আমি খুবই আশাবাদী- তানজিন তিশা

বর্তমান সময়ের আলোচিত এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। টেলিভিশন নাটকে ক্যারিয়ারের স্বল্প সময়ে নিজ প্রতিভায় অভিনয়ে নিজেকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন এ অভিনেত্রী। শুরু হয়েছে নতুন বছর, নতুন ভাবনা আর নতুন পরিকল্পনা। সবকিছু মিলিয়ে নতুন বছরকে আরো ভালোভাবে সাজাতে চান সবাই। তবে নতুন বছরের পরিকল্পনা জানার আগে বিগত বছর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তানজিন তিশা বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে গত বছরটি আমার অনেক ভালো কেটেছে। আমি মনেপ্রাণে একটা কথা বিশ্বাস করি যে পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না। বিগত বছরে আমি অনেক পরিশ্রম করেছি এবং তার ফলাফল পেয়েছি। দর্শকরা আমার কাজকে ভালোবেসে গ্রহণ করে আমার পরিশ্রমকে সার্থক করেছেন।’ বিগত বছর সম্পর্কে তিশা আরো বলেন, ‘২০১৯ আমার জন্য লাকি একটা বছর ছিল। গত বছরে এক্স বয়ফ্রেন্ড, এক্স গার্লফ্রেন্ড ও অবুঝ দিনের গল্প নামে তিনটি নাটক আমার কোটি দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। দর্শকের এই ভালোবাসায় আমি অভিভূত।’

নাটকের বর্তমান অবস্থান অনেক ভালো। সময় ও সুযোগের কারণে নাটক দেখার প্লাটফর্ম ভিন্ন হলেও মানুষ এখন প্রচুর নাটক দেখছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের নাটক বাংলা ভাষাভাষী সবার কাছে এখন পছন্দের তালিকায়। পাশের দেশের মানুষজনের কাছেও তাদের সিরিয়ালের চেয়ে আমাদের নাটকের গ্রহণযোগ্যতা বেশি বলেই মনে করেন তিশা। তিনি আরো বলেন, যেকোনো ক্ষেত্রেই নানা প্রতিকূলতা বা প্রতিবন্ধকতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সবকিছু অনুকূলে নিয়ে আমাদের নাটক বর্তমানে ভালো অবস্থানে আছে এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো অবস্থানে যাবে আমার বিশ্বাস।

বিগত বছরে অর্ধশতাধিকেরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা। অভিনয়ের এ ব্যস্ততার মাঝে নিজ অভিনীত চরিত্রগুলো নিয়ে কখন ভাবা হয় এমন প্রশ্নে তিশা বলেন, ‘আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি প্রতিটি চরিত্রের মাঝে নতুনত্ব আনতে। প্রতিনিয়ত আমি শিখছি। যখন ব্যতিক্রম কোনো গল্পে কাজ করা হয়, তখন সে নাটকের চরিত্র নিয়ে আমি স্টাডি শুরু করি। গল্পের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে প্রস্তুত করার ভাবনাগুলো পরিচালকের সঙ্গে শেয়ার করি। পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে নিজের ভাবনার সংযোজন করে গল্পের সেই চরিত্র অনুযায়ী ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি।’

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন নাটেকের পর্দায় বেশ ভালোভাবেই কাজ করছেন বেশকিছু হিরো। কিন্তু দেখা গেছে গত এক বছরে তানজিন তিশা যতগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন, এর বেশিরভাগ নাটকে তার সহশিল্পী আফরান নিশো। সহশিল্পী বা জুটি হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে কমফোর্ট জোন থেকেই কি একসঙ্গে কাজ করা হয়? এমন প্রশ্নে তিশা বলেন, জুটিপ্রথা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে এটা নতুন করে সৃষ্টি হয়নি। জুটি নির্ধারণ করেন দর্শকরা। তারা পছন্দ করেন বলেই আমাদের একসঙ্গে কাজ করা হয়। আর সেই কারণের পরিচালক, প্রযোজক আর চ্যানেলগুলো দর্শক চাহিদায় শিল্পী নির্বাচন করে। তবে আমি সবার সঙ্গেই কাজ করতে কমফোর্ট ফিল করি।

নাচের মেয়ে হলেও শুধু নাচ, গান আর সাজসজ্জানির্ভর নায়িকা হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তিশার। নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবেই বড় পর্দায় দেখতে চান এ অভিনেত্রী। বড় পর্দার ডাক এলেও সে ডাকে সায় দেয়ার আগেই নিজের চাওয়াতেই অটুট তিশা। তিনি বলেন, বর্তমানে আমার কাজ এবং দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে বড় পর্দায় কাজ করা সব শিল্পীর কাছেই স্বপ্ন। আমিও সে স্বপ্ন দেখি। তবে নিজেকে নিজের চাওয়া অনুযায়ী সিনেমায় তুলে ধরা বা সিনেমার চাওয়া অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে পারছি কিনা সে ভাবনাটা আমার মাঝে সবসময় কাজ করে। নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করতে অভিনয়নির্ভর ভালো গল্পের সিনেমায় অবশ্যই কাজ করব।’

নতুন বছরের দিনপঞ্জিকায় চলতে থাকা প্রতিটি সময়ের সঙ্গে নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করে চলেছেন এ অভিনেত্রী। নতুন বছরের পরিকল্পনার কথা শেয়ার করতে গিয়ে তিশা বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা কেউই জানি না। তবে আমি খুবই আশাবাদী। আশা করছি নতুন বছর ইনশাআল্লাহ আরো ভালো হবে। নতুন বছরের সঙ্গী নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাওয়ায় তিশা বলেন, বিয়ে নিয়ে আপাতত কোনো ভাবনা নেই। যখন বিয়ে করব তখন সবাইকে জানিয়েই করব। এখন আমার সব ভাবনা বা পরিকল্পনা- সবকিছুই আমার অভিনয় নিয়ে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।