সম্পর্কে সন্তুষ্টি

কোনো মানুষই একশত ভাগ পরিপূর্ণ নয়। ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে একসঙ্গে পথচলায় এ বিশ্বাস যদি থাকে, ছোটখাটো দোষত্রুটি যদি ঢেকে ফেলা যায়, তাহলে সম্পর্কের বাঁধন পোক্ত করা সম্ভব। একজন আদর্শ সঙ্গীর স্বপ্ন কম-বেশি সবাই দেখে। প্রেম করার সময় যদিও ততটা আগপিছ ভাবা হয় না। তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে কাউকে পাশে পেতে সবার আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকে। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় সম্পর্কের বাঁধনে যুক্ত হওয়ার পর স্বপ্নভঙ্গ হতে বেশি সময় লাগে না। এটি দু’পক্ষের সঙ্গেই হতে পারে। আর সবার সঙ্গীর কাছে চাওয়া-পাওয়া এক হয় না। সঙ্গীর সব অভ্যাস পছন্দ না-ও হতে পারে। যখন কোনো সম্পর্কে বাঁধনে নিজেকে যুক্ত করবেন, তখন চিন্তা করতে হবে আপনার সঙ্গী যে সব দিক থেকে পারফেক্ট হবে তার কোনো মানে নেই আর এ রকম প্রত্যাশা থাকাও ঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রত্যাশা থেকেই মনোমালিন্য, অভিমান, ঝগড়াঝাঁটি শুরু। একে অপরকে দোষ দেয়া বা ভুল ধরা যেন প্রতিদিনের নিয়ম হয়ে যায়, এতে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে সম্পর্ক সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখার জন্য দু’জনকেই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 প্রেমিক-প্রেমিকা বা স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কগুলো জড়িয়ে আছে বাঁধনে। ঝগড়া হতেই পারে। তবে ঝগড়া মিটে গেলেও কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে বসবেন না। এতে অনেক সময় পুরনো সমস্যা উঠে আসতে পারে। এর চেয়ে সম্পর্কের মজবুত দিকগুলোর ওপর জোর দিন। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে দু’জনে ভালো বন্ধু হয়ে উঠুন। সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলুন। সঙ্গী ছাড়াও তার পরিবার, কাজ, শখ সম্বন্ধে জানতে চেষ্টা করুন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের শখের ব্যাপারেও তাকে জানান আর পরামর্শ নিন। একে অপরের বন্ধু এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করে ছোটখাটো ফ্রেন্ড সার্কেল গড়ে তুলুন। কাছের মানুষ, পছন্দ-অপছন্দ জানতে জানতে একে অপরের মনের কাছে পৌঁছে যাবেন। তবে মতের মিল যে সবক্ষেত্রে হবে তেমন নয়, মতের অমিল হলেই ঝগড়া করতে হবে এমন নয়। একে অন্যের কথাকে মূল্য দিতে চেষ্টা করুন।

সঙ্গীর কোন জিনিসগুলো আপনার ভালো লাগে তার ওপর গুরুত্ব দিন। তার খুঁত খোঁজার চেষ্টা না করাই ভালো। আর যদি নজরে পড়েই যায়, তাহলে শুধরে ফেলতে সাহায্য করুন। সত্যি বলতে সবকিছুই নির্ভর করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। আপনি যদি পজিটিভলি ভাবেন, আপনার আশপাশের লোকদেরও পজিটিভ আলোয় দেখতে পারেন। আমাদের ওপর নির্ভর করে আমরা আমাদের চারপাশকে কতটা সুন্দরভাবে সাজাতে পারি। সংসার বা সম্পর্ক দুটো সমান গুরুত্ব বহন করে। মনে সুন্দর আর পজিটিভ খেয়াল থাকলে সঙ্গীর ছোটখাটো ত্রুটিগুলো চোখেই পড়বে না। সম্পর্ক সুন্দর হবে। দাম্পত্য জীবনও অনেক বেশি উপভোগ করতে পারেন।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সঙ্গী একেবারে আপনার মনের মতো হবে এ রকম প্রত্যাশা রাখবেন না। আপনার সঙ্গী এবং আপনি সম্পূর্ণ আলাদা দু’জন মানুষ। তাই তার বেড়ে ওঠা পরিবার, পড়াশোনা, ধ্যান-ধারণা, অভ্যাস, চিন্তাভাবনা সবই আপনার থেকে আলাদা হতেই পারে। চোখের ভালোলাগা আর মানুষটির সঙ্গে মিশে তার ভালোমন্দ মিলিয়ে তাকে পছন্দ করা অন্য রকম। তাই সবকিছু সঙ্গীর আপনার মনের মতোই হবে তা ঠিক নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে সঙ্গী যেমন তেমনভাবেই গ্রহণ করলে দাম্পত্য সুখের হয়।

সম্পর্কের ছোট ছোট ভালোবাসার মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন। প্রেমের সম্পর্কের হাত ধরে দাম্পত্যে প্রবেশ করলেও প্রেমকে দূরে ঠেলে না দিয়ে বরং বাড়িয়ে তুলুন। কী পেলেন, কী পেলেন না তাই নিয়ে চিন্তা না করে আপনার কাছে যা আছে সেগুলো উপভোগ করুন পরিপূর্ণভাবে। একসঙ্গে যতটা সময় পাবেন ততটাই এনজয় করুন। প্রতিদিনের জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সপ্তাহে স্পেশাল প্ল্যান রাখুন। সিনেমা, টুকিটাকি শপিং, রাতের খাবার খেতে পারেন। সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যান করুন একসঙ্গে। সারাদিনের জন্য প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও বেড়িয়ে আসতে পারেন। সঙ্গীকে সময় দেয়া, সঙ্গে নিজের শখ, কাজ, পরিবার সবকিছুকে গুছিয়ে সময় দিন। উপহার পেতে সবারই ভালো লাগে। সঙ্গীকে বিশেষ দিন ছাড়াও উপহার দিন। কোথাও প্ল্যান করে ঘুরতে নিয়ে যান। সারপ্রাইজ করুন সঙ্গীকে। সম্পর্ক মজবুত করুন দুজনের চেষ্টায়।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।