‘সাকিব আল হাসানের সঙ্গে একটা বিজ্ঞাপনে আছি’

 

অভিনয় অন্তপ্রাণ এক নাম হায়াতুজ্জামান খান। অভিনয়ের প্রতি তার গভীর দুর্বলতা। মঞ্চ নাটক, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন সব মাধ্যমে কাজ করেছেন। তবে তার খুব পছন্দের মাধ্যম চলচ্চিত্র। এখানেই কিছু একটা ঘটিয়ে দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। গ্রামীণফোনের দূরত্ব যতই হোক কাছে আসো এবং সুপার মমের বিজ্ঞাপনের সেই মানুষটির সঙ্গে চলুন পরিচিত হই। সম্প্রতি আনন্দধারার সঙ্গে কথা বলেছেন নিজের অভিনয়ের অনেক কিছু নিয়ে। তারই অংশবিশেষ পাঠকদের জন্য...

আনন্দধারা : অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মাল কীভাবে?

হায়াতুজ্জামান খান : অভিনয় জিনিসটা না বুঝেই স্কুলে যেমন খুশি তেমন সাজো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতাম। সেখানে পোশাক পরিবর্তন করে সাজগোজ করে একটা মানুষ অন্যরকমভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে দেখে ভালো লাগত। কবিতা আবৃতি, বিতর্ক আর যেমন খুশি তেমন সাজো- এই তিনটা পুরস্কারই পেতাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, তখন দেখলাম সেখানে নাট্যচর্চা হয়। রাজশাহী থিয়েটারে কামাল ভাইয়ের সঙ্গে একটা কর্মশালায় আমার পরিচয়, সেই দলের সদস্য হই। বদিউল ইসলাম বুলু আমার অভিনয়ের প্রথম শিক্ষক। রাজশাহী শিল্পকলায় আমি দুই বছর অভিনয়ের কোর্স করেছি।

আনন্দধারা : রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় কতগুলো মঞ্চনাটকে কাজ করেছিলেন?

হায়াতুজ্জামান খান : এগারোটা পথ নাটকের সঙ্গে ছিলাম এবং দুটি মঞ্চ নাটকের সঙ্গে ছিলাম। এগুলো হলো- নজরবন্দি, ফুটপাথ, অদ্ভুত এই সময়, আমি মদন বলছি। তার মধ্যে আমি মদন বলছি নাটকটি রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাসে একক মঞ্চ নাটক হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মনোজ মিত্রের রচনায় এবং তীর্থক নাটকের প্রযোজনায় তখন অনেক আলোচিত হয়েছিল নাটকটি। এরপর ২০১০ সালের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে ঢাকায় চলে আসি। এখানে এসে প্রাচ্যনাট্যের অভিনয়ের স্কুলে যোগ দিই। তাদের দুটো প্রযোজনায় কাজ করেছি।

 আনন্দধারা : তারপর আর কী কী করলেন?

হায়াতুজ্জামান খান : শামসুল ইসলাম বকুল ভাই চাকরিজীবীদের নিয়ে একটা থিয়েটারের দল করলেন, তখন সেখানে যোগ দিই। এখানে ‘বাঘাল’ নামের একটা নাটকে কাজ করলাম। নাটকটা ছিল মাসুম রেজার লেখা এবং বকল ভাই পরিচালনা করেছিলেন। এরপর এটিএন বাংলায় নাট্যযুদ্ধ নামে একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ‘জগতির এক রাত’ শেষ কথা নামের একটা ফিল্মে কাজ করি। পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গা নামের একটা প্রজেক্টেও করেছি। এছাড়া আফসানা মিমির সঙ্গেও কাজ করেছি।

আনন্দধারা : অভিনয়ে আপনার দুর্বলতা কোন মাধ্যমে?

হায়াতুজ্জামান খান : আসলে আমি ফিল্মটাই করতে চাই। তবে এখন সবচেয়ে বেশি করছি বিজ্ঞাপন।

আনন্দধারা : আপনার প্রচারিত বিজ্ঞাপনগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?

হায়াতুজ্জামান খান : আমার প্রথম বিজ্ঞাপনে আসা অমিতাভ রেজার হাত ধরে। এলপিজির একটার পর গ্রামীণফোনের দূরত্ব যতই হোক কাছে আসো বলে একটা বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল আসফাক উজ জামান বিপুল পরিচালিত একটা বিজ্ঞাপনে, সেখানে আরো ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সুপার মমের বিজ্ঞাপনে শবনম ফারিয়ার সঙ্গে ছিলাম।

আনন্দধারা : আগামীতে নতুন কোন বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে আপনাকে?

হায়াতুজ্জামান খান : সুপার মম বেবি ডাইপার, এএমসির একটা নতুন প্রডাক্ট লঞ্চ করেছে পানি নামে, সেখানে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কাজ করেছি। এছাড়া সিটি ব্যাংকের একটা বিজ্ঞাপনে দেখা যাবে আমাকে।

আনন্দধারা : কাদের অভিনয় আপনাকে অনুপ্রাণিত করে?

হায়াতুজ্জামান খান : ইরফান খান, নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিক, আমাদের দেশের জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন ফরীদি। তবে বর্তমানে আমার আইডল নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিক। আর আমার আদর্শ হলেন ঋত্বিক কুমার ঘটক।

 আনন্দধারা : চাকরির ও অভিনয় কীভাবে সামলান? 

হায়াতুজ্জামান খান : জীবিকার প্রয়োজনে করতে হয়। আর অভিনয় বিজ্ঞাপন প্রাণের জায়গা।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।