প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিকি

 

প্রকৃতির সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চে ভরপুর সিকিম। আমাদের দেশ থেকে দূরত্ব খুব বেশি নয়, তাই অল্প ছুটি হলেও ঘুরে আসা যায় সিকিম। সিকিমকে ট্রেকারস প্যারাডাইসও বলা হয়। ট্রেকিংয়ের অ্যাডভেঞ্চারে গা ভাসিয়ে দিতে পারেন সিকিম গিয়ে।

হিমালয়ের কোলে এক অনাবিল আভিজাত্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিকিম। সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে দেবে স্বর্গীয় সুখ। নেপাল, ভুটান, পশ্চিমবঙ্গ ও তিব্বতের দ্বারা পরিবেষ্টিত সিকিমের অন্যতম সেরা বায়ো-ডাইভার্স অঞ্চল।

সিকিমের পাহাড়ি খাঁজে ট্রেকিংয়ের রোমাঞ্চ মিস করার নয়। কাঞ্চনজঙ্ঘায় ট্রেকিং হতে পারে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা। থুকসাম থেকে জোংড়ি ট্রেক কিছুটা সহজে করা সম্ভব।

এপ্রিল-মে বা অক্টোবর-নভেম্বর ট্রেকিংয়ের সেরা সময়। নয়-দশ দিনের মতো সময় লাগবে। রোমাঞ্চ অনুভব করুন ৫০০২ মিটার উচ্চতার জোংড়ি থেকে গোয়েচা লা ট্রেক। ১১ দিন সময় লাগবে। ট্রেকিংয়ে অভ্যস্তরা কাঞ্চনজঙ্ঘা, বেস ক্যাম্প ট্রেক করতে পারেন। কাঞ্চনজঙ্ঘার ব্যাকগ্রাউন্ডে ট্রেকিং করতে গেলে নিজেকে অল্পবয়সী মনে হতে পারে। মাউন্টেনিয়ারিংয়ের জন্যও সিকিমের বিকল্প নেই।

পশ্চিম সিকিমের ফ্রেস পিক চওরিয়াং, মাউন্ট তিনচেনখাং, মাউন্ট জোপানু ইত্যাদি যুমথাংয়ের কাছে রুমথাংসে বা লাচেনের কাছে লামা আংতেন মাউন্টেনিয়ারিংয়ের পক্ষে ভালো।

সিকিমের আরেক সেরা অ্যাডভেঞ্চার মাউন্টেন বাইকিং। বাইকের সওয়ার হয়ে দার্জিলিং থেকে রেশি চলে যান। ওখান থেকে পেলিং। রাস্তায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা সঙ্গী কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালা। গন্তব্য রাবাংলা। রাবাংলা থেকে কিংটাম হয়ে সোজা গ্যাংটক। গ্যাংটক থেকে রাংপো যাওয়ার পথে দেখা যাবে তিস্তা নদী। বাইক রাইডিংয়ে অ্যাডভেঞ্চারাস ভ্রমণ।

এই অ্যাডভেঞ্চারে রিডার র‌্যাফটিংয়ের মতো দারুণ অভিজ্ঞতা উপভোগ করুন। তিস্তা নদী র‌্যাফটিংয়ের জন্য তো বটেই, কারা কিংয়ের জন্যও দারুণ। হোয়াইট ওয়াটার র‌্যাফটিংয়ের জন্য আসতে হবে রংগিত নদীতে। সিকিমে স্পেশালিস্ট হলো ইয়াক বা চমরিগাইয়ের পিঠে চড়ে ঘোরা। জোংড়ি অঞ্চল ও সোমগো লেক ইয়াক সাফারির জন্য বেশ জনপ্রিয় লোকেশন। ট্রাই করুন হ্যাং গ্লাইডিং।

অ্যারো স্পোর্টস ডেস্টিনেশন হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে সিকিম। প্যারা সেলিং বা প্যারা গ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাক্টিভিটির আদর্শ জায়গা ৩টি। এছাড়া ওয়াইল্ড লাইফ সাফারি উপভোগ করুন। প্রায় ৪ হাজার রকমের গাছপালা ও অনেক ধরনের পাখি দেখতে পাওয়া যাবে। হুইসলিং থার্শ, মিনিভেটস, ঈগলসহ প্রায় ৫৫০ রকমের পাখি পাওয়া যায় এখানে।

সিকিম আপনি বাইরোডেও যেতে পারেন আবার বাইএয়ারে ট্রাভেল করা যায়। কলকাতা গিয়ে তারপর কলকাতা থেকে বাগডোগরা যেতে হবে ফ্লাইটে। এরপর জিপ গাড়িতে গ্যাংটক চার ঘণ্টা। তারপর সিকিম পৌঁছতে ৬-৭ ঘণ্টা লাগবে। কলকাতা পৌঁছে ট্রেনেও যেতে পারেন শিলিগুড়ি, সেখান থেকে যাত্রা করতে পারেন সিকিমের উদ্দেশে। মার্চ থেকে জুন-সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর বেড়াতে যাওয়ার ভালো সময়। বৃষ্টির সময়টা একটু অলস হয়ে পড়ে। তবে এ সময়ও যাদের ভালো লাগে তারা যেতে পারেন। তবে অ্যাডভেঞ্চারটা মনঃপূত না-ও হতে পারে। ঠাণ্ডা থাকে তাই শীতের পোশাক সঙ্গে রাখতে হবে সিকিমের জন্য। প্রকৃতির সৌন্দর্যপ্রেমীরা মন ভরে উপভোগ করুন সিকিম। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হারিয়ে যান নিজের খেয়ালখুশিতে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।