বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা দুটি পাশাপাশি অবস্থান করে

প্রেম-ভালোবাসা-সম্পর্ক। বিষয়গুলো সর্বজনীন। আবার স্থান-কাল-পাত্রভেদে এর রূপ বদলায়। বিশ্বায়ন আর প্রযুক্তির যুগে আজকাল আমাদের সমাজেও লাগছে অনেক পরিবর্তনের হাওয়া। কী ভাবছেন নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এসব বিষয়ে? এই আড্ডায় আমরা কথা বলেছি চারজন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে।

আনন্দধারা : ভালোবাসা কি সম্পর্কভেদে আলাদা হয়?

নাইমা : ভালোবাসা সম্পর্কের কারণে আলাদা হয়ে থাকে। মা-বাবার প্রতি এক রকম ভালোবাসা থাকে আবার বন্ধুদের প্রতি আলাদা।

সোহানা : প্রতিটি ভালোবাসার ক্ষেত্রই আলাদা। বন্ধুত্বের সম্পর্কে ভালোবাসার সঙ্গে আস্থার একটা বিষয় থাকে। মা-বাবার প্রতি সম্মান আর প্রেমিকের ভালোবাসার সঙ্গে বিশ্বাস জড়িয়ে থাকে।

আনন্দধারা : অনেকে বলে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা প্রেম সম্পর্কে উদ্বেগহীন আপনাদের কী মনে হয়?

রাফসান : এটা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

নাইমা : এখন তো সবাই একটু সিরিয়াস। দুই-তিন বছর আগে উদ্বেগহীন থাকত। এখন লম্বা সময়ের জন্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে।

সাবা : আমার মনে হয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শ্রদ্ধাশীল না হওয়া অন্যতম কারণ।

সোহানা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আসার পর থেকেই এটি মূলত বেড়েছে। তবে এর হার এখন একটু কমছে বলে মনে হয়।

আনন্দধারা : আগের প্রজন্মের সঙ্গে আপনাদের প্রজন্মের সম্পর্ক স্থাপনে কি বৈসাদৃশ্য দেখতে পান?

নাইমা : আমাদের মা-বাবাদের সময়কার কথা বলতে হলে বলব সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের কোনো পছন্দ ছিল না। বড় হলে বিয়ে হবে। সন্তানের পিতা-মাতা হবে এটাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

আনন্দধারা : তাহলে আপনি বলছেন এই প্রজন্ম সম্পর্কের ব্যাপারে বেশি সচেতন?

নাইমা : এখন যেহেতু মানুষ তার পছন্দমতো সবকিছু করতে পারে। সে কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না রাখবে সে বিষয়ে তার অভিমত দিতে পারে। সেটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সচেতনতা না থাকলে তো আর হতো না।

আনন্দধারা : ভালোবাসার মানুষ বন্ধু হতে পারে?

সাবা : বন্ধু না হলে কখনো ভালোবাসা যায় না। এটা ভালোবাসার প্রথম ধাপ।

নাইমা : বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা দুটি পাশাপাশি অবস্থান করে। একটিকে ছাড়া আরেকটি চলতে পারে না। তাই বন্ধুত্ব ছাড়া জীবনে ভালোবাসা হয় না। ভালোবাসা ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না। এটা যে কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আনন্দধারা : আপনার বন্ধুর সঙ্গে আপনার প্রেম হয়ে গেল তখন কেমন লাগবে?

সাবা : এটা নির্ভর করে বন্ধুত্বের গভীরতা অনুযায়ী। যদি ১০ থেকে ১২ বছর বন্ধুত্ব হয়, তাহলে তো একটু অদ্ভুত মনে হবেই।

রাফসান : এখন এটা প্রায়ই ঘটছে। আগে ভালো বন্ধুত্ব ছিল, তারপর দেখা গেছে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়াচ্ছে।

আনন্দধারা : অনেকে একজন সঙ্গীর সঙ্গে সারাজীবন থাকাকে আদর্শ বলে মনে করে, আপনাদের কি তাই মনে হয়?

সোহানা : কখনোই না। যদি বনিবনা না হয়, তাহলে একসঙ্গে থাকার কোনো মানেই হয় না।

রাফসান : অসুখীভাবে জীবনযাপন করার কোনো মানেই হয় না। আমাদের যেহেতু কোনো বাধ্যবাধকতা নেই তাই মনের ওপর জোর খাটানোর প্রশ্নই ওঠে না। সোহানার সঙ্গে আমি একমত।

আনন্দধারা : একটি সম্পর্কে কোন জিনিসগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

 নাইমা : বন্ধুত্ব থাকতে হবে। তার সঙ্গে বিশ্বাস আর আস্থা স্থাপন।

সাবা : পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, বিশ্বাস, প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখা। এগুলোই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

সোহানা : আমার কাছে সৎ থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আনন্দধারা : বিয়ে নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

নাইমা : আমি যেহেতু বিবাহিত না। এ বিষয়ে তেমন কিছুই বলতে পারব না।

রাফসান : বিয়ে নিয়ে বলার মতো বয়স আমার হয়নি। তবে আমি আমার মা-বাবাকে দেখে যতটুকু বুঝলাম, বিয়ের পর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে অনেক দৃঢ়সংকল্প হতে হয়।

সোহানা : বিয়েকে আমার কাছে একটি সুন্দর পবিত্র সম্পর্ক মনে হয়।

সাবা : বিয়ে আমার কাছে একটি সামাজিক প্রথা বলেই মনে হয়। বিয়ের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মেয়েদের একটি সম্পদ হিসেবে ঘোষিত করে ধরে রাখার একটি পন্থা মাত্র। এখন যদিও পরিবর্তন এসেছে। তবে বিয়ে যে খুবই দরকারি, এ রকম আমার কাছে মনে হয় না।

 

প্রতীকী মডেল হিসেবে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।