লুকোচুরি গল্পের অবসান

দেখতে দেখতে জীবন ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে বিদায় নিল আরো একটি বছর। নতুন এই বছরকে নিজেদের রঙে সাজাতে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী, মডেল ও উপস্থাপক মিথিলা বিয়ে করেছেন ভারতের এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে। বিয়ের আগে তাদের মাঝে কত লুকোচুরি গল্প। ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতায় সৃজিত মুখার্জির বাসায় তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রির মধ্য দিয়ে সব লুকোচুরি গল্পের অবসান ঘটে। সৃজিত আর মিথিলার অনেক আগে থেকেই পরিচয়। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে কণ্ঠশিল্পী অর্ণবের গানের মডেল হন মিথিলা। সেই গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন সৃজিত মুখার্জি। সেখান থেকেই তাদের প্রথম পরিচয় ঘটে। দু’জনের কয়েকজন কমন বন্ধু এবং সেই বন্ধুর মাধ্যমেই আলাপ, একসময় বিয়ের ব্যাপারটাও সামনে চলে আসে। ঘরোয়াভাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিথিলার মেয়ে আইরা, মিথিলার বাবা-মা, ভাই-বোন এবং সৃজিতের পরিবারের মানুষজন। আরো ছিলেন এই দুই তারকার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু, তারা সবাই চলচ্চিত্রের খুব পরিচিত মুখ। বিয়ের জন্য মিথিলা নিজেই সেজেছেন। বিয়েতে তিনি জামদানি শাড়ি পরেছেন আর সৃজিত পরেছেন পাজামা, পাঞ্জাবি ও জহর কোট। বিয়ের আগে ঢাকায় এসে শপিং করেছেন সৃজিত মুখার্জি। বিয়ের জন্য অনেক আগে থেকে উপহার দেয়া-নেয়া হয় দুই পরিবারের মাঝে। তবে বিয়ের সময় মিথিলার বাবা ২ কেজি ওজনের চারটি ইলিশ মাছ জামাইয়ের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে গেছেন। বিয়ের পরদিন শনিবার মধুচন্দ্রিমায় তারা সুইজারল্যান্ড যান। সেখানে মধুচন্দ্রিমার পাশাপাশি জেনেভায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলা পিএইচডির রেজিস্ট্রেশন করেন। সব মিলিয়ে সুইজারল্যান্ডে এক সপ্তাহ থাকেন তারা। সুইজারল্যান্ড থেকে মিথিলার সঙ্গে শীতের পোশাক পরা ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবির একটি সংলাপের সঙ্গে মিল রেখে সৃজিত মুখার্জি লিখেছেন, ‘যা সিমরান যা, করলে আপনি পিএইচডি’। মধুচন্দ্রিমার পর শ্বশুরবাড়িতে যাবেন, বিয়ের সময়েই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। সেই ইঙ্গিত সত্যি করে নতুন শ্বশুরবাড়িতে মনের সুখে জামাই আদর উপভোগ করতে এসেছিলেন ‘বাংলাদেশের জামাই’। সুইজারল্যান্ড আর গ্রিসে মধুচন্দ্রিমা শেষে নতুন বউকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছেন সৃজিত মুখার্জি। রাজকীয় জামাই আদর তো বাঙালি সংস্কৃতির সর্বজনস্বীকৃত অপরিহার্য অংশ। সৃজিত মুখার্জির ভাষায়, ‘অফিশিয়াল ভূরিভোজ’। টুইটারে সৃজিত মুখার্জি খাবারের ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘শ্বশুরবাড়ির প্রথম অফিশিয়াল ভূরিভোজ। ঝিরিঝিরি আলুভাজা, লইট্যা শুঁটকি, ডাল, কড়াইশুঁটি দিয়ে পাবদা মাছ, মুরগির ঝোল আর বাঁধাকপি দিয়ে গরুর গোশত।’ বোঝাই যাচ্ছে, আপ্যায়নের কোনো ত্রুটি রাখেনি মিথিলার পরিবার। অবশ্য সৃজিত মুখার্জি একা একা সব খাননি। দলে টেনে নিয়েছেন ভায়রা ভাই ইরেশ যাকেরকেও। সৃজিত মুখার্জি আর ছোট বোন জাকিয়া রশিদ মিমের জীবনসঙ্গী ইরেশ যাকেরের ছবিটি পোস্ট করে মিথিলা ক্যাপশন লিখেছেন, সত্যজিতের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমা থেকে, ‘মোরা দু’জন রাজার জামাই’ আর হ্যাশট্যাগ, ‘ভায়রা ভাই’। দু’জন দু’দেশের হলেও স্থায়ীভাবে কোন দেশে থাকবেন সে সিদ্ধান্ত এখনো নেননি নব এ দম্পতি। বিয়ের পর ফেসবুকের একটি পোস্টে নিজের নামের একটি পরিবর্তন করেছেন মিথিলা। বিয়ের পর রাতে পরিবারের সঙ্গে কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, মি. অ্যান্ড মিসেস রশিদ মুখার্জি।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাহসানের সঙ্গে মিথিলার বিয়ে হয় ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট। তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় ২০১৭ সালের জুলাই মাসে। তাদের একমাত্র সন্তান আইরা এখন মিথিলার কাছেই আছে। অন্যদিকে সৃজিতের ‘রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস’ ছিল সিঙ্গেল। বর্তমানে মিথিলা ব্র্যাকে কর্মরত আছেন। তিনি ব্র্যাকের আরলি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বিভাগের প্রধান। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সৃজিত মুখার্জি সুইজারল্যান্ডে তার ‘ইয়েতি অভিযান’ ছবির শ্যুটিং করেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কাকাবাবু’ সিরিজের ‘পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক’ অবলম্বনে ছবিটি তিনি তৈরি করেছেন। ছবিটি প্রযোজনা করেছে কলকাতার ভেঙ্কটেশ ফিল্ম। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ, যিশু সেনগুপ্ত, বিদ্যা সিনহা মিম, ফেরদৌস প্রমুখ। সে বছরই ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশে মুক্তি পায় ছবিটি।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।