মানুষ লড়াই করার অনুপ্রেরণা পাবে- নন্দিতা রায়

আনন্দধারা : কণ্ঠ ছবির পরিকল্পনার কথা কীভাবে মাথায় এলো?

নন্দিতা রায় : এই ছবিটা করার পরিকল্পনা হয়েছিল ২০০০ সালে। এমন একটা মানুষের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল, যার কণ্ঠটা ক্যান্সারের কারণে চলে গিয়েছিল। তারপর তার বেঁচে থাকার এবং কথা বলার যে স্পৃহা এবং কণ্ঠ চলে যাওয়ার পর আবার নতুনভাবে কথা বলার জন্য যে চেষ্টা কোনো যন্ত্রের সাহায্যে বা অন্য কোনো উপায়ে। একসময় উনি আবিষ্কার করেছিলেন খাদ্যনালি দিয়ে কথা বলা যায়। খাদ্যনালি দিয়ে কথা বলে তার বেঁচে থাকার গল্পটা আমাদের শুনিয়েছিলেন এবং আমাদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তার এই গল্পটা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। যাতে করে অনেক মানুষ বেঁচে থাকার এবং লড়াই করার অনুপ্রেরণা পাবে।

আনন্দধারা : সত্যি অনেক অনুপ্রেরণার একটা গল্প।

নন্দিতা রায় : আসলেই অনেক অনুপ্রেরণার গল্প কণ্ঠ। জীবনে কখনো হার মানা উচিত নয়। কোথাও না কোথাও একটা মানুষের মধ্যে জোর পাওয়া যায়। সেই মানুষটা আমাদের মনের মধ্যে যে ভাবনা দিয়েছিলেন, সেটা নিয়ে অনেক দিন ধরে চিন্তা-ভাবনা করেছি। এই বিষয়টাকে ছবিতে রূপান্তর করে মানুষের কাছে তুলে ধরা খুব কঠিন ছিল। কারণ প্রথমেই ক্যান্সার শুনেই মানুষ একটু পিছিয়ে যায়। অনেকের কাছেই এই বিষয়টা নিয়ে গেছি, তার বলেছিল গল্পটা ভালো কিন্তু দর্শকরা কি এটা মেনে নেবে? কিছুতেই তাদের বোঝাতে পারছিলাম না যে এখানে শুধু হতাশা না, বরং উল্টোটা আছে।

আনন্দধারা : যখন শুরু করেছিলেন অনেক শঙ্কা ছিল মনের মধ্যে?

নন্দিতা রায় : অনেক শঙ্কার মধ্যে থেকে ছবিটি শুরু করেছিলাম। কিন্তু এটি মুক্তির পর চিত্রটাই পাল্টে গেল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা এই ‘কণ্ঠ’। দর্শকরা দারুণভাবে সাড়া দিয়ে হলে গিয়েছেন। ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন।

আনন্দধারা : জয়া আহসানকে কেন রোমেলা চরিত্রটির জন্য বেছে নিয়েছিলেন?

নন্দিতা রায় : আমার কাছে জয়া আহসান একজন অসাধারণ অভিনেত্রী। অনেকদিন ধরে ইচ্ছে ছিল তাকে নিয়ে কাজ করার। এই ছবি নিয়ে যখন জয়ার  সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় তখন তাকে বলি, ঢেকুর তুলে তুলে কথা বলতে হবে, পারবে? সঙ্গে সঙ্গে সেটা করে দেখিয়ে দিল। কিন্তু কীভাবে করল জানি না। তারপর আর কিছু ভাবিনি। তাকেই নায়িকা হিসেবে নির্বাচিত করি।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও একজন অসাধারণ অভিনেতা। অনেক দিন ধরে আমার ইচ্ছে ছিল ওকে এমন একটা চরিত্র দেব, যা দেখে দর্শকদের চোখ জুড়িয়ে যাবে। সেই চরিত্রটা শিবপ্রসাদ ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। অভিনয়ে ওর প্যাশন চরিত্রটার ওপরে তা দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি।

আনন্দধারা : কণ্ঠ নিয়ে আপনি আর কী বলতে চান?

নন্দিতা রায় : কণ্ঠ শুধু আমার কাছে ছবি ছিল না। আমার কাছে একটা মিশন ছিল। এই ছবিটা করে জীবনটাকে এবং মনুষ্যের বিজয় উপভোগ করেছি। গল্পের কয়েকটি ঘটনা আমাকে খুব নাড়া দিয়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত কয়েকজন মানুষ এসে আমাকে বলেছে, নতুন করে আবার বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে। অনেক স্ত্রী আমার কাছে এসে বলেছে, এই ছবিটা দেখার পর আমার স্বামী সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ছবিটা দেখার পর একজন মানুষও যদি পরিবর্তন হয়, সেটা অনেক বড় পাওয়া।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।