ঝকঝকে দাঁত

 

অযত্নে দাঁতের ব্যথায় কষ্ট পায় না এমন লোকের সংখ্যা কম। দাঁত ব্যথা ছোটদের তো বটেই, বড়দের জন্যও অসহনীয়। চকোলেট খাওয়ার পর বাচ্চা যদি দাঁত ব্রাশ না করে, তাহলে বাচ্চাকে বকা হয়। এক্ষেত্রে অনেক সময় বড়রাও ভুলে যান যে দাঁতের সঠিকভাবে যত্ন না নিলে হতে পারে ক্যাভিটি, জিঞ্জিভাইটিস থেকে শুরু করে গাম ব্লিডিংয়ের সমস্যা। তাই সঠিকভাবে যত্ন নিতে হবে দাঁতের। কারো সঙ্গে কথা বলার সময় বা বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় চোখে পড়ে দাঁত। দাঁতে সমস্যা থাকলে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।

সময় বাঁচাতে অনেকেই দাঁত ব্রাশ না করে মাউথওয়াশ ব্যবহার করেই ঝামেলা এড়াতে চান। দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এ ধরনের অভ্যাস থেকে। ব্রাশ না করা দাঁতে পাথর জমা বা গাম ব্লিডিংয়ের মতো সমস্যা সৃষ্টির মূল। আরো একটি বিষয় জাঙ্কফুড আর কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া। দিনের পর দিন কোল্ড ড্রিংকস খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে থাকে। স্টিকি ফুড বা জাঙ্ক ফুড বেশি খেলে ক্যাভিটির আশঙ্কাও বাড়ে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, চা-কফি বা পান-মসলা প্রচুর পরিমাণে খান, তাদের দাঁতে অনেক সময় ছোপ পড়ে যায়। তারা অনেক সময় ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে দাঁতের দাগ-ছোপ দূর করেন। তবে এই সাদাভাব সবসময় টিকে থাকে না। ডাক্তারের কাছে নিয়মিত ফলোআপ প্রয়োজন হয়। বাড়িতে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়।

শিশুদের দাঁতের যত্ন নিতে হবে সজাগভাবে। ছোটরা নিজেদের ভালোমন্দ বোঝে না, তাই খেয়াল রাখার দায়িত্ব বড়দের। ছোটবেলা থেকেই দু’বেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবেলায় খাওয়ার পর যেন কুলি করে, সেদিকে খেয়াল করতে হবে। চকোলেট, ড্রিংকস, জুস বা কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে যেন অবশ্যই ব্রাশ করে সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁতের যত্ন নিতে হয় একটু বেশি। এর আগে মাড়ির অসুখ না থাকলে সেভাবেই এনামেল ক্ষয় হয় না, তবে ৪০-৪৫ বছরের পর এনামেল ক্ষয় দ্রুত হয় বলে দাঁতের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। এর থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে সেনসেটিভ টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। দিনে দু’বার অবশ্যই ব্রাশ করা প্রয়োজন। তার মধ্যে অন্তত একবার সেনসেটিভ টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করে নিন। অনেকের ধারণা, টুথপেস্ট বদলালে দাঁতের ক্ষতি হয়। ভুল ধারণা, খেয়াল রাখবেন টুথপেস্টে ফ্লোরাইডের মাত্রা যেন সঠিক থাকে। সাধারণত ৪০-এর ওপরে যাদের বয়স, তাদের অনেকেরই দাঁতে হলদেটে ছোপ পড়ে। এর কারণ সাদা রঙের জন্য যে এনামেল দায়ী, তার ক্ষয়। সবার ক্ষেত্রে যে একই সমস্যা দেখা দেবে তা নয়। দাঁত ও চোয়ালের সেটিংয়ের ওপরও নির্ভর করে এনামেল কতটা ক্ষয় হবে বা আদৌ হবে কিনা। এই একই কারণে অনেকের অল্প বয়সেই দাঁতের ক্ষতি হয়, আবার অনেকের বয়স হলেও হয় না।

অনেকের ধারণা, যে যত জোরে ব্রাশ করবে, তার দাঁত তত বেশি পরিষ্কার হবে, ভুল ধারণা। দুই মিনিট স্বাভাবিকভাবে ব্রাশ করুন। বেশি জোরে ব্রাশ করলে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একে অ্যাব্রেশন বলে। ওই জায়গাগুলো তখন খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ক্যাভিটিও আক্রান্ত করতে পারে সহজেই।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাড়ির আরো একটি ইনফেকশন খুব কমন, সেটি হলো পাইরিয়া। একে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে জিঞ্জিভাইটিস। জিঞ্জিভাইটিসের সমস্যা দূর করতে স্কেলিং খুব ভালো উপায়। এতে দাঁত নড়ে যায় না। আর ৪৫-এর ওপরে নিয়মিত ফ্লসিং জরুরি। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাউথওয়াশ রয়েছে, তবে সবচেয়ে উপকারী লবণ ও গরম পানি। দিনে অন্তত একবার লবণ ও গরম পানিতে কুলি করুন।

ছবি : তুহিন হোসেন

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।