‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর ‘নতুনের উৎসব’ সত্যিই নতুন


ফেরদৌসী মজুমদার, জ্যোৎস্না বিশ্বাস, লাকী ইনাম ও শিমুল ইউসুফকে আজীবন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন আবুল হায়াত, আবদুস সেলিম, তারিক আনাম খান

চলছে শীতের মৌসুম। আর সেই শীতকে কেন্দ্র করে উৎসবের রঙ লেগেছে ঢাকার মঞ্চাঙ্গনে। একেক পর এক উৎসবে মুখরিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা। গতানুগতিক উৎসবের বাইরে এবারই প্রথম মঞ্চে কোনো উৎসবে সাতটি নতুন নাটক মঞ্চস্থ হলো। এছাড়া এই প্রথম কোনো দলকে নয়, ব্যক্তি তথা নির্মাতা ও নির্দেশককে প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন নাটক সামনে আনার উৎসাহ দিয়েছে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’। ২৯ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা কারণে ব্যতিক্রম ছিল এই উৎসব। দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম পথিকৃৎ নাট্য সংগঠন ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’। বাংলাদেশে মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই সংগঠনটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে বাদল সরকারের লেখা ‘বাকী ইতিহাস’ নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যচর্চা শুরু করে নাট্যদলটি। এই সংগঠনটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর এবং দর্শনীর বিনিময়ের নাট্যচর্চার ৪৫ বছর উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে বছরব্যাপী চলছে নানা কর্মসূচি। চলতি বছরের শেষ উদ্যোগ হিসেবে ‘নতুনের উৎসব’ শীর্ষক নাট্য উৎসবের আয়োজন করছে দলটি। বলা হয়ে থাকে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় দেশের নাট্যধারায় অভিভাবক এবং দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করেছে। নাট্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাসে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় এ পর্যন্ত ৪৬টি প্রযোজনার কয়েক হাজার প্রদর্শনী করেছে। এসব প্রদর্শনী দেশে এবং দেশের বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ববরেণ্য নাট্যকারদের পাশাপাশি দেশের অনেক খ্যাতনামা নাট্যকারের নাটক সফলভাবে মঞ্চায়ন করেছে এ দল। বাংলা নাটককে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করা এবং বিশ্ব নাটকের সঙ্গে বাংলা নাটকের যোগসূত্র তৈরিতে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’, যা বাংলাদেশের নাট্যকর্মীদের জন্য অনেকটাই প্রেরণার উৎস। দলটি এ পর্যন্ত যেসব প্রযোজনা মঞ্চে এনেছে, তা উপভোগ করতে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। মঞ্চনাটকের দর্শক বাড়াতে বড় রকমের ভূমিকা রেখেছে নাগরিক। তাদের প্রযোজনাগুলোর বেশিরভাগই নিরীক্ষাধর্মী। আর সে কারণেই নাট্যকর্মীদের জন্য অনেকটাই অনুসরণীয়। নাগরিকের প্রযোজনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের রচনায় ‘নুরলদীনের সারাজীবন’, ‘ঈর্ষা’, ‘খাট্টা তামাশা’, ব্রেখটের ‘হের দি পুন্টিলা অ্যান্ড হিজ ম্যান মাট্টি’ অবলম্বনে আসাদুজ্জামান নূরের রূপান্তর এবং পরিচালনায় মঞ্চায়িত হয়েছে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’। বাংলাদেশের সর্বাধিক মঞ্চস্থ নাটকগুলোর মধ্যে এটি একটি। এছাড়া নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের মঞ্চায়িত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সৎ মানুষের খোঁজে’, ‘মাইল পোস্ট’, ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’, ‘কবর দিয়ে দাও’, ‘গড়োর প্রতীক্ষায়’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’, ‘গ্যালিলিও’, ‘মোহনগরী’, ‘রক্ত করবী’, ‘অচলায়তন’, ‘মুক্তধারা’, ‘বিসর্জন’, ‘বিদগ্ধ রমণীকুল’, ‘তৈল সংকট’, ‘মুখোশ’ ইত্যাদি। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। চলতি বছরের শেষ আয়োজন হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আয় নাটকের অঙ্গনে’- এ স্লোগানে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজন করা হয়েছে ‘নতুনের উৎসব’ শীর্ষক নাট্য উৎসব। এ উৎসবের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৯ নভেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন নাগরিকের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসবের আহ্বায়ক অভিনেত্রী সারা যাকের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে প্রদীপ প্রজ্বালন করেন এ প্রজন্মের প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী বন্যা মির্জা, সামিনা লুফা নিত্রা, তনিমা হামিদ, আইরিন পারভীন লোপা, হৃদি হক ও সাধনা আহমেদ। মঞ্চে নারী নাট্যকর্মীদের অবদান তুলে ধরতেই তাদের দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। এর মাধ্যমে পুরাতনের হাত ধরে যাত্রা হয়েছে নতুনের। মঞ্চনাটক সবসময় নতুনদের হাত ধরে এগিয়ে গেছে। সেই লক্ষ্যে নতুনদের তুলে ধরতেই নিজেদের ৫০ বছর পূর্তিতে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় আয়োজন করেছে নতুন নাট্য নির্দেশকদের নির্দেশনায় ৭টি নতুন নাটক- ‘কালো জলের কাব্য’, ‘রাধারমণ’, ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল- লেটো কাহন’, ‘অরূপরতন’, ‘খোয়াবনামা’, ‘ও মনপাহিয়া’ ও ‘লটারি’। এই ৭টি নতুন নাটক নিয়ে সাজানো হয় এই প্রদর্শনী। এ উৎসবে স্থান পাওয়া সাতটি নাটকেরই প্রথম মঞ্চায়ন হয়। উৎসব উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সামনের উন্মুক্ত স্থানজুড়ে নতুন সব প্রযোজনা এবং নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের পুরনো সব নাটকের পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী প্রযোজনা ‘নুরলদীনের সারাজীবন’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘গ্যালিলিও’সহ অনেক নাটকের ছবির পোস্টার দেখে এ নাট্যদলের নাট্যচর্চার ইতিহাস কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছেন দর্শকরা।

নাগরিকের এ উৎসব প্রসঙ্গে উদ্বোধনী সন্ধ্যায় স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ সংস্কৃতিচর্চায় পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সরকার বর্তমান সংস্কৃতিচর্চার পৃষ্ঠপোষকতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। সারাদেশেই সংস্কৃতিচর্চায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পীদের ভাতার পরিমাণ ও সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বর্তমানে সীমিত। তবে অতিদ্রুত অসচ্ছল শিল্পীদের ভাতা ও সংখ্যা বাড়ানো হবে।’ এছাড়াও উৎসবের উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, নাগরিক ব্যতিক্রমী একটি দল। তারা বহুমুখী নাটক দর্শকদের সামনে তুলে এনেছে। তাদের পথচলা দেশের যে কোনো নতুন দলের কাছে অনুপ্রেরণামূলক।’ নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘বাংলাদেশের নাট্যচর্চায় নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ একটি দল। বাংলাদেশে নাগরিক প্রথম দল যারা বিশ্বের স্বনামধন্য নাট্যকারদের নাটক আমাদের সামনে তুলে ধরেছে।’ নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘এই উৎসবটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। থিয়েটার বেঁচে থাকে নতুনের হাতে। সেজন্য নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। তাই এ আয়োজন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ মঞ্চসারথি আতাউর রহমান বলেন, ‘মঞ্চনাটক শুধু বিনোদন নয়, এটা গণশিক্ষার মাধ্যম। মঞ্চ সত্য কথা বলে। মঞ্চ সর্ববিদ্যার আধার।’ সর্বশেষ এ উৎসবের আয়োজক সারা যাকের বলেন, ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় তরুণদের তুলে ধরতে চায়। সে কারণেই এ উৎসবের আয়োজন। যাতে তরুণ প্রজন্ম মঞ্চে তাদের মেলে ধরার সুযোগ পায়।’

উৎসবের প্রথম দিন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন প্রযোজনা ‘কালো জলের কাব্য’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। এটি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৭তম প্রযোজনা। ‘কালো জলের কাব্য’ নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে আছে জাহাজভাঙা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সাধারণ মানুষ। কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে আর মূর্ত হয়ে উঠতে থাকে চরিত্রগুলো। একসময় মনে হয়, কোথায় যেন শুনেছি বা পড়েছি এই গল্পটা! নির্দেশকও জানালেন তেমন কথা। শেক্সপিয়ারের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ গল্পটির আবহ এসেছে এ নাটকে। তবে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুনত্ব। তা হলো আমাদের দেশের বর্তমান সময়। জাহাজভাঙা শিল্প! এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের দুর্ঘটনার কথা মাঝে মধ্যেই উঠে এলেও খুব হালকাভাবেই তা দেখি আমরা। কিন্তু তাদেরও রয়েছে আমাদের মতোই সমাজ। তবে সেটি ভীষণ কঠিন আর কালো। প্রতিদিন সকালে মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়েই যেন কাজে যায় তারা। প্রাণহীন জাহাজের ভাঙা টুকরোর মতোই যেন ইস্পাত কঠিন তাদের ভেতরটা। এই মানুষগুলো যেন রাষ্ট্র, সমাজবহির্ভূত অন্য কোনো এক জগতের। সেই জগতের হাসি-কান্না-দুঃখের সঙ্গে শেক্সপিয়ারের ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’র চুম্বক অংশ জুড়েই নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন নাটক ‘কালো জলের কাব্য’। একটি নির্দিষ্ট সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি আর দুঃখগাঁথা কাহিনীগুলো শিল্পীদের পরম ভঙ্গিমায় আঁচল পরায় গল্পের শরীরে। গল্প এগিয়ে যায় কুশীলবের কাঁধে ভর করে দর্শকের মনোভূমে। এমন একটি নাটকের রস আস্বাদনের সুযোগ পেয়ে তৃপ্ত হন তারা। বলেন, মানবতার জয়যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে নাটকটিতে। অভিনয়ে দক্ষতা দেখিয়েছেন অভিনেতারা।

কালো জলের কাব্য নাটকটিতে ভাঙাড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বনামধন্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এবং পদ্ম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অপি করিম। নাটকটি সম্পর্কে এর রচয়িতা ও নির্দেশক পান্থ শাহরিয়ার বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই এখন ক্ল্যাসিক গল্পগুলোকে নিজেদের আঙ্গিকে ফেলে তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন নাটক। এটিও ঠিক তেমনি একটি। তবে এটি একান্তই আমাদের। মার্চেন্ট অব ভেনিস থেকে কিছু নেয়া হয়েছে ঠিক, কিন্তু পুরো বিষয়বস্তুটাই আমাদের নিজেদের। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের আঙ্গিকে করার একটি চেষ্টাই করা হয়েছে এই কালো জলের কাব্যে।

উৎসবের দ্বিতীয় সন্ধ্যায় ৩০ নভেম্বর শনিবার মঞ্চস্থ হয় সুনামগঞ্জের বন্ধন থিয়েটার ও প্রসেনিয়াম থিয়েটারের যৌথ নির্মিত নাটক ‘রাধারমণ’। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রণোদনায় প্রযোজিত ‘রাধারমণ’ নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দেশের তরুণ নাট্যকার ও নির্দেশক শামীম সাগর। এ প্রযোজনায় মহাজন রাধারমণকে উপজীব্য করে একটি জনপদের গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে, যে জনপদকে বংশ পরম্পরায় নয়, ভাব আর দর্শন ধারণের পরম্পরায় একের পর এক মহাজন তাদের ভাব, সুর আর দর্শনে সমৃদ্ধ করেছেন। ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে এই জনপদের মানুষেরা আজো এই মহাজনদের ধারণ করে রেখেছেন হৃদয়ে, দৈনন্দিন জীবনাচারে। রাধারমণের জীবন ও দর্শন, তার জীবনের বাঁকগুলো, যে বাঁক তাকে কৃষ্ণপ্রেমিক একজন হয়ে  বৈষ্ণব মতবাদের সাধনায় নিজেকে নিবেদিত করতে সাহায্য করেছিল, সে বিষয়গুলো নাটকটিতে উঠে এসেছে। পাশাপাশি একজন রাধারমণ কীভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনাচারের অংশ হয়ে উঠলেন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার অঞ্চল কেমন করে তার জল-হাওয়া-মাটি দিয়ে এমন একজন মহাজনকে গঠন করল। সেসবেরই প্রতিফলন এই প্রযোজনাটিতে ঘটেছে। ‘রাধারমণ’ নাটক প্রসঙ্গে নির্দেশক শামীম সাগর বলেন, প্রযোজক দল হিসেবে সুনামগঞ্জ প্রসেনিয়াম এবং বন্ধন থিয়েটার সুনামগঞ্জ এই নাট্য নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। তারুণ্যনির্ভর সংগঠন দুটির একঝাঁক নবীন এবং তরুণ নাট্যকর্মী তাদের সদিচ্ছা এবং প্রচেষ্টায় নতুন এক সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতেছে। সুনামগঞ্জে রাধারমণ নিয়ে চর্চা করেন এমন প্রবীণরাও পাণ্ডুলিপি পাঠ থেকে শুরু করে নাট্য নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে তথ্য ও বুদ্ধিগত সহযোগিতা করেছেন। পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি এবং আলোক পরিকল্পনায় বাবর খাদেমী তাদের পরিকল্পনা আর প্রয়োগে এই প্রযোজনার মান একধাপ করে এগিয়ে নিয়েছেন। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রণোদনা এবং আমার নাট্যদল পালাকারের সার্বিক সহযোগিতা বিশেষ করে পালাকার দলীয় প্রধান আমিনুর রহমান মুকুলের উৎসাহ বিশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে আমাকে। সবকিছু মিলিয়ে আমি বুকে সাহস বেঁধেছি, সুনামগঞ্জের মহাজনদের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে ‘রাধারমণ’ নাট্যপ্রযোজনাটি নির্মাণের চেষ্টা করেছি। সর্বোপরি উৎসব শেষে দর্শকের ভালোবাসা পেয়ে আমাদের সব পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

১ ডিসেম্বর রোববার উৎসবের তৃতীয় সন্ধ্যায় নতুন নাটকের তালিকায় যোগ হয়েছে ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল- লেটো কাহন’ নাটকটি। এটি মঞ্চে এনেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গন। রতন সিদ্দিকীর রচনায় এটি নির্দেশনা দিয়েছেন হৃদি হক। নাটকটি উদ্বোধনী সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তন ভর্তি দর্শকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলে। এটি নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২৬তম প্রযোজনা। নাটকটির গল্পে দেখা গেছে, একটি লেটো গানের দল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মাতিয়ে রাখে চুরুলিয়া-আসানসোল। এরই মধ্যে একদিন ঘোষিত হয় বঙ্গভঙ্গ। বিভক্ত হয় বাংলা। জন্ম হয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের। ইংরেজদের ষড়যন্ত্রে ও বিরোধে জড়িয়ে যায় বাঙালি হিন্দু-মুসলমান। বিষাক্ত হয়ে ওঠে কলকাতা, ঢাকা, বর্ধমান। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লালিত হাজার বছরের বাঙালি বিস্মিত। ১৯১১ সালে প্রাণান্তকর চেষ্টায় রোহিত হয় বঙ্গভঙ্গ। স্বস্তির বাতাস বয়ে যায়। কিন্তু ততদিনে গায়কের অভাবে লেটোর দল বিলুপ্ত হতে বসেছে। এমনি ক্রান্তিকালে লেটোর দলে যুক্ত হন চুরুলিয়ার হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে দুখু মিয়া। তার গায়কি দক্ষতায় পুনরায় জেগে ওঠে লেটোর দল। মেতে ওঠে চুরুলিয়া-আসানসোলের প্রান্তিক মানুষ। ‘আকাসে ফুইটেছে ফুল- লেটো কাহন’ নাটকটি সম্পর্কে নাটকটির নির্দেশক হৃদি হক বলেন, ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন বিশ্বাস করে প্রযোজনার বিচিত্রতায়। তাহলে লোকনাট্য ধাঁচে কিছু নয় কেন? সেই ধারাবাহিকতায় গল্পের মূল ভাবনার সঙ্গে দলের আদর্শ মিলেমিশে যাওয়ার অকাট্য যুক্তি। সুতরাং পেয়ে গেলাম দল থেকে ইতিবাচক প্রেরণা। আর এমন সময় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় থেকে গুণিজনদের বেছে নেয়া, তরুণ ছয় নির্দেশকের সঙ্গে প্রণোদনা। ঝাঁপিয়ে পড়লাম কাজে। গবেষণা থেকে তার মঞ্চে প্রয়োগ। নাটকটির অন্তর্নিহিত সত্য উন্মোচনের চেষ্টা ছিল আমাদের। দর্শকের তৃপ্ততা এবং ভালোবাসায় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

২ ডিসেম্বর উৎসবের চতুর্থ সন্ধ্যায় সোমবার প্রদর্শিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও সাইদুর রহমান লিপন নির্দেশিত নাটক ‘অরূপরতন’। রবীন্দ্রনাথ তার রাজা নাটক থেকে অতিসংক্ষিপ্ত বিন্যাসে অরূপরতন নাটকটির নতুন করে পুনর্লিখন করেছিলেন। এই পুনর্লিখনের মধ্য দিয়ে নাটকটিতে ব্যক্তির বিপরীতে সমষ্টি, বহু-বাহুল্যের বিপরীতে সাধারণ নিরাভরণের কথা, পরম আত্মার সন্ধান লাভে সাধারণের কীর্তনের কথা বলা হয়েছে । মূলত এই সহজিয়া সাধারণ ভাবনাই এই নাট্যের অভীষ্ট। চোখের দেখা রূপের বাইরে অরূপের সন্ধানের যে সহজিয়া দর্শন আমাদের লৌকিক বাউল ভাবনায় পাই, তারই কিছুটা আঁচ ফুটে উঠেছে এই নাটকে। রবীন্দ্রনাথ বাউল দর্শন দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন। বাউল দর্শনের মিলনাত্মক বা অভেদ চেতনা তার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের এই নাটকে যে সাম্য ও সম্প্রীতির ভাবনা রয়েছে, তারই একটা মিলিত রূপায়ণ দেখা গেছে এই অরূপরতন নাটকটিতে। ‘অরূপরতন’ নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক সাইদুর রহমান লিপন বলেন, ভেদ-বুদ্ধি আর বাহুল্য ছেড়ে অহং ভুলে আর ক্ষমতার দম্ভ ছেড়ে ব্যক্তিজীবন বাঁকের কোনো এক মোহনায় মিলিত হবে মানবের উৎসবে, গাইবে মানুষেরই জয়গান, তবেই তো মিলবে সেই অরূপের সন্ধান। ফলে সমকালীন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পুঁজির ফাঁদে পড়ে ব্যক্তি যখন ক্রমেই নির্মম একাকিত্বের গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে, সেখানে অরূপরতনের সন্ধানে সমষ্টির সম্মিলনে ঐক্যের আহ্বান নিতান্তই একটি বিনোদনের নাটক নয়। প্রতিবাদের সাংস্কৃতিক ভাষাও বটে। নাটকটি নির্মাণের নানা পর্যায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিও ব্যক্তিবর্গের সমর্থন ও সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। এর কারণে তাদের সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।’

৩ ডিসেম্বর উৎসবের পঞ্চম সন্ধ্যায় মঙ্গলবার মঞ্চস্থ হয় নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রণোদনায় প্রাচ্যনাটের নাটক ‘খোয়াবনামা’। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাস নিয়ে প্রথমবার মঞ্চ নাটক এটি। এর নাট্যরূপ দিয়েছেন সাখাওয়াত সজীব এবং নির্দেশনা দিচ্ছেন কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন। এই উপন্যাসটি মূলত ১৯৪৭ সালের দেশভাগের কিছু পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ের ঘটনা নিয়ে রচিত। এর কাহিনী বগুড়া জেলার একটি ক্ষুদ্র প্রত্যন্ত জনপদ নিয়ে বিবৃতি। বগুড়া জেলার বাঙ্গালী নদীর আশপাশে কিছু গ্রামের মানুষের কাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ভূখণ্ড সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে থাকা মানুষের যাপিত জীবনের ছবি আঁকা হয়েছে এই উপন্যাসে। নির্দেশক হিসেবে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, শ্রেণীবৈষম্য ও দ্বন্দ্ব, অসহায়ত্ব, ক্ষোভ, কাম, ধর্মীয় ও জাতিগত বিদ্বেষ, তেভাগা আন্দোলন, দেশভাগের ডামাডোল, গ্রামীণ জনপদের বিশ্বাস কিংবা কুসংস্কার গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য নাম না জানা মানুষের না বলা গল্পগুলো নিপুণভাবে নাটকটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্দেশক। যে খোয়াবনামা একদিন বেহাত হয়ে গিয়েছে আমাদের হাত থেকে, তারপরও খোয়াবই এগিয়ে নেয় মানুষকে। ‘খোয়াবনামা’ নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক কাজী তৌফিকুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘প্রাচ্যনাট তার স্বপ্নলগ্ন থেকেই গতানুগতিক গড্ডালিকায় গা ভাসাতে চায়নি। প্রতিনিয়ত তারা ভেঙেচুরে নিজেদের তৈরি করেছে নতুন করে নতুন ভাবনা নিয়ে। বিশ বছর শেষ করে পঁচিশ বছরের প্রাক্কালে একটা বিশাল প্রেক্ষাপটে কিছু করার প্রয়াসে খোয়াবনামা নিয়ে কাজ করার তাগিদ  তৈরি হয়। এখানকার প্রজন্মের কাছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস দুর্বোধ্য ধোঁয়াশা। বই পড়ার অভ্যাস যেখানে দিন দিন আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সেখানে ইলিয়াসের লেখার সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করে তোলা এবং অধিকাংশ নবীন অভিনেতাদের নাটক নির্মাণ বেশ কষ্টসাধ্য। এর মাঝে আশার কথা- আমরা যখন পাণ্ডুলিপি তৈরি করছি, তখন নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় দর্শনীর বিনিময়ে নাটক প্রদর্শনীর ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্দেশকদের প্রণোদনা দেয়ার ঘোষণা দেয়। আমি দল থেকে আবেদন করলে নির্বাচিত হই। আমাদের জন্য এই প্রণোদনা খুবই প্রেরণাদায়ক।’

আফ্রিকান গল্প অবলম্বনে শুভাশিস সিনহার নির্দেশনায় ৪ ডিসেম্বর বুধবার উৎসবের ষষ্ঠ সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘ও মনপাহিয়া’। ‘ও মনপাহিয়া’ মানে ‘ও মনপাখি’। আমাদের ভেতরের যে পাখিকে প্রতিদিন গলা টিপে ধরছি, তারই বেদনার্ত মুক্তির গান। মানুষের দাম নেই দুনিয়ায়, অথচ এখানে একটা পাখির জন্য অবিরল অসুর আর রক্তক্ষরণ। এ নাটকটি মানুষকে ভাবাতে পারে নতুন করে। ‘ও মনপাহিয়া’ নাটকটির প্রদর্শনীতে দর্শকের উপস্থিতি ছিল বেশ ভালো। নাটকটিও সাড়া ফেলেছে দর্শকের মাঝে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রভাব দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। নাটকটি সম্পর্কে শুভাশিস সিনহা বলেন, নাটকটির মূল গল্প আফ্রিকার গল্পকার মিআ কোউতোর। ‘দ্য বার্ড অব গড’ নামে খুব ছোট্ট একটা গল্প ছিল। সেটাকে অবলম্বনে একটা জনপদের আখ্যানের ডালপালা ছড়ানো হয়েছে। নাট্যরূপ না, গল্প অবলম্বনে রচনা বলা যেতে পারে। অনেক নতুন ছেলেমেয়ে কাজ করছে নাটকটিতে। দলের পুরনো সদস্যদের মাঝে জ্যোতি সিনহা, স্মৃতি সিনহা, উজ্জ্বল সিংহ, অরুণা সিনহা, শ্যামলী সিনহা রয়েছেন। মঞ্চে ১৪ জন শিল্পী অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি সংগীত দলে ছিলেন সাতজন। এছাড়া অন্যান্য কলাকুশলী মিলিয়ে ২৫ জনের একটি দল নাটকটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এ উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় সম্মাননা জানানো হয় চার গুণিজনকে। তারা হলেন ফেরদৌসী মজুমদার, জ্যোৎস্না বিশ্বাস, লাকী ইনাম ও শিমুল ইউসুফ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বৃহস্পতিবার তাদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাগরিকের সহসভাপতি আবুল হায়াত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার অধ্যাপক আব্দুস সেলিম ও নাট্যব্যক্তিত্ব তারিক আনাম খান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নতুনের উৎসব ২০১৯-এর আহ্বায়ক সারা যাকের। পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশে জ্যোৎস্না বিশ্বাস বলেন, যে কোনো স্বীকৃতি একজন শিল্পীর জন্য আনন্দের ও সম্মানের। নাগরিকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ আমাকে সম্মানিত করার জন্য।’ ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, ‘আমার দুই রকম অনুভূতি হচ্ছে। একটি সুখের ও একটি দুঃখের। সুখের অনুভূতি হচ্ছে পুরস্কার পেলে সবার ভালো লাগে, আমারও লাগছে। আর দুঃখের অনুভূতি হচ্ছে, আমার সহযোদ্ধা আলী যাকেরকে আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি তার রোগমুক্তি কামনা করি, আশা করি তিনি আমাদের মাঝে মঞ্চে ফিরে আসবেন।’ লাকী ইনাম বলেন, ‘আমার শেখা, পথচলা এই নাগরিকেই। তারা এই উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন নাটককে যেভাবে প্রণোদনা দিয়েছে, সেটা মাইলস্টোন তৈরি করেছে। এটা থিয়েটার অঙ্গনকে আরো ঋদ্ধ করবে।’ শিমূল ইউসুফ বলেন, ‘আমাকে গানের ভুবন থেকে নাটকের ভুবনে এনেছেন ফেরদৌসী মজুমদার ও সারা যাকের। সেই যে নাটকের দরজাটি দিয়ে ঢুকেছি আর বেরোতে পারিনি। ভালোবাসা এতই প্রবল।’

গুণিজন সম্মাননা প্রদান শেষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পীদের অভিনীত নাটক ‘লটারি’-এর মধ্য দিয়ে পর্দা নামে এ উৎসবের। মোস্তাফিজ শাহীন নির্দেশিত নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের এ প্রযোজনার উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন সারা যাকের। এ নাটকের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। যাদের দৃষ্টিশক্তি নেই। আর এই ‘নেই’ কথাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ‘লটারি’ নাটকের অভিনয়শিল্পীরা।

 

নাগরিকের ‘নতুনের উৎসব’ যে কারণে সত্যিই ‘নতুন’

৭টি নতুন নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন

এই প্রথম কোনো উৎসবে সাতটিই নতুন নাটক মঞ্চায়িত করা হয়েছে। এই উৎসবের জন্যই খেটেছেন নাট্যকর্মীরা। ফলে নতুন নাটক দেখার একটি স্পৃহা কাজ করেছে আগত দর্শকদের মাঝে। একই সঙ্গে নতুন নাটক সামনে আনার আনন্দ এবং একাধারে উত্তেজনাও ছিল মঞ্চকর্মীদের মাঝে।

প্রণোদনায় মঞ্চনাটক

এই প্রথম কোনো দলকে নয়, ব্যক্তি তথা নির্মাতা-নির্দেশককে প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন নাটক সামনে আনার উৎসাহ দিয়েছে আয়োজককারী। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়েরর দু’জন সদস্য ছাড়া বাকিরা সবাই নিজ উদ্যোগে নিজের নাটকের শিল্পী থেকে শুরু করে যাবতীয় পরিকল্পনা করেছে। যেমন, শামীম সাগর সুনামগঞ্জের বন্ধন থিয়েটার ও প্রসেনিয়াম থিয়েটারের সঙ্গে মিলিত হয়ে যৌথভাবে নির্মাণ করেছেন ‘রাধারমণ’, যা ছিল একটি অন্যরকম আয়োজন।

সাজসজ্জায় নতুন সংযোজন

সাধারণত দেখা গেছে মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে যেকোনো সাজসজ্জার কাজ নিজেরাই করে ফেলে এই দলগুলো। কিন্তু এবার ছিল স্পন্সর। মুকিম ক্রিয়েশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেরা এই সাজসজ্জার দায়িত্ব নিয়ে উৎসবে অংশগ্রহণকারী সব দলকে সহায়তা করেছে, যা আগে হয়নি।

খাবার স্টল

সাধারণত এ রকম নাট্য উৎসবে কোনো রকমের খাবারের স্টল পরিকল্পনায় থাকে না। যারা আসেন তারা নাটক দেখে আশপাশে হয়তো নাশতার আয়োজন খোঁজেন। এবার উৎসবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে প্রাঙ্গণে ছিল টি-স্টলের আয়োজন। ফলে যারা এসেছেন তারা ঘুরে-ফিরে একেবারে মেলার মতোই সম্পূর্ণ সময় উপভোগ করেছেন এবং বসার আয়োজন করে উৎসব প্রাঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে আড্ডার প্রাণবন্ত জায়গা।

ভিন্ন রকম সংযোজন

সব নাটক এবং নাট্য আয়োজনে ভিন্ন সংযোজন সবার চোখে পড়েছে। বিশেষ করে শেষ দিনের আয়োজনের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। শেষদিনে মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘লটারি’, যেখানে অভিনয় করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কলাকুশলী। এই নাটকটি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ‘নতুনের উৎসব’। ভবিষ্যতে আরো নতুন কিছু সামনে আনার প্রত্যয়ে।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup