‘গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি’

জ্যোতিকা জ্যোতি ২০০৫ সালে সারাহ কবরীর পরিচালনায় ‘আয়না’র মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। এরপর বেলাল আহমেদ পরিচালিত ‘নন্দিত নরকে’ এবং তানভীর মোকাম্মেলের ‘রাবেয়া’, ‘জীবন ঢুলি’, মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত ‘অনিল বাগচির একদিন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিছুদিন আগে কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে মাসুদ পথিক পরিচালিত ছবি ‘মায়া- দ্য লস্ট মাদার’ নামের চলচ্চিত্র। নিজের মুক্তি পাওয়া ছবিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন-

আনন্দধারা : সম্প্রতি আপনার অভিনীত ‘মায়া’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই?

জ্যোতিকা জ্যোতি : শিল্পী হিসেবে অভিনয়ে শতভাগ দিতে ভালো লাগে। চাইলেও অনেক ছবিতে সে ধরনের কাজের সুযোগ থাকে না। এই ছবির নির্মাতা মাসুদ পথিক আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। যেজন্য আমার চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি। গল্প-চরিত্র মিলে ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী। মুক্তির প্রথম দিনে ভালোই সাড়া মিলেছে। দুপুরে রাজধানীর বলাকা সিনেওয়ার্ল্ডে ছবির প্রিমিয়ার শোতে অংশ নিয়েছি। সেখানকার উপস্থিত দর্শকরা ছবিটি নিয়ে বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আনন্দধারা : ছবিটি দর্শক কেন দেখবে বলে আপনি মনে করেন?

জ্যোতিকা জ্যোতি : একটি পেইন্টিং ও কবিতা থেকে একটা ছবি হতে পারে, এ আইডিয়া চমৎকার। অনেকে ভেবেছিলেন বোরিং কিছু একটা হবে। কিন্তু তা নয়। এই ছবিতে একজন বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু, গ্রাম ও শহরকে পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছেন নিপুণভাবে। এ কারণেই ছবিটি দর্শকের দেখা উচিত বলে আমার ধারনা।

আনন্দধারা : ছবিতে আপনার চরিত্রের নাম ‘মায়া’। মায়া হয়ে ওঠার গল্পটি কেমন ছিল?

জ্যোতিকা জ্যোতি : নাটক কিংবা চলচ্চিত্র যা-ই হোক, আমি সব সময় চরিত্রের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করি। মায়া চরিত্রের প্রয়োজনে ১৫ থেকে ২০ দিন চুলে কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করিনি। একজন কৃষকের মেয়ে যেমন থাকেন, ঠিক তেমনটাই করার চেষ্টা করেছি। এই ছবির মায়া ঘর-গৃহস্থালি থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, সবই করে। ছবিটির দৃশ্য ধারণ হয়েছে নরসিংদীর রায়পুরায়। সেখানে যে বাড়িতে আমরা কাজটি করেছি, সেখানে সবার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম। গ্রামের অন্যান্য বাড়ির মেয়েদের কাছ থেকে পুরনো শাড়ি সংগ্রহ করেছি। মেকআপ ছাড়া অভিনয় করেছি।

আনন্দধারা : বাস্তবে কখনো কৃষিকাজ করেননি। ছবিতে এমন চরিত্রে অভিনয় করতে অসুবিধা হয়নি?

জ্যোতিকা জ্যোতি : এটি এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। আর এমন চরিত্রে আগে অভিনয়ও করিনি। আমি গ্রামে বড় হয়েছি। এই ছবির চরিত্রগুলো আমার চেনা-জানা। ফলে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি। জীবনে কখন কী পরিস্থিতি আসে, সেটা বলা যায় না। সব সময়ই গ্রামে স্থায়ী হতে চেয়েছি। কৃষি আমার পছন্দের কাজ, এটা করতে আমার মন চায়। যখন অভিনয় ছেড়ে দেব, তখন গৌরীপুরে গিয়ে কৃষিকাজ করব। পারিবারিকভাবে আমরা ভাই-বোনেরা সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আনন্দধারা : কলকাতায় মুক্তি পাওয়া ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ ছবির বিষয়ে জানতে চাই?

জ্যোতিকা জ্যোতি : ছবিটা কলাকাতার দর্শকদের কাছে অনেক প্রশংসিত হয়েছে। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি সেখানে ছবিটা নিয়ে। শ্রীকান্ত অবলম্বনে হলেও এটি মৌলিক গল্পের ছবি। আগে সুচিত্রা সেন-শাবানার মতো অভিনেত্রীরা রাজলক্ষ্মী হয়েছিলেন। শরৎচন্দ্র যেভাবে রাজলক্ষ্মীকে লিখে গেছেন, সেই রাজলক্ষ্মীর মনের ভাষা ঠিক রেখে পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য এটাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমার খুব ভালো লাগবে ছবিটা বাংলাদেশে মুক্তি পেলে। ছবির গানগুলো ইউটিউবের মাধ্যমে অনেকেই পছন্দ করেছে। আমার জায়গা থেকে আমি অনেক আনন্দিত।

আনন্দধারা : নতুন বছরে কোন জায়গায় নিজেকে দেখতে চান?

জ্যোতিকা জ্যোতি : ২০১৯ সালটি ছিল আমার জন্য খুবই আনন্দের। কারণ এ বছরে আমার কলকাতায় অভিষেক হয়েছে। পাশাপাশি বছরের শেষ ছবি হিসেবে আমার ‘মায়া’ মুক্তি পেয়েছে। ফলে স্বভাবতই ২০২০ সাল নিয়ে অনেক আশাবাদী। এ বছরে যা করতে পারিনি, আগামী বছর তা করব- এই ভাবনা নিয়েই এখনো আছি।

 

অনুলিখন : রওনাক ফেরদৌস 

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।