উজ্জ্বল রূপে প্রকৃতির ছোঁয়া

উৎসবমুখর এই সময়টাজুড়ে আমাদের সারা দিনের ব্যস্ততার পরও সেজেগুজে পার্টির জন্য প্রস্তুত হতে হয়, আবার ফিরে মেকআপ তুলে পরের দিন কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। প্রতিদিন এত কেমিক্যাল আপনার ত্বকের জন্য কি ভালো ফল বয়ে নিয়ে আনছে? আপনার ড্রেসিং টেবিলে নানা ধরনের বটল, জার, বক্সের অভাব নেই। ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার, মেকআপ কিট সবই আছে আপনার কসমেটিক্স ভাণ্ডারে। কিন্তু আপনার সেনসেটিভ স্কিনে কিছু লাগানোর আগেই কেমন যেন একটু ভয় সবসময়ই থাকে। রূপসজ্জায় ব্যবহৃত উপকরণ এদিক-সেদিক হলেই র‌্যাশ-চুলকানির উপদ্রব শুরু হয় স্কিনে। ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বা ত্বক ভালো রাখতে সহাযতা করতে পারে প্রাকৃতিক উপাদানের গুণসম্পন্ন অর্গানিক বিউটি প্রডাক্ট। আর শুধু বিউটি প্রডাক্টই কেন, অর্গানিক খাবার পোশাক-আশাক এবং নিত্য ব্যবহার্য ছোটখাটো জিনিসও প্রকৃতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ ফিরিয়ে আনতে পারে। কোনোরকম কৃত্রিম উপকরণ বর্জিত অর্গানিক প্রডাক্টস আপনার ত্বক এবং সারা শরীরের জন্য উপকারী।

ন্যূনতম রাসায়নিক ব্যবহার এবং অধিকাংশ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি রূপচর্চার সামগ্রীকে অর্গানিক বলা হয়। আমরা যেসব উপকরণ ত্বকে ব্যবহার করি, শেষে তা আমাদের শরীরেই পৌঁছায়। অর্গানিক প্রডাক্টের পক্ষে সহজ যুক্তি হচ্ছে, যা আমরা খাই না। তা ত্বকে কীভাবে লাগাতে পারি, প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের শরীর সহজে অ্যাবজর্ব করতে পারে, শরীরের সঙ্গে তা ভালোভাবে মিলেমিশে যেতে পারে এবং তার বেশিরভাগটাই পুষ্টিগুণসম্পন্ন। ফলে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি যে কোনো রূপচর্চার সামগ্রী ত্বকের পক্ষে স্বাস্থ্যকর, শুধু ত্বকই নয়, অর্গানিক প্রডাক্ট, পরোক্ষভাবে প্রকৃতিকেও সাহায্য করে। অর্গানিক প্রডাক্ট তৈরি করতে অর্গানিক উপকরণ লাগে, যা কেমিক্যাল সারের ব্যবহার ব্যতীত উৎপন্ন হয়।

 সেনসেটিভ ত্বকের ক্ষেত্রে অর্গানিক প্রডাক্ট কার্যকর। ক্ষতিকারণ কেমিক্যাল না থাকার দরুন কোনো ইরিটেশন বা র‌্যাশ দেখা যায় না। অর্গানিক প্রডাক্ট ত্বকে থাকা ছিদ্রগুলো আটকে দেয় না, ফলে ত্বক ভালো থাকে। অর্গানিক প্রডাক্ট ওয়াটার রেজিনেটেন্ট এবং অনেকটা বেশি সময় ত্বক হাইড্রেট রাখে। এর এসপিএফও হাই। ফলে রোদে বের হলেও ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ওটস বা কর্নমিলের সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন ফেশিয়াল স্ক্র্যাব। বডি স্ক্র্যাবের জন্য সি সল্ট এবং ভার্জিন অলিভ অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন খাঁটি নারকেল তেলের সঙ্গে রোজ অয়েল। ত্বকের ট্যান তোলার জন্য ব্যবহার করতে পারেন টকদই, মেকআপ তোলার সময় ব্যবহার করুন অলিভ অয়েল।

কোনো অর্গানিক প্রডাক্ট কেনার সময় প্রথমেই ভালো করে অর্গানিক সার্টিফিকেশন দেখে নিন। তারপর লেবেল দেখুন। সাধারণ অর্গানিক উপকরণগুলো তালিকার প্রথমদিকে অ্যাস্টরিক্স দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। অর্গানিক প্রডাক্টে পেট্রোকেমিক্যাল, সালফেটস, কৃত্রিম সুগন্ধি, প্রোপাইলিনের মতো উপকরণ থাকে না। যদি উপকরণের নাম দেখে চিনতে না পারেন, তাহলে অবশ্যই স্যাম্পল চেয়ে নিয়ে ত্বকে পরীক্ষা করে দেখুন। ত্বকে কোনো ইরিটেশন হলে অন্য প্রডাক্ট ট্রাই করুন।

খাবার-দাবারেও সতর্ক থাকুন। ঘরেই ছোট বাগান করে নিতে পারেন। ফল-সবজি বেশি খান। অনেক স্থানেই এখন অর্গানিক শাক-সবজি ইত্যাদি বিক্রয় করা হয়। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো একটু কষ্ট হলেও এ ধরনের খাবার কিনুন। প্রকৃতির কাছাকাছি নিজেকে করে তুলুন অপূর্ব।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।