মেকওভার নিয়েই কাজ করতে চাই

‘মেকওভার’ বিষয়টি খুব পরিচিত আমাদের সবার কাছে। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। এসব সময়ে নিজেকে একটু বেশি রূপময় করে তোলার জন্য টুকটাক মেকআপ সবাই করে থাকি। কিন্তু বিশেষ কিছু দিনে বিশেষ ধরনের মেকআপ করতে সবারই ভালো লাগে। সেক্ষেত্রে মেকআপ আর্টিস্টদের শরণাপন্ন হলেই ভালো হয়। এমনই একজন তরুণ মেকআপ আর্টিস্ট সেগুফতা আযমির সঙ্গে মেকআপ নিয়ে বেশকিছু আলাপচারিতা হয়। তা-ই তুলে ধরা হলো এ লেখায়-

আনন্দধারা : মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ইচ্ছাটা কখন থেকে?

সেগুফতা আযমি : মেকআপের প্রতি ভালোবাসাটা আমার ছোটবেলা থেকে। ছোটবেলায় নিজে নিজে প্রায়ই সাজতাম। আমার বন্ধুদের এবং আত্মীয়দের মধ্যে অনেকজনকেই সাজিয়ে নিতাম বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে যখন পড়ি ২০১৫ সালে, তখন এ কাজটাকেই সিরিয়াসলি নিলাম। তখন থেকেই একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার কথা ভাবছি।

আনন্দধারা : মেকআপ নিয়ে কি কোনো ধরনের কোর্স করেছেন?

সেগুফতা : যখন আমি প্রথম আমার পেজ খুলেছি ফেসবুকে, তখন আমি সবসময় খেয়াল করতাম কোথাও কোনো ওয়ার্কশপ হচ্ছে কিনা মেকআপ নিয়ে? ইউটিউবেও বিভিন্ন কাজ দেখে দেখে শিখতাম। আবার ঢাকায় বিভিন্ন দেশ থেকে মেকআপ আর্টিস্টরা যখন আসত, তখন তাদের ট্রেনিংগুলো আমি নেয়া শুরু করি। ২০১৭ বা ২০১৮ সালের দিকে আমি শ্রদ্ধেয় আফরোজা পারভিন ম্যামের যেই উদ্যোগ ‘উজ্জলা’, সেখানে ক্লাস করি। ‘উজ্জলা’তে আফরোজা পারভিন ম্যামের অধীনে আমি বেশ কয়েকটি কোর্স করি মেকআপ এবং হেয়ার স্টাইলিংয়ের ওপর।

আনন্দধারা : ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

সেগুফতা : আমার স্টুডিও থেকে এখন পর্যন্ত কেউ অখুশি হয়ে যাননি। যখন একজন ক্লায়েন্ট বা একজন ব্রাইড খুব খুশি হয়ে যান আমার কাজ দিয়ে, তখন অন্যদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাই। একজন ক্লায়েন্ট অ্যাপয়েনমেন্ট করার পরপরই আমি আগে থেকেই তার সঙ্গে তার বিয়ের কাপড় ও সাজ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে নিই। এতে করে ক্লায়েন্টেরও সুবিধা হয় তার চাহিদাটা আমাকে বোঝাতে। আমিও তখন সহজে ব্রাইডের পছন্দমতো তাকে সাজাতে পারি। আমি সবসময় ক্লায়েন্টের ড্রেসের কালারটা আগেই দেখে নিই, যাতে একটু প্রি-প্ল্যান করে রাখতে পারি। ক্লায়েন্টের পছন্দ আর আমার কাজ দুটোর সংমিশ্রণে একটা আউটপুট দেয়ার চেষ্টা করি সবসময়।

আনন্দধারা : হেয়ার স্টাইলিং এবং হেয়ার কাটিং নিয়ে কী প্ল্যান?

সেগুফতা : আমি ‘উজ্জলা’তে হেয়ার স্টাইলিংয়ের ওপর কোর্স করেছি। এখন পর্যন্ত আমার ক্লায়েন্টরা সবাই আমার কাছে হেয়ার স্টাইলিং করিয়ে খুব খুশি হয়েছেন। যখন পেজ খুলি, তখন আমি নিজেই হেয়ার স্টাইলিং করাতাম। এখন হেয়ার স্টাইলিংটা আমি আমার দু’জন সহযোগী যারা আছে, তাদের শিখিয়ে দিয়েছি। যখন বেশি সময়ের কাজ থাকে, তখন হেয়ার স্টাইলিংয়ের কাজটা আমার সহযোগীরা করে। আর হেয়ার কাটিং বা স্যালন করার খুব একটা ইচ্ছা আমার নেই। আমি বিভিন্ন ধরনের মেকওভার নিয়েই বিশেষভাবে কাজ করে যেতে চাই।

আনন্দধারা : আপনার স্টুডিও ‘মেকওভার বাই সেগুফতা’ কখন এবং কোথায় শুরু করেছেন?

সেগুফতা : ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি ধানমন্ডিতে আমার প্রথম স্টুডিও করি। ওটা ছিল আমার আত্মীয়ের বাসা। কিন্তু বাসায় মেকওভার করানোটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তাই আমি পরবর্তী সময়ে ওটা ছেড়ে দিই। তারপর আমি গুলশান-১-এর নিকেতন এলাকায় একটি কমার্শিয়াল স্পেসে আমার স্টুডিওটা পুনরায় চালু করি। বর্তমানে এটাই আমার কর্মক্ষেত্র ‘মেকওভার বাই সেগুফতা’।

আনন্দধারা : মেকআপ নিয়ে এখন পর্যন্ত আপনার অর্জন কী এবং সামনের ভাবনা কী?

সেগুফতা : আমার মনে হয় আমার এখনো অনেক কিছু অর্জন করার বাকি আছে। ইতোমধ্যে আমি মেকওভারের ওপর তিনটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা অনেক বড় পাওয়া আমার জন্য।

আনন্দধারা : কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সমর্থন কেমন?

সেগুফতা : আমি বিয়ের আগে যখন মেকওভার নিয়ে কাজ শুরু করি তখন আমার মা এবং আমার বড় বোন আমাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছেন। আর বিয়ের পর থেকে আমার স্বামীর সহযোগিতা ও সমর্থনই আমাকে আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।

আনন্দধারা : শুধু কি ব্রাইডাল মেকআপই করছেন?

সেগুফতা : আমি ব্রাইডাল মেকআপ ছাড়াও যাবতীয় সব ধরনের মেকওভারের কাজ করছি। যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানের থিম অনুযায়ী মেকওভার নিয়ে কাজ করছি। পাশাপাশি আমি বিভিন্ন টিভি প্রোগ্রাম ফ্যাশন হাউজের মেকওভারের কাজও করছি। সামনে আমি ‘ট্রেসেমি ফ্যাশন উইক’-এর কাজও করতে যাচ্ছি।

আমি মূলত সব ধরনের মেকওভার নিয়েই কাজ করে যেতে চাই এবং আমার ক্লায়েন্টদের জন্য আমি খুব আরামদায়ক একটি স্টুডিও করতে চাই, যেখানে তারা খুব আরামদায়কভাবে তাদের সার্ভিসগুলো নিতে পারব।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।