি নাটক করেছি, উদীচীতে একটা, ধানমন্ডি উইমেন্স ক্লাবে দুটো নাটক করেছি। এছাড়া আমি মহিলা পরিষদের ব্যানারে তিনটি নাটক করেছি। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুলতানার স্বপ্ন, সুদূরে দিগন্তে।

জ্যোতি সিনহা : আপনার লেখা নাটকের সংখ্যা কত?

লাকী ইনাম : নাটক আমার মৌলিক ও অনুবাদ সব মিলিয়ে ধরো ২৫টা।

জ্যোতি সিনহা : আপা, আপনি অনেক ডিরেক্টরের সঙ্গে কাজ করেছেন। জানতে চাইব কী ধরনের অভিনয় পদ্ধতি আপনি এদের কাছ থেকে পেয়েছেন? নিজের অভিনয় জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করেছেন? নিজে ডিরেকশনে কী পদ্ধতি অবলম্বন করেন?

লাকী ইনাম : আমি বলব, ডিরেকটোরিয়াল কাজ একেবারেই ব্যক্তিগত। একজন শিল্পী যখন ডিরেকশন দিতে যায়, সে তার স্টাইলেই পুরো ব্যাপারটা চিন্তা করে। আমার কাছে মনে হয়েছে যে একেকজনের প্যাটার্ন একেকরকম। কেউ হয়তো রিডিং বেশি পড়ায়, কেউ হয়তো রিডিংয়ের সময় মুখস্থ করে ফেলে, কেউ হয়তো আর্টিস্টকে স্বাধীনতা দেয়, অনেকে হয়তো প্রথম দিকে মুখস্থ না করিয়ে শুরু করে দেয় ব্লকিং, বাইরের ডিরেক্টরের কাজ একদম অন্যরকম। ক্রিস্টোফার আগে আমাদের কণ্ঠের কাজ প্র্যাকটিস করাতেন, আমাদের বিভিন্ন রকমের কোরিওগ্রাফির কাজ করিয়েছে, বিভিন্ন বডি ল্যাঙ্গুয়েজের কাজ করিয়েছে, বডির জড়তা কাটানোর পর উনি টেক্সটে এসেছেন। আমার স্টাইল আবার অন্যরকম, আমি যেহেতু একটা ইনস্টিটিউশন চালাই, এখানে শরীরের ভাষা আসতে হবে। বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা যদি চলে আসে একজন পারফরমার মঞ্চে দৌড়াতে, লাফাত, গড়াগড়ি, ডিগবাজি, গান, নৃত্যভঙ্গি করতে পারে; এগুলো যখন তার এসে যায় তখন তার টেক্সটটা ইজি। তখন এ দুটোর মধ্যে একটা সুতো বেঁধে দেয়ার কাজ করতে হবে। আমি অনেকটা এভাবে কাজ করি। আমাকে কোরিওগ্রাফি, নাচ, কণ্ঠ, গান, মিউজিক সবকিছুর মধ্য দিয়েই টেক্সটটার কাজ করতে হয়। আমার কাছে ভালোও লাগে। আমি খুব ইজি ফিল করি, আমার সঙ্গে যারা কাজ করে তারাও ইজি ফিল করে।

জ্যোতি সিনহা : নাটক নিয়ে দেশের বাইরে কোথায় কোথায় যাওয়া হয়েছে?

লাকী ইনাম : নাটক নিয়ে বেশি ভারতেই যাওয়া হয়েছে। ভারতের কলকাতা, ত্রিপুরা, মুর্শিদাবাদ, আসাম গেছি, এছাড়া ইংল্যান্ড গেছি। ব্যক্তিগতভাবে নাট্যপ্রতিনিধি হিসেবে আমি রাশিয়াতে গেছি, আমি সেখানে ১০ দিনের একটা ট্যুর করেছিলাম। শুধু নাটক দেখা, তাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। আমার আরেকটি কাজ ছিল, ওয়াশিংটন টাইমস বলে আমেরিকার খুব নামকরা একটি পত্রিকা মাসব্যাপী একটি কর্মশালার আয়োজন করে, সেখানে আমি আমন্ত্রণ পেয়ে একমাস সেখানে কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলাম, আমার অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা সেখানে শেয়ার করতে পেরেছিলাম। এছাড়া, লন্ডনে ‘দ্য টেগোরিয়ানস’ নামে একটি দল ছিল, রবীন্দ্রনাথের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। রবীন্দ্রনাথের চারটি নাটক নিয়ে একটি কোলাজ তৈরি করে আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমার সঙ্গে আতা ভাই, হায়াত ভাই, নিমা, খালেদ খান এবং সেট, লাইটের জন্য জামিল আহমেদ গিয়েছিলেন।

জ্যোতি সিনহা : তরুণ প্রজন্মের কাজ নিয়ে কিছু বলুন।

লাকী ইনাম : তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি বরাবরই উৎসাহী, ২০০৫ থেকে ওদের নিয়ে প্রচুর কাজ করেছি তবে আফসোস আছে, নিজের চোখের সামনে দেখা অনেক কিছুই আমাকে হতাশ করে। কেউ ফুলটাইম থিয়েটার করছে না, প্রত্যেকেই থিয়েটার থেকে দূরে সরে গেছে। সবাই ভীষণ নিজেদের ব্যক্তিগত পেশায় এত ব্যস্ত হয়ে পড়ছে যে থিয়েটারে কেউ সময়টা দিচ্ছে না। আর থিয়েটার এমন একটা জায়গা, সেখানে সময় খুব ডিজার্ব করে। চট করে কোনোকিছুর সিদ্ধান্ত তুমি নিতে পারবে না। এখানে তৈরির একটি প্রক্রিয়া আছে, একটা ধারা আছে এটা কিন্তু অনুসরণ করতে হয়। আমরাই যারা একসঙ্গে শুরু করেছিলাম, তারা একসময় থিয়েটার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলতে পারো। তবে করা উচিত আমি মনে করি। আমাদের সময়ে আমি, ফেরদৌসী আপা, বেবী, সারা, শিমূলের কাজ পরবর্তীকালে মোমেনারা করছে।

জ্যোতি সিনহা : থিয়েটারের ক্ষেত্রে একাডেমিক জায়গা এবং গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মধ্যকার মূল্যায়ন আপনি কীভাবে করবেন?

লাকী ইনাম : দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। একাডেমিক জায়গা আর গ্রুপের জায়গা দুটো ভিন্ন ক্ষেত্র, একাডেমিক বিষয়টি পেশার সঙ্গে জড়িত। ওরা একটা নির্ধারিত জায়গায় দাঁড়িয়ে একমুখীনভাবে কাজ করছে। কিন্তু আমরা যারা গ্রুপ করছি, তারা পেশার বাইরে এটা করছি, তাই এটা অনেক কঠিন ও ব্যাপৃত। এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা যাতে থিয়েটার করতে পারে, সেটা দেখবে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। তাদের সুবিধা-অসুবিধা, রাষ্ট্রে তাদের অবস্থান, ভূমিকা, সমস্যা, অধিকার ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে কাজ করবে এই গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। এটা অনেকাংশেই রাজনৈতিক বিষয়ও বটে। এখন অনেকে থিয়েটারে আগ্রহ পাচ্ছে না কিন্তু সংস্কৃতিকে ঋদ্ধ করতে অবশ্যই ফুলটাইম থিয়েটারশিল্পীর দরকার। ফুলটাইম করার জন্য ফেডারেশনকে নতুন প্রজন্ম নিয়ে অনেক কিছু ভাবতে হবে। বাংলাদেশের যে সীমিত সম্পদ, তার ব্যবহার নিয়ে ভাবতে হবে, হল নিয়ে ভাবতে হবে, দর্শক তৈরি করা নিয়ে ভাবতে হবে, শিল্পীদের প্রফেশনালিজম তৈরি করতে হবে, থিয়েটার বোদ্ধাদের ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে, মেধাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারকে আরো সংস্কৃতিবান্ধব করার ক্ষেত্রে মোটিভেট করতে হবে।

জ্যোতি সিনহা : বর্তমানে আপনি গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আছেন। এছাড়াও আরো একটি গুরুদায়িত্ব আপনার হাতে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এছাড়া নিজের দল, প্রতিষ্ঠান সামলাচ্ছেন, সমন্বয় কীভাবে করছেন। সামনের পরিকল্পনা কী?

লাকী ইনাম : আমার থিয়েটার জীবন অনেক স্ট্রাগলের, অনেকে মুখে সোনার চামচ নিয়ে জন্মেছে। আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। প্রথমে একটা দলে কাজ করেছি, সেখানে অনেক বছর ঘাত-প্রতিঘাত সয়ে নিজে একটি দল গঠন করেছি, দলটিকে চালিয়ে নিচ্ছি, এখনকার ফেডারেশনের পদে থেকে সারা বাংলাদেশের থিয়েটার দলগুলোর সঙ্গে আমাদের যুক্ততা আরো বাড়বে বলে মনে করি। আর শিশু একাডেমি নিয়ে বলতে চাই, আমি সবসময় শিশু নিয়ে আগ্রহী। আমার স্কুলেও শিশু শাখা রয়েছে। শিশুদের যদি আমরা শিল্পে-সংস্কৃতিতে গড়ে তুলতে না পারি, তাদের হৃদয়ে যদি আমরা সংস্কৃতির বীজ বুনে দিতে না পারি বড় হয়ে তারা ক্ষণস্থায়ী শিল্পচর্চা করবে। তাই শেকড়ের গ্রোথিত চর্চাটা শিশুকালেই দিয়ে দিতে হয়। এখন আমার মূল লক্ষ্য কিছু শিশু উপযোগী প্রকাশনা তৈরি করা। ছড়া, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক ইত্যাদি বই আকারে প্রকাশ করা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে যাতে পড়তে পারে শিশু একাডেমিতে আমি প্রকাশনা বিভাগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছি, যেখানে থাকবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাঙালি তথা বাংলাদেশের সংস্কৃতি। আর সবকিছু সমন্বয় করতে আমার খুব একটা অসুবিধা হয় না। যদিও ব্যস্ততা বেশি, তবু এগুলো সব শিল্প-সংস্কৃতিরই কাজ।

জ্যোতি সিনহা : বর্তমান প্রজন্মে নির্দেশনার কাজ কেমন লাগে?

লাকী ইনাম : নতুনদের নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। ভালো ভালো কাজ করছে নতুনরা যেমন পাভেল (আজাদ আবুল কালাম), ইউসুফ হাসান অর্ক, সুদীপ চক্রবর্তী, বাকার বকুল, আইরিন পারভীন লোপা, হৃদি, আমাদের গ্রুপে হাবিব বাহার অনেকেই ভালো কাজ করছে, আরো করবে এবং আমাদের সেই জায়গাটা ছেড়ে দিতে হবে।

জ্যোতি সিনহা : অভিনয়ের জায়গা থেকে?

লাকী ইনাম : অভিনয়ের জায়গাটা ওভাবে খুব বেশি বেরোতে পারেনি। করছে, অনেকেই করছে, ভালো অভিনয় না করলে তো ভালো প্রযোজনা বের হয় না। কিন্তু ওভাবে অভিনেতা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মতো কারোর কথা আমি ঠিক উল্লেখ করতে পারছি না।

জ্যোতি সিনহা : তার মানে আপনাদের সময়ে যেভাবে অভিনয়কে প্রাধান্য দিয়ে নাটক তৈরি হতো, যেখানে অভিনেতার কাজ দেখার জন্য দর্শক আসত, এখন সে জায়গা থেকে বেরিয়ে ডিরেকশনে বৈচিত্র্য, পারফরম্যান্সের ধরন, ফর্মের দিকে ঝুঁকে গেছে, আপনার কী মনে হয়?

লাকী ইনাম : এটা ঠিক। নাটকগুলো বিভিন্ন ফর্মে হচ্ছে, অনেক সময় আফসোস হয়, টেক্সটের দিকে একটু নজর দিয়ে বাচিক অভিনয়কে প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা অনেক কমে গেছে, অভিনয়কেন্দ্রিক নাটক কম হচ্ছে।

জ্যোতি সিনহা : অনেক কথা হলো, আজ এ পর্যন্ত থাক, ধন্যবাদ আপনাকে।

লাকী ইনাম : ধন্যবাদ তোমাকেও।

 

সাক্ষাতকার গ্রহণ : জ্যোতি সিনহা

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।