‘আমি স্বাপ্নিক মানুষ, স্বপ্নের পথে হাঁটি’- লুবনা মরিয়ম

বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী। নাচ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে কক্সবাজারে ওশেন ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের একজন তিনি। সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন আনন্দধারার কার্যালয়ে। সেখানে রাফি হোসেনের সঙ্গে নৃত্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিস্তারিত কথা বলেন।

রাফি হোসেন : ওশেন ড্যান্সের আয়োজক কারা ছিল?

লুবনা মরিয়ম : নৃত্যযোগ, ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স ও এশিয়া প্যাসেফিকের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।

রাফি হোসেন : নৃত্যযোগ আসলে কী?

লুবনা মরিয়ম : এটি ঢাকার একটি সংগঠন। আমরা প্রায় ১০ বছর আগে ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সের এশিয়া প্যাসেফিকে যোগদান করেছি। আমাদের একটি এক্সিকিউটিভ বোর্ড রয়েছে। কিন্তু ওশেন ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল ও ওয়ার্ল্ড ড্যান্স ফোরামের বার্ষিক উৎসব করার জন্য নৃত্যযোগ থেকে ৪০ জনের একটি কমিটি করেছিলাম। এটি কোনো স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, সব ড্যান্সারের মিলিত একটি প্লাটফর্ম হলো নৃত্যযোগ। তবে এই প্লাটফর্মটি ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সভিত্তিক হলেও আমাদের নিজেদেরও অনেক কর্মসূচি রয়েছে।

রাফি হোসেন : এটা আপনাদের কততম আয়োজন ছিল?

লুবনা মরিয়ম : এবার প্রথমবার আয়োজন করলাম। এর আগেও অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে তা হয়ে উঠত না। যেমন, একবার রাজনৈতিক সমস্যার কারণে হয়ে ওঠেনি, একবার অনেকদূর এগোলেও আর্থিক সমস্যার কারণে হয়ে ওঠেনি।

রাফি হোসেন : আপনি কী এই আয়োজন প্রতি বছর করবেন?

লুবনা মরিয়ম : আসলে এটা আমার না, এটা নৃত্যযোগের আয়োজন। আমাদের এখানে সভাপতি হিসেবে আছেন আনিসুল ইসলাম হিরো। আর আমি ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সের এশিয়া প্যাসেফিকের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সহসভাপতির দায়িত্বে আছি। সেই সূত্রে আমি ওদের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে আছি। এছাড়া আমাদের এখানে সাতজনের একটি বোর্ড আছে। এই বোর্ডে তামান্না, হিরো, মুনমুন, তাবাসসুম, তমা রয়েছে। আর আমাদের নৃত্যযোগের সদস্য প্রায় ৪০০-৫০০ বেড়েছে। এসব সদস্য সারা দেশ থেকে যুক্ত হয়েছে। তারা এবার ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সে এসে দেখেছে, কীভাবে আমাদের নাচ আরো সমৃদ্ধ হতে পারে। এবার আসি তোমার প্রশ্নের উত্তরে। মূলত প্রতি বছরই ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স একটি বার্ষিক উৎসব করে থাকে। উৎসবটি একেক বছর একেক দেশে হয়ে থাকে। গত বছর দিল্লিতে হয়েছিল। সেখানে আমরা বাংলাদেশের নাম প্রস্তাব করলে তা গৃহীত হয় এবং সে কারণেই এবার আমরা আয়োজন করেছি। আমরা দেখেছি বিভিন্ন দেশের নিজস্ব নৃত্য উৎসব থাকলেও আমাদের এখানে নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সের এই উৎসবে আমরা নিজেদের একটি নৃত্য উৎসবের উদ্বোধন করব। সেজন্য ওশেন ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল নাম দিয়ে আমরা এটা আরম্ভ করলাম। মূলত এখানে একসঙ্গে দুটো প্রোগ্রাম হয়েছে। এটা বার্ষিক করার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু হয়তো প্রথম কয়েক বছর দ্বিবার্ষিক করতে হবে। কারণ পর্যাপ্ত তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। তবে প্রথমবার এত সফল হয়েছি আর এত প্রচার পেয়েছি যে আমরা অভিভূত হয়েছি। একটি কথা বলে রাখা ভালো, ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স শুধু নাচকে গুরুত্ব দেয় না। বরং নাচকে শেখা, নাচকে অনুভব করা এবং নাচ নিয়ে গবেষণাকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের কাজ চার ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো- ক্রিয়েশন অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন, রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেশন, ট্রেনিং ও সাপোর্ট। একজন নৃত্যশিল্পীর অনেক ধরনের সাপোর্ট প্রয়োজন হয়। আমাদের নৃত্যশিল্পীরা এই অনুষ্ঠান বা উৎসব থেকে দেখল সারাবিশ্বে নাচ নিয়ে পারফর্ম ছাড়া আরো অনেক কাজ হয়। আমরাও চাচ্ছি এখানের নৃত্যশিল্পীরাও তাদের বৃত্ত ভেঙে বের হোক। নাচ নিয়ে নানমুখী কাজ করুক। সেই লক্ষ্যে কিছু ওয়ার্কশপের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এটা বছরব্যাপী চলতে থাকবে।

রাফি হোসেন : এছাড়া আপনাদের আর কী কী পরিকল্পনা আছে?

লুবনা মরিয়ম : আমরা চাচ্ছি ওশেন ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল শুধু উৎসবে সীমাবদ্ধ না রেখে এখান থেকে নাচ নিয়ে গবেষণার কাজও করা হবে। এছাড়া আমরা স্থায়ীভাবে একটি ড্যান্স সেন্টার করতে চাচ্ছি। আমরা কিন্তু ওশেন ড্যান্স ফেস্টিভ্যালের আগে একটি ১৫ দিনের কোরিওগ্রাফি ওয়ার্কশপ করিয়েছি। এটা কক্সবাজারে করিয়েছি এবং এখানে মেন্টর হিসেবে একজন ইরানি নৃত্যশিল্পী ছিলেন। এই আয়োজনটি খুবই চমৎকার ছিল।

রাফি হোসেন : কোরিওগ্রাফি ওয়ার্কশপে কতজন অংশ নিয়েছিল?

লুবনা মরিয়ম : এতে বাংলাদেশ, ভারত ও হংকংয়ের নতুন প্রজন্মের ১৯ জন নৃত্যশিল্পী অংশ নেন। সেখানে কক্সবাজারের মনোরম পরিবেশে তারা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার মতো নাচ শিখেছে, নাচ নিয়ে গবেষণা করেছে। ছেলে-মেয়েদের এই সুযোগটা আমরা বছরব্যাপী দিতে চাই। ওরা মেবিনের প্রশিক্ষণে মুগ্ধ ছিল। তাই বারবার তাগাদা দিচ্ছে মেবিনকে আবারো আনার জন্য। এখন আমাদের যদি একটি ড্যান্স সেন্টার থাকত, তাহলে কাজ করতে সুবিধা হতো। আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর ১০০ বছর পূর্তিতে আকরাম খাঁ একটি ছোট্ট প্রডাকশন করবেন। তিনি আমাদের বলেছিলেন, ওটার ঘোষণা দিতে। আমরা কিন্তু ঘোষণা দিয়েছি।

রাফি হোসেন : আপনারা ড্যান্স সেন্টারটা কোথায় করতে চান?

লুবনা মরিয়ম : আমরা ওশেন মানে কক্সবাজারেই করতে চাই। আসলে প্রকৃতিতে জাদুকরী একটা ব্যাপার রয়েছে। তাই প্রকৃতির মাঝে যে কোনো শৈল্পিক কাজের মজা আলাদা। কারণ প্রকৃতি আমাদের মনের দুয়ারকে খুলে দেয়। একদিকে পাহাড়, একদিকে সমুদ্র- সব মিলিয়ে দারুণ ব্যাপার।

রাফি হোসেন : কবে থেকে এটার কাজ শুরু করছেন?

লুবনা মরিয়ম : সরকারকে বোঝাতে পারিনি, আমরা কী করতে চেয়েছি। সেজন্য হয়তো আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আমাদের আশ্বাস দিয়েও খুব একটা সহায়তা করেনি। হয়তো আগামীবার করবে।

রাফি হোসেন : আসলে সরকারের কিন্তু আগ্রহ রয়েছে, এজন্য কিছুটা সহযোগিতা কিন্তু করেছে-

লুবনা মরিয়ম : অবশ্যই কিছুটা সহায়তা তো পেয়েছি। যখন মন্ত্রী আমাদের অনুষ্ঠানে আসেন, উনি কিন্তু হতবাক হয়ে যান। এত বড় আয়োজন এবং এত দেশের মানুষ দেখে উনি বললেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

রাফি হোসেন : আমার মনে হয় অভিযোগ না করে সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন। যখন সরকারের সঙ্গে সমন্বয়টা ঠিকভাবে হবে, তখন অবশ্যই সরকার এগিয়ে আসবেন। আপনি কী মনে করেন?

লুবনা মরিয়ম : অবশ্যই, এজন্য কক্সবাজারকেও কিন্তু বিশ্বের মানুষ চিনতে পারবে। সেখানে যদি একটি ড্যান্স সেন্টার গড়ে ওঠে তাহলে আমাদের ট্যুরিজম কালচারটাও প্রসারিত হবে। কক্সবাজার কিন্তু পরিকল্পিত নয়, শহরটা বেশ হিজিবিজি হয়ে গেছে। তবে ইনানীর দিকটা আবার বেশ চমৎকার, অসম্ভব সুন্দর করে সাজানো এই এলাকাটা। এখানে যদি ওশেন ড্যান্স সেন্টারটা করা সম্ভব হয়, তাহলে কিন্তু পর্যটক আরো বাড়বে। আরো অনেক কিছু যুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে আমাদের এখন সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আর সেটা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে করতে হবে। শুধু সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নয়, পর্যটন মন্ত্রণালয়ও কিন্তু এগিয়ে আসতে পারে।

রাফি হোসেন : আপনাদের এই আয়োজন তো সেখানকার অর্থনীতিকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে-

লুবনা মরিয়ম : তা তো অবশ্যই। এই যে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে এত এত মানুষ সেখানে যাবে, সবার তো থাকা ও খাওয়ার ব্যাপার রয়েছে। এগুলো অবশ্যই সেখানকার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। হোটেল ব্যবসা আরো সম্প্রসারিত হবে।

রাফি হোসেন : ওসব এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে আপনাদের কাজ করার পরিকল্পনা আছে কী?

লুবনা মরিয়ম : আমাদের পরিকল্পনা কক্সবাজারের স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার। আমরা টুকটাক কিছু কাজ করেছিও। আমরা বান্দরবানের একটি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ওরা কিন্তু দারুণ পারফর্ম করেছে। আমরা ওদের কাজে মুগ্ধ হয়েছি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের নিয়েও কাজ করার ইচ্ছা আছে। আমাদের সাঁওতালদের খুবই ভালো একটি পারফরম্যান্স হলো।

রাফি হোসেন : এবার তো প্রথম করলেন। আমার বিশ্বাস এবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে আগামীবার আরো ভালো করতে পারবেন-

লুবনা মরিয়ম : আমরা গত আগস্ট থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। যদিও আমি থাকতে পারিনি। ব্যক্তিগত কাজে টরেন্টোতে চলে গিয়েছিলাম। তবে ১০-১২ জন নবীন নৃত্যশিল্পীর হাতে পুরো দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলাম। অনলাইনে টুকটাক যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু আমি সবসময় ওদের বলেছি, তোমরা নিজেরা কর, নিজেদের মতো করে কর। ওরা খুবই চমৎকার কাজ করেছে। ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, মোট কথা সবকিছুই ওরা করেছে। এটা আমার কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে যে, একদল নবীন নৃত্যশিল্পী সব কাজ শিখে নিয়েছে। এখন আমরা না থাকলেও ওরা সব কাজ চালিয়ে নিতে পারবে। ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্সও ওদের চিনে গেল।

রাফি হোসেন : আমরা যখন প্রফেশনালি কোনো কাজ করতে যাই, সেখানে ক্ল্যাসিক্যাল ড্যান্সার পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। কিন্তু অনেকদিন তো হয়ে গেল ড্যান্স হচ্ছে। তারপরও আমরা কেন পাচ্ছি না?

লুবনা মরিয়ম : প্রথমত, ভালো প্লাটফর্মের অভাব। ভারতবর্ষ থেকে নাচটা এসেছে। ওখানের প্রতিটি শহরে বছরজুড়ে নাচ নিয়ে কাজ হচ্ছে, গবেষণা হচ্ছে, উৎসব হচ্ছে, প্রতিযোগিতা হচ্ছে। ফলে সেখানকার নৃত্যশিল্পীরা নিয়মিত পারফর্ম করার সুযোগ পাচ্ছেন। বলতে গেলে সারাবছরে ৩০-৪০টা ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। আমাদের এখানে কিন্তু বলার মতো কোনো ফেস্টিভ্যাল নেই। ছায়ানট অবশ্য এমন একটি আয়োজন শুরু করেছে। কিন্তু তা ক্ষুদ্র পরিসরে। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমি একটি করে। তবে এসব আয়োজন বছরজুড়ে সারাদেশে হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। কারণ কিছু শিখতে হলে পারফরম্যান্স সেরা প্লাটফর্ম। এখন কেউ যদি নাচ শিখে মঞ্চকে ভালোবাসতে না পারে, মঞ্চে পারফর্ম করতে না পারে, তাহলে নাচ শিখে লাভ হলো কী! আমাদের এখানে কিন্তু ভালো মানের নৃত্যশিল্পী আছে বা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু তারা মঞ্চ পাচ্ছে না। সে কারণেই ভালো পারফরমার আমরা পাচ্ছি না।

রাফি হোসেন : তাহলে এর জন্য আমাদের কতদিন সময় লাগতে পারে?

লুবনা মরিয়ম : কাজ তো আর দিন বা মাস হিসাব করে হবে না। আমাদের নৃত্য স্কুলগুলো ভালো কাজ করছে। তবে তাদের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। আর একটা ছেলে-মেয়েদের পারফরম্যান্স করতে দিতে হবে। তাদের কাজকে সামনে আনতে হবে। দেখা যায়, যে কোনো নাচের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যায় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান। কিন্তু ছোটদের বা নতুনদের সুযোগ না দিলে ওরা শিখবে কীভাবে। তাদের সুযোগ দিতে হবে। তবেই না নতুন পারফরমার তৈরি হবে। এছাড়াও আমাদের এখানে ক্ল্যাসিক ড্যান্সের যে আরো অনুষঙ্গ আছে সেগুলোও অনুপস্থিত। যেমন এখানে ভালো তবলাবাদক নেই। যদিও বেঙ্গল চেষ্টা করছে। আমরা ওদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, শুধু গানের সঙ্গে তবলা বাজাতে হবে কেন, নাচের সঙ্গেও বাজাতে হবে।

রাফি হোসেন : আপনারা যে আয়োজন করছেন বা যে ড্যান্স সেন্টার করতে চাচ্ছেন, সেখানে নিশ্চয় এসব আয়োজন রাখবেন?

লুবনা মরিয়ম : আমাদের পরিকল্পনা তো এসব কিছু নিয়েই। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আমরা নাচ নিয়ে গবেষণার কাজও করব। যেমন এবারের আয়োজনে আমাদের চারদিনের চারটি কী নোট বক্তৃতা ছিল। তৃতীয় দিনে লোক পরিবেশন থেকে পদ্মার নাচন করে সেরেবুল ইসলামকে ডেকেছিলাম। সেরেবুল এত ভালো নাচ, গান, থিয়েটার করে সবাই ওর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ছিল। দেশের বাইরে থেকে যারা এসেছিল, ওরা তো হতবাক ছিল। আমার মনে হয় আমাদের নিজেদের মধ্যেও অনেক সম্পদ রয়েছে, যা এখন পর্যন্ত আমরা তুলে ধরতে পারিনি। আমাদের নাচের চর্চা করতে পারছি না। আমরা মূলত না পারা জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করতে চাই। যদি ওশেন ড্যান্স সেন্টার হয়।

রাফি হোসেন : অবশ্যই হবে, কারণ মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। প্রয়োজন সঠিকভাবে কাজ করে যাওয়া-

লুবনা মরিয়ম : আমি তোমার সঙ্গে একমত। আমাকে একবার লীলা বলেছিল, আমি নাকি একজন স্বাপ্নিক মানুষ। সত্যি আমি স্বাপ্নিক মানুষ এবং আমি স্বপ্নের পথ ধরে হাঁটি। আসলেই যদি স্বপ্ন না দেখি, তাহলে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কী করে।

রাফি হোসেন : আমি বলেছিলাম, শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। সেটা বাস্তবায়নের জন্য মাঠে নামতে হবে। বসে থাকলে তো আর চলবে না।

লুবনা মরিয়ম : তা তো অবশ্যই করতে হবে। আমরা স্বপ্নের বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করব। নতুন নৃত্যশিল্পীরাও আমাদের সঙ্গে থাকবে। সত্যি কথা বলতে গেলে, আমরা শুধু ড্যান্স সেন্টার করব না। আমরা ড্যান্স অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ গড়ে তুলতে চাইছি।

রাফি হোসেন : আমরাও চাই আপনার স্বপ্ন পূরণ হোক। আপনার নেতৃত্বে আমাদের নৃত্য এগিয়ে যাক সেটাই প্রত্যাশা করি।

লুবনা মরিয়ম : আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। আর একটা বিষয় আমাকে বলতেই হবে, তা হলো মিডিয়ার কথা। মিডিয়া আমাকে আশাতীতভাবে সমর্থন করেছে।

রাফি হোসেন : দ্য ডেইলি স্টারও আপনাদের পাশে ছিল। আসলে আপনাদের কাজ ভালো হয়েছে। আর ভালো কাজের সঙ্গে মিডিয়া থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক।

লুবনা মরিয়ম : পাশে থাকার জন্য দ্য ডেইলি স্টারকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা। এছাড়া প্রায় সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এটার কাভারেজ প্রচার ও প্রকাশ করেছে। আমি তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। আসলে কক্সবাজারে গিয়ে সেখানে চার-পাঁচদিন থেকে এভাবে আমাদের সংবাদ প্রচার করা- এটা অনেক বড় পাওয়া।

রাফি হোসেন : আপনাকে এবং আপনাদের পুরো ইউনিটকে ধন্যবাদ এত বড় একটি কাজ করার জন্য। আগামীতে আরো ভালো কাজ করবেন সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লুবনা মরিয়ম : তোমাকেও ধন্যবাদ।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup