‘নিজেকে প্রচণ্ড রকমের ভয় পাই’ -ওমর সানী

প্রায় তিন দশক সময় ধরে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নায়ক ওমর সানি। নানামাত্রিক চরিত্রে দেখা গেছে এই নায়ককে। একটা সময় মৌসুমী-ওমর সানী জুটি মানেই সিনেমা সুপারহিট। ‘দোলা’ সিনেমার মাধ্যমে দু’জনার জুটি গড়ে ওঠে। সিনেমার বাইরে ওমর সানী তার জীবন নিয়ে কথা বলেছেন আনন্দধারার সঙ্গে।

আনন্দধারা : সিনেমার বাইরে একান্তে অবসর কাটে কীভাবে?

ওমর সানী : এখন তো ধরতে গেলে পুরোটাই অবসর। আগের মতো তো আর অভিনয় নিয়ে ব্যস্ততা নেই। ভালো কিংবা মনের মতো কাজ পেলে অভিনয় করি। শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের একটা ক্ষুধা তো থাকেই। তাই ক্যারিয়ারের নানা ধাপে নানা রূপে আমার দেখা মিলেছে। এটাকে আমি খুব ইতিবাচকভাবেই দেখি। যদিও এটাকে অনেকেই ভিন্নভাবে বলেন। কিন্তু এ নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।

এর বাইরে তো এখন আর যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রুচিবোধের যে পরিবর্তন, সেটা তো সবার জীবনেই আসে। তবে একেকজনের জীবনে একেকভাবে। এর বাইরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। ছেলে তো দেশের বাইরে থাকে। ঢাকায় স্ত্রী আর মেয়ের সঙ্গেই আমার দিনের পুরো সময়টুকু কাটে। সিনেমা দেখা হয়। ঘোরাঘুরি করি, যদি মন চায়।

আনন্দধারা : শখ হিসেবে কী করতে পছন্দ করেন?

ওমর সানী : ভালো ফুটবলার ছিলাম। পাশাপাশি ভালো ক্রিকেটও খেলতাম। ক্রিকেটে খ্যাপ খেলতে যেতাম একটা সময়। সেজন্য বাসা থেকে অনেক বকাও খেয়েছি। কিন্তু যৌবনের সময় তো আর অত বাধা-নিষেধ মেনে চলে না কোনো ছেলেই। এ দুটো খেলার প্রতি একটা সময় ভীষণ আসক্ত ছিলাম। আর খেলা দেখাই আমার শখ বলতে পারেন। কারণ বিষয়টাকে আমি এভাবেই দেখি। যখন সময় পাই, তখন নতুন খেলা তো দেখিই। আর নতুন খেলা না থাকলে; পুরনো খেলার হাইলাইটস দেখি। জানি না বিষয়টা কে কীভাবে নেবে। তারপরও বললাম। আমি যেটা মানি সেটাই বলি।

আনন্দধারা : যদি নায়ক না হতেন তাহলে কী হতেন?

ওমর সানী : যদি নায়ক না হতাম, তাহলে নামকরা ক্রিকেটার হতে পারতাম বলে মনে হয়। ফুটবলে ভালো গোলকিপার ছিলাম। দুটো খেলাই আমার জীবনের সঙ্গে একদম জড়িয়ে ছিল। অনেক বেশি দুটো খেলার প্রতি আসক্ত ছিলাম, তাই বলে বোঝাতে পারব না। সময় আসলে জীবনের অংশ।

আনন্দধারা : অভিনয় জীবনে আপনার অনুপ্রেরণায় কাদের নাম বলবেন?

ওমর সানী : চলচ্চিত্রে আমার অনুপ্রেরণা হচ্ছেন আমার বাবা। তিনি প্রচুর হিন্দি ছবি দেখতেন। আমাকে দেখতেও উৎসাহিত করতেন। বাবা দিলীপ কুমারের অনেক ভক্ত ছিলেন। সময় পেলেই তার ছবি দেখতেন। আমাকেও তার ছবিসহ অন্য নায়কদের ছবি দেখার জন্য বলতেন। বাবাই চাইতেন যেন নায়ক হই। সেখান থেকেই মূলত হিরো হওয়ার অনুপ্রেরণাটা পেয়েছি। বাবার কারণেই আজ আমি আজকের অবস্থানে।

আনন্দধারা : ব্যক্তিজীবনে আপনি ঠিক কেমন?

ওমর সানী : ব্যক্তিজীবনে প্রচণ্ড রাগি। সত্য কথা মুখের ওপর বলে দিই। এজন্য অনেকেই পছন্দ করে না। আরেকটা বিষয় নিজেই নিজেকে প্রচণ্ড রকমের ভয় পাই। নিজের প্রতি নিজের একটা দুর্বলতা বলতে পারেন। কোনো মানুষকে কেয়ার করে চলি না। আমি কারো দালাল না, তাই কোনো দালালিতে আমাকে দেখাও যায় না। যেটা করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, সেটা করি। এ কারণেই সফলতা পেয়েছি। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই।

আনন্দধারা : আপনার জীবনের ভালোলাগা কোনো অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাই?

ওমর সানী : অনেকদিন আগের ঘটনা তখন আমার মা বেঁচে ছিলেন। একদিন দুপুরে একটা লোক এলো একটা খাসি নিয়ে। পরে বলল, আপনি কি ওমর সানীর মা? মা বলল, হ্যাঁ। তখন ওই লোকটা বলল, এই খাসিটা আপনার সামনে জবাই করে আপনাকে দেব। পরে যেই কথা সেই কাজ। লোকটি তাই করল। আপনাকে দেখার জন্যই আমি আসছি। কারণ আপনি ওমর সানীকে আপনার গর্ভে ধারণ করেছেন। তখন মা বলল, সানী শ্যুটিং থেকে আসুক, ওর সঙ্গে দেখা করে যেও। লোকটা বলল, আপনার ছেলেকে দেখার দরকার নেই। আমি চলে যাচ্ছি। কিন্তু তাকে কোনোদিন দেখি নাই। কিংবা এখন পর্যন্ত কেউ এসে বলেওনি, আমি আপনার জন্য সেই খাসিটা দিয়েছি।

আনন্দধারা : বিবাহিত জীবনের ২৪ বছর পার করেছেন। কেমন লাগে বিষয়টা?

ওমর সানী : আমরা একসঙ্গে ৪০টিরও বেশি ছবিতে জুটি হয়ে অভিনয় করেছি। শুধুই কী তাই? দুই যুগ ধরে একে অপরকে আগলে রেখেছি ভালোবাসার পরম মমতায়। ১৯৯৫ সালের ২ আগস্ট লুকিয়ে বিয়ে করেছিলাম দু’জন। বিবাহিত জীবনের ২৪ বছর পার করেছি। সুখে-দুঃখে ২৪টি বছর একসঙ্গে কাটিয়ে দেয়ার নানা স্মৃতি রয়েছে আমাদের। দিলীপ সোম পরিচালিত ‘দোলা’ ছবিতে প্রথম জুটি গড়ে ওঠে আমাদের।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।