মুগ্ধকর গানগুলো ছুঁয়ে গেছে সবাইকে

‘গহীনের গান’ সিনেমার সবচেয়ে বড় পাওয়া এই ছবির সংলাপ। মনে গেঁথে থাকবে অনেক দিন, অনেক বছর। জীবনের ভেতর ডুব দিয়ে তুলে আনা সংলাপ মুগ্ধ করে রাখবে। কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর অভিনীত প্রথম সিনেমা। তার গাওয়া ৯টি আলাদা গানকে একই ফ্রেমে গেঁথেছেন পরিচালক সাদাত হোসাইন। সেই ফ্রেম কখনো আনন্দের, কখনো বিষণ্নতার।

সিনেমা দেখতে গিয়ে মনে হবে অনেক গানের সমাহার। তবে গানগুলো গল্পের সঙ্গে মিলেমিশে আছে নিবিড়ভাবে। একজন মানুষের জীবনের অনেক গল্পের কিছুটা উঠে এসেছে সিনেমায়। সেটা সুনিপুণভাবে বুনেছেন পরিচালক। সেই গল্পটা কীভাবে যেন আমাদের সবার হয়ে ওঠে। গল্পের ভেতর একজন কণ্ঠশিল্পীর জীবন আমরা দেখতে পাই। তার কাছে গান নাকি ভালোবাসা কোনটা আগে এ বিষয়ের দ্বিধা জমা হয়। আসলে কী তার উত্তর খুঁজে পায় তারা। নাকি জীবনভর সেই উত্তর খুঁজে যেতে হয়।

এক গল্পের টানে আরো কিছু গল্প এসে সামনে দাঁড়ায়। আমরা খুঁজে পাই আরেকজন বৃদ্ধ চিত্রশিল্পীকে। যে তার স্ত্রী হারিয়েছেন অনেক বছর আগে। সন্তানদের ছোট থেকে বড় করেছেন। সেই সন্তানরা এখন দেশের বাইরে। সবাই এখন ব্যস্ত। এখন একাকী জীবন তার।

কণ্ঠশিল্পী, চিত্রশিল্পী সবার গল্প একরেখায় এসে দাঁড়ায়। মিলেমিশে যায় তাদের জীবন। আলাদা করতে পারা যায় না। শিল্পীর খুব কাছের আসলে কে? তার ভালোবাসার মানুষ নাকি তার সৃষ্টি। এই দ্বন্দ্ব থেকে যায়, থেকে যাবে আজীবন।

মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘গহীনের গান’ সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক সাদাত হোসাইন। ছবির সংলাপের কারণে অনেকদিন থেকে যাবেন দর্শকের হৃদয়ে। তবে সিনেমার গতি কিছুটা ধীরগতির মনে হয়েছে। গল্পে কিছুটা গতি নিয়ে আসতে পারলে মন্দ হতো না।

প্রথমবারের মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন আসিফ আকবর। অভিনয় করার চেষ্টা করে গেছেন, তবে কিছু জায়গায় খুব ম্লান মনে হয়েছে। তখনই একজন অভিনেতা আর কণ্ঠশিল্পীর মধ্যে পার্থক্য প্রকট হয়ে দেখা গেছে। ১০০ ভাগ উতরাতে পারেননি। তবে তার মুগ্ধকর গানগুলো ছুঁয়ে গেছে সবাইকে।

হাসান ইমাম সবসময়ের জন্য অনবদ্য। তার অভিনয় অভিব্যক্তি একাকিত্ব ছুঁয়ে গেছে সবাইকে। চরিত্রের কতটা গভীরে ঢুকলে এমন অভিনয় করা সম্ভব সেটাই প্রশ্ন।

তানজিকা আমিন অভিনয়টা মন্দ করেননি। তবে বাসার মধ্যে এভাবে সেজেগুজে থাকার মানেটা অজানাই থেকে গেছে। পরিচালক কেন এদিকে মনোযোগ দিলেন না বোঝা গেল না। তমা মির্জা চরিত্রের গভীরে ঢুকে গেছেন, এটা তার অভিনয়ে প্রমাণ দিয়েছেন। আমান রেজা নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন কাজী অফিস ও তুলনা আল হারুন মন্দ করেননি।

সিনেমায় স্থান পাওয়া আসিফ আকবরের গাওয়া গানগুলোর মধ্যেÑ বাবা, ‘তোর জন্য কান্না পাচ্ছে খুব’, ‘আমি তোমার জন্য বাঁচি’, ‘এমনও বরষা’, ‘দিন কাটে তাহার স্মরণে’ গানগুলো মনে থাকবে অনেক দিন। ৯টি গানের বেশির ভাগই লিখেছেন, সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন তরুণ মুন্সী। দুটি গান লিখেছেন রাজীব আহমেদ আর একটি লিখেছেন পরিচালক নিজে। ‘বন্ধু তোর খবর কী রে’ গানটির সুর করেছেন পল্লব সান্যাল ও সংগীত পরিচালনা করেছেন পার্থ মজুমদার। বাংলাঢোল প্রযোজিত এই সিনেমাটির ব্যাপ্তি পৌনে দুই ঘণ্টা। ছবির শক্তিশালী দিকটি সিনেমাটোগ্রাফি। বিদ্রোহী দীপন মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন ক্যামেরা হাতে।

পুুরো ছবির আবহসংগীত ছিল বেশ প্রশংসনীয়। আবহসংগীত দিয়ে এক অন্যজগতে নিয়ে চলে যান রেজাউল করিম লিমন। লিমন রোজারিও বেশ ভালোই করেছেন সম্পাদনার কাজটি। ছবিটির কালার গ্রেডিংয়ের মান বেশ উন্নত ছিল। ছবির লোকেশনগুলো বেশ নান্দনিক, কস্টিউম ডিজাইন ছিল বেশ সাবলীল।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।