বাচ্চার স্কুলে যাওয়া এবং আপনার দায়িত্ব

শীতের প্রকোপ বেশি হলেও থেমে নেই স্কুলজীবন। ছুটি শেষে একেক করে খুলে যাচ্ছে বাচ্চাদের স্কুল। অনেকেই কিন্ডারগার্টেনের খেলার ছলে পড়া শেষে প্রথমবার বড় স্কুলে পা দিচ্ছে। সেখানে তার পড়াশোনার ধরন, সময় তো বদলাবেই, সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাবে জীবনের পথচলা। অনেক নতুন নতুন জিনিসের সম্মুখীন হবে আপনার সন্তান। তাই ঘর থেকেই কিছু জিনিস আয়ত্ত করিয়ে দিন।

* প্রত্যেক স্কুলের নিজস্ব নিয়ম-পদ্ধতি থাকে। সেটা শুরু থেকেই বাচ্চাকে বোঝানো প্রয়োজন। ছাত্র-ছাত্রী হিসেবে স্কুলের নিয়ম-কানুন কোনটা সে করতে পারবে, কোনটা নয়, সবকিছুই খেলার ছলেই বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিন, যাতে স্কুলে তাকে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।

* বাচ্চাকে স্কুলে পাঠানোর সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ইস্ত্রি করা ইউনিফর্ম পরাবেন। বাচ্চার মধ্যে যদি একবার পরিচ্ছন্ন থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, দেখবেন ও নিজেই জামাকাপড়ের যত্ন নিতে শিখে যাবে।

* বাচ্চা যেন ইচ্ছা করে নিজের ইউনিফর্ম নোংরা না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অনেক বাচ্চাই অনেক সময় নিজের বা অন্যের ইউনিফর্মে আঁকাআঁকি করে থাকে, এ ধরনের অভ্যাস ভালো নয়। বাচ্চাকে ইউনিফর্মের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিন। যেন সে নিজেই নিজের ইউনিফর্মের যত্ন নিতে শেখে।

* বাচ্চা স্কুল থেকে ফিরে নিজের জামা-কাপড় যেন গুছিয়ে রাখে, সেদিকে নজর রাখুন। প্রথম কয়েকদিন আপনি দেখিয়ে দিন। তারপর ওকে করতে বলুন। প্রথম দিকে ভুল হলেও ধীরে ধীরে পেরে উঠবে। এভাবে নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখতে শিখবে।

* স্কুলে বাচ্চা যেন টিচারের কথা শোনে, সেদিকে কিন্তু আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। স্কুলে বাচ্চা কী রকম আচরণ করবে তার ভিত কিন্তু বাড়িতেই তৈরি হয়ে যায়। আপনি তো আর স্কুলে বাচ্চার সঙ্গে থাকবেন না, তাই বাচ্চাকে স্কুলের জন্য আগে থেকেই তৈরি করা ভালো। টিচারদের কথা শোনা, তাদের শ্রদ্ধা করা।

* টিচারদের পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করতে শেখান। সবাইকে নিজের বন্ধু ভাবতে শেখান। বাচ্চাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হতেই পারে। এতে গার্জিয়ান হিসেবে নিজেদের ইনভলভমেন্ট প্রয়োজন হয় না। তারা ভুলে যায় এবং নিজেরাই ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি মারামারি পর্যায়ে ব্যাপারটা গড়ায়, তখন আপনি সতর্ক হোন।

* ঘর থেকে নিজে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। টিফিন শেষ করতে ঝামেলা হবে না। আকর্ষণীয় মজার টিফিন দিন, যা আনপার বাচ্চা পছন্দ করে। টিফিন ভাগ করে খেতেও শেখান, এতে শেয়ারিং শিখবে।

* ক্লাসের পড়ায় মন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের অন্য সব অ্যাক্টিভিটিতে অংশগ্রহণ করতে মোটিভেট করুন। এতে স্কুলের সঙ্গে ওর ইনভলভমেন্ট বাড়বে। স্কুলে যেতে কান্নাকাটি করবে না। পড়াশোনা ছাড়াও অনেক কিছু শেখার সুযোগ হবে।

* খুব প্রয়োজন না হলে বাচ্চাকে স্কুল অনুপস্থিত দিতে দেবেন না। এ রকম হলে বাচ্চা স্কুলে না যাওয়ার সুযোগ খুঁজবে। স্কুলে রেগুলারিটি মেইনটেইন করা জরুরি।

* নিয়মিত বাচ্চার স্কুল ডায়েরি চেক করুন। টিচাররা সাধারণত লিখে দেন যে কী হোমওয়ার্ক করতে হবে। ডায়েরির সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন গুছিয়ে করিয়ে দিন। এভাবে করলে একসঙ্গে বেশি চাপ পড়বে না।

* নিয়মিত বাচ্চার টিচারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। বাচ্চা ক্লাসে কী রকম পারফর্ম করছে, সেটা জানা জরুরি। সেটা বুঝে বাচ্চাকে ঠিকমতো গাইড করতে পারবেন।

* বাচ্চা কখনো স্কুলে যাওয়া নিয়ে বেশি সমস্যা করলে জানতে চেষ্টা করুন- কেন যেতে চায় না? প্রয়োজনে টিচারদের সঙ্গে কথা বলে বাচ্চার সমস্যা বুঝুন এবং সেইমতো ব্যবস্থা নিন।

বাচ্চার ভালো বন্ধু হোন, স্কুলে পড়াশোনার প্রতি ভীতি তৈরি না করে তাকে সবসময় সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করুন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।