শীতের চুলের পরিচর্যা

আমাদের এই গ্রীষ্মপ্রধান দেশে শীতের অল্প স্থায়িত্ব সবার কাছেই সাদর অভ্যর্থনা পেয়ে থাকে। তবে শীতের সঙ্গে সঙ্গে কিছু সমস্যাও হানা দেয়। এই শীতের হাওয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক ও চুলে নানা সমস্যার সূচনা হতে থাকে। তবে যারা নিয়মিত রূপচর্চা করেন, তাদের ভয় কিছুটা কম।

শীতের শুরু থেকেই যত্ন নিন চুলের। রুক্ষ-শুষ্ক চুল শীতের সময়টা চোখে পড়ে বেশি। অল্পতেই উষ্কখুষ্ক চুল, স্ক্যাল্পে চুলকানি, খুশকির উপদ্রব ইত্যাদি যেন বেড়ে যায় এ সময়টাতে। নিতুর অফিস পার্টি, চাইছিল  প্রতিদিনের চেয়ে অন্যভাবে সাজতে। খোলা চুলে একটা স্নিগ্ধ লুক দিতে, কিন্তু চুলের বেহাল অবস্থা। ব্রাশ দিয়ে আঁচড়াতে গিয়ে কয়েকটা চুল ছিঁড়েও গেল। সত্যি বলতে বেশ কিছুদিন কাজের ঝামেলায় চুলের প্রতি বেশি খেয়াল করা হয়নি। তার ফল ভোগ করছে এখন। মন খারাপ করে আবার চুলটা গুছিয়ে বেঁধে ফেলল, পার্টিটা চুলের টেনশনে ঠিকমতো এনজয় করা হয়নি। চিন্তায় পড়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকার কিছু নেই। আজ থেকেই শুরু করে দিন এ শীতে চুল পরিচর্যা। দেখবেন সঠিক যত্ন নিলে খুশকি বা রুক্ষ-শুষ্ক চুলের সমস্যা কেটে যাবে। আর আপনিও ঝলমলে চুলে সবসময় থাকবেন উজ্জ্বল।

চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নিন। পরামর্শটা শুনে মনে হতে পারে এটা নতুন কী কথা। তবে এটা খুব প্রয়োজন। চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু বেছে নেয়া। সারা বছর আপনার চুল মোটামুটি ঠিকই থাকে। নরমাল কিংবা অয়েলি হেয়ার যেমনই হোক, কিন্তু শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই চুল রুক্ষ হতে শুরু করে। এমন অয়েলি হেয়ারও অনেক সময় স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে হয়ে পড়ে শুষ্ক রুক্ষ। কিন্তু আপনি বছরের অন্য সময়ে যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন এই শীতেও একই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে কি কাজ হবে? শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুন উইন্টার কেয়ার শ্যাম্পু। শীতকালে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু হলেই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে না এটা ভাববেন না। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। শ্যাম্পু করার পর ভালোভাবে চুল ধুয়ে নিতে হবে। কারণ চুলে শ্যাম্পু থেকে গেলে চুল আরো রুক্ষ হয়ে যায়।

চুলের সঠিক পুষ্টির অভাবে সাধারণত খুব শুষ্ক হয়। এর মোকাবেলা করার জন্য একভাগ ক্যাস্টর তেলের সঙ্গে দু’ভাগ নারকেল তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটিকে গরম করে নিন। এবার এই মিশ্রণটিকে চুলে লাগান। চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে আস্তে আস্তে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। ছোট ছোট সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। এটি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। সারারাত তেল চুলে মাখানো অবস্থায় রেখে সকালে ভালোভাবে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। এক্ষেত্রে সবসময় চুলের ডগা থেকে শুরু করে ওপরের দিকে উঠবেন। নিয়মিত কন্ডিশনিং একান্ত প্রয়োজন। হেয়ার কন্ডিশনার ও কোনো ভালো কোম্পানির হেয়ার সিরাম চুল নরম করতে সাহায্য করে। এটি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সাহায্য করে। চুলকে যাবতীয় প্রতিকূলতার হাত থেকে রক্ষা করে। শ্যাম্পু করার পর ক্রিমযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণ কন্ডিশনার হাতের তালুতে নিয়ে চুলে হালকা করে ম্যাসাজ করুন। দুই মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া কোনো ‘লিও অন’ কন্ডিশনার বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার চুল যদি বেশি রুক্ষ হয়, ভঙ্গুর আর শুষ্ক হয়। তবে একটি ডিম, দুই টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল। একটি লেবর রস মিশিয়ে নিন। এ মিশ্রণটিতে এক চা-চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন। এই পুরো মিশ্রণটি মাথার তালুতে ও চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিন। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। শীতের শুরুতেই একবার ডিপ কন্ডিশনিং স্পা করিয়ে নিতে পারেন। আর সময় পেলে মাসে অন্তত দু’বার ডিপ কন্ডিশনিং স্পা অথবা নারিশিং অয়েল ম্যাসাজ করিয়ে নিতে পারেন। এতে চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

শীতকালে চুল শুকানো একটা ঝামেলা হয়ে যায়, আর একটু বেলা করে গোসল করলে রাত অবধি দেখা যায় অনেক সময় চুলের গোড়া ভেজা থাকে। তাই বলে সবসময় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে চুলের শুষ্ক ও ভঙ্গুর  হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে খুশকির সমস্যাও বেড়ে যায়। তাই শীতকালে যতটা সম্ভব হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহে দু’দিন আমন্ড অয়েল এবং নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। আমলকীও কন্ডিশনারের কাজ করে। মাসে দু’দিন আমলকী ও টকদই একসঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

বাইরে যত্নের সঙ্গে ভেতর থেকেও চুল হেলদি রাখার প্রয়োজন আছে। এর জন্য প্রয়োজন হেলদি অ্যান্ড ব্যালান্সড ডায়েট। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের সঠিক ব্যালান্স আপনার চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য প্রচুর পানি পান করুন। ফল বা ফলের রস খান। চুল পরিষ্কার রাখুন। চুলের সৌন্দর্যে হয়ে উঠুন ঝলমলে উজ্জ্বল!

 

মডেল : কেয়া

মেকআপ : কিউবেলা

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।