জয়ার মতো অভিনেত্রী আর একটিও নেই -শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

আনন্দধারা : ‘কণ্ঠ’ ছবিটা ভারতে ১০০ দিন পার করছে। বাংলাদেশে কেমন আশা করছেন?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : ভারতে কণ্ঠ ছবিটি মুক্তির ১০০ দিন পূর্ণ করেছে। ছবিটি মুক্তির মাত্র ১১ দিনে ২ কোটি রুপি আয় করার হিসাব পেয়েছি। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ছবিটি আমেরিকার ১৬টি শহরে দেখানো হয়েছে, লন্ডনে দেখানো হয়েছে, সবখানে দর্শকের অনেক সাড়া পেয়েছি। বাংলাদেশের মানুষ ছবিটা পছন্দ করছে তার প্রমাণও পেয়েছি।

আনন্দধারা : কলকাতার বাংলা চলচ্চিত্রে একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, সেখানে গল্প প্রধান ছবির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : দর্শকদের মধ্যে একটা রুচির পরিবর্তন ঘটেছে। তারা এখন জীবনঘনিষ্ঠ গল্প খুঁজে বেড়ায়। নিজের গল্প দেখতে চায়। আমার সিনেমা ‘বেলা শেষে’, ‘হামি’ কিংবা আমার ‘পোস্ত’ এগুলো দর্শকের নিজের গল্প। ‘প্রাক্তন’ ছবিটা দেখে বাংলার দর্শক রিলেট করেছে যে, এটা আসলে তার নিজেরই একটি প্রেমের গল্প! ঠিক সেভাবেই ‘কণ্ঠ’ ছবিটিও যে এত সাড়া পেল, কারণ এটিও মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ একটি গল্পের চিত্রায়ণ। মানে জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের জোরেই সিনেমা হিট হচ্ছে।

আনন্দধারা : আপনাদের সঙ্গে প্রথম অভিনয় করছেন বাংলাদেশের জয়া আহসান। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : জয়া সম্পর্কে বলতে গেলে আমার মনে হয় ওর মতো অভিনেত্রী এই উপমহাদেশে আর একটিও নেই। শুধু বাংলা ভাষায় কেন বলছি, মূলত জয়ার মতো অভিনেত্রী ভারতবর্ষে আর একটিও নেই। তার মতো এত পারফেকশন, আমি কারো মধ্যে দেখিনি। সে যেকোনো চরিত্রের ভেতর ঢুকে যেতে পারে এবং সেই চরিত্রের মানুষটাই সে হয়ে ওঠে। ‘কণ্ঠ’র রমিলা চরিত্রটি আর কেউ করতে পারত না।

আনন্দধারা : অভিনেত্রী হিসেবে জয়া আহসানকে আপনি দশের মধ্যে কত নম্বর দেবেন?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : দেখুন, দশে তো দশ দেয়া যায় না। সেটা কেউ কাউকে দিতে পারে না। তবে দশে ৯ তো দিতে পারি।

আনন্দধারা : বাংলাদেশের আর কার সঙ্গে সিনেমা করার ইচ্ছা আছে?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : বাংলাদেশের শাকিব খানের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। শাকিব ও আমার যদি কোনো গল্প তৈরি হয়, তবে আমার খুব ভালো লাগবে। ফেসদৌস আমার খুব ভালো বন্ধু, তার সঙ্গে কাজ করতে পারলেও ভালো লাগবে। অপি করিমের অভিনয়ের ভক্ত আমি। আমি যখন কাজ শুরু করি, তখন থেকেই বিপাশা হায়াতের অভিনয় দেখে আমি তার ভক্ত হয়েছি। তার সঙ্গে কাজ করতে পারলেও আমার ভালো লাগবে।

আনন্দধারা : পরিচালনার পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দুটি কাজ একসঙ্গে কীভাবে সামলান?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : অভিনেতা হিসেবেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে এসেছিলাম। তবে সচরাচর অভিনয়টা করা হয় না। এই সিনেমায় নন্দিতা রায় পরিচালক হিসেবে আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য তার কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। এছাড়া পাওলি দাম, জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রীদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি, স্ক্রিন শেয়ার করতে পেরেছি এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আর পরিচালক হিসেবে বলব, একই সিনেমায় যেখানে আমি পরিচালক ও অভিনেতা, সেখানে পরিচালক শিবপ্রসাদের অভিনেতা শিবপ্রসাদের সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে।

আনন্দধারা : পরিচালক শিবপ্রসাদ অভিনেতা শিবপ্রসাদকে কত নম্বর দেবেন?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : আমার মনে হয় এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নন্দিতা রায় ভালো দিতে পারবেন। কারণ এই উত্তর পরিচালক শিবপ্রসাদের দেয়া খুব ক্রিটিক্যাল। কাজেই ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় বাকিটা দর্শক ভালো বলতে পারবে। একজন অভিনেতা কেমন কাজ করেছেন, সেটা দর্শকই ভালো বলতে পারেন।

আনন্দধারা : কলকাতায় ‘কণ্ঠ’ বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের দর্শক ‘কণ্ঠ’ সিনেমা কেন দেখবে বলে মনে করেন?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : আমার কাছে কখনো মনে হয় না, আমি পুরোপুরি ভুল হতে পারি। আমার মনে হয়, ‘মাটির ময়না’ দু’দেশের মানুষের মন জয় করেছে। ‘আহারে’, ‘আয়নাবাজি’ বাংলাদেশের সবার মন জয় করেছে, আমার মনও জয় করেছে। কাজেই সিনেমার একটাই ভাষা হয়, ভালো অথবা খারাপ। আমার সিনেমা যা বানিয়েছি সেটা হয় মানুষের হৃদয়ে জায়গা পাবে, না হয় পাবে না। ভারতে ভালো লাগছে, তবে বাংলাদেশে ভালো লাগবে না তা আমি বিশ্বাস করি না। ‘পথের পাঁচালী’ ভারত ও বাংলাদেশে ভালো লেগেছে। আমাদের নিজেদের সিনেমা দিয়ে বিচার করে বলতে পারি, ‘বেলা শেষে’, ‘প্রাক্তন’, ‘পোস্ত’ প্রত্যেকটি সিনেমা ভারতবর্ষ জয় করেছে। একইভাবে আমার ধারণা ‘কণ্ঠ’ ভারতবর্ষে যেভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, বাংলাদেশেও একই রকম জনপ্রিয় হবে।

 আনন্দধারা : অনেক আগে বাংলাদেশের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। আবারো কী কাজ করার ইচ্ছা আছে?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : আমার জীবনে বাংলাদেশে নায়ক হিসেবে প্রথম কাজ করেছি ‘একটি নদীর নাম’ সিনেমায়। সেখানে শমী কায়সার আমার সঙ্গে অভিনয় করেছিল। এই ছবিতে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে শ্যুটিং করেছি। কাজেই বাংলাদেশের সঙ্গে আমার অন্যরকম এক যোগ আছে। বাংলাদেশে আমার খুব প্রিয় একজন পরিচালক আছে, আমার বন্ধু ‘আহা!’ সিনেমার পরিচালক নির্ঝর। যদি কোনোদিন এমন সিনেমা বানাতে পারি, তাহলে বলতে পারব একটি ভালো সিনেমা বানাতে পেরেছি। এত সিম্পল, এত ভালো একটি সিনেমা নির্ঝরদা বানিয়েছিল। আমি ওর ভক্ত। আমি জয়া আহসানের অভিনয়ের ভক্ত। আমি কৃতজ্ঞ মনে করি জয়া আমাদের নিজেদের সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এটা ভালো লাগছে।

আনন্দধারা : বাংলাদেশে ‘কণ্ঠ’ নিয়ে আপনার প্রত্যাশার কথা জানতে চাই-

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : দেখুন, আমাদের অনেকগুলো সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের ভালো লেগেছে। আমার বিশ্বাস ‘কণ্ঠ’ও সবার ভালো লাগবে। কারণ কণ্ঠ শুধু একটি সিনেমা নয়, কণ্ঠ আমাদের একটা মিশন। কণ্ঠ ভালোবাসার গল্প, লড়াইয়ের গল্প, একটা বেঁচে থাকার গল্প। তাই সবাইকে অনুরোধ করব হলে গিয়ে সবাই কণ্ঠ দেখুন।

আনন্দধারা : নিজের পরিচালনায় সামনে নতুন কী কাজ?

শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় : সামনের বছর ‘বেলা শেষে’র পরের ধাপ আসছে। এই ছবিটার নাম হবে ‘বেলা শুরু’।

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।