তুরস্ক : প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য আর প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সমন্বয়

তুরস্ক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচ্য-পাশ্চাত্য চমৎকার সমন্বয়, ঐতিহাসিক স্থাপত্যের কারুকাজ আধুনিক জীবনের উষ্ণ উপস্থিতি সবকিছু মিলিয়ে ভ্রমণে আনন্দময়। তুরস্ক ভ্রমণে ইস্তাম্বুল ঘোরার মজাটাই অন্যরকম। ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে নেমে প্রথমেই সময় ঠিক করে নিন। কারণ কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানকার সময় ধরেই চলতে হয়। তুর্কি সভ্যতা অতি প্রাচীন। ঐতিহাসিক নানা চরিত্র আর ঘটনার সমাবেশ এখানে। কত বৃহৎ সাম্রাজ্যের রাজত্ব করে গেছে যুগ-যুগান্তরে, তার নিদর্শন আজো আছে। রোমান, বাইজেনটাইন, লাতিন এবং অটোমান সাম্রাজ্য ১৬০০ বছর ধরে এই দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছে। এখানেই ঘটেছে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের পদচারণা। হোমারের ইলিয়াড আর ওডিসির উৎসভূমি তুরস্ক। ইউরোপ এবং এশিয়া দুটো মহাদেশেই এর বিস্তৃতি। ইউরোপের আধুনিক জীবনযাপন আর এশিয়ার প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়াও তুরস্কের সংস্কৃতিতে চোখে পড়ে।

ইস্তাম্বুল তুরস্কের রাজধানী নয়, কিন্তু সবচেয়ে বড় শহর এবং দেশের অর্থনৈতিক, ঐতিহাসিক এবং সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। ভূমধ্যসাগর এবং কৃষ্ণসাগর ঘিরে রেখেছে এই শহরকে। ট্রেন চলাচলের মাধ্যমে ইউরোপ আর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বেশি থাকায় ইস্তাম্বুলে লোকবসতি বেশি। ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবেও ইস্তাম্বুলের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইউরোপিয়ান ক্যাপিটাল অব কালচার নামেও ইস্তাম্বুলকে ডাকা হয়। দেখা গেছে ২০১০ সালে শুধু তুরস্কের এই শহরেই সাত লাখ ট্যুরিস্টের আগমন ঘটেছিল। এ শহরের প্রধান আকর্ষণ ঐতিহাসিক স্থানগলো। বেশকিছু নিদর্শন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সমুদ্রের ধার থেকেই ঘোরা শুরু করুন। গোল্ডেন হর্ন, আনন্দের সব রকম ব্যবস্থা, সঙ্গে সৌন্দর্য দেখার মতো। ইস্তাম্বুলে দেখার মতো স্থান ইজিপ্সীয় মসলা বাজার। নানারকম মসলার সম্ভার এখানে।

সারাবিশ্বের দুষ্প্রাপ্য ও দামি থেকে সাধারণ মসলা পাওয়া যায় এ বাজারে। বসফরাস জলবিহার- ইউরোপ আর এশিয়াকে সংযোগ করতে ১৯৫৭ সালে বিশাল লম্বা এই সেতু নির্মাণ শুরু হয়, যা এই নদীবিহারে চোখে পড়বে বসফরাস সেতু। তোপকাপি প্যালেসে অটোমান সুলতানদের প্রাসাদ। ইতিহাস যেন কথা বলে এখানে। সেন্ট সোফিয়া সংগ্রহশালা আগে এটি পরিচিত হিল হাজিয়া সোফিয়া নামে। এ স্থানটি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে কয়েকবার। পুনর্নির্মাণ করে জাদুঘর হিসেবে এখন দর্শনীয় স্থান।

ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত নীল মসজিদ বা ব্লু টুম্ব ঘুরে আসুন। এখানে রয়েছে প্রাচীন ঐতিহ্যের ছোঁয়া। অটোমান সুলতান প্রথম আহমেদের তৈরি এই নীল মসজিদের নীল দেয়াল, নীল টাইলস আর নীল অন্দরসজ্জার কারুকার্য দেখার মতো।

ছোটরা এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে, তাদের বেড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। চিড়িয়াখানা, টয় মিউজিয়াম ভালো লাগবে ওদের।

কেনাকাটার জন্য ঘুরে নিন ইস্তাম্বুলের গ্র্যান্ড বাজার। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ট্র্যাডিশনাল ও আধুনিক জিনিস এখানে পাওয়া যায়। ঘুরে আসতে পারেন চানাকালে, ইস্তাম্বুল থেকে এর দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। পথে আনজাক কোভ দেখতে পাবেন। এটি দুই হাজার ফুট লম্বা একটি উপসাগরীয় খাড়ি। চানাক্কালের সেরা আকর্ষণ চার হাজার বছরের প্রাচীন শহর ট্রয়। ১৯ শতকে ট্রয় আবিষ্কার হয়। এরপর বন্দরনগরী কুসাদাসি ভ্রমণ, এখানে বাচ্চাদের পছন্দের দুটি ওয়াটার পার্ক রয়েছে। আছে ঐতিহাসিক এফেসুস শহর। একটা সময় এ শহর বিশ্ব বাণিজ্যের মধ্যমণি ছিল।

এখান থেকে যেতে পারেন পামুক্কালে। যেতে যেতে দেখা হবে প্রাচীন শহর হিয়েরাপোলিস ট্র্যাভারটেনস উষ্ণপ্রস্রবণ আর ঐতিহাসিক ক্লিওপেট্রা সেতু। রোমাঞ্চকর বেলুন সফরে অংশ নিতে হলে আসতে হবে কাপাডোকিয়ায়। প্রতিদিন সকালে ভ্রমণকারীদের জন্য আকাশ দর্শনের সুযোগ হাতছাড়া করার নয়। ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কাপাডোকিয়ার কাছে ঐতিহাসিক নগরদুর্গ কেমাকলি। এটি আছে মাটির তলায়।

দেখার আছে অ্যাভানোস মৃৎশিল্পালয়, কার্পেট কারখানা, পাথরখচিত নানা জুয়েলারি, কেনাকাটা হতে থাকে, তবে তুরস্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শন আপনার মন কেড়ে নেবে।

সারাবছরই তুরস্কে ভ্রমণের জন্য আপনি যেতে পারেন। সমুদ্র কাছে থাকায় আবহাওয়া সারাবছর নাতিশীতোষ্ণ। সরাসরি তুরস্ক যাওয়া যায় আকাশ পথে। ভিসা করিয়ে নিতে হবে আগে। টার্কিশ কারেন্সিকে লিরা বলে। বাংলাদেশি প্রায় ১৫ টাকায় ১ লিরা পাওয়া যাবে। এছাড়া ইউরো ব্যবহার করা যাবে। তবে লোকাল টাকা ব্যবহার লাভজনক।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।