সিজনস অব বাংলা ড্রামা নিয়ে কাজী রুকসানা

কাজী রুকসানা বেগম সিজনস অব বাংলা ড্রামার অন্যতম আয়োজক। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের আর্টস, পার্কস অ্যান্ড ইভেন্টসের আর্টস ডেভেলপমেন্ট অফিসার। গত ১-২৪ নভেম্বর সিজনস অব বাংলা ড্রামার  আয়োজন দেখতে লন্ডনে ছিলেন আনন্দধারা সম্পাদক রাফি হোসেন। সেখানে তিনি এই উৎসবের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন কাজী রুকসানার সঙ্গে-

 

রাফি হোসেন : টাওয়ার হ্যামলেটের বাংলা নাটক উৎসবের সঙ্গে আপনি কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?

কাজী রুকসানা : এই উৎসবটি প্রথম শুরু হয় ২০০৩ সালে। নব্বইয়ের দশকে বাংলা নাটকের উৎসব হতো। আমরা সেটার প্রতি সম্মান দেখাতেই নতুনভাবে এই উৎসব শুরু করি। কিন্তু সেটা একটা ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ায় সেই নামটি আমরা ব্যবহার করতে পারিনি। নতুন নামে শুরু করেছি নতুনভাবে। প্রথমে আমরা এই উৎসব করতাম জুলাইয়ের দিকে। তখন খানিকটা গরম থাকত। এখন এটা আমরা আয়োজন করি নভেম্বরের দিকে।

রাফি হোসেন : শীতের সময় এই উৎসব নিয়ে এলেন কেন?

রুকসানা : জুলাইয়ের দিকে বেশ গরম থাকে। তখন নাটক দেখার সময় দর্শকদের বেশকিছু সমস্যায় পড়তে হয় গরমের কারণে। যার কারণে ২০১০ সাল থেকে আমরা এই উৎসবের আয়োজন করছি নভেম্বরে। তখন নভেম্বরের দিকে খুব বেশি আয়োজন হতো না। কিন্তু এখন প্রায় সবকিছুই  এই সময়ে আয়োজন করা হয়। আমরা শুরুতে চারটি নাটক দেখানো শুরু করি। আমরা লক্ষ্য রাখতাম যাতে প্রতিটি নাটক রাতে প্রদর্শিত হয় এবং অন্তত একটি প্রদর্শনী ছুটির দিনে হয়।

রাফি হোসেন : বাংলা নাটকের উৎসবে ইংরেজি নাটকও দেখলাম।

রুকসানা : ২০০৯ সাল থেকে আমরা কিছু ইংরেজি নাটক এই উৎসবে দেখানো শুরু করি। এটা নিয়ে আমাদের অনেক কথা শুনতে হয়েছে। সবার কথা বাংলা নাটকের উৎসবে ইংরেজি নাটক কেন। এটা আসলে সংস্কৃতির বিনিময়। বিভিন্ন ভাষার দর্শকদের এই উৎসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাও এটার আরেকটি লক্ষ্য। এখন আমাদের উৎসবে অর্ধেক বাংলা এবং অর্ধেক ইংরেজি নাটক দেখানো হয়।

রাফি হোসেন : আপনি কতদিন ধরে এই উৎসবের সঙ্গে আছেন?

রুকসানা : ২০০৩ সাল থেকে। কিন্তু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছি ২০১১ সাল থেকে।

রাফি হোসেন : দীর্ঘ যাত্রায় এই উৎসবে কী কী পরিবর্তন এসেছে?

রুকসানা : শুরু থেকেই আমরা শিখছি। শেখা কখনো শেষ হয় না। প্রতি বছরই আমরা উৎসবের থেকে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তী বছরে প্রয়োগ করি। প্রথম দিকে আমাদের এই উৎসবে বিখ্যাত লেখকদের নাটক দেখানো হতো। কিন্তু এখন তরুণ লেখকদের নাটকও দেখানো হচ্ছে। আমরা তাদের উৎসাহ দিচ্ছি। শুরুর থেকে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। গত চার বছর ধরে আমরা থিয়েটারগুলোকে একজন করে ড্রামাটার্গ দিচ্ছি। ড্রামাটার্গরা থিয়েটারগুলোর নাটকে আরো ভালো কিছু করার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ পরামর্শ তাদের নাটককে আরো ভালো করতে সাহায্য করে।

রাফি হোসেন : গত দুই সপ্তাহে আমি দেখলাম এখানে বিভিন্ন ধরনের নাটক প্রদর্শন হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের সংস্কৃতির মেলবন্ধন হয়েছে। নতুনদের সঙ্গে পুরনোদের, বিভিন্ন ধর্মের-বর্ণের মানুষের যোগাযোগ হয়েছে। আপনার কি মনে হয় এটা সবাইকে একত্রিত করতে সহায়ক হবে?

রুকসানা : আমার মনে হয় সেটা হবে।

রাফি হোসেন : নাটকগুলো আপনারা কীভাবে বাছাই করেন?

রুকসানা : আমরা ফেব্রুয়ারি থেকে বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করি। ফেসবুকে এবং আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিই। আমাদের পূর্ববর্তী অংশগ্রহণকারীদেরও জানাই মোবাইল এবং ই-মেইলে। সেই সঙ্গে আমাদের পরিচিত সবাইকে বলি এটা যেন তারা তাদের পরিচিতদের জানিয়ে দেয়। বিভিন্ন পত্রিকাতেও আমরা বিজ্ঞাপন দেই। এক কথায় সবার কাছে এটা পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা আমরা চালাই। দু’মাস সময় দেয়া হয় নাটক জমা দেয়ার জন্য। এরপর ছয়জন সদস্যের নির্বাচক বোর্ড নাটক নির্বাচন করে।

রাফি হোসেন : নির্বাচন বোর্ডে কারা থাকেন?

রুকসানা : কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পার্টনার, ড. ক্যানান সালিহ, রুকসানা খান, সোনা মিয়া, আলি ক্যাম্পল এবং সঙ্গে ক্যারেন হার্ভার্ড  মার্কেটিং বিভাগে।

রাফি হোসেন : আপনারা কি নির্বাচনের সময় পুরো নাটকটাই দেখেন?

রুকসানা : আমরা তিন মিনিটের ক্লিপ দেখি। প্রতি বছর আমরা থিম দিয়ে দেই। তবে নাটক আমরা কারো কাছে কঠিন বানাতে চাই না। আমরা মূলত দেখি নাটকের গল্প। গল্প ভালো হলে তা নির্বাচিত হয়। গত বছর আমাদের থিম ছিল নারীর অধিকার। এ বছর আমরা থিম নিয়েছি মানুষের অধিকার। থিমের বাইরে নাটক এলে তা নির্বাচিত হবে না এমন না। তবে থিমের ভেতরে থাকলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

রাফি হোসেন : প্রতি বছর কয়টা নাটক দেখাবেন তা কি পূর্ব নির্ধারিত?

রুকসানা : এটা নির্দিষ্ট না। একেক বছর একেক সংখ্যা হয়।

রাফি হোসেন : উৎসবের দিন কি একই থাকে?

রুকসানা : নাহ। উৎসবের দিন কম-বেশি হয়। কখনো কখনো পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলে। কখনো ২৪ দিন। আর উৎসব শুরু করি নভেম্বরের প্রথম শুক্রবার।

রাফি হোসেন : উৎসব নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রুকসানা : আমাদের এই উৎসবটা এখন তরুণদের এগিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছে। গত ১৭ বছরে এভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন পরিবর্তন আসবে। বাংলার সঙ্গে ইংরেজি যোগ হওয়াতে এর পরিসরও বেড়েছে। আগের থেকে অনেক বেশি মানুষকে যুক্ত করা সহজ হয়েছে।

রাফি হোসেন : ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

রুকসানা : আপনাকেও ধন্যবাদ।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।