এক শটে পুরো সিনেমা

নাম : ১৯১৭

পরিচালক : স্যাম মেন্ডেস

চিত্রনাট্য : স্যাম মেন্ডেস ও ক্রিস্ট্রি উইলসন কেয়ার্ন্স

অভিনয় : জর্জ ম্যাকে, টম ব্লেক, অ্যান্ডে স্কট, কলিন ফার্থ, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, রিচার্ড ম্যাডেন, ড্যানিয়েল মেসি

মুক্তির তারিখ : ১০ জানুয়ারি (যুক্তরাজ্য)

বাজেট : ৯০-১০০ মিলিয়ন ডলার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বীভৎসতা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। সেই কালো অধ্যায় শিল্পীদের নাড়া দিয়েছে প্রকটভাবে। কবি লিখেছে কবিতা, গায়ক গান গেয়েছে, চিত্রশিল্পী এঁকেছে অনবদ্য সব চিত্রকর্ম। সেই ধারাবাহিকতায় পিছিয়ে নেই চলচ্চিত্র নির্মাণও। যুগে যুগে নির্মিত হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নানান চলচ্চিত্র। ‘১৯১৭’ সিনেমাটি তাদেরই একটি। এটি মূলত একজন সৈনিক বার্তাবাহকের গল্প। যেসব বাধা-ভয়কে উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালনে দৃঢ়সংকল্প। সিনেমায় গল্পের মূলভাব মূলত সিনেমার পরিচালক স্যাম মেন্ডেসের দাদার প্রথম যুদ্ধের ওপর বর্ণিত গল্প থেকে নেয়া। এই সিনেমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে অবিরত চলমান শট। কিছু হিডেন কাট থাকলেও তা বোঝার উপায় নেই। স্যাম মেন্ডেসের অন্যান্য সিনেমা থেকে এই সিনেমার ভাষা সম্পূর্ণ আলাদা।

সিনেমার শুরুতে দেখা যায় দুই ব্রিটিশ সৈনিক সবুজ ঘাসের ওপর ঘুমাচ্ছে। ল্যান্স করপোরাল ব্লেককে (ডিন চার্লস চ্যাপম্যান) ঘুম থেকে জাগানো হয় অন্য একজন সৈনিককে নিয়ে জেনারেলের সঙ্গে দেখা করার জন্য। সে ল্যান্স করপোরাল শেফিল্ডকে (জর্জ ম্যাকে) তার সঙ্গে নিয়ে যায় জেনারেল এরিনমোর (কলিন ফার্থ) সঙ্গে দেখা করতে। সে তাদের অন্য আরেকটু রেজিমেন্টে বার্তা পৌঁছাতে বলে। কারণ ওই রেজিমেন্ট জার্মানদের ফাঁদে পা দিতে বসেছে। জেনারেল আরো জানায় ব্লেককে এই মিশনে যুক্ত করার অন্যতম কারণ হচ্ছে তার ভাই ওই রেজিমেন্টে আছে। সঙ্গে আছে আরো ১৬০০ সৈনিক। তাদের এই বার্তাই তাদের সবার জীবন বাঁচাতে পারে। বার্তা দিতে গেলে তাদের পাড়ি দিতে হবে এক লম্বা পথ। এই পথে চলার সঙ্গে সঙ্গে সিনেমার গল্প এগোতে থাকে।

একটি সিনেমা ভালো হওয়ার জন্য যা যা উপাদান দরকার সবই ছিল এই সিনেমায়।

দুর্দান্ত পরিচালনা, চোখ ধাঁধানো সিনেমাটোগ্রাফি, অসাধারণ অভিনয়ের সঙ্গে ছিল প্রোডাকশন ও সেট ডিজাইনের মহাযজ্ঞ, যা নিয়ে যাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হবে না অন্যদিকে চোখ ফেরাই।

সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেছেন যৌথভাবে স্যাম মেন্ডেস ও ক্রিস্ট্রি উইলসন কেয়ার্ন্স। আর চিত্র ধারণ করেছেন প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার রজার ডিকেন্স। যিনি তার ক্যামেরার চোখে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়ানক রূপ দেখিয়েছেন দুর্দান্তভাবে। শট না কেটে অনবরত শট নেয়ার মতো কঠিন কাজটি তিনি খুব ভালোভাবে করেছেন। যেটি পৃথিবীর খুব কম সিনেমাটোগ্রাফার করেছেন এই পর্যন্ত। যদিও তাকে সাহায্য করেছে দুর্দান্ত প্রোডাকশন ও সেট ডিজাইন।

এই সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জর্জ ম্যাকে। সিনেমার বেশিরভাগ সময়ে তাকে দেখা গেছে। তারপর পারফরম্যান্স ছিল নজর কাড়ার মতো। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ব্লেক। যাকে দেখে অবিশ্বাস করার উপায় নেই যে তিনি ব্রিটিশ সৈনিক নন। তার সংলাপ বলার ধরন, হাঁটাচলা সবকিছুতেই সৈনিকের চরিত্র ফুটে উঠেছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ। অল্প সময়ের জন্য হলেও তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। এছাড়া রিচার্ড ম্যাডেন, ড্যানিয়েল মেসির মতো ঋদ্ধ অভিনয় শিল্পীরা অভিনয় করেছেন।

একটি পরিপূর্ণ যুদ্ধের সিনেমার সব স্বাদ পাওয়া যাবে এই সিনেমায়। হলফ করে বলতে পারি এই রকম সিনেমাটোগ্রাফি খুব কম সিনেমায় দেখা গেছে। আর অনবরত শট হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমায়। নতুন করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দেখতে চাইলে সিনেমাটি দেখতে পারেন।

-রোমান শুভ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।