‘ভীষণ অপেক্ষায় আছি’

বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত কলকাতার চলচ্চিত্র ‘কণ্ঠ’। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে একজন স্পিচ থেরাপিস্টের চরিত্রে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে। চার সপ্তাহ ধরে সিনেপ্লেক্সে মহাসমারোহে চলেছে কণ্ঠ। ছবিটি প্রযোজনা করেছে ভারতের উইন্ডোজ প্রডাকশন হাউজ। বাংলাদেশে পরিবেশনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। ‘কণ্ঠ’ ছবির বিভিন্ন বিষয়সহ নতুন ছবি নিয়ে কথা বলেছেন চারবার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রী জয়া আহসান।

আনন্দধারা : ‘কণ্ঠ’ ছবিতে আপনার ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চাই?

জয়া আহসান : ‘কণ্ঠ’ ছবিটি আমার জন্য অনেক স্পেশাল। একটা জার্নির মতো ছিল। এই ছবির মাধ্যমে লড়াই করে জয়ী হওয়া গেছে। জীবনকে নতুন করে দেখতে শিখেছি। সবসময় ভালো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয় না। ছবিটাতে অভিনয় করে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। ‘কণ্ঠ’ আমার কাছে অনবদ্য একটি সিনেমা। এটি একটি মুভমেন্ট। একটি লড়াইয়ের গল্প। আমাদের জীবন থেকে সবকিছু শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু জীবনীশক্তি শেষ হয় না। ছবির প্রয়োজনে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি। তাদের জীবনীশক্তি দেখে বিমোহিত হয়েছি।

আনন্দধারা : ‘কণ্ঠ’ ছবিটাতে খাদ্যনালির সাহায্যে কথা বলেছেন। এটা কীভাবে আয়ত্তে আনলেন?

জয়া আহসান : এটা আমার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। এজন্য একটা ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে। ওয়ার্কশপ করতেই হবে কারণ এখানে খাদ্যনালি ব্যবহার করে কথা বলতে হয়েছে। আমাদের কণ্ঠনালি থাকা অবস্থায় খাদ্যনালি ব্যবহার করে কথা বলাটা টাফ ছিল। এজন্য আমাকে বিভিন্ন ক্যান্সার রোগীদের সঙ্গে মিশতে হয়েছে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে। এখানে আমাকে অনেক ইনফরমেশন দিতে হয়েছে। কারো ল্যারিংস ক্যান্সার হলে যা যা জানতে হয়, সবকিছু আমি জেনেছি চরিত্রের কারণে।

আনন্দধারা : এই ছবিটা মানুষ কেন দেখছে বলে মনে করেন?

জয়া আহসান : ছবিটি দেখে অনেক মানুষ অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা হতাশায় আক্রান্ত, তাদের জন্য এটি টনিক হিসেবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস। নিজেকে নতুন করে ফিরে পাবে। গল্পটাই হলো এই ছবিটার প্রাণ। সঙ্গে শিবপ্রসাদের দুর্দান্ত অভিনয় নতুন মাত্রা দেবে। পাওলি দাম বাংলার অনবদ্য একজন অভিনেত্রী। সব মিলিয়ে ‘কণ্ঠ’ ছবিটা মুগ্ধ করে রাখবে। শুধু ক্যান্সার রোগীদের জন্য নয়, যারা জীবনযুদ্ধে হতাশায় ডুবে যান, হেরে যান তাদের জন্য একটি সঞ্জীবনী ‘কণ্ঠ’ ছবিটা।

আনন্দধারা : দুই বাংলার চলচ্চিত্র বিনিময় নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

জয়া আহসান : বাংলা চলচ্চিত্রের বাজারটা বড় হওয়া দরকার। এই ছবিটির বিনিময়ে আমার অভিনীত আরো একটি চলচ্চিত্র ‘খাঁচা’ কলকাতায় যাচ্ছে। আসলে বিনিময় মাধ্যমে যেসব চলচ্চিত্র ওখানে যায়, সেগুলোর শিল্পমান বেশি ভালো নয়। সেক্ষেত্রে শিল্পমানের দিক দিয়ে ‘খাঁচা’ অনেক বেশি মানসম্পন্ন। একটা দেশের সংস্কৃতি যখন বিনিময় হয়, সেখানে চলচ্চিত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ। ‘খাঁচা’ চলচ্চিত্রটি ওই দেশে মুক্তি পাচ্ছে এটা আনন্দের। কারণ খাঁচা অনেক ভালো একটি ছবি। ‘কণ্ঠ’ ছবির বিনিময়ে একটি ভালো ছবি কলকাতায় যাচ্ছে, এটা সত্যিই আনন্দের।

আনন্দধারা : ‘কণ্ঠ’র প্রচারণা দেখছি, কলকাতায় খাঁচার ক্ষেত্রে এমনটি হবে?

জয়া আহসান : এটা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ভালো বলতে পারবে; কবে নাগাদ তারা খাঁচা কলকাতায় মুক্তি দেবে। আমাকে যখন বলবে অবশ্যই আমি প্রচারণায় অংশ নেব। প্রত্যেকটি ছবি আমার সন্তান। খাঁচা আমার প্রাণের একটি ছবি। খাঁচা মুক্তির সময় অবশ্যই ভালোভাবে প্রচারণায় অংশ নিতে চাই। এরই মধ্যে কলকাতার দর্শকদের কাছে খাঁচা সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আনন্দধারা : ছবিটা নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো কথা?


নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়া আহসান

জয়া আহসান : এ ছবিতে অভিনয় করেছি বলে বলছি না। আমি নিশ্চিত ছবিটি দেখে সবাই উপকৃত হবেন। সবার খুব ভালো একটি সময় কাটবে। ছবিটি ভারতে এতটাই সাড়া ফেলছে যে, মালায়াম ভাষায় রিমেক হচ্ছে। দেবী শেঠির মতো ডাক্তার ও তার হাসপাতাল সরাসরি ছবিটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সঙ্গে আরো বলব ক্যান্সারের যারা রোগী তাদের সঙ্গে নিয়ে ‘কণ্ঠ’ দেখুন। তারা আবারো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন ফিরে পাবে। ছবিটা দেখার পর স্বরযন্ত্রবিহীন একজন ক্যানসার সারভাইভর, যিনি পর্দার অর্জুন মল্লিকের মতোই শ্বাসনালি দিয়ে কথা বলেন। তিনি যখন আমাকে পারফেক্ট বলে রায় দিয়েছেন, এই ছবির জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

আনন্দধারা : ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনীতে অনেককে কেঁদে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বের হতে দেখা গেছে?

জয়া আহসান : ছবিটি দেখে কলকাতার দর্শকেরও এমনটা হয়েছিল। বাংলাদেশেও ঘটছে। এটি লড়াই করে বেঁচে যাওয়ার গল্প। হতাশায় ভোগা, জীবনের সবকিছু শেষ মনে করা এবং বেঁচে থেকে কিছু করতে পারছেন না কিংবা পৃথিবীকে দেয়ার মতো কিছুই নেই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে যাদের, তাদের অনুপ্রেরণা দেয়ার গল্প। ছবিটি দেখে অনেকে কেঁদেছেন, এটাই আমার প্রাপ্তি।

আনন্দধারা : ছবির দুই পরিচালক সম্পর্কে আপনার অভিমত জানতে চাই?

জয়া আহসান : আমি সত্যি কৃতজ্ঞ দুই পরিচালক নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছে, এমন দারুণ একটি সিনেমায় কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন বলে। আমি চাই শিবু দা পরিচালনার পাশাপাশি আরো বেশি অভিনয় করুক। এটা দর্শকদের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি হবে। শিবপ্রসাদ-নন্দিতা যুগলবন্দি হয়ে ছবি পরিচালনা করেন। কলকাতার ছবির ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন তারা দু’জন। অনেক কৃতজ্ঞ তাদের দু’জনের কাছে।

আনন্দধারা : ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। কেমন লাগছে?

জয়া আহসান : আমার সত্যি ভালো লাগছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার কারণ আমার প্রযোজিত ও অভিনীত ‘দেবী’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পুরস্কারটা পেয়েছি। দর্শকের কাছে আমার অনেক কৃতজ্ঞতা। চতুর্থবারের মতো আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য অনেক কৃতজ্ঞ সবার কাছে।

আনন্দধারা : নতুন ছবির বিষয়ে বলেন?

জয়া আহসান : আগামী ২৭ ডিসেম্বর কলকাতায় প্রসেনজিতের সঙ্গে ‘রবিবার’ নামে একটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এটা নিয়ে আমি ভীষণরকম অপেক্ষায় আছি। কৌশিক গাঙ্গুলীর নতুন ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’র শ্যুটিং করছি । এছাড়া বাংলাদেশে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘অলাতচক্র’, ‘পেয়ারার সুবাস’ ও ‘বিউটি সার্কাস’ নামের তিনটি ছবি।

জয়া আহসানের সৌন্দর্য রহস্য!

বাংলা ছবির অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান, সৌন্দর্য নিয়ে বরাবরই সচেতন, সেটা যেমন পর্দায় তেমন বাইরেও । তার সৌন্দর্য সচেতনতা নিয়ে কথা বলেছেন। পাঠকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছেন নিজের সৌন্দর্য রহস্য।

ত্বকের যত্ন

জয়া আহসান বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্যকর এবং জৈব ডায়েট তারুণ্য ও সতেজ দেখানোর মূল চাবিকাঠি। ব্র্যান্ডযুক্ত পণ্য এবং প্রসাধনী ব্যবহার করা ছাড়াও তার ত্বক পরিষ্কার করার জন্য প্রথম পদক্ষেপটি হচ্ছে অপরিশোধিত নারকেল তেল এবং একটি ভালো টোনার। তিনি ত্বককে নরম ও ময়েশ্চারাইজ রাখার জন্য একটি সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার এবং নাইট ক্রিম ব্যবহার করেন। এছাড়াও তিনি নাইট কেয়ার রুটিন অনুসরণ করে চলেন। জয়া আহসান গোলাপ জলে মিশ্রিত খাঁটি চন্দন লাগিয়ে তার ত্বকের মসৃণতা বাড়ান এবং মাসে একবার বা দু’বার করে এটি করে থাকেন। নিখুঁত ত্বকের জন্য তার প্রধান মন্ত্র হাইড্রেশন ও পুষ্টিকর সুষম খাদ্য।

চুলের যত্ন

সুযোগ পেলেই জয়া তার চুলে নারকেল তেল ব্যবহার করেন। নারকেল তেলে তার আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি নেই। চুল ধোয়ার সময় তিনি আরগান তেল মিশ্রিত, মরোকানোয়েল শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করেন।

মেকআপ

যখন মেকআপের বিষয়টি আসে, তখন জয়া এটিকে খুব ন্যূনতম এবং স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। তার দৈনন্দিন মেকআপের জন্য তিনি ক্রিশ্চিয়ান ডায়ার কনসিলার এবং পার্টির জন্য তিনি ক্রিশ্চিয়ান ডায়ার এয়ারফ্ল্যাশ স্প্রে ব্যবহার করেন। পেশাদার মেকআপের জন্য ম্যাক এবং ক্রিওলনের একটি মিশ্রণ ব্যবহার করে থাকেন। তার প্রিয় লিপস্টিক ব্র্যান্ডগুলো হলো ম্যাক, শিসেডো ও উরবান ডিকে।

নিয়মিত পোশাক

তিনি শাড়ি পরতে পছন্দ করেন। তবে দৈনন্দিন কাজগুলোর জন্য তিনি সালোয়ার-কামিজ, টি-শার্ট এবং কুর্তিস প্যান্ট বা জিন্স পরতে পছন্দ করেন।

পার্টি পোশাক

পার্টিতে জয়া সাধারণত ডিজাইনারদের ডিজাইন করা পোশাক পরে থাকেন। তিনি ভারতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী মসলিনকে প্রাধান্য দেন।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।