রূপচর্চা : সানট্যান

ব্যস্ত জীবনে ঘরে বসে থাকার উপায় নেই, আর ঘর থেকে বের হলেই রোদের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই- তাই সানট্যানের সমস্যায় আমাদের প্রত্যেকেরই ভুগতে হয়। তবে প্রতিদিনের যত্নে আপনার এ সমস্যা দূর হতে পারে সহজেই। মজার ব্যাপার, আপনার ত্বকের যত্নের জন্য বাইরে গিয়ে আর সময় নষ্ট করতে হবে না। ঘরেই প্রয়োজনীয় জিনিস রয়েছে, যা দিয়ে আপনার সানট্যানের সমস্যা দূর হবে। যত তাড়াতাড়ি যত্ন নেয়া শুরু করবেন ততই ভালো। রান্নাঘরের বিভিন্ন উপাদান কাজে লাগিয়ে কীভাবে ট্যানিং থেকে মুক্তি পাবেন তা জেনে নিন।

মুখের ত্বক যেহেতু নরম ও কোমল হয়। তাই খুব কড়া কোনো প্যাক বা চিনি-লেবুর স্ক্র্যাব মুখে ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ত্বকে র‌্যাশ এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে ঘরোয়া উপকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

* লেবু : ত্বকের বিভিন্ন দাগ-ছোপ দূর করতে লেবু কার্যকরী, তেমনি ট্যানিংয়ের প্রতিকার হিসেবেও লেবু কার্যকর। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ারও ভয় নেই। লেবুতে থাকা অ্যাসিড ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। লেবু কেটে ট্যান পড়া অংশের ওপর হালকা করে ঘষুন। কয়েক মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে সেনসেটিভ ত্বকে সরাসরি লেবু না ঘষে পানি মিশিয়ে লেবুর রস ব্যবহার করুন, উপকার পাবেন।

 * বেসন : ট্যানিং কমাতে বেসনের জুড়ি নেই। বছরের পর বছর ধরে রোদে পোড়া ত্বকের উপশম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বেসন। ২ টেবিল চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ গোলাপজল এবং এক টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে ট্যান পড়া অংশে লাগান। ২০ মিনিট রাখুন, এরপর শুকিয়ে যাওয়া প্যাকের ওপর আলতো হাতে ঘষুন। এতে ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ এবং ট্যান দুই-ই দূর হবে। একদিন পরপর এই প্যাক ব্যবহার করুন।

* টকদই : রোদে পোড়া ত্বকের জন্য খুব ভালো টকদই। রোদ থেকে ঘুরে এসে যদি টকদই মুখে ম্যাসাজ করতে পারেন, তাহলে ট্যান ত্বকে বসে যাবে না। তবে অনেকদিনের পুরনো ট্যান হলে টকদইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন অল্প কমলালেবুর রস। ভিটামিন ‘সি’তে সমৃদ্ধ এই রস এই ধরনের ট্যান কমাতে সাহায্য করবে। সপ্তাহে দু’বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

* দুধ : রোদে পোড়া ত্বক, সানট্যান উপশমের জন্য দুধ কার্যকর। এর সঙ্গে ব্যবহার করুন স্ট্রবেরি। চার-পাঁচটা স্ট্রবেরি এবং ২ টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। ত্বক পরিষ্কার করে এই প্যাক মুখে লাগাতে পারেন। স্ট্রবেরি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল এবং কোমল করতেও উপকারী।

* টমেটো : টমেটোর রসও ট্যান পড়া ত্বকের জন্য খুব ভালো। টমেটোর কার্যকারিতা আরো বাড়িয়ে তুলতে সঙ্গে মিশিয়ে নেয়া যেতে পারে মসুর ডাল গুঁড়ো ও অ্যালোভেরা জেল। অ্যালোভেরা জেল রোদে পোড়া ত্বক ঠা-া রাখতে সাহায্য করবে। এক টেবিল চামচ মসুর ডাল গুঁড়ো, এক টেবিল চামচ টমেটোর রস ও এক চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল একসঙ্গে মিশিয়ে রোদে পোড়া অংশের ওপর লাগিয়ে নিন। ২৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

* পেঁপে : পেঁপের ওপর ভরসা করা যায় ট্যানিং দূর করতে বা ত্বক উজ্জ্বল করতে। পেঁপের রসে থাকা বিভিন্ন উপাদান ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বক মসৃণ করতেও পেঁপে কার্যকর। আধা কাপ পাকা পেঁপের ক্বাথের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। মধুও ত্বক নরম ও যৌবনোচ্ছল রাখতে সাহায্য করবে। ত্বকের সানট্যানের জন্য উপকারী এবং ত্বক নরম হবে।

* ওটমিল : যেহেতু ট্যান ত্বকের ওপরের স্তরেই পড়ে, তাই ট্যান কমাতে চাইলে ত্বকের সেল রিনিউয়াল পদ্ধতি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। ত্বকে যত দ্রুত নতুন কোষ তৈরি হবে, ততই দ্রুত ট্যানও দূর হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন ত্বকের উপরিভাগে মৃত কোষের স্তর জমতে না পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার স্ক্র্যাব করা প্রয়োজন। ওটমিল এক্ষেত্রে সাহায্য করে। মৃত কোষ দূর করার পাশাপাশি ত্বকে নতুন কোষ সৃষ্টি করেও থাকে। ওটমিলের সঙ্গে মেশাতে পারেন বাটার মিল্ক, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখবে। আর নতুন কোষ সৃষ্টি করার জন্য মিশিয়ে নিতে পারেন একটা ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল। সপ্তাহে একবার এই স্ক্র্যাব ব্যবহার করে ত্বক ৫-৭ মিনিট হালকা ম্যাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

* আটা : ২ টেবিল চামচ আটার সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। রোদ থেকে ঘুরে এসে ট্যান পড়া অংশে পুরু করে এই মিশ্রণ লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  সপ্তাহে দু’বার এই মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।

* আলু : লেবুর রসের সঙ্গে আলুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। আলুর রসও ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে থাকে। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা ত্বক ভালো রাখবে। পাশাপাশি এই রসে ব্লিচিং প্রপার্টি রয়েছে, যা ট্যান সরিয়ে ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করবে। একটি আলু কুরিয়ে রস বের করে নিন। এতে এক টেবিল চামচ টাটকা লেবুর রস মিশিয়ে ট্যান পড়া অংশে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

ডাবের পানি ও চন্দন : ত্বকের দাগ-ছোপ দূর করতে ডাবের পানি ব্যবহার সবারই জানা। আর অ্যাকনের দাগ দূর করতে চন্দনও বেশ উপকারী। দাগ হোক বা ট্যান। সব ক্ষেত্রেই প্রধান কারণ মেলানিনের হাইপার অ্যাক্টিভিটি। চন্দন ও ডাবের পানি থাকা বিভিন্ন মিনারেল মেলানিনের কার্যকারিতা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। এক টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং এক টেবিল চামচ ডাবের পানি একসঙ্গে মিশিয়ে ট্যান পড়া অংশে লাগান। শুকিয়ে গেলে এক ফোঁটা আমন্ড তেল নিয়ে ভালোভাবে ঘষে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনবার এভাবে যত্ন নেয়ার চেষ্টা করুন।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে এভাবে ত্বকের যত্ন নিয়ে সানট্যান দূর করুন।

 

মডেল : তাসনিয়া ফারিন

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।

Home popup