থ্রিডি প্রিন্টার

বর্তমানে প্রযুক্তির একটি বিস্ময়কর উদ্ভাবনের নাম থ্রিডি প্রিন্টার। এতদিন আমরা কেবল টুডি তথা দ্বিমাত্রিক প্রিন্টিংয়ের সঙ্গেই পরিচিত ছিলাম। অর্থাৎ যেকোনো জিনিসের প্রতিলিপি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা কেবল দৈর্ঘ্য ও প্রস্থই পেতাম, উচ্চতা পেতাম না। থ্রিডির কল্যাণে এখন উচ্চতাও পাওয়া যাবে। অর্থাৎ কোনো জিনিসকে আমরা বাস্তবে যেমন দেখি, থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে তার প্রতিলিপি করলে হুবহু সে রকমই হবে। এটি মূলত বিশেষ একটি ত্রিমাত্রিক মুদ্রণযন্ত্র। মানুষের কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, যেমন- বৃক্ক কিংবা হাত-পা ছাড়াও অস্ত্র, যানবাহন, শিল্পকর্মের প্রতিরূপ তৈরি, গহনা প্রস্তুত, পাদুকা শিল্প, স্থাপত্য, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিজাইন, অটোমোটিভ, প্রকৌশল ও নির্মাণ, শিক্ষা, মহাকাশ, দন্ত্য ও চিকিৎসাশিল্প, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা, পুরকৌশলসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব। এর দ্বারা ডিজিটাল অনুরূপ থেকে ত্রিমাত্রিক কঠিন বস্তু হুবহু তৈরি করা যাবে। প্রতিলিপি তৈরি করতে প্রথমে কম্পিউটার সহায়ক সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়। তারপর প্রিন্টারে সিএডি ফাইল পাঠানো হয়। মোটরের মাধ্যমে এর প্লাস্টিক ফিলামেন্টে প্লাস্টিক গলিয়ে একটি সরু মুখ দিয়ে বের করা হয়। প্রিন্টারটি তরল পদার্থ, গুঁড়ো বস্তু, কাগজ কিংবা ধাতুর স্তর তৈরি করে এবং পর্যায়ক্রমে কাঙ্ক্ষিত বস্তুর একটি অনুরূপ গঠন করে দেয়। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামী কয়েক দশকে আমাদের জীবনযাত্রায় অভাবনীয় পরিবর্তন চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান একটি শটগানের রেপ্লিকা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। মূল শটগানটি ১৯১১ সালে তৈরি করা হয়েছিল। তবে থ্রিডি প্রিন্টারে অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক। বিখ্যাত কোনো ভাস্কর্যের রেপ্লিকা তৈরি করতেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। ইতোমধ্যে কানাডায় প্লাস্টিক ও স্টিল ব্যবহার করে একটি ত্রিমাত্রিক মোটরগাড়ি তৈরি করা হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে। তৈরি করা হয়েছে গাড়ির সিটও। এছাড়াও সাইকেল ও মোটরসাইকেলও তৈরি করা গেছে অনায়াসে। এর ব্যবহারে কোনো বস্তুর অনুরূপ আরেকটি বস্তু তৈরি করতে সময় বেশ কম লাগে বিধায় বিভিন্ন অলঙ্কার তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রিন্টিং প্রযুক্তি। থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে একটি গয়না থেকে সহজেই শত শত প্রতিরূপ তৈরি করা সম্ভব। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায়, কৃত্রিম হাত-পা তৈরিতে ব্যাপক সফলতা এসেছে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করে। নিখুঁতভাবে স্থাপনযোগ্য কৃত্রিম হাত-পা তৈরিতে এটি বিশেষভাবে সফল হয়েছে। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ তৈরিতেও সক্ষম থ্রিডি প্রিন্টার। এমনকি মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য খুঁটিনাটি সামগ্রী পর্যন্ত তৈরি করতে পারবে এটি। শিশুদের সাধারণ খেলনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের জটিল খেলনা তৈরিতেও ইতোমধ্যে থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়েছে। তৈরি হচ্ছে বিয়ের গাউনও। এটি দিয়ে রঙিন টুপি কিংবা কাউহ্যাট প্রস্তুত করে দেখিয়েছেন পারদর্শীরা। বাদ যায়নি হাইহিল জুতাও। বার্গারও বানানো যাবে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে। এটি দিয়ে হুবহু মানুষের অনুকরণে পুতুল বানানো যায়। আমাদের দেশেও তৈরি হচ্ছে থ্রিডি প্রিন্টার। উৎপাদন করছে সিক্স এক্সিস নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও টেকনোনিডস নামের তরুণ উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে বাংলাদেশে থ্রিডি প্রিন্টার বিপণন করছে। প্রতিষ্ঠানটি থ্রিডি প্রিন্টার বিক্রির পাশাপাশি থ্রিডি প্রিন্টিং সেবাও প্রদান করে থাকে। একটি প্রিন্টার কিনতে খরচ হবে ন্যূনতম ৯৫ হাজার টাকা। টেকনোনিডস প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা- বাসা নম্বর ১৫, রোড নম্বর ৮, নিকুঞ্জ ২, ঢাকা।

 

 শিবলী আহমেদ

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।