আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই

বর্তমান প্রজন্মের তরুণ অভিনেতা জীবন রায়। অভিনয়ের পাশাপাশি সম্পৃক্ত নির্মাণেও । দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন শোবিজ অঙ্গনে। শোবিজে কাজের অনুপ্রেরণা, নিজের বর্তমান অবস্থান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি অন্য আরো প্রশ্নের উত্তর দিতে মুখোমুখি হয়েছেন আনন্দধারার সঙ্গে। কথা বলেছেন আখন্দ জাহিদ...

আনন্দধারা : নাটকের বর্তমান অবস্থা সংকটাপন্ন। তারপর অভিনয়ে কেন নিজেকে যুক্ত করলেন?

জীবন রায় : নাটকের বর্তমান অবস্থা সংকটাপন্ন এটা আমার কাছে মনে হয় না। কারণ প্রচুর নাটক কিন্তু তৈরি হচ্ছে। তাছাড়া সিনিয়র নির্মাতা থেকে শুরু করে অভিনয়শিল্পীরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন নির্মাতা এবং অভিনয়শিল্পীরাও কাজ করছেন। অন্যান্য পেশা থাকতে নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণ আমার মনে হয় আমি শুধু অভিনয়টাই করতে পারি। আর এটাকেই ভালোবাসি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যখন অনেকগুলো পেশাকে বেছে নেয়ার সম্ভাবনা ছিল, তারপরও আমি সেখানে নাটককেই বেছে নিয়েছি। সেজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোটা সময় আমি থিয়েটারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমি অভিনয়ের প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। অভিনয় একটা নেশা এবং এর মধ্যে পাগলামিও আছে। অভিনয়ের মধ্যে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ নেয়া যায়। আর আমার চ্যালেঞ্জ নিতে ভালো লাগে। পাশাপাশি পেশাগতভাবে আমার জীবনে আরেকটা দিক উন্মোচিত হয়েছে। সেটা হলো সেন্ড আর্ট বা বালুশিল্প। অভিনেতার পাশাপাশি আমি পেশাদারি একজন বালু শিল্পী।

আনন্দধারা : আপনার কি মনে হয় মিডিয়াতে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব?

জীবন রায় : বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা শেষ করে আমি মিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অভিনয় শুরু। দীপঙ্কর দীপন দাদার সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে দু’বছর কাজ করি। মিডিয়াতে নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়েই আমার পথচলা। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অভিনয়, নির্মাণ কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে মিডিয়ার সঙ্গেই সম্পৃক্ত হয়ে সুন্দর এবং সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমার ক্যারিয়ার নিয়ে আমি আশাবাদী। সবার আশীর্বাদ আর ভালোবাসা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করতে পারব।

আনন্দধারা : ইন্ডাস্ট্রির সব মাধ্যমেই দর্শক খরা। এর কারণ কি মনে হয় আপনার?

জীবন রায় : সব মাধ্যমে দর্শক খরা আমার মনে হয় না। কিছু বিড়ম্বনা সব জায়গাতেই থাকে। দর্শকরা নয়, এর অনেক কারণ আমার কাছে আছে। যেমন প্রতিনিয়ত অনেক নতুন কাজ আসছে এবং হচ্ছে। যেগুলো অসংখ্য মানুষ দেখছে। যদিও অনেকে বলে ভিউ মুখ্য বিষয় না। কিন্তু দিন শেষে এটাই এখন মুখ্য। মানুষ ব্যস্ততার কারণে টেলিভিশন দেখছে না। অনলাইনে কিন্তু ঠিকই দেখছে। না হলে এত ভিউ কী করে হয়! পাশাপাশি কিন্তু অনেক সিনেমা ব্যবসাসফল হচ্ছে। আর সেটাও কিন্তু দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে।

আনন্দধারা : পরবর্তী ১০ বছর পর নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

জীবন রায় : এ বিষয়টা আমার কাছে একদমই সহজ-সাপ্টা। আমি নিজেকে নিরেট একজন অভিনেতা হিসেবে দেখতে চাই। ফজলুর রহমান বাবু ভাই, মোশাররফ করিম ভাই, ইরেশ যাকের ভাইদের এখনো অভিনয় জগতে বিচরণ আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। আমি আসলে সেখানটাতে নিজেকে দেখতে চাই। বিশেষ করে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর মতো হতে চাই। কারণ কাজ নিয়ে আমার কোনো তাড়াহুড়ো নেই। ধীরে ধীরে কাজ করতে চাই। আরো অনেক শিখতে চাই। কিছুই শিখতে পারিনি। অনেক শেখার বাকি।

আনন্দধারা : অভিনেতা না তথাকথিত নায়ক! কীভাবে নিজেকে দেখতে চান?

জীবন রায় : অবশ্য নিজেকে অভিনেতা হিসেবে দেখতে চাই। অভিনয় নিয়ে আমার কখনোই কোনো শঙ্কা ছিল না। আমাদের দেশে হিরো বা নায়কের একটা প্রথা তো আছেই। তবে আমি অভিনয় দিয়ে সবকিছুকে ছাপিয়ে যেতে চাই। অভিনেতা হিসেবে সবার অন্তরে স্থান পেতে চাই।

আনন্দধারা : নবীন হিসেবে মিডিয়াতে পথচলার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

জীবন রায় : মিডিয়াতে কাজ করা সহজ নয়।। বিষয়টা এমন নয় যে চাইলাম আর হয়ে গেল। কাজের শুরুতে অনেক স্ট্রাগল করেছি। অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে। তবে একটা সময় স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চাকরির খোঁজ করছিলাম। এক পর্যায়ে মনে হলো স্বপ্ন পূরণে আমার একটা প্লাটফর্ম দরকার। সেজন্য ২০১৬ সালে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ম্যান চ্যানেল আই হিরো- পাওয়ার্ড বাই বাংলাদেশ আর্মি’ রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণ করি। আমি শোটিতে সেরা দশে ছিলাম। এই শো আমার জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। কারণ এর মধ্য দিয়ে সব হতাশা কেটে আবার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

আনন্দধারা : সিনিয়র শিল্পীরা নাকি নতুনদের অভিনয়ে সুযোগ দিতে চায় না? এই রকম কি হয়েছে বা হচ্ছে?

জীবন রায় : অনেকের ক্ষেত্রে কথাটা সত্যি হতে পারে। তবে আমার কাছে এটা সত্যি মনে হয় না। কারণ যারা এখন সিনিয়র তারাও কিন্তু একসময় নতুনই ছিলেন। তবে আমার কাছে যেটা মনে হয়, উনারা যে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটাও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন। হয়তো সেটা আমরা পারছি না।

আনন্দধারা : অভিনয় এবং নির্মাণের অনুপ্ররণা কে?

জীবন রায় : নির্মাণে আমি তেমন কিছুই করতে পারিনি। তবে মিডিয়াতে শুরুটা হয়েছে নির্মাণের সঙ্গে থেকেই। কারণ আমার নির্মাণের হাতেখড়ি দীপঙ্কর দীপন দাদার সঙ্গে কাজ করেই হয়েছে। তবে আমার অভিনয়ের পাগলামিটা এসেছে আমার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু সরাজ দেবের কাছ থেকে। আমার অভিনয় শিক্ষাগুরু গাজী রাকায়েত স্যার। অভিনয়ের বিভিন্ন দিক, বাচনভঙ্গিসহ সবকিছুই উনার কাছ থেকে শিখেছি। তিনিই আমার অভিনয় অনুপ্রেরণা।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।