আকর্ষণীয় চুলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে


মডেল : তাসনিম, মেকআপ অ্যান্ড হেয়ার স্টাইল : মিম সাবিহা সাবরিন, পোশাক : বেলোরা,
গহনা : স্পার্কলি ক্লোজেট, সেট : অ্যাস্থেটিক ইভেন্টস্

চুল সৌন্দর্যের প্রতীক। ত্বকের যত্ন নিয়ে আমরা নানাভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখি। কীভাবে ত্বক সুন্দর রাখা যায় তা নিয়ে কার্যক্রমের শেষ নেই। তবে দেখবেন ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে যদি চুলের প্রতি যত্ন না নেয়া হয়, তবে সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। সুন্দর মুখেও নেতিয়ে পড়া চুল আপনাকে সবার কাছে আড়াল করে রাখে। তাই আমাদের সঠিকভাবে চুলের যত্ন নেয়া উচিত।

প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় চুল নিয়ে বিপদে পড়তে হয় নিশিকে। চুলটা বেঁধে রাখতে হয় সবসময়। ইচ্ছা থাকলেও খোলা চুলে বেরোতে পারে না। চুল অনেক সময় হালকা ভেজা অবস্থাতেই বেঁধে ফেলতে হয়। একবার চুল খোলা অবস্থাতেই অফিসে গিয়েছিল। রাস্তার ধুলোবালি, বাতাসে উসকো-খুসকো হয়ে পড়েছিল চুল। দেখে মনে হচ্ছিল রাস্তায় যুদ্ধ করতে করতে এসেছে। সবার প্রশ্নবোধক চাহনি চোখ এড়ায়নি নিশির। দ্রুত বাথরুমে গিয়ে চুলটা টাইট করে বেঁধে তবে স্বস্তিবোধ হয়। চুলটা এতটা রুক্ষ হয়ে গেছে যে কী করবে, বুঝে উঠতে পারে না, বান্ধবী চুলে তেল দেয়ার পরামর্শ দিল।

চুলে তেল দেয়ার কথা শুনলেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। মা জোর করে ধরে সপ্তাহে দু’তিনদিন তেল দিয়ে দিত। বড় হয়ে বাইরের কাজে ব্যস্ত জীবনে তেল দেয়ার কথা মনেই পড়ে না। তেল চুলের জন্য উপকারী। প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত দু-তিনদিন তেল ম্যাসাজ করা প্রয়োজন। আয়ুর্বেদ তেল চুলের জন্য ভালো ফল দেয়। আমাদের চুলে নানা সমস্যা দেখা দেয় এখন। গরম থেকে শীতের দিকে এখন আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। তাই চুলে প্রয়োজন বাড়তি যত্নের।

চুলে তেল ব্যবহার করুন সপ্তাহে দু-তিনদিন। হালকা গরম করে চুলের ফাঁকে ফাঁকে স্ক্যাল্পে তেল মাখুন। পরদিন সকালে হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে খুশকি দূর হবে। বালিশের কভার কিছুদিন নিয়মিত পাল্টে নিন। চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে চিরুনিটা ডেটল পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের আগা ফেটে গেলে অল্প কেটে নিন। নিয়মিত চুলে তেল দেবেন এবং চুল ধুয়ে পরিষ্কার রাখবেন। ভেজা চুল আঁচড়ানোর সময় মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন। কারণ সরু দাঁতের চিরুনিতে ভেজা চুল আঁচড়ালে চুল ছিঁড়ে যেতে পারে। সপ্তাহে একদিন চুলে স্টিম দিতে পারেন, এর জন্য আগে মাথায় তেল দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন। তারপর তোয়ালে বা গামছা হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে চিপে মাথা পেঁচিয়ে নিন। এভাবে তিন-চারবার স্টিম নিন। শ্যাম্পুর সঙ্গে একবার ভিনেগার মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিলেও ভালো ফল পাবেন।

মূল কথা চুলের যত্ন নিতে হবে সঠিকভাবে। ব্যবহার করুন বাজারের সবচেয়ে সেরা পণ্যটি। তবে চুল চর্চার ক্ষেত্রে হারবাল পণ্য ব্যবহার করা উপকারী হবে। তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি বেছে নিন আপনার চুল উপযোগী তেল।

চুলে ব্যবহার করুন জোজোবা তেল। যুগ যুগ ধরে বিশ্বজুড়ে মহিলারা চুলের যত্নে ব্যবহার করে আসছেন এই তেল। এটা চুলের ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। সেনসেটিভ স্কিনের জন্যও উপকারী এবং চুল ঘন ও লম্বা করে।

 জোজোবা তেলের হালকা সুগন্ধ আপনাকে ফ্রেশ রাখবে। জোজোবা তেলে আছে ভিটামিন ‘ই’, ওমেগা ৬ ও ৯ ফ্যাটি অ্যাসিড। আর স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা স্ক্যাল্পের ভাইরাল ইনফেকশন হওয়া রোধ করে। জোজোবা তেল নিয়মিত ব্যবহারে আপনার স্ক্যাল্পে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে। স্ক্যাল্প পরিষ্কার রেখে এতে জীবাণুর আক্রমণ থেকে বাঁচাবে। তেল ম্যাসাজ করলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল ঠিক রাখবে। চুল পড়া কমাবে। রাতে তেল ম্যাসাজ করে সকালে শ্যাম্পু করলে দেখবেন জোজোবা তেল ব্যবহারে আপনার বাড়তি কন্ডিশনার প্রয়োজন পড়ছে না। স্ক্যাল্প ময়েশ্চারাইজ করে পরিষ্কার রাখার কারণে খুশকির উপদ্রব কম হয় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। যাদের চুল কোঁকড়ানো তারা জোজোবা তেল ব্যবহার করে শ্যাম্পু করলে দেখবেন চুলের উজ্জ্বলতার সঙ্গে সঙ্গে চুলের রিংগুলো সুন্দরভাবে গুছিয়ে আছে। ঠাণ্ডা-গরমে মাথায় নানা সমস্যা দেখা দেয়, অনেক সময় ছোট ছোট ব্রণ হয়। নখের আঁচড়ে বা চিরুনির আঁচড়ানোর ফলে চিরে যেতে পারে। সেগুলো রিপেয়ার করে দেয় জোজোবা তেল। এছাড়া চুল বৃদ্ধিতে জুড়ি নেই এই তেলের।

বিয়ের মৌসুম শুরু আর কনের নিতে হবে চুলের বিশেষ যত্ন। যেমন চুলের আগা ফেটে গেলে হালকা ট্রিম করে নিন। চুলে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করুন। তেলের সঙ্গে জবাফুল, আমলকী, মেথি, লেবুর রস দিয়ে জ্বাল দিন। সপ্তাহে দু-তিনদিন এ মিশ্রণ চুলে লাগাতে পারেন। প্রতিদিন একটি করে ডিম মাথার ত্বক ও চুলে ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। আবার অ্যালোভেরার সঙ্গে মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে নিন। ২০-২৫ মিনিট রেখে হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের স্বাস্থ্যোজ্জ্বলতার জন্য বিয়ের মাস দুয়েক আগে হেয়ার স্পা করাতে পারেন। আর দু’তিনদিন পরপর অয়েল ম্যাসাজ করে শ্যাম্পু করে নিন। তেলের সঙ্গে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে ম্যাসাজ করুন স্ক্যাল্পে। ঘণ্টাখানেক রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুল হবে কোমল ও মসৃণ। ভালো রাখতে নিয়মিত ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল খাওয়া যেতে পারে। আর জোজোবা তেলে তো আছেই ভিটামিন ‘ই’। খুশকি থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দু’দিন টকদই, লেবুর রস ও জোজোবা তেল একসঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ও চুলে মাখুন। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন।

যেকোনো উৎসবে চুলের ওপর থাকে বাড়তি প্রেসার, চুলে কেমিক্যাল আর যন্ত্রের ব্যবহার হয় বেশি। চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব ব্যবহারের। চুলের শুষ্কতা রোধে তেল উপকারী। তেল চুলের শুষ্কভাব দূর করে, চুলের আর্দ্রতা বাড়ায়, চুলের গোড়া পরিষ্কার করে। বাজারে বিভিন্নরকম তেল পাওয়া যায়, বেছে নিতে হবে চুলের সঠিক যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি তেল। পার্লারে চুল সেট করে উৎসবে যেতে হতেই পারে। তাই বাড়ি ফিরে চুলে তেল লাগিয়ে নিন। সকালে শ্যাম্পু করুন। সেট করা চুলে তেল লাগালে স্প্রের শক্তভাব নরম হবে। চুল আরামে খোলা যাবে। ভেজা চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রায়ারের ব্যবহার কমাতে হবে।

সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল চুলের জন্য কিছু প্যাক করতে পারেন-

* এক কাপ মধুর সঙ্গে তেল মিশিয়ে সামান্য গরম করে নিন। চুলে ভালোভাবে এই হেয়ার মাস্ক লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। এবার হারবাল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

* কলা ম্যাশ করে তেল মিশিয়ে চুলে লাগান ১৫-২০ মিনিট। এবার হালকা গরম পানিতে চুলে শ্যাম্পু করুন। চাইলে কলার সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

* টকদইয়ের সঙ্গে একটি লেবুর রস ও নিমপাতার রস মিশিয়ে লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’বার এ নিয়ম পালন করতে পারেন।

* দুই টেবিল চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে মেথি পেস্ট তৈরি করুন। এবার স্ক্যাল্পে মেথি লাগিয়ে নিন। এখন শিকাকাই বা রিঠা দিযে চুল ধুয়ে ফেলুন।

* মেহেদি পেস্টের সঙ্গে আমলকীর রস বা টকদই অথবা ডিম ও লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দিন। ৪০-৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

* শুষ্ক চুলে তেলের সঙ্গে মেহেদি পেস্ট মিশিয়ে লাগান। সঙ্গে কলার পেস্ট মিলিয়ে নিন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। রাতে তেল হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করে চুলে লাগিয়ে নিন। সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

বাইরের যত্নের সঙ্গে ভেতর থেকেও চুল হেলদি রাখার প্রয়োজন আছে। এর জন্য প্রয়োজন হেলদি আর ব্যালান্সড ডায়েট। কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের সঠিক ব্যালান্স আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এর সঙ্গে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি খান এবং প্রতিদিন মৌসুমি ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

চুলের পরিপূর্ণ পুষ্টি মেটায় তেল। আর জোজোবা তেল সেক্ষেত্রে অনন্য। স্ক্যাল্প পরিষ্কার থাকে। তাই চুলকানো, খুশকি বা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। আর সঙ্গে চুল ঘন-লম্বা করে। চুলের সঠিক যত্ন নিয়ে চুলকে মজবুত করুন। যেকোনো হেয়ার স্টাইল করুন স্বাচ্ছন্দ্যে। আকর্ষণীয় চুলে জীবনে চলার পথে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন।

ছবি : হৃদয় তানভীর

Anonymous এর ছবি
CAPTCHA
এই প্রশ্নটি আপনি একজন মানব ভিজিটর কিনা তা যাচাই করার জন্য এবং স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম জমাগুলি প্রতিরোধ করার জন্য।