নখের সুরক্ষা

ত্বক-চুলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ আপনাকে করে উজ্জ্বল আর মেকআপ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে। এই সবকিছুর মধ্যে যদি চোখে পড়ে এবড়ো-খেবড়ো নখ, তাহলে তো সৌন্দর্যে ঘাটতি পড়ে। নখের দুরবস্থার কারণে দেখা যাবে হাত নেড়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করছেন। পায়ে খোলা স্যান্ডেল পরতে সমস্যা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নখ নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছেন। তাই সময় করে নখের যত্ন নিন। সৌন্দর্য রক্ষায় কার্পণ্য কেন? সব মিলিয়ে সৌন্দর্য চর্চায় হয়ে উঠুন অপূর্ণা।

সঠিকভাবে নখের যত্ন না নিতে পারলে নখে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন ভাঙা নখ, নখের কোনা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। নখ বারবার ভেঙে গেলে অলিভ অয়েল হালকা গরম করে সপ্তাহে একবার আঙুল ও নখে ম্যাসাজ করুন। প্রতিদিন রাতে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম দিয়ে ভালোভাবে নখের ওপরে ম্যাসাজ করুন।

পায়ের আঙুলের নখ ঠিক করে না কেটে খুব টাইট মোজা বা জুতো পরলে নখ পায়ের আঙুলের ভেতরে বাড়তে থাকে। নখের কোণের দিকের অংশ অনেক সময় পায়ের ত্বকের ভেতরেও ঢুকে যায় এবং ব্যথা করে। সেক্ষেত্রে দিনে দু’বার গরম পানিতে লবণ দিয়ে ডুবিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট।

নখ সোজাভাবে কাটুন। খুব বেশি ছোট করে কাটবেন না। নখের কোণের দিকটা কেটে ফেলবেন না। নখকুনি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

প্রতিদিন নখের ওপর লেবু ঘষে নিন। এতে নখের হলদেভাব চলে যাবে। নিয়মিত হাত ও নখে ক্রিম ম্যাসাজ করুন। বিশেষ করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর ক্রিম ম্যাসাজ করুন। নখ ও নখের চারপাশের অংশে বুড়ো আঙুল দিয়ে ক্রিম ম্যাসাজ করুন। যে কোনো ভেজিটেবল অয়েল যেমন তিলের তেল বা সানফ্লাওয়ার অয়েল অল্প গরম করে ১৫ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখুন। সপ্তাহে একদিন ঈষদুষ্ণ পানিতে শ্যাম্পু মিশিয়ে তার মধ্যে নখ ডুবিয়ে রাখুন। তারপর নরম নেইল ব্রাশ দিয়ে নখগুলো ব্রাশ করুন। ধুয়ে নিয়ে, নখ ও নখের চারপাশে ভালো করে ক্রিম লাগান। ডায়েটে ফল, সবুজ শাকসবজি, সালাদ, দই, মাছ ও মুরগি রাখুন।

যাদের নেইলপলিশ দেয়ার শখ থাকে, তারা নখ সুন্দর রাখতে পারেন এভাবে। কটন বলে রিমুভার লাগিয়ে নেইলপলিশ রিমুভ করুন। নখের কোণের দিকের নেলপলিশ না ওঠাতে পারলে টাওয়েল দিয়ে মুছে ফেলুন। নখের ওপরের অংশ মসৃণ করার জন্য নখ ফাইল করা জরুরি। নখ ফাইল করার জন্য এমরি বোর্ড বা নেইল কাটারের উল্টোদিক ব্যবহার করতে পারেন।

নেইল কাটার দিয়ে নখ ছোট করে কেটে নিন। ওভাল, স্কোয়ার, রাউন্ড ইচ্ছেমতো কেটে নিন। মাসে অন্তত একবার নখ কাটা দরকার। তবে নখ সহজে ভেঙে যায়, নখের রঙ বদলে গেছে এমন নক ট্রিম করবেন না। খুব ছোট থাকলে কাটার প্রয়োজন নেই। এবার ঈষদুষ্ণ পানিতে বডিওয়াশ দিয়ে ফেনা তৈরি করে হাত ডুবিয়ে রাখুন। ঘরে মেনিকিউরের সঙ্গেই নখের পরিচর্যা করুন।

এতে কিউটিফলস নরম হবে। নখের কোণের দিকের চামড়া ওঠাকে কিউটিকল বলে। হালকা নরম ব্রাশ দিয়ে নখ ও হাত ঘষে নিন। পানি থেকে হাত তুলে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে হাত মুছে নিন। হালকা ভেজা অবস্থাতেই হ্যান্ড ক্রিম লাগান। নেইলপলিশের ইচ্ছা থাকলে দিয়ে নিন পছন্দমতো রঙের।

পেডিকিউর করে পায়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের নখের যত্ন নিন। বড় বোলে উষ্ণ গরম পানি ভরে নিন। এতে অল্প ল্যাভেন্ডার অথবা রোজ এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। লবণ ও আমন্ড অয়েলও পানিতে মিশিয়ে নিতে পারেন।

১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। ওটমিল, শুকনো কমলার খোসা অথবা লেবুর খোসা বাটা, অল্প চিনি বা লবণ, সানফ্লাওয়ার তেল মিশিয়ে একটা স্ক্র্যাব তৈরি করুন। মিশ্রণটি তৈরি করে পায়ে লাগিয়ে নিন নখের চারপাশসহ। ২৫-২০ মিনিট রেখে পুরো পা ঘষুন। এবার ধুয়ে ফেলুন। নরম কাপড়ে মুছে নখ কেটে চারপাশ পরিষ্কার করুন ভালোভাবে। এবার লোশন লাগিয়ে নিন। নখের পরিচর্যায় সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত, আকর্ষণীয় নখের অধিকারী হন।

মডেল : অনামিকা

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।