এই তো সুখেই আছি

তারকারা কেউ ভালোবেসে কেউ পরিবারের পছন্দে বিয়ে করে সুখের জীবন কাটিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রবীণ তারকা শিল্পীরা সংসার জীবনের ৫০ বছর পার করে এসেছেন। অনেকেই আট, পাঁচ থেকে শুরু করে দুই বছর একসঙ্গে সংসার করছেন। একসঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাস করার রসায়ন ভাগাভাগি করেছেন আনন্দধারার সঙ্গে

 

একজন রাগলে অরেকজন চুপ থাকি’

হাসান ইমাম-লায়লা হাসান

হাসান ইমাম আর লায়লা হাসান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ১৯৬৫ সালে। দু’জনে এখনো একসঙ্গে একই ছাদের নিচে সুখে বসবাস করছেন। হাসান ইমাম বলেন, আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয় না, তা কিন্তু নয়। তবে এর পরিণতি কতদূর যাবে সেটা আমরা জানি। বিয়ের সময় বলে রেখেছিলাম, আমি যখন রেগে যাব তুমি চুপ করে থাকবে, আর তুমি যখন রেগে যাবে তখন আমি চুপ করে থাকব। এই ছিল আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা। এটা এখনো বিদ্যমান। আমি রাগ করলে চুপ থাকেন। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সবকিছু হয়েছে। ঐতিহ্য সংস্কৃতি আমাদের রচি নির্মাণ করে। এছাড়া পরিবারের শিক্ষা একটা বড় বিষয়। এটা থাকলে আর কিছু লাগে বলে মনে করিনা। এটাই আমাদের সর্ম্পকের রসায়ন।’ লায়লা হাসান বলেন, ‘আমরা মনে করে এসেছিলাম, যেখানে পাঠাচ্ছে বাবা-মা, সেখানেই থাকতে হবে। বিকল্প কোনো ব্যাপার ছিল না। মানসিক দিক থেকে যে পরিবর্তনটা সমাজে এসেছে, যে অস্থিরতা, যে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এগুলো তো তখন ছিল না। তখন আমরা যৌথ পরিবারে থাকতাম। আপন ভাই আর মামাতো ভাই, চাচাতো ভাই আর ফুফাতো ভাইয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না। সবাই ভাই। কাজিন শব্দটি ঢুকল বিদেশ থেকে এসে। এখন সবাই বলে কাজিন। এই কাজিন ঢোকা মানেই হলো বিভাজন। এ রকম ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেল, মেয়েরা এখন ছোটবেলা থেকে শেখে, আমার একটা সংসার। আর আগে আমাদের জেনারেশনে মেয়েরা শিখত, আমাদের শ্বশুরবাড়ি। আমরা সবাই মিলে থাকব। আমার ভাসুর থাকবে, তার বউ থাকবে, ননদ থাকবে, দেবর থাকবে। সবাইকে নিয়ে থাকব।

 

ভালোবেসে ৫০ বছর ধরে একসঙ্গে আছি

আবুল হায়াত-শিরীন হায়াত

আবুল হায়াত ১৯৭০ সালে বিয়ে করেন মাহফুজা খাতুন শিরীনকে। দু’জন এখনো একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। আবুল হায়াত বলেন, দাম্পত্য জীবন এক লম্বা ভ্রমণের মতো, যেখানে কোনো স্টেশন নেই। শুধু বিরামবিহীন পথচলা থাকে। কিন্তু বিরামহীন এ পথচলায় কখনো ক্লান্তি আসে না এক জীবনে। তার কারণ হচ্ছে সেখানে রয়েছে কেয়ারিং এবং বিশ্বাসের একটা বিষয়। আর সেই কারণে আমরা ভালোবেসে ৫০ বছর ধরে একসঙ্গে আছি এখনো। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের একসঙ্গে পথচলার ৫০ বছর পূর্তি হবে। দাম্পত্য জীবনে সুখী না হলে জীবনে সফলভাবে পথচলা খুবই কঠিন। কারণ আমার আজকের এই অবস্থানের পেছনে সম্পূর্ণ অবদান আমার স্ত্রীর। কারণ জীবন চলার পথে প্রতিটি ক্ষেত্রে সে আমায় ভালোবেসে ছায়ার মতো পাশে পাশে ছিল। এটার মূল কারণ ছিল পরস্পরের প্রতি যত্নশীল আর বিশ্বস্ততা।

 

 

বিশ্বাস আর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হয়

রহমত আলী-ওয়াহিদা মল্লিক জলি

ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলী দু’জনেই রাজশাহী হলেও পারস্পরিক সখ্য গড়ে ওঠে কলকাতায় পড়তে গিয়ে। অতঃপর দু’জনে বিয়ে করেন। এখনো একই ছাদের নিচে সুখে বসবাস করছেন এই দম্পতি। দু’জনার ভালোবাসার রসায়ন নিয়ে রহমত আলী বলেন, ‘ভালোবাসা মানে হলো পরস্পরকে বুঝতে পারা। আমি যে মানুষটিকে ভালোবাসব তাকে যদি না বুঝতে পারি, তাহলে এই ভালোবাসার মানে কী? ভালোবাসা সংসারের কোনো রসায়ন আসলে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তবে ভালোবাসাকে অনুধাবন করার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুন্দর একটি মনের। মানুষের মন যত সুন্দর সে মানুষের জীবন তত ভালোবাসাময়। দেখা এবং না দেখার মাঝেও কিন্তু ভালোবাসা বসবাস করে। শুধু যে প্রাপ্তির মাঝে প্রেমে সার্থকতা তা কিন্তু নয়।’ জীবনে রঙ ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশ্বাস ভালোবাসা আর সম্মান থাকলে আর কিছু লাগে না সম্পর্কের ক্ষেত্রে। এটা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি। ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘ভালোবাসার ওপরে আসলে কোনোকিছু নেই। যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে কিছ্ইু বাঁচে না। নিঃস্বার্থভাবে যে আমাকে ভালোবাসে সে আমার কাছে অনেক বড় প্রেমিক। এতটা দিন একসঙ্গে থাকতে হলে ভালোবাসা বিশ্বাস আর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হয়। আমার কাছে এগুলোই সংসার আর ভালোবাসার বড় রসায়ন বলে মনে হয়।’

 

ভালোবাসার মানুষের পছন্দকে মূল্য দিতে হবে’

তারিক আনাম খান-নিমা রহমান

তারিক আনাম খান আর নিমা রহমান বিয়ে করেন ’৮৫ সালে । ব্রিটিশ কাউন্সিলে শেক্সপিয়ারের নাটক ম্যাকবেথে কাজ করতে গিয়ে সম্পর্ক তৈরি হয়। বিয়ের আগে ২৮ পাতার একটি চিঠি লিখেছিলেন। এখনো একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন দু’জন। আগে থেকেই দু’জনার চেনাজানা ছিল। স্কুল অব ড্রামা থেকে পাস করে আসার পর মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে কাজ করতেন তারিক আনাম খান। নিমা রহমান তখন পাপেটে ভয়েজ দিতেন।

তারিক আনাম খান বলেন, ‘নিমা শিশুশিল্পী হিসেবে সেই সময় খুবই পরিচিত ছিল। তার অনুষ্ঠান দেখতাম। অনেক ট্যালেন্টেড সে! তার মামার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ক্রিয়েটিভ পরিবারের একজন। ব্যক্তিগতভাবে সেই সময় নিমার ফ্যানও ছিলাম। ভালোবাসার মানুষের পছন্দকে মূল্য দেন। ভালোবাসার রসায়ন তাদের কাছে হলো দু’জন দু’জনার পছন্দকে গুরুত্ব দেয়া। তারা মনে করেন বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকলে এক জীবন পাশাপাশি কাটিয়ে দেয়া যায়।

 

একই সুতোয় নিজেদের বেঁধে রেখেছি

শাহেদ শরীফ খান-নাতাশা হায়াত

রাতের পর দিন আর দিনের পর রাত আসে এই তো জীবন। ভালোবাসা, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, মান-অভিমান, খুনসুটিতে কেটে যায় সময়। এর মাঝে দাম্পত্য জীবনে আমার কাছে সবচেয়ে বড় মনে হয় পরস্পরের প্রতি সম্মান। পাশাপাশি একে অন্যের প্রতি দায়িত্ব, সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করা। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে নিজের মনের কথাগুলো ভাগাভাগি করা। পাশাপাশি তার মনের কথাগুলো শোনা। সঙ্গীর যত্ন নেয়া এবং তাকে বুঝতে পারা। আমার কাছে এটাই দাম্পত্য জীবনের রসায়ন মনে হয়। এই রসায়নে আমরা ১৬ বছর ধরে একই সুতোয় নিজেদের বেঁধে রেখেছি।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার আরেকটা বিষয় হচ্ছে সঙ্গীনির মুখ দেখে মন বুঝতে পারা। মনে হয় দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসাকে প্রতিদিন আপডেট করা। সংসারের প্রতি যখন পরিপূর্ণ ভালোবাসাটা থাকে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ চার দেয়ালে ছড়িয়ে আছে।

 

দু’জনার মাঝে বোঝাপড়া থাকতে হবে

শবনম ফারিয়া-অপু

২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন শবনম ফারিয়া ও হারুন অর রশিদ অপু। ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে দু’জনার প্রথম বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এরপর ফেসবুকে কথা বলতে বলতে তাদের দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন মজবুত হয়। তিন বছরে দু’জনের বন্ধুত্ব মজবুত হয়। একটা সময় দু’জনেই পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেন। দুই পরিবার জানলে এতে পূর্ণ সমর্থন দেন তাদের বিয়েতে। শবনম ফারিয়া বলেন, বিয়ে মানেই হলো নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। বিয়ের আগে একটা মেয়ের জীবন একরকম থাকে, বিয়ের পর অন্যরকম হয়ে যায়। নতুন একটা দায়িত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয় একটা মেয়েকে। বিয়ের আগে বাবার পরিবারে একরকমভাবে একটা মেয়েকে থাকতে হয়। কিন্তু বিয়ের পর বরের পরিবারের নিয়মের সঙ্গে যেতে হয় একটা মেয়েকে। আসলে বিয়ে সংসার মানেই দু’জন মানুষের বোঝাপড়ার একটা বিষয়। এই বোঝাপড়া দু’জনার মাঝে থাকলে সংসার ঠিকমতো এগিয়ে যাবে। ভালোবাসা আর একসঙ্গে সুখী সংসার রচনা করার রসায়ন এগুলোই মনে হয়।’

 

দু’জন দু’জনাকে সাপোর্ট করতে হবে

সিয়াম আহমেদ-অবন্তী

আট বছরের প্রেম করে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা অবন্তীকে বিয়ে করেন সিয়াম আহমেদ। যখন তাদের প্রেম পর্ব চলছিল একদমই সাধারণ একটি ছেলে ছিলেন সিয়াম। আজকের জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে পরিচিতি পাননি তখন। অনেক স্ট্রাগল লাইফ তার। তবে ভালোবাসা নামের শব্দটি ছিল দু’জনার মাঝে। আস্তে আস্তে সিয়ামের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। প্রথমদিকে সিয়াম অভিনীত নাটক-বিজ্ঞাপনের ছবি নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট দিতেন অবন্তী। একদিন দু’জনে সুন্দর একটি জায়গায় দেখা করল। সুযোগ বুঝে ছেলেটিই বলে দিল মেয়েটির মনের কথা। দু’জনের ভালোবাসার সূচনা হয়েছিল সেদিন থেকে। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাদের ভালোবাসার পরিণতি বিয়ে হয়। বিয়ের জন্য দু’জন অনেক ত্যাগ করেছেন। সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘একজন মানুষের সফলতার পেছনে তার জীবনসঙ্গীর সমর্থন থাকা অনেক বড় বিষয়। আমার জীবনে অবন্তীর অনেক অবদান আছে। সে আমাকে নানান সময়ে নানাভাবে সাপোর্ট করেছে। আর পেশাগত দিক থেকে আমার সিনেমায় কাজ করাটাকে অনেক সাহায্য করে। দু’জনার মধ্যে ভালোবাসা আর সমঝোতা থাকলে কোনো সমস্য হয় না।

 

একসঙ্গে থাকতে হলে বিশ্বাসটা অনেক জরুরি

মোশাররফ করিম-জুঁই

মোশাররফ করিমের সঙ্গে তার স্ত্রী জুঁইয়ের প্রথম পরিচয় হয় ২০০০ সালে। সে সময় জুঁইদের বাসার সামনে গলির একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষক হিসেবে পড়াতেন। সেই কোচিং সেন্টারেই জুঁইয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। সেসব বিষয় নিয়ে মোশাররফ করিম বলেন, আমাদের পরিচয়টা কিন্তু ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসা এমন অবস্থানেই ছিল না। তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় আমার ছাত্রী হিসেবেই। এইচএসসি পাস করার পর একই কোচিং সেন্টারে দু’জনে পড়ানো শুরু করি। ভালোলাগাটা তখন থেকেই শুরু হয়। আমিই তাকে প্রথম প্রস্তাব দিই। জুঁই সেটা ফিরিয়ে দিয়েছিল। পরে কী মনে করে যেন আবার রাজি হয়। প্রেম চলতে থাকে। ২০০৪ সালে ভালোবেসে দু’জনে বিয়ে করি। এখনো দু’জনে আগের মতোই সুখী। এখনো আমরা দু’জন দু’জনকে আগের মতোই ভালোবাসি। আমার যেটা সবসময় মনে হয়। একসঙ্গে থাকতে হলে বিশ্বাসটা অনেক জরুরি। দু’জন দু’জনার প্রতি বিশ্বাস না থাকলে কোনো সম্পর্কই টেকে না। আর কিছুটা সমঝোতা থাকতে হয়। ভালোবাসা থাকতে হবেই।’

জুঁই বলেন, ‘দু’জনার মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা না থাকলে সেই সংসার কখনো টিকে থাকে না। একটি সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মান-অভিমান থাকবেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, দু’জনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে হবে। কিংবা সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হবে। আমাদের মধ্যে সেই বিশ্বাস আছে এবং এটা থাকবে। আমরা দু’জন অনেক ভালো আছি।’

 

দু’জনা দু’জনাকে স্পেস দিতে হবে

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া-ফারুক হাসান

মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ভালোবেসে বিয়ে করেছেন ফারুক হাসানকে। ২০১৪ সালের ১৬ জুন দু’জনার ভালোবাসার পরিণতি বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হোন। অপার ভালোবাসার দু’জনায় এখনো একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। দু’জনার ভালোবেসে বিয়ে-সংসার রচনার রসায়ন বিষয়ে পিয়া বলেন, ‘আমাদের দু’জনার বিয়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। একই ছাদের নিচে দুজনে আনন্দে বসবাস করছি। বিয়ের আগে আট বছর তাকে চিনতাম। পরিচয়ের পর পাঁচ বছর প্রেম করে বিয়ে হয়েছে। দু’জনার সবকিছুতে স্বচ্ছতা রয়েছে। একজন আরেকজনকে যথেষ্ট স্পেস দেয় আমরা। ভালোবাসা মানে আমার কাছে স্পেস দেয়া। সারাক্ষণ আমি কী করছি, সে কী করছে এটা করলে সংসার টিকবে না। দু’জন দু’জনার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের মানসিক যোগাযোগটা রয়েছে। একটা সংসারের জন্য ভালোবাসার পাশাপাশি দু’জন দু’জনার প্রতি বিশ্বাস আর সম্মানটা থাকা জরুরি। এটাই আমাদের ভালোবাসার রসায়ন।’

 

পরস্পরকে বুঝে চলতে পারি

শতাব্দী ওয়াদুদ-স্নাতা শাহরিন

দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্যাক্রিফাইজ এবং সেটাকে ব্যালান্স করে চলা। যার কারণেই দাম্পত্য জীবনে আমরা অনেক সুখী। একসঙ্গে পথ চলতে গেলে ভুলত্রুটি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে একজন আরেকজনকে বুঝতে পারা এবং সে অনুযায়ী ব্যালান্স করে চলার মাঝেই সব সুখ নিহিত। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। স্নাতার বেলায়ও তাই। সেজন্যই পরস্পরকে খুব সহজেই বুঝতে পারি। দেখা গেছে স্নাতা নাচের কারণে অনেক সময় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শোতে প্রচুর সময় দিতে হয় তাকে। আমি জানি নিজে ফ্রি থাকলেও তাকে পাব না। স্নাতার বেলায়ও একই বিষয় ঘটে। এই বিষয়গুলো আমরা বুঝতে পারি বলেই ভালোবাসার এই লম্বা জার্নিতে একসঙ্গে হাতে হাত রেখে সুখের তরী বেয়ে চলছি। গত মাসের ১৮ তারিখ আমাদের একই দিনে শিল্পকলার দুই মঞ্চে শো ছিল। স্নাতার জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে আর আমার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে। শিল্পী দম্পতির জন্য এ বিষয়টা যে কত আনন্দের, তা বলে বোঝানো যাবে না। দাম্পত্য জীবনে পাহাড়সমান ভালোবাসায় আমাদের বসবাস হলেও দেখা গেছে ব্যস্ততার কারণে একে অপরকে সময় দিতে পারি না। এমনকি একসঙ্গে ভালোবাসা দিবসও পালন করতে পারি না। নিজের ব্যস্ততার কারণে প্রথম বিবাহবার্ষিকীও আমরা একসঙ্গে পালন করতে পারিনি। দশম বিবাহবার্ষিকীর বেলায়ও একই ঘটনা ঘটেছে। দেখা গেছে আমার ব্যস্ততার কারণে স্নাতা নিজেই চলে এসেছে শ্যুটিং সেটে। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে একে অপরকে বুঝতে পারার কারণে। আর এই বুঝতে পারা এবং বুঝে সে অনুযায়ী ব্যালান্স করে চলা সম্ভব হয়েছে আবেগপূর্ণ ভালোবাসার কারণে। আমাদের দু’জনের মধ্যে অনেক মিল। কারণ আমরা দু’জনই কুম্ভ রাশির। সেজন্যই মনে হয় পরস্পরকে বুঝে চলতে পারি। সবচেয়ে মজার বিষয় রাশির কারণে কিনা জানি না, তবে আমরা দু’জনেই রাগি। আমার রাগটা হয়তো প্রকাশ পায়, কিন্তু স্নাতার রাগটা চোখের মাঝে থাকলেও তার অন্তরালে ভালোবাসার ঢেউ খেলা করে। যেটা আমি সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। আমি খুশি স্নাতার মতো জীবনসঙ্গিনী পেয়ে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।